28 C
Dhaka
আগস্ট ১২, ২০২২

নারী উপার্জনকারী হলেও সে সহিংসতার শিকার হয়

নিজস্ব প্রতিবেদক, কমিউনিটিনিউজ ঢাকা: বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের মাননীয় বিচারপতি (আপীল বিভাগ) নাজমুন আরা সুলতানা বলেছেন, নারী উপার্জনকারী হলেও সে সহিংসতার শিকার হয়। নানা আইন থাকলেও তার বাস্তবায়ন নেই। অনেকে অজ্ঞতার কারণে আইনের আশ্রয় নিতে পারে না।

আজ বৃহস্প্রতিবার (১০ ডিসেম্বর ২০২০) আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ এবং বিশ্ব মানবাধিকার দিবস-২০২০ উপলক্ষ্যে ‘‘প্রজন্ম সমতা সংলাপ: নারী ও কন্যার প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ বিষয়ক’ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

‘ধর্ষণ মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ- আসুন নারী ও কন্যার প্রতি সহিংসতার বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলি’ এ প্রতিপাদ্য নিয়ে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে  অনলাইনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের মাননীয় বিচারপতি (আপীল বিভাগ) নাজমুন আরা সুলতানা।

সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সীমা মোসলেম স্বাগত বক্তব্যে বলেন, যুগ যুগ ধরে নারী তার অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সংগ্রামের করে আসছে। নারীর প্রতি সহিংসতা কেবল নারীর ইস্যূ নয়। সহিংসতা দূর করতে ইউএন উইমেন সমতার প্রজন্ম কে এখন তাদের কাজের মূল লক্ষ্য হিসেবে ধারণ করে।

তিনি বলেন, এই  সমতা কেবল নারী পুরুষের সমতা নয় ধর্মে ধর্মে, শ্রেণীতে সকলের মাঝে সমতাকে বোঝায়। দশকে দশকে নারীর অগ্রগতির পথে চ্যালেঞ্জ এসেছে। সংগঠন ১৯৭০ সাল থেকে নারীর মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করে আসছে। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ দীর্ঘসংগ্রামের মধ্য নিয়ে যে কর্মসূচি গুলো চালিয়ে আসছে তারই আলোকে আজকের কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হাবিবা শেফা বলেন, নারীর মর্যাদার লড়াইয়ের আন্দোলনের ফলে নারীবান্ধব অনেক আইন হয়েছে কিন্তু বাস্তবায়ন তেমন হয়নি। আইনের যে ফাঁকফোকর  আছে তা দূর করতে আরো কাজ করতে হবে।

বক্তারা বলেন, ৯০ এর দশকে নারীর প্রতি সহিংসতা ঘটানোর সময় কোনো মুরুব্বি উপস্থিত হলে তখন নির্যাতনকারী থেমে যেত। এখন তা হয়না। ৮০-৯০ এর দশকে বিভিন্ন বৈষ্যম্যের শিকার হয়ে একজন নারীকে কর্মক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত হতে হয়েছে। নারীর যোগ্যতা থাকলেও তাকে যোগ্য পদে পদোন্নতি দেয়া হয়না। অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গেলে বাধা এসে পড়ে। নারীর অধিকারের পক্ষে ৮০ এর দশকে যে আন্দোলন হয় তার ফলপ্রসূ অবস্থা দেখা যায় ২০০০-২০১০ এ এসে।

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি (আপীল বিভাগ) নাজমুন আরা সুলতানা নারীর সুরক্ষার জন্য নানা আইন থাকলেও কেন সহিংসতা বাড়ছে তা খতিয়ে দেখার জন্য তিনি সরকারসহ বেসরকারী সংগঠনের প্রতি আহ্বান।

তিনি বলেন, ধর্ষণের ঘটনা প্রতিহত করতে নতুন সংশোধিত আইনের পূর্ণ বাস্তবায়ন করতে হবে; ঘটনার সঠিক তদন্ত করে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে: ধর্ষণের শিকার নারীকে এখনো অস্পৃশ্য ভাবা হয় সমাজে এটি দূর করতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেন, নারী আন্দোলনের ধারা প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম ধরে এগিয়ে চলেছে। নারীর প্রতি সহিংসতার ধরণ বদলেছে, বাস্তবতা বদলেছে।

সভায় আরো আলোচনা করেন জনতা ব্যাংকের সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার কবিতা রানী দাস; ঢাকা ট্রিবিউনের স্টাফ রিপোর্টার উদিসা ইসলাম; উদীচীর সহ-সাধারণ সম্পাদক অমিত দে; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগ ও গবেষণা ইন্সটিটিউট এর সহকারী অধ্যাপক জনাব তৌহিদুল হক; চিত্রশিল্পী মঞ্জুরি মাধুরীমা নিশুথি এবং প্রতিবন্ধী নারী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের চেয়ারপার্সন শিরিন আক্তার।

নারী উপার্জনকারী হলেও সে সহিংসতার শিকার হয় শিরোনামের সংবাদটির তথ্য সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু নিশ্চিত করেছেন।

আরও সংবাদ

শখ থেকেই শুদ্ধাহারের পথচলা শিমির

কমিউনিটি নিউজ

চাকরি ছেড়ে ঘরে তৈরি খাবারে সফল তিনি

কমিউনিটি নিউজ

দায়িত্ব নিয়ে রাখী দাশ আজন্ম নারীদের পক্ষে কাজ করেছেন

কমিউনিটি নিউজ