31 C
Dhaka
সেপ্টেম্বর ২২, ২০২১

মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি নিয়ে দাড়িয়ে রাজশাহীর ‘স্মৃতি অম্লান’

হাসনাত হাকিম, রাজশাহী: দেশজুড়ে প্রত্যেক জেলার রয়েছে আলাদা আলাদা বৈচিত্র্যময় সৌন্দর্য। প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন থেকে শুরু করে নানান স্থাপনা রয়েছে এ দেশে। বৈচিত্র্যময় সৌন্দর্য আর দর্শনীয় স্থানে ভরপুর রাজশাহী। এখানে রয়েছে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভ স্মৃতি অম্লান। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতির প্রতীক হিসেবে এই স্তম্ভটি গড়ে তোলা হয়েছে। মহান মুক্তিযুদ্ধের এই স্মৃতিস্তম্ভটির অবস্থান রাজশাহী শহরের কেন্দ্রস্থলে। শহরের শহীদ ক্যাপ্টেন বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর সড়কের ভদ্রা মোড়ে এর অবস্থান।

নগরীর ভদ্রা আবাসিক এলাকার মাহাতাব উদ্দিন বলেন, এই স্তম্ভটি এরশাদ সরকারের আমলে তৈরি করা হয়েছে। এটি প্রায় ৩০ বছর আগের স্তম্ভ। এই স্তম্ভটির মাঝে মাঝে পরিচর্যা করেন রাজশাহী সিটি করপরেশন। এটি ১০০ বছর মেয়াদের জন্য তৈরি করেছেন। এটি মূলত শহীদদের স্মরণ করার জন্য নির্মাণ করেন। এটা দেখে আমরা মনে করি শহীদেরা আমাদের রাজশাহীতে রয়েছে এবং আমাদের মনের ভিতরে জায়গা করে রেখেছেন। এটি থাকায় একুশে ফেব্রুয়ারি ১৬ ই ডিসেম্বর ২৬ শে মার্চসহ বিভিন্ন দিবস কেন্দ্রিক শ্রদ্ধা করা হয়।

জানা যায়, ১৯৯১ সালের ২৬ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়। তত্ত্বাবধান করেন রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। স্মৃতিসৌধের মূল পরিকল্পনা করছেন বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা ব্রিগেডিয়ার আবদুর রব। এই স্মৃতিস্তম্ভটি নির্মাণ করেন স্থপতি রাজিউদ্দিন আহমদ। আর আনুষ্ঠানিকভাবে এটি উদ্বোধন করেন শহীদ মুক্তিযোদ্ধা সাইফুল ইসলাম ঠাণ্ডুর বাবা আজিজুর রহমান সরকার। স্মৃতিস্তম্ভটিকে বাংলাদেশের অস্তিত্বের প্রতীক হিসেবে নামকরণ করা হয় ‘অম্লান’।

সৌধটিতে মোট তিনটি স্তম্ভ আছে। মূল স্তম্ভ তিনটিতে সদ্য উন্মোচিত পাতা ও হৃদয় আকৃতির বক্রতা রয়েছে। হৃদয়ের আকৃতি দিয়ে হৃদয়ের অনুভূতিকেই বোঝানো হয়েছে এবং সেই সঙ্গে কচি পল্লব নির্দেশ করছে স্বাধীনতার অনুভূতির পবিত্রতা। প্রতিটি স্তম্ভের গায়ে ২৪টি করে ধাপ, ধাপগুলোর বৈশিষ্ট্য হল ১৯৪৭ থেকে ১৯৭১ পর্যন্ত আন্দোলনের ক্রমবিবর্তন ও স্বাধীনতার ফলক।

স্তম্ভের গায়ের ৩০টি ছিদ আছে। এর মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের ৩০ লাখ শহীদের নির্দেশ করা হয়েছে। প্রতিটি স্তম্ভে রয়েছে ১০টি করে ছিদ্র। বেদিমূলে রাখা আছে নীল শুভ্র পাথরের আচ্ছাদন। যেটি দুই লাখ নির্যাতিত নারীর বেদনাময় আর্তনাদের কথা ইঙ্গিত করে। ১০ ফুটের একটি গোলকের ব্যাস রয়েছে। এই গোলক দিয়ে ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা প্রাপ্তিকে বোঝানো হয়েছে।

বাংলাদেশের মানচিত্র সম্বলিত এই লাল রঙের গোলকটি স্বাধীনতা সূর্যের প্রতীক। এক সাগর রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে আমাদের এই স্বাধীনতা। তাই এই সূর্যের রঙ লাল।

স্মৃতিস্তম্ভটির উচ্চতা ২৪ মিটার। গোলকের ব্যাস ৩ মিটার। বেদিতলে মূল স্তম্ভের ব্যাস ৯ দশমিক ৬৫ মিটার। শীর্ষ তলে মূল স্তম্ভের ব্যাস ২ দশমিক ৮০মিটার। গোলকের নিচ পর্যন্ত স্তম্ভের উচ্চতা ২১ দশমিক ৬৪ মিটার। বেদীর ব্যাস ১৩ দশমিক ৭০ মিটার বা ৪৫ ফুট। বেদীর উচ্চতা ১ দশমিক ০৬ মিটার। মূল স্তম্ভটিকে পাদদেশে বক্রাকারে নির্মাণ করা হয়েছে। স্তম্ভ তিনটির শীর্ষে রয়েছে একটি গোলক।

কমিউনিটিনিউজ/ এমএএইচ

আরও সংবাদ

রাজশাহীতে শিক্ষিকার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

কমিউনিটি নিউজ

রাজশাহীতে বেড়েছে মাছের দাম, মুরগির কেজি ২৬০ টাকা

কমিউনিটি নিউজ

শিক্ষার্থীদের লাগানো গাছ কেটে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা

কমিউনিটি নিউজ

চুয়েট, কুয়েট ও রুয়েটের ভর্তি পরীক্ষা নভেম্বরে

কমিউনিটি নিউজ

করোনায় ৫১ জনের মৃত্যু

কমিউনিটি নিউজ

এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার্থীদের ফরম পূরণের সময় বাড়লো

কমিউনিটি নিউজ