30 C
Dhaka
আগস্ট ২, ২০২১

অক্সিজেন-বেড সংকটে রামেক হাসপাতাল

অক্সিজেন-বেড সংকটে রামেক হাসপাতাল

হাসনাত হাকিম: রোগীর চাপে অক্সিজেন সংকটে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এ অঞ্চলে দিনের পর দিন বেড়েই চলেছে সংক্রমণের হার। সাথে সাথে হাসপাতালে রোগীরও সংখ্যা বাড়ছে। ফলে এক রকম চিকিৎসা সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে রামেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

ভারতীয় করোনা রোগের ভেরিয়েন্ট দেখা দেয়ায় মানুষের মনে আতংক বেড়েছে। প্রতিদিন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতলে করোনা রোগে ও উপসর্গ নিয়ে সংক্রমণ ও মৃত্যুর মিছিল বের হচ্ছে। এসব রোগীদের প্রায় প্রত্যেককে অক্সিজেন দিতে হচ্ছে।

এছাড়াও ওয়ার্ড গুলোতে সেন্ট্রাল অক্সিজেন সিস্টেম চালু থাকলেও। পর্যাপ্ত অক্সিজেন সরবরাহ না থাকায় রোগীদের চিকিৎসা দিতে হিমসিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। অধিকাংশ রোগী শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। এতে দিনে দিনে ভয়ংকর হয়ে উঠছে পরিস্থিতি।

তবে, যেসব রোগীরা বেড সংকটে মেঝেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন তাদের জন্য অতিরিক্ত ৪৭৫টি অক্সিজেন সিলিন্ডারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন রামেক হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ড গুলোতে দুই থেকে আড়াই শতাধিক রোগী ভর্তি থাকছে।পাশাপাশি শ্বাসকষ্ট নিয়ে আসা অন্য রোগীদের চিকিৎসা দিতে অক্সিজেন দিতে হচ্ছে। এতে হিমশিম খাচ্ছে চিকিৎসকরা।

করোনা ও উপসর্গ রোগীদের চাপ বেড়ে যাওয়ায় হাসপাতালে সাধারণ রোগীদের সরিয়ে করোনা আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে মোট ১১টি ওয়ার্ডে। এছাড়াও আরো ওয়ার্ড বাড়ানোর চিন্তা করছে কর্তৃপক্ষ।

হাসপাতাল সূত্র আরো জানায়, প্রত্যেক ওয়ার্ডে সেন্ট্রাল অক্সিজেন সিস্টেম চালু আছে। করোনা রোগীদের জন্য মোট ২৭১টি বেড প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়াও হাসপাতালে ২০টি আইসিইউ বেড চালু আছে। তবে এখন সবগুলো বেডেই রোগী রয়েছে।

রামেক হাসপাতালে প্রতিদিন অক্সিজেন চাহিদা রয়েছে ৭ হাজার লিটার। সাধারণ সময়ে চাহিদা হতো মাত্র দেড় হাজার লিটার।
এদিকে রামেক হাসপাতালে অক্সিজেন চালু আছে বেডের সাথে যুক্ত। তাদের অক্সিজেন দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। যারা বেডের বাইরে এসে মেঝেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন তাদেরকে তেমনভাবে অক্সিজেন দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না ।

খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, হাসপাতালে করোনা রোগী বেড়ে যাওযায় পর্যাপ্ত জনবল সংকট হওয়ার কারনে পর্যাপ্ত সেবা দিতে পারছে না। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা পর্যাপ্ত বিশ্রামের সময় পাচ্ছে না। অতিরিক্ত ডিউটি করে রোগীদের সেবা দিচ্ছেন তারা।

হাসপাতালের ২২ নং ওয়ার্ডের কয়েকজন করোনা রোগীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সেখানকার ডাক্তার ও নার্সদের কাছ থেকে রোগীরা আশানুরুপ সেবা পাচ্ছেন না বলে একাধিক রোগীর অভিযোগ। সেখানকার নার্সরা সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করছে। রোগীদের কোন সুযোগ-সুবিধার কথা ভালোভাবে শুনতে চান না।

অক্সিজেনের প্রয়োজন হলে বেডের সাথে যে অক্সিজেন আছে তা সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে বেডের বাইরে যারা মেঝেতে চিকিৎসা নিচ্ছে তাদের সেন্ট্রাল সিস্টেমে অক্সিজেন দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। অতিরিক্ত গ্যাস সিলিন্ডার দিয়ে এসব রোগীদের চিকিৎসা দিচ্ছে বলে জানান রোগীরা।

রামেক হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. সাইফুল ফেরদৌস বলেন, চলতি মাসের গত ১৬ দিনে মারা গেলেন ১৬১ জন। রোগীর চাপ বাড়ায় মঙ্গলবার এ হাসপাতালে ২টি আইসিইউসহ ৩৮ বেড বাড়ানো হয়েছে । এছাড়াও আরও ১৫ জন চিকিৎসক পাঠাতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে চিঠি দেয়া হয়েছে। সপ্তাহ খানেক আগে ১৫ জন চিকিৎসককে পেশনে এ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল।

