28 C
Dhaka
আগস্ট ১৩, ২০২২

খানাখন্দে বেহাল সড়ক; দুর্ভোগ চরমে

বিশেষ প্রতিবেদন, কমিউনিটি নিউজ: সড়কের কোথাও পিচ উঠে গেছে, কোথাও ছোট-বড় গর্তে ভরে গেছে, আবার কোথাও বিশাল খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। এতে করে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। বলছিলাম কুমিল্লার মুরাদনগর-ইলিয়টগঞ্জ সড়কের বেহাল অবস্থার কথা।

উপজেলার বোরারচর থেকে বাখরাবাদ বাজার ও নহল চৌমুহনী হয়ে মুরাদনগর উপজেলা সদর পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার সড়কে পথচারী, গাড়িচালক ও যাত্রীদের দুর্ভোগ পৌঁছেছে চরমে।

জানা গেছে, কুমিল্লা-ব্রাহ্মণবাড়িয়া সড়কের বিকল্প হিসেবে রাজধানী ঢাকায় যাতায়াতে এই ইলিয়টগঞ্জ সড়ক ব্যবহার করেন মুরাদনগর ও দেবিদ্বার উপজেলার বাসিন্দারা। সোজা ও আয়তনে কম হওয়ায় অল্প সময়ের মধ্যে দাউদকান্দিতে পৌঁছানো সম্ভব হয় এ রাস্তায়। গত দুই বছর ধরে এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে। সড়কজুড়ে গর্ত আর খানাখন্দ থাকায় প্রতিদিনই দুর্ঘটনার মুখোমুখি হচ্ছেন যাত্রী ও চালকরা।

খানাখন্দে রাস্তার বেহাল দশা

তাদের অভিযোগ, গর্ত আর খানাখন্দে ভরা সড়কের পাশে উন্নয়নের সাইনবোর্ড সাঁটানো হয়েছে। নেতাদের ছবিসহ সাইনবোর্ডে উন্নয়নের গল্প লেখা থাকলেও সড়কে সেটি দেখা যাচ্ছে না। চলাফেরায় ঘাম ছুটে যায়।

শনিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, কুমিল্লার দাউদকান্দি ইলিয়টগঞ্জ থেকে মুরাদনগর সদর পর্যন্ত সড়কটি ২৫ কিলোমিটার। এই সড়কের বোরারচর থেকে বাখরাবাদ বাজার ও নহল চৌমুহনী হয়ে মুরাদনগর উপজেলা সদর পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে সড়কের কার্পেটিং থেকে ইটের খোয়া ও পাথর বেরিয়ে পড়েছে। সড়কজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে ছোট-বড় খানাখন্দ। এরই মধ্যে ঝুঁকি নিয়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশা, বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, ট্রাক্টরসহ ইঞ্জিনচালিত সব যানবাহন চলাচল করছে।

এদিকে সড়কের কার্পেটিং উঠে ইটের খোয়া ও পাথর বেরিয়ে ধুলাবালি ওড়ায় সামান্য বাতাসেই ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে পথচারী ও সড়কের পাশে বসবাসরত বাসিন্দাদের। এই সড়কে নিয়মিত সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালক মো. মানিক, আবুল খায়ের ও ইউছুফ জানায়, সড়কের রোরারচর থেকে মুরাদনগর সদর পর্যন্ত গর্ত আর গর্ত। এই বেহাল সড়কে গাড়ি চালানো উপযোগী নয়। মানুষের ভোগান্তি চরমে।

বেইলি ব্রিজের অবস্থাও সঙ্কটাপন্ন

তারা অভিযোগ করে বলেন, সড়কের পান্নারপুল থেকে মুরাদনগর উপজেলা সদর পর্যন্ত অসংখ্য স্থানে গাড়ি থেকে চাঁদা তোলে স্থানীয় নেতারা। প্রতিটি সিএনজি চালিত অটোরিকশা থেকে পান্নারপুল ৩০ টাকা, নহল চৌমুহনীতে ৩০ টাকা এবং বাখরাবাদ বাজারে ৩০ করে চাঁদা উত্তোলন করা হয়। প্রতিদিন এই হারে চাঁদা দিয়ে গর্ত আর খানাখন্দে ভরা সড়কে ভোগান্তি পোহাতে হয়। প্রায় সময় গাড়ির চাকাসহ ইঞ্জিনে বিভিন্ন সমস্যা হয়।

মুরাদনগর উপজেলার চেয়ারম্যান আহসানুল আলম সরকার জানান, মুরাদনগর-ইলিয়টগঞ্জ সড়কটি মুরাদনগর ও দেবিদ্বারের বাসিন্দারা রাজধানীতে আসা-যাওয়ায় বিকল্প রাস্তা হিসেবে ব্যবহার করেন। কুমিল্লা-ব্রাহ্মণপাড়া সড়কে দুর্ভোগ বেশি হওয়ায় ওই সড়কের বিকল্প হিসেবে এই সড়কটি ব্যবহার করে মানুষ। কিন্তু এই ইলিয়টগঞ্জ সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। আমি জেলা সমন্বয় কমিটির সভায় সড়কটি সংস্কারের কথা বলেছি। তখন সড়ক ও জনপদ বিভাগ জানান সাড়ে ৮০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে এই বেহাল সড়কটি সংস্কারের জন্য। আশা করি, দ্রুত কর্তৃপক্ষ সড়কটি সংস্কারে কাজ শুরু করবে।

বেহাল এই সড়কটি সংস্কারে কুমিল্লা সড়ক ও জনপদ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ড. মোহাম্মদ আহাদ উল্লাহ জানান, সড়কটির সংস্কার প্রয়োজন। শুধু সড়ক নয়, খাল ও নদীর ওপর নির্মিত বেইলি ব্রিজগুলো ঝুঁকিপূর্ণ। এই সড়ক সংস্কারের জন্য ঢাকায় বলেছি। স্থানীয় সংসদ সদস্যও চেষ্টা করে যাচ্ছে। প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে খুব দ্রুত সড়কটি সংস্কার কাজ শুরু করা যাবে।

আরও সংবাদ

কলার জমিতে কাটোয়া ডাটা চাষে স্বাবলম্বী নারীরা

কমিউনিটি নিউজ

পত্নীতলায় টেন্ডার ছাড়াই সরকারি হাসপাতালের গাছ কাটার অভিযোগ

কমিউনিটি নিউজ

লালপুরে ভুট্টার বাম্পার ফলন, তৌহিদুলের লাভ ৭ লাখ টাকা!

কমিউনিটি নিউজ

খুচরা বাজারে তিনগুণ দামে বিক্রি হচ্ছে আম

কমিউনিটি নিউজ

আমের দামে খুশি রাজশাহীর চাষিরা

কমিউনিটি নিউজ

বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে আম শিল্পের সমস্যা ও সম্ভাবনা

কমিউনিটি নিউজ