31 C
Dhaka
সেপ্টেম্বর ২২, ২০২১

বেহাল অবস্থায় ভদ্রাপার্ক, সংস্করণের অপেক্ষায়

হাসনাত হাকিম, রাজশাহী: রাজশাহী শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত বিনোদন পিপাসুদের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিলো শহীদ ক্যাপ্টেন মনসুর আলী পার্ক। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সংস্কার না হওয়ায় সৌন্দর্যের জৌলুস হারিয়েছে পার্কটি। ১৯৭৮-১৯৯৫ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে ২৪ লাখ ৪২ হাজার টাকা ব্যয়ে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এ পার্ক নির্মাণ করেছিলো। এরপর আর সংস্কারের মুখ দেখেনি পার্কটি।

পার্কটিতে দর্শনার্থীদের জন্য নেয়া  হয় ২০ টাকা। প্রথম দিকে ভিড় থাকলেও এখন দর্শনার্থী শূণ্য। এরই মধ্যে পার্কটি অসামাজিক বিভিন্ন কর্মকান্ডের কারণে আলোচনায় এসেছে। দর্শনার্থীদের অভিযোগ, কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারণেই ভেতরে প্রবেশ করা যায় না।

আরডিএ সূত্র বলছে, পার্কটি ইজারা দেয়া হয়েছিল। তাদের অবহেলার কারণে এই অবস্থা। ইজারাদাররা বলছেন, দর্শনার্থীদের ভীড় না থাকায় আয় হচ্ছে না। যার ফলে দেখভাল করার জন্য অতিরিক্ত লোক দেয়া সম্ভব হচ্ছে না।

ভেতরের সার্বিক অবস্থা ঘুরে দেখা গেছে, শিশু-কিশোরদের জন্য তৈরি রাইডগুলোর বেহাল অবস্থা। চারপাশে নোংরা আবর্জনা ও আগাছায় পূর্ণ। পার্কটির সার্বিক দেখভালের দায়িত্বে আছেন মাত্র ৬ জন পরিস্কার পরিচ্ছন্ন কর্মী কিন্তু যে কয়েকজন কর্মী আছেন তারাও এই কাজকে অবহেলা করছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পার্কটির হারানোর জৌলুস ফিরিয়ে আনতে সংস্কারের কাজ ইতোমধ্যে শুরু করার চিন্তাভাবনা নিয়েছে আরডিএ কর্তৃপক্ষ। ৪৭ কোটি ৯৯ লাখ টাকা ব্যয়ে নতুন রূপ পেতে যাচ্ছে রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী পাকর্টি। ১৯৯৫ সালে নির্মাণের পর পার্কটি নান্দনিকভাবে গড়ে তুলতে এই প্রথম সংস্কার ও উন্নয়নে কাজ শুরু করতে যাচ্ছে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (আরডিএ)।

ইতোমধ্যে পুরনো স্থাপনাগুলো ভাঙার কাজ শুরু করেছে। আগামী বছরের জুন মাসের মধ্যে পার্কটি দৃষ্টিনন্দন হিসেবে পুরোপুরি তৈরি হওয়ার কথা রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, পার্কটি ঢেলে সাজানো শেষ হলে রাজশাহীতে সবচেয়ে সুন্দর বিনোদন পার্ক হবে এটি।

আরডিএ সূত্র জানা যায়, পার্কটি অত্যাধুনিক হিসেবে গড়ে তুলতে এখানে স্থাপন করা হচ্ছে অধুনিক রাইড, পারিজাত পুকুরপাড়কে করা হবে ডিজিটাল গ্যালারি। এছাড়া থাকছে পার্কজুড়ে থাকবে বনায়ন, দৃষ্টিনন্দন বাউন্ডারি ওয়াল, লেকের ওপরে তিনটি স্টিল ব্রিজ ও ট্রয় ট্রেন, শিশুদের খেলার শেড ও ৭০টি বেঞ্চ, জলধারার ওপরে তিনটি স্টিল ব্রিজ নির্মাণ, রিটেইনিং ওয়াল, অভ্যন্তরীণ রাস্তা, অ্যাম্পিথিয়েটার, কাঠের প্ল্যাটফরমসহ বোর্ডের কাঠামো নির্মাণ ও ওয়াটার বোট থাকবে বলে জানিয়েছে আরডিএ কর্তপক্ষ।

