29 C
Dhaka
জুন ১৮, ২০২১

হাতে ঝোলানো ব্যাগের ভাড়া ৫০০ টাকা!

আব্দুল হাকিম, (চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ফিরে), রাজশাহী: ফারাক্কার প্রভাবে পদ্মা তার যৌবন হারিয়েছে বহু আগেই। বছরের তিন মাস পানিতে টইটম্বুর থাকে পদ্মা আর বাকি সময় ধূ-ধূ বালুচর। বছর জুড়ে এই নদীকে ঘিরে চলে কৌশলের রাজনীতি। নদী পারাপারে নৌকায় মানুষের সাথে ছোট্ট ব্যাগের ভাড়া গুণতে হয় চার’শ থেকে পাঁচ’শ টাকা।

শহর থেকে মূলত বিচ্ছিন্ন চাঁপাইনবাবগঞ্জের আলীমনগর এলাকার নারায়নপুর গ্রাম। দেশ স্বাধীনের অর্ধশত বছরেও যেখানে ঘটেনি নগরায়ন। শহর থেকে দেড় থেকে দুই ঘন্টা নৌকায় বসে যেতে হয় এই গ্রামে। পারাপারের একমাত্র মাধ্যম ইঞ্জিন চালিত নৌকা।
মানুষের প্রয়োজনের তাগিদে পারাপারের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে নৌকার মাঝিসহ ইজারাদররা (মহরিল) ঘাটে বসিয়েছে করাত। এ এমন এক করাত যার দুদিকেই কাটে। আসা যাওয়ার জন্য প্রত্যেক যাত্রীর গুনতে হয় ৩০ টাকা। কিন্তু যাত্রীদের কাছে প্রয়োজনীয় ব্যাগই কাল হয়ে দাঁড়ায়।

সরেজমিনে দেখা যায়, যাত্রীদের কাছে কাটুর্ন বা হাতে কিছু ঝোলানো ব্যাগের জন্য ভাড়া ২০০ থেকে ৫০০ টাকা আদায় করছে ইজারদার। এছাড়াও নৌকার মাঝিদের রুক্ষ ব্যবহারে অতিষ্ট হয়ে পড়েছে যাত্রীরা। টাকা দিতে না চাইলে নৌকা থেকে নামিয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে, ইজারাদারের নির্যাতন ও একক আধিপত্যের কাছে ভয়ে মুখ খুলতে চান না এ চরের মানুষ। ভুলক্রমে অতিষ্ঠ গ্রামবাসীর কেউ মুখ খুলতে শুনতে হয় অকথ্য গালিগালাজ আর মানষিক নির্যাতন। গুটিকতক নৌকার কাছে জিম্মি চরের ২৫ হাজার মানুষ। ফলে বাধ্য হয়ে তাদের মাঝির আবদার রক্ষা করেই চলতে হয়। এভাবেই হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন ঘাট ইজারাদার কমিটি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নারায়নপুর চরের এক যাত্রী বলেন, “নৌকা ভাড়া তো ৩০ টাকা, কিন্তু কাছে একটা ঔষধের কাটুর্ন থাকায় আমার কাছ থেকে ৪’শ টাকা নেয়। কখোনো পাঁচ’শ টাকাও নেওয়া হয়। নৌকা ভাড়া কমানোর জন্য স্থানীয় প্রশাসনের কাছে বারবার বলা হলেও কোন কাজে আসেনা।”

আমজাদ আলি নামের এক ব্যক্তি বলেন, “চর থেকে ৩০ টাকা দিয়ে একটা গাছ নিয়ে আসছিলাম। মাঝি আমার কাছে ১০০ টাকা ভাড়া চায় গাছসহ। পরে রাগ করেই গাছটি পানিতে ফেলে দিয়েছি। গাছ কিনলাম ৩০ টাকা ভাড়া দেবো ১০০ টাকা এটা কোন নিয়ম? এখানে প্রশানের তদারকি করা দরকার।”

নাম বলতে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি জানান, “আমরা কয়েক বন্ধু মিলে নদী ঘুরতে এসেছিলাম। সকাল সাড়ে আটটা থেকে চারটা বাজে কোনো নৌকা পাইনি। চারটার পর একটা পাইলাম ; তো আবার হাতে আমের কাটুর্ন দেখে ৩ জনের কাছে ৪০০ টাকা দাবি করে। যেখানে ভাড়া ৩০টাকা করে । যদি এই ৫ কেজি আমে ৪০০ টাকা দিতে হয় তাহলে এখারে একটা লিস্ট তৈরি করে দিতে হবে। কোনটার কত টাকা দিতে হবে। তাছাড়া অন্যায়ভাবে যা খুশি তাই নিতে পারেনা। এটার সুষ্ঠ আইন করা দরকার।”

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নারায়নপুর ঘাটের মাঝি জাহাঙ্গীর বলেন , যারা ইজারাদার আছে তারা নিতে বললে তো আমাদের কিছু করার নাই । আমরা তাদের কাজ করি তারা যেভাবে বলে সেভাবে আমরা কাজ করি। আমরা ঘাটে নৌকা চালায় পেটের দায়ে। ঔষধের কার্টুন (ব্যাগ) থাকলে কারো কাছে হয়তো নেয়া হয়; তবে এই বিষয়ে ইজারাদাররা ভালো বলতে পারবে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নারায়নপুর ঘাটের ইজাদার বেঞ্জির আহমেদ বলেন, “ ঘাটে টাকা তোলার নিয়ম স্বাভাবিক আছে। এছাড়া আমি সাধারণত টাকা কম তুলি। যারা তুলে তারা হয়তো কারো কাছে বেশি নিতে পারে। তবে এই বিষয়ে আমার কাছে কেউ অভিযোগ করেনি। যদি কেও অভিযোগ করে তাহলে আমরা কিছু বলতে পারবো। ঔষধের কাটুনে ১০০ টাকা হয়তো নেয়া হয়। আমরাও তো অনেক টাকা দিয়ে ঘাট কিনেছি। টাকা তো আমাদের কারো কাছে একটু বেশি নিতেই হবে। নাহলে আমরা সয়সার কিভাবে চালাবো?”

সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আনিসুর রহমান বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে আসেনি। তবে, করোনাভাইরাসকে পুঁজিকরে খেয়াঘাটসহ বিভিন্ন স্থানে স্বাস্থ্যবিধি অমান্য কিংবা যাত্রীদের জিম্মি করলে কাউকে ছাড় দেয়া হবেনা। অভিযোগ পেলে খুব শীঘ্রই মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে অভিযুক্ত ইজারাদারদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কমিউনিটিনিউজ/ এমএএইচ

আরও সংবাদ

গোদাগাড়ীতে কিশোর গ্যাংয়ের ৫ সদস্য গ্রেফতার

কমিউনিটি

আরইউজে সভাপতি সস্ত্রীক করোনায় আক্রান্ত

কমিউনিটি

রাজশাহীতে আরো ১২ জনের মৃত্যু

কমিউনিটি

রাজশাহীতে করোনায় ১০ জনের মৃত্যু

কমিউনিটি

অক্সিজেন-বেড সংকটে রামেক হাসপাতাল

কমিউনিটি

যাত্রাশিল্পী মুক্তির দিন কাটছে অর্ধাহারে অনাহারে

কমিউনিটি