31 C
Dhaka
সেপ্টেম্বর ২২, ২০২১

রাজশাহীতে এখনো মেলে ১টাকায় সিঙ্গাড়া!

হাসনাত হাকিম, রাজশাহী: যাদের ধারণা ১ টাকায় তেমন কিছু পাওয়া যায়না তাদের ধারণা ভেঙ্গে দিতে রাজশাহী নগরীর সাধুর মোড় এলাকায় মনোয়ারা খাতুন মুনি নিয়ে এসেছেন ১ টাকায় সিঙ্গাড়া। এক টাকায় দারুন মজাদার সিঙ্গারা ও ২ টাকায় পেঁয়াজু এখনো পাওয়া যাচ্ছে তার কাছে। ছেলের দেখানো ইউটিউবের ভিডিও দেখে ৩ মাস আগে এই উদ্দ্যোগ নেন তিনি। এখনো এক টাকায় তিনি সিঙ্গারা বিক্রি করছেন।

দাম কম, পাশাপাশি সুস্বাদু হওয়ায় এর চাহিদাও বেশ ভালো রয়েছে। প্রতিদিন বিকেল ৩ থেকে শুরু করে রাত ৮ টার মধ্যে প্রায় ৮ থেকে ১০ হাজার সিঙ্গারা বিক্রি করেন মনোয়ারা। নগরীর ছোট্ট এই দোকনটি সবার কাছে পরিচিত ১ টাকার সিঙ্গাড়ার দোকান হিসেবে। তবে এই দোকানের কোনো নাম এখনো রাখেননি তিনি। একটি আলুর সিঙ্গাড়া যেকোনো দোকানে বিক্রি হয় ৫ টাকা থেতে ১২ টাকা। অথচ এই দোকানে বিক্রি হয় মাত্র ১ টাকায়।

দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি থাকলেও বাড়াননি এই সিঙ্গারার দাম। তাই তার দোকানে ভীড় নিত্যদিনের ভোজনভোগীরা। শুধু এলাকাবাসী নয়, দুর-দুরান্ত থেকেও অনেকে আসেন এই দোকানে। সখের বসে কেউ আবার নিয়ে যান বাড়িতেও। মনোয়ারার আশা, যতদিন পারবেন এই দামেই বিক্রি করবেন সিঙ্গাড়া। তার এই কাজে সহযোগিতা করেন তার দুই ছেলে মাইনুল ইসলাম শুভ ও সুলাইমান ইসলামসহ আরো ৬ জন সহযোগী।

মনোয়ারা খাতুন বলেন, এখানে এখানকার মানুষরাই আসে তা নয়; বরং বিভিন্ন এলাকার মানুষের মুখে শুনে শুনে শিঙাড়া কিনতে আসেন। বিকাল ৩টা থেকে রাত ৮টা অবধি আমি শিঙাড়া বিক্রি করি। গড়ে পাঁচ থেকে সাত হাজার শিঙাড়া বিক্রি হয়। ক্রেতা খেয়ে সন্তুষ্ট হন, এটাই আমার তৃপ্তি।

তিনি বলেন, এটা আমার জীবনের প্রতিষ্ঠত হওয়া ইচ্ছা । আমার মনে হয় এভাবেই আমি এগিয়ে যেতে পারবো। এর আগে একটা মেসে কাজ করতাম। আয় তেমন ভালো হতো না। যে আয় হতো তাতে দুই ছেলের লেখা পড়া চালাতে পারতাম না। সীমিত কাজ করে মাঝে আকটে যেতাম। পরে এক সময় ভেঙ্গে পড়ি। তারপর চিন্তা করলাস ছোট খাটো একটা ব্যবসা করি। ২০২১ সালের ৭ জানুয়ারি ছোট একটা দোকান দিলাম। ৫ টাকার সিঙ্গাড়া, পিঁয়াজুসহ কিছু ভাঁজাপোড়ার দোকান। এতেও খুব একটা ভালো লাভ হচ্ছিলোনা। পরে আমার বড় ছেলে ইউটিউবে দিনাজপুরের একটা ভিডিও দেখে আমাকে দেখায় যে কত লাভ করছে। সেই সময় আমি হাসছিলাম, যে এও কি সম্ভব! এক টাকার সিঙ্গাড়া বিক্রি করে এতো লাভ করা যায়!