বেড ও অক্সিজেন সংকটের বিষয়ে তিনি বলেন, করোনা রোগীর সংখ্যা বেশী হয়ে যাওয়ায় বেডের সংকট আছে। বেডের সাথে অক্সিজেন সরবরাহ করা যাচ্ছে না। তবে যেসব রোগীরা ফ্লোরে চিকিৎসা নিচ্ছেন তাদের জন্য ৪৭৫টি গ্যাস সিলিন্ডার মজুত রেখে অক্সিজেন সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে বলে জানান।

করোনা রোগীদের আরো উন্নত সেবা নিশ্চিত ও বেশী রোগীর চিকিৎসা দিতে রাজশাহী সদর হাসপাতাল প্রস্তুত করা হচ্ছে। সেখানে চিকিৎসা সেবা চালু হলে কিছুটা সংকট কাটিয়ে উঠা যাবে।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী জানান, বুধবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ২০টি আইসিইউসহ ৩০৯ বেডের বিপরিতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৩৪৪ জন। বাকিদের মেঝেসহ অতিরিক্ত বেডের ব্যবস্থা করে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। গত ২৪ ঘন্টায় এখানে ভর্তি হয়েছেন ৪৮ জন। এর মধ্যে রাজশাহীর ২৭, চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৮, নাটোরের ৭, নওগাঁর ৪, পাবনা ও কুষ্টিয়ার ১ জন করে। একই সময় সুস্থ্য হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ২৩ জন।

তিনি বলেন, মৃতদের মধ্যে ৩১ থেকে ৪০ বছরে মধ্যে তিনজন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ৩ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ৫ জন ও ৬১ বছর বয়সের উপরের ২ জন।

শামীম ইয়াজদানী জানান, রোগির চাপ বাড়ায় মঙ্গলবার এ হাসপাতালে বাড়ানো হয়েছে ২টি আইসিইউসহ ৩৮ বেড। এছাড়াও আরও ১৫ জন চিকিৎসক পাঠাতে স্বাস্থ্য দপ্তরে চিঠি দেয়া হয়েছে। এর সপ্তাহ খানেক আগে ১৫ জন চিকিৎসককে পেশনে এ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল।

রাতে প্রকাশিত দুইটি পিসিআর ল্যাবের নমুনা পরীক্ষার ফলাফলে দেখা গেছে, আগের দিনের চেয়ে ১৩ দশমিক ২৭ শতাংশ বেড়ে করোনা শনাক্তের হার হয়েছে ৪৩ দশমিক ৪৪ শতাংশ।

যা আগের দিন সোমবার ছিল ৩০ দশমিক ১৭ শতাংশ। এর আগে গত শনিবার রাজশাহীতে শনাক্তের হার ছিল ৫৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ এবং রোববার ৪১ দশমিক ১৮ শতাংশ।

ল্যাব সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাজশাহীর দুইটি ল্যাবে ৬৪৬ জনের নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। এর মধ্যে করোনা পজেটিভ এসেছে ২২৯ জনের।

সূত্রমতে, রাজশাহী ছাড়াও চাঁপাইনবাবগঞ্জের ১৩৩ নমুনা পরীক্ষা করে ৩২ জনের পজেটিভ আসে। এখানে শনাক্তের হার ২৪ দশমিক ০৭ শতাংশ। নাটোরের ১৩৯ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৩৫ জনের পজেটিভ আসে। এখানে শনাক্তের হার ২৫ দশমিক ১৮ শতাংশ।

পরীক্ষার অনুপাতে রাজশাহীতে সবেচেয়ে বেশি ৪৩ দশমিক ৪৩ শতাংশ নমুনায় করোনা শনাক্ত হয়। এ ছাড়া নাটোরে ২৫ দশমিক ১৮ শতাংশ এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জে ২৪ দশমিক ০৬ শতাংশ নমুনায় করোনা ধরা পড়েছে।

কমিউনিটিনিউজ/ এমএএইচ

আরও সংবাদ

দেশে মৃতের সংখ্যা ২১ হাজার ছাড়াল

কমিউনিটি নিউজ

ভাড়া পাচ্ছে না ‘গরিবের অ্যাম্বুলেন্স’

কমিউনিটি নিউজ

মাছ কেটে ৩০ বছর সংসার চালান তুজিন

কমিউনিটি নিউজ

ট্রাক মাইক্রোবাসের সংঘর্ষে চালক নিহত

কমিউনিটি নিউজ

২৪ ঘণ্টায় করোনায় সর্বোচ্চ প্রাণ হারালেন ২৫৮ জন

কমিউনিটি নিউজ

দেশে সর্বোচ্চ ২৪৭ জনের মৃত্যু

কমিউনিটি নিউজ