31 C
Dhaka
সেপ্টেম্বর ২২, ২০২১

আধুনিকতার ছোঁয়ায় হারাতে বসেছে বেত শিল্প

হাসনাত হাকিম, রাজশাহী: বাঙালি ঐতিহ্যের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে বেত শিল্প। এক সময় শিল্প নৈপুন্যের সংমিশ্রণে বাঁশ-বেত দিয়ে তৈরি করা হতো সবকিছুই। কারণ এই বেতকে বাঁকানো যেত সহজেই। এই বাঁশ ও বেতের তৈরি করা হতো ছোটদের দোলনা থেকে শুরু করে সোফা, ওয়্যালম্যাট, আরামদায়ক বিভিন্ন চেয়ারসহ সৌখিন জিনিসপত্র। এসব সৌখিন জিনিসপত্রের কদর এখনো বিদ্যমান। এখনো ঐতিহ্যের সাথে যেন মিশে আছে এই শিল্প। তবে আধুনিকতার ছোঁয়ায় হারাতে বসেছে বাঁশ-বেতের তৈরি আসবাবপত্র।

তাই অভাবের তাড়নায় বাপ-দাদার পেশা ছেড়ে অন্য পেশার দিকে ছুটছেন অনেক বাঁশ ও বেতশিল্পের কারিগর। তবে শিল্পের টানে ঐতিহ্যকে আকড়ে রাখতে হাতে গোনা কিছু কারিগর এ পেশাকে সযত্নে ধরে রেখেছেন। তবে দিন দিন এই শিল্পের কাঁচামালের দাম যেভাবে বাড়ছে তার সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে না ক্রেতার চাহিদা ও পণ্য মূল্য।

বর্তমানে হাতেগোনা কয়েকটা বাঁশ ও বেতের তৈরি কেইন আসবাবপত্র দোকান দেখা যায়। এদের মধ্যে রাজশাহী নগরীর হোসেনীগঞ্জ ও বাইপাস এলাকায় কয়েকটা দোকান আছে। যেখানে খুব একটা ক্রেতা সমাগম দেখা যায়না। এই দোকানগলোতে মনোমুগ্ধকর আসবাবপত্রের দেখা মিললেও কারিগদের মুখে নেই ঝলকানি হাসি। শোনা যায় তাদের হতাশার কথা।

নগরীর বেত বিক্রেতা নাজিম উদ্দিন জানান, রাজশাহীতে বাঁশ ও বেতের কারিগর আছে কিন্তু তাদের তেমন সেল হয়না। এটা নিয়ে যদি রাজশাহীতে কাজ করতে যায়, রাজশাহীতে এটার চাহিদা থাকতে হবে। রাজশাহীতে কাঁচামাল তেমন নেয়। বেত নাই। এটা বাইরে থেকে আনলে মূল্য বেড়ে যা। আসলে আমরা এই শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করছি। কিন্তু আগে কুলা, ডালা, সরপোস ব্যবহার করতাম। এখন আমরা এগুলো প্লাস্টিকের ব্যবহার করি। আমরাই এগুলো ব্যবহার করছিনা। এখন এই শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন করতে হবে।

তিনি বংশ পরম্পরায় ২২ বছর থেকে এখানে আছেন। তার বাবাও বাঁশ ও বেত শিল্পের কারিগর। তাদের আরেকটি দোকানও আছে। যেটা তার বাবা চালান। তার বাবার কাছ থেকেই তিনি কাজ শিখেছেন। আগে মোটামুটি বেচাবিক্রি হলেও বর্তমানে দোকানে বেচাবিক্রি এতটায় কমেছে যে ভবিষ্যতে এটাকে টিকিয়ে রাখা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন তিনি।

আরেকজন আরিফুল নামের কর্মচারীর সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আমি এখানে পড়াশোনার পাশাপশি আড়াই থেকে তিন বছর থেকে কাজ করি। এই দোকানে কাজ করতে করতেই শিখেছি। এখন দোকানে বেচাবিক্রির অবস্থা খুবই খারাপ। অনেক সময়ই কয়েকমাসের বেতন বাকি পড়ে আছে। লকডাউনে মালিক বেতন দিতে পারেনি। কারণ মালিকের দোকান বন্ধ। কোথায় থেকে দেবে। সংসার নিয়ে শহরে এভাবে চলা অনেক কষ্টের। আর এদিকে আসতে আসতে এই পণ্যে মানুষেচাহিদা কমে যাচ্ছে। হারিয়ে যাচ্ছে বাঙ্গালির ঐতিহ্য।

জানা গেছে, আগে হোসনীগঞ্জে বাঁশ ও বেতের তৈরি পণ্যের ১৫ থেকে ১৬টি দোকান ছিল। কিন্তু এখন দোকান মাত্র ২ থেকে ৩টি। বর্তমানে বেচাবিক্রি নাই বললেই চলে। সপ্তাহে হাতে গোনা কয়েকটি আসবাবপত্র সেল করতে পারছেন। কোনো কোনো দিন বেচাবিক্রিই হয় না। এভাবেই চলছে তাদের জীবিকা।

কমিউনিটিনিউজ/ এমএএইচ

আরও সংবাদ

রাজশাহীতে শিক্ষিকার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

কমিউনিটি নিউজ

রাজশাহীতে বেড়েছে মাছের দাম, মুরগির কেজি ২৬০ টাকা

কমিউনিটি নিউজ

শিক্ষার্থীদের লাগানো গাছ কেটে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা

কমিউনিটি নিউজ

হাওর অঞ্চলের মৎস্যসম্পদ উন্নয়নে ব্যাপক পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে : মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী

কমিউনিটি নিউজ

বাংলাদেশও উন্নতশীল দেশের কাতারে দাঁড়াবে : জনপ্রশাসন সচিব

কমিউনিটি নিউজ

গোদাগাড়ীতে ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের মেলা

কমিউনিটি নিউজ