27 C
Dhaka
জুন ১৯, ২০২১

মাদক ব্যবসা ছেড়ে রাইডিং যাদের পেশা

আব্দুল হাকিম, জেলা প্রতিনিধি, রাজশাহী: সন্ধ্যা ঘনিয়ে এসেছে। পশ্চিম গগণে লাল সূর্যের থালাটা পাহাড়ের আড়ালে ঘুমাতে গেলেই টিম-টিম করে জ¦লে উঠে বাতি। মাঝির হাঁকডাক “কেউ আছেন নাকি! চরে যাবেন? একটু পরেই শ্যালে মেশিনের ফ্যাটফ্যাটি আওয়াজ। ছুটে চললো নদীর ওপারে আলোর দিকে।

নিত্য দিনের এ চিত্র ধরা পড়ে রাজশাহী শহরের পদ্মা পাড়ে। সারাদিন ওপারের গ্রাম পবা উপজেলার চর মাঝারদিয়াড় থেকে নগরে আসে মানুষ। দিনে দু-তিন বার আসা যাওয়া হয় তাদের। একেবারেই ভারতীয় সীমান্ত লাগোনো এই গ্রামটি পড়েছে রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) দামকুড়া থানার অধীনে।

কথায় আছে, সীমান্তের মানুষগুলো অপরাধে জড়িত হয় বেশি। তেমনই এই চরের কিছু মানুষ মাদকের ব্যবসা করে জীবন নির্বাহ করতেন। এখন তারা চরের গ্রাম থেকে নদীর পাড় পর্যন্ত ভাড়ায় চালান মোটরসাইকেল। প্রতি জনের জন্য ভাড়া ১০০ টাকা। এই চালকদের আগের জীবন জানলে সত্যিই অবাক হতে হয়। এমনই এক মানুষ তাঁর জীবনের গল্প শোনালেন। সর্বনাশা পদ্মার সাথে পাল্লা দিয়ে চরেই বেড়ে উঠা ইব্রাহিম আলীর (ছদ্মনাম)।

কথা হয় ইব্রাহিমের সাথে। এখন তিনি ভালো বাইক চালক। মাদকের অঢেল টাকার লোভ ছেড়ে কেমন আছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এই চরে কৃষিকাজ ছাড়া তেমন কোনো কর্ম নেই। তাই আগে সীমান্ত এলাকা থেকে মাদকের ব্যবসা করতাম। বেশ ভালো টাকা আসতো প্রতি রাতে। মাঝেমধ্যে গরু নিয়ে আসার কাজ করতাম। জীবনের মায়ায় আর স্বাভাবিক হয়ে চলার চিন্তা থেকে সব ছেড়ে দিছি। এখন দিনে ৭-৮’শ টাকা হয় এটা দিয়েই বেশ ভালো চলে। শো-রুম থেকে কিস্তিতে মোটরসাইকেল কিনে এখন অবৈধপথ ছেড়ে বাইকে উঠেছি। একবছরের টাকা দিয়ে মোটরসাইকেলের ঋণ শোধ করেছি।”

শুধু ইব্রাহিম নয়, এরকম আরো কয়েক জনের সাথে কথা বলে জানা গেছে। চরে একসময় অবৈধ মাদকের রমরমা ব্যবসা চলতো। এখন চরে সোনা ফলেছে। চরের ধূ-ধূ বালুর বুকে ধান, বাদাম, ডাল-কালাইয়ের ব্যাপক ফলন হয়। এখন এই মাজারদিয়া গ্রামের অন্তত ১০০ যুবক ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালিয়ে তাদের জীবিকা নির্বাহ করেন।

চর মাজারদিয়া গ্রামের সাদ্দাম হোসেন। বয়স প্রায় ৩০ কিংবা ৩৫ হবে। দীর্ঘ চার বছর ধরে চালান ভাড়ায় বাইক। প্রতিদিন ৫০০ থেকে হাজার টাকা আয় হয়। নদীপাড় থেকে গ্রামে এনে দিলে একজন আরোহী ১০০ থেকে ১৫০ টাকা পেয়ে থাকেন। ফোন করলেই তারা নদীপাড়ে চলে যান। আরোহীকে নিয়ে আসেন। কাজ শেষে আবার নদী তীরে রেখে আসেন।

তিনি জানান, তার মতো প্রায় শতজন এই কাজে নিয়োজিত। এদের মধ্যে ৩০ থেকে ৪০ জন সব সময় বাইক চালান। বাকিরা মাঝে মাঝে চালান। পুলিশ- প্রশাসন, বড় কোনো কর্তা বা জনপ্রতিনিধিদের যিনিই আসেন না কেন তাদের ডাকা হয়। তারা সবসময় প্রস্তুত থাকেন।
পবার হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ বজলে রেজবি আল হাসান মুঞ্জিল বলেন, চরে চলাচল অনেকটাই সহজ করে দিয়েছে ভাড়ায়চালিত বাইক। আগে দেখা যেত চলাচলের সমস্যার কারণেই অনেকে এই চরে আসতেন না। এখন সবাই স্বাচ্ছন্দ্যে আসেন। আমরা অনেক উপকৃত হচ্ছি।

কমিউনিটি/এমএইচ

আরও সংবাদ

মাস্ক ছাড়াই করোনা ওয়ার্ডে ডিউটি, সাংবাদিক প্রবেশে বাধা

কমিউনিটি

গোদাগাড়ীতে কিশোর গ্যাংয়ের ৫ সদস্য গ্রেফতার

কমিউনিটি

আরইউজে সভাপতি সস্ত্রীক করোনায় আক্রান্ত

কমিউনিটি

রাজশাহীতে আরো ১২ জনের মৃত্যু

কমিউনিটি

রাজশাহীতে করোনায় ১০ জনের মৃত্যু

কমিউনিটি

অক্সিজেন-বেড সংকটে রামেক হাসপাতাল

কমিউনিটি