আরডিএর নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল তারিক বলেন, পার্কটি দৃষ্টিনন্দন হিসেবে গড়ে তুলতে একটি প্রকল্প পাস হয়েছে। প্রকল্পটির মেয়াদকাল জুলাই ২০২০ থেকে জুন ২০২২ পর্যন্ত। করোনার কারণে সঠিক সময়ে কাজ শুরু করা যায়নি। তবে ইতোমধ্যে পার্কটি দৃষ্টিনন্দন করতে আমরা কাজ করেছি। এরই মধ্যে পার্কের পুরনো সব কিছু ভেঙে ফেলার কাজ শুরু হয়েছে। পার্কটি পুরোপুরি আধুনিকায়ন হিসেবে গড়ে উঠলে রাজশাহী নগরবাসীর জন্য নাগরিক সুযোগ-সুবিধা আরও বৃদ্ধি পাবে।

জানা গেছে, ১৯৯৫ সালে আরডিএ কর্তৃক বাস্তবায়িত পদ্মা আবাসিক এলাকায় উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ১২ দশমিক ৫৬ একর জমির ওপরে শহীদ ক্যাপ্টেন মুনসুর আলী পার্ক (ভদ্রা পার্ক) প্রতিষ্ঠা করা হয়। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও এ পার্কের তেমন কোন ধরনের সংস্কার বা উন্নয়নকাজ হয়নি।

নগরবাসীর বিনোদন, খেলাধুলা, অনুশীলন, সাংস্কৃতিক কার্যক্রম বিবেচনায় নিয়ে শহীদ ক্যাপ্টেন মুনসুর আলী পার্কের সৌন্দর্যবর্ধন, আধুনিকায়ন এবং পার্কেরসংলগ্ন পারিজাত লেকের উন্নয়নের জন্য প্রকল্প গ্রহণ করা হয়।

পার্কটিকে দুটো অংশে ভাগ করে একটি অংশ ইজারা দেয়া হয়। ইজারা অংশের নাম ইকোপার্ক। অপরটি শহীদ ক্যাপ্টেন মুনসুর আলী পার্ক। ভদ্রা এলাকায় বলে ভদ্রাপার্ক নামে মানুষের কাছে পরিচিত হয়ে ওঠে। এর ভূমির পরিমাণ ৭ দশমিক ৬ একর।

জাতীয় চার নেতার একজন শহীদ ক্যাপ্টেন মনসুর আলীর স্মৃতির উদ্দেশ্যেই রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ পার্কটির নামকরণ করে শহীদ ক্যাপ্টেন মনসুর আলী পার্ক। রাজশাহী শহরের ঐতিহ্যবাহী এই পার্কটি মূলত শিশু-কিশোরদের জন্য নির্মিত হলেও সকল বয়সের মানুষের আনাগোনায় মুখর থাকতো।

কমিউনিটিনিউজ/ এমএএইচ

আরও সংবাদ

রাজশাহীতে শিক্ষিকার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

কমিউনিটি নিউজ

রাজশাহীতে বেড়েছে মাছের দাম, মুরগির কেজি ২৬০ টাকা

কমিউনিটি নিউজ

শিক্ষার্থীদের লাগানো গাছ কেটে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা

কমিউনিটি নিউজ

হাওর অঞ্চলের মৎস্যসম্পদ উন্নয়নে ব্যাপক পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে : মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী

কমিউনিটি নিউজ

বাংলাদেশও উন্নতশীল দেশের কাতারে দাঁড়াবে : জনপ্রশাসন সচিব

কমিউনিটি নিউজ

গোদাগাড়ীতে ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের মেলা

কমিউনিটি নিউজ