23 C
Dhaka
ডিসেম্বর ৩, ২০২১

রাজশাহীতে মৌসুমে সাড়ে ৫৪ কোটি টাকার খেজুর গুড় বিক্রি

মেহেদী হাসান, রাজশাহী: রাজশাহীতে শীত মৌসুমের শুরুতেই বদলে যেতে শুরু করে গ্রামীণ চিত্র। কুয়াশার চাদর ছড়িয়ে পড়ার আগেই একদিকে খেঁজুর গাছ ঝোড়া শুরু করে পুরুষরা; অন্যদিকে সেই সংগ্রহ করা রস গুড় তৈরির জন্য বাড়ির আঙিনার কোনে ঠাঁয় পায় চুলা। বিশেষ করে রাজশাহীর তিনটি উপজেলার চিত্র মনোমুগ্ধকর হয়ে ওঠে। শুধু তাই নয়; এই খেজুর গুড়ের ৫৪ কোটি ৭৪ লাখ টাকায় চাঙ্গা হচ্ছে গ্রামীণ অর্থনীতি।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানান, রাজশাহীতে খেজুর গাছের সংখ্যা প্রায় ১২ লাখ ২৬ হাজার। এসব গাছ থেকে প্রতি শীত মৌসুমে প্রায় ৬ হাজার ৮৮২ মেট্রিক টন গুড় উৎপাদন হয়। যার দাম প্রায় ৫৪ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। এর মধ্যে জেলায় সবচেয়ে বেশি গাছ আছে চারঘাট উপজেলায়। এখানে গাছের সংখ্যা ৩ লাখ ৯৬ হাজার। বাঘা উপজেলায় খেজুরগাছ রয়েছে দুই লাখ ৯৯ হাজার। আর পুঠিয়া উপজেলায় খেজুরগাছের সংখ্যা ৮৫ হাজার। পুকুর ডোবা, খালের ধারসহ বিভিন্ন রাস্তার পাশে জেলায় প্রায় ৫৯৩ দশমিক ৮৮ হেক্টর জমিতে রয়েছে খেঁজুর গাছ।

শীত এলেই এসব গাছ হয়ে ওঠে গাছিদের কর্মসংস্থানের উৎস। গুড় তৈরিতে এ অঞ্চলের পুরুষদের সঙ্গে কাজ করেন নারীরাও। গুড় তৈরির পর পুঠিয়ার বানেশ্বর, ঝলমলিয়া আর বাঘা সদরে নিয়ে পাইকারীতে বিক্রি করেন গাছিরা। এই গুড় ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, সুনামগঞ্জ, ময়মনসিংহ, বরিশাল, নেত্রকোনাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যায়। ঢাকা থেকে গুড় বিদেশেও পাঠানো হয়। এসব কর্মযজ্ঞের সাথে জড়িত হয়ে কর্মসংস্থান হিসেবে মৌসুমে জড়িত হন প্রায় ৭৫ হাজার মানুষ।

কথা হয় রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার বামনদীঘী এলাকার আব্দুস সবুর বলেন, আমি প্রতিবছরই খেঁজুর গাছের রস সংগ্রহ করি। গুড় তৈরির পর বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালীর মানুষ আসে কিনতে। তাদের কাছে বিক্রি করি। মোটামুটি লাভ আসে। এবার একশ’টি গাছ লাগিয়েছি।

বামনদীঘী এলাকার সোহানুর রহমান বলেন, ৯০ টি গাছ লাগিয়েছি। গতবার ৫০ হাজার টাকা লাভ করেছি। এবার ঠান্ডা এখোনো সেভাবে পড়েনি। এজন্য প্রতিদিন ৭০ লিটার রস পাচ্ছি। জানুয়ারিতে এই গাছগুলো থেকে তিনশ লিটার রস পাবো।

মনোয়ার হোসেন নামে এক ব্যবসায়ী বলেন, প্রতিকেজি ৬৩ টাকা দরে কিনলে লাভ থাকে। ৬৫ টাকা বিক্রি করলেও সমস্যা নাই। খুচরা এই গুড় ৮০ থেকে ৯০ টাকা দরে বিক্রি হয় সময়ে। ব্যবসায়ীরা জানান, রাজশাহী অঞ্চলের পর পরই যশোর, মাদারীপুর ও ফরিদপুর এলাকায় গুড় উৎপাদন হয়। তবে রাজশাহীর গুড়ের স্বাদ অত্যন্ত সুমিষ্ট। গন্ধও ভালো। গুড় উৎপাদনে কেমিক্যালের ব্যবহারও কম। তাই চাহিদাও বেশি। এজন্য রাজশাহী থেকেই বেশি গুড় কেনার চেষ্টা করেন তারা।

বাঘা, চারঘাট আর পুঠিয়ার গাছিরা ভোরের কুয়াশা ঠেলে গাছ থেকে রস সংগ্রহ করেন। আর নারীরা বাড়িতে রস জ্বাল দিয়ে তৈরি করেন লোভনীয় মিষ্টি গুড়। পুরুষরা আবার দুপুর থেকে শুরু করেন গাছের নির্দিষ্ট অংশ চেঁছে রস বের করার কাজ। সন্ধ্যায় গাছে হাঁড়ি পাতেন তারাই। বাড়িতে গুড়ের চাকি তৈরি হলে তা বাজারে নেন গাছিরাই। হাটের দিন গুড় বিক্রি করে মাছ-মাংস কিনে হাসিমুখে বাড়ি ফেরেন। সব গাছির বাড়িতেই হাটবার ভালো রান্না হয়।

রাজশাহী জেলা কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কে জে এম আব্দুল আউয়াল বলেন, রাজশাহী অঞ্চলের খেজুর গুড় খুবই সুস্বাদু। শীতের নানা খাবার তৈরিতে এর জুড়ি নেই। এ জন্য বর্তমানে রাজশাহীর গুড় দেশ-বিদেশে পাঠানো হচ্ছে। এবার গুড়ের ভালো দাম পাচ্ছেন গাছিরা। ফলে জেলার পুঠিয়া, চারঘাট ও বাঘা উপজেলার গ্রামীণ অর্থনীতিতে এখন চাঙ্গাভাব বিরাজ করছে। প্রতি শীত মৌসুমে প্রায় ৬ হাজার ৮৮২ মেট্রিক টন গুড় উৎপাদন হয়। যার দাম প্রায় ৫৪ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। প্রতিবছরই বাড়তি আয় হিসেবে জেলার গাছিরা এ টাকা আয় করে থাকেন।

কমিউনিটি/এমএইচ

আরও সংবাদ

আগামীকাল বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস

কমিউনিটি নিউজ

পাঁচ মাস পর কমলো এলপিজি গ্যাসের দাম

কমিউনিটি নিউজ

বৃহস্পতিবারের পোল্ট্রির ডিম, মুরগি ও বাচ্চার পাইকারি দাম

কমিউনিটি নিউজ

৩০ দিনেই এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল

কমিউনিটি নিউজ

চাঞ্চল্যকর ৬ শিক্ষার্থী হত্যা মামলায় ১৩ জনের মৃত্যুদণ্ড

কমিউনিটি নিউজ

আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম অনুসারে দেশে ব্যবস্থা : অর্থমন্ত্রী

কমিউনিটি নিউজ