30 C
Dhaka
আগস্ট ২, ২০২১

‘সংগ্রাম’ করে বাঁচতে হচ্ছে শামুখখোল পাখিদের

‘সংগ্রাম’ করে বাঁচতে হচ্ছে শামুখখোল পাখিদের

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী, হাসনাত হাকিম: রাজশাহীতে নানা প্রজাতির পাখির বাস। আর এসব পাখির ছবি তুলতে পদ্মা নদীর চরকে ঘিরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটিয়ে দেন পাখিপ্রেমিরা। রাজশাহীর পাখিগুলো নিরাপদে থাকলেও শামুকখোল পাখিদের থাকার জন্য রীতিমত ‘সংগ্রাম’ করেই তাদের জীবন বাঁচাতে হয়।

শহরে আশ্রয় নেয়া শামুখোলের বড় একটি দলই মাঝে মাঝে আশ্রয়হারা হয়ে যায়। গাছ, ডালপালা কেটে দিলে তাদের আশ্রয়হীন হতে হয়। তারপরও ঘুরেফিরে করেই যেন এখানে আশ্রয় নিতে চায়। তাদের এই সবুজ নগরীকে ছেড়ে যেতে মন চায়না। তারা চায় এখানেই যেন সারা জীবন কাটিয়ে দেয়। বর্তমানে শামুকখোলের এই দলটি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের বহির্বিভাগের সামনের গাছপালায় আশ্রয় নিয়েছে।

ধারণা করে হয়তো বলা যাবেনা কতগুলো পাখি আছে । তবে দূর থেকে বোঝা যায় গাছগুলোর ওপরে তাকালেই যেন মনে হয় শুধু পাখি আর পাখি। সকালের দিকে এই পাখিগুলো বাসা ছেড়ে খাবারের সন্ধানে বিভিন্ন স্থানে চলে যায়। সন্ধ্যার আগেই আবার দল-বল বেঁধে চলে আসে তাদের আশ্রয় স্থলে।

জানা যায়, প্রায় সাত-আটেক বছর আগে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে বেছে নিয়েছিলো রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতর এবং আশপাশের গাছগুলোতে। সেখানে পাখিরা ভালই ছিল। কেউ তাদের ধরত না, বিরক্তও করত না।

কিন্তু ২০১৯ সালের দিকে কারা প্রশিক্ষণ একাডেমীর নির্মাণ কাজ শুরু করলে অনেক গাছ কেটে ফেলতে হয়। এতে পাখিগুলো আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছিলো। আশ্রয়হীন এসব পাখিরা তখন থেকেই এই রামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনের গাছগুলোতে আশ্রয় নেয়েছিলো।
কিন্তু সেখানেও তাদের বেশিদিন ভালো করে থাকার সুব্যবস্থা করতে দেয়নি রামেক কতৃপক্ষ। গতবছর ২০২০ সাল থেকে এখানকার গাছগুলোর ডালপালা কাটতে শুরু করে।

এ বিষয়ে রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী জানান, পাখিরা যখন-তখন যেখানে সেখানে মলত্যাগ করে দেয়। এতে পাখির বিষ্ঠা রোগীর স্বজনদের গায়ে পড়ে। এতে রোগীর স্বজনরা অনেক বিরক্ত হয়ে থাকে। এছাড়া হাসপাতাল কখনও পাখির অভয়াশ্রম হতে পারে না। তাই গাছগুলো কাটা হয়েছে। পরে পাখিরা হাসপাতালের পূর্ব পাশের রাস্তার ধারের গাছগুলোতে আশ্রয় নিতে দেখা দিচ্ছে।

জানা গেছে, কিছুদিন হলো হাসপাতালের পুরনো সীমানা প্রাচীর ভেঙে নতুন করে নির্মাণ করার সময় প্রায় অর্ধশতাধিক গাছ কেটে ফেলতে হয়েছে। তাই পাখিরা এবার আশ্রয় নিয়েছে হাসপাতালের বহির্বিভাগের সামনে। বারবার আশ্রয়হীন হওয়ার পরও পাখিগুলো রাজশাহী মেডিকেল হাসপাতাল ছাড়েনি। এক যায়গা নষ্ট করলে অন্য যায়গাতে ঠিকই আশ্রয় নিয়ে থাকেন। এ যেন তাদেন মায়ার ভুবন।
শনিবার দুপরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বহির্বিভাগের সামনে দেখা যায়, কিছু শামখাল পাখি বসে থাকলেও আবার কিছু পাখি কোথায় থেকে যেন আহার নিয়ে আসছে।

পাখিদের এই উড়ে যাওয়া-আসার চিত্র দেখছেন অনেক রোগীর স্বজনসহ অন্যরা। তেমনি একজন হলেন মাহবুবুল হক। তিনি তাকিয়ে আছে তাদের দিকে। আর কি যেন বলছিলেন একা একা। কমিউনিটিনিউজকে তিনি বললেন, খালাতো অসুস্থ্যতার কারণে এখানে এসেছি। একটু মন খারাপ ছিলো। তবে এখানে আসার পর মনটা অনেক ভালো হয়ে গেছে। পাখিগলো ধেখতে অনেক ভালো লাগছে। দেখে যেন মন জুড়িয়ে যায়। একসঙ্গে এতগুলো বড় বড় পাখি সচরাচর দেখা যায় না।

রাজশাহীর সেভ দ্য নেচার অ্যান্ড লাইফের প্রতিষ্ঠাতা মিজানুর রহমান কমিউনিটিনিউজকে বলেন, প্রায় সাত-আট বছর ধরেই পাখিগুলো রাজশাহীতে আছে। এরই মধ্যে গাছ ও ডালপালা কেটে ফেলায় মাঝে মাঝে পাখিগুলো আশ্রয়হীন পড়ে। প্রতিবারই আমরা প্রতিবাদ করি। আমরা আশা করি পাখিগুলো এখন যেখানে আছে সেখানে থাকতে পারবে। কারণ, প্রকৃতি নিয়েই আমাদের বাঁচতে হয় এবং এরা প্রকৃতিরই অংশ।

শামুকখোল সাইকোনিডি গোত্রের অন্তর্গত বড়সড় আকারের জলচর পাখি। বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী আইনে এ প্রজাতিটি সংরক্ষিত। রামেক হাসপাতালের এই পাখিগুলো কখনও দলবেঁধে পদ্মার চর আবার কখনও বরেন্দ্র এলাকার ধান খেতে চরতে যায়। দিনশেষে তাঁরা আবারও আপন নীড়ে ফিরে আসে।

কমিউনিটিনিউজ/এমএএইচ

আরও সংবাদ

আরো দুইদিন পর বাড়বে তাপমাত্রা

কমিউনিটি নিউজ

ভাড়া পাচ্ছে না ‘গরিবের অ্যাম্বুলেন্স’

কমিউনিটি নিউজ

মাছ কেটে ৩০ বছর সংসার চালান তুজিন

কমিউনিটি নিউজ

আজ সোমবার স্থানে দমকা হাওয়াসহ মাঝারি বৃষ্টি

কমিউনিটি নিউজ

সন্ধ্যা থেকে ৫ বিভাগে শুরু হতে পারে বর্ষণ

কমিউনিটি নিউজ

জেনে নিন আজ যেসব অঞ্চলে বৃষ্টি

কমিউনিটি নিউজ