এরপর প্রথমে ৬০ টা সিঙ্গাড়া বানালাম। যেই বাসায় ভাড়া থাকতাম সেই বাসার ছেলের বউকে ববলেছিলাম আমি আচ একটাকা দামের সি ঙ্গাড়া বানিয়েছি আপনারা কিনবেন। পরে উনি এলাকার বাচ্চাদের বললেন। এরপর সবাই কিনতে আসলো। এবং সেই দিনেই আমার ৭ ’শ টাকার বিক্রি হয়েছে। তারপর থেকে একটা মনের ভেতর আস্থা আসলো। এর তিন দিন পর বাড়িওয়ালা নিষেধ করে দেন। পরে ১ হাজার টাকায় একটা ছোট দোকান ভাড়া নিয়েছি। এরপর প্রথম দিনেই বিক্রি করেছি ৩ হাজার। আসতে আসতে ১০ হাজার পর্যন্ত সিঙ্গাড়া বিক্রি করেছি। এখন পর্যন্ত বেশ ভালোই বিক্রি হচ্ছে। একেকজন মানুষ ১’শ থেকে ১ হাজার পর্যন্ত সিঙ্গাড়া নিয়ে যান।

ছেলে মাইনুল ইসলাম শুভ বলেন, মা আমাকে ও ছোট ভাইকে অনেক কষ্ট করে লালন পালন করেছেন। অভাবের সংসারে কোন উপায় না দেখে এমন একটি ব্যবসায় আসতে হয়েছে। এটাতে সংসারে অনেকটায় স্বচ্ছলতা এসেছে। পড়াশোনার পাশাপাশি আমি ও আমার ছোট ভাই সোলাইমান মাকে সহযোগিতা করছি। আশা করছি এই উদ্যোগটিকে আরও সামনে নিয়ে যেতে পারবো।

রাজশাহী জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শবনম শিরিন জানান, মনোয়ারার মতো আরও অনেকেই একটা সময় নির্যাতনের শিকার হয়ে জীবন সংগ্রামে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন। এসব নারীদের নিয়ে মহিলা বিষয়ক মন্ত্রণালয় কাজ করছে। তাদেরকে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে ও তাদের উদ্যোগগুলোকে এগিয়ে নিতে প্রশিক্ষণসহ বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করছে। আর মনোয়ারার বিষয়টি সোনার দেশ প্রতিবেদকের মাধ্যমে জানতে পারলাম। খোঁজ নিয়ে তাকেও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করার চেষ্টা করবো।

মনোয়ারার বাড়ি নওগাঁ জেলায়। কিন্তু পরিবারে বাবা-মা না থাকায় দাদুর হাত ধরে জন্মের পাঁচ বছরের মাঝে তাকে রাজশাহীতে আসতে হয়। তিনি এখানে এসে নগরীর হেলেনাবাদ স্কুলে ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। পরে দাদুর সংসারে অসচ্ছলতার কারণে আর পড়াশোনা হয়নি। ১১ বছর বয়সেই বিয়ে । এরপর সংসার পাঁচ বছর। গত ১৫ বছর আগে স্বামীর সাথে সংসার বিচ্ছিন্ন হয়। এখন দুই ছেলে নিয়েই চলছে তার সংসার।

সেখানে গিয়ে দেখা যায়, বিকেলের দৃশ্যটি বেশ উপভোগ্য। দোকানের সামনে দাড়িয়ে দাড়িয়ে কাচ্ছেন অনেকেই আবার অনেকে বাসার জন্য নিয়ে যাচ্ছেন প্যাকেটে করে।

সিঙ্গাড়া কিনতে আসা সাগর আলি বলেন, ‘আমরা প্রতিদিনই এখান থেকে সিঙ্গাড়া নিয়ে যাই। দাম কম হলেও খেতে খুব ভালো। আমার মতো অনেকেই আছে যারা ১০ থেকে ১৫টা করে খায়। কেউ বাসায় নিয়ে যায়। শুভু আমাদের এই এলাকার নয়; আশপাশের এলাকার লোকজনও এসে নিয়ে যায়। শুধু দাম নয়, স্বাদও অনেক ভালো। খেলেই বলতে হবে, আহা দারুণ! এমন শিঙাড়া খেতে পারেন মাত্র ১ টাকা খরচ করে।

কমিউনিটিনিউজ/ এমএএইচ

আরও সংবাদ

রাজশাহীতে শিক্ষিকার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

কমিউনিটি নিউজ

রাজশাহীতে বেড়েছে মাছের দাম, মুরগির কেজি ২৬০ টাকা

কমিউনিটি নিউজ

শিক্ষার্থীদের লাগানো গাছ কেটে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা

কমিউনিটি নিউজ

বাংলাদেশও উন্নতশীল দেশের কাতারে দাঁড়াবে : জনপ্রশাসন সচিব

কমিউনিটি নিউজ

গোদাগাড়ীতে ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের মেলা

কমিউনিটি নিউজ

স্কুল-কলেজ খুলতে রাজশাহীতে চলছে জোর প্রস্তুতি

কমিউনিটি নিউজ