33 C
Dhaka
মে ১৫, ২০২১

রিযিক সম্পর্কে ইসলাম কি বলে

  • মাসতুরা খাতুন

আমরা দুনিয়ার জীবনে সুন্দরভাবে বাঁচার জন্য যতগুলো বিষয় নিয়ে খুব বেশি ভাবি, চিন্তিত হই, দুশ্চিন্তা করি, সেগুলোর মধ্যে প্রথম দিকে আছে খাওয়া সংক্রান্ত রিজিক নিয়ে চিন্তা। কাল কী খাবো, কালকের খাবার ফ্রিজে থাকলে পরশু কী খাবো সেই চিন্তা। দুচার দিনের খাবার মজুদ থাকলে আগামী মাসে কী খাবো, কীভাবে সংসার চলবে, কীভাবে পরিবারের সদস্যরা খাবে? মেহমান আসলে কী খাবে? কিন্তু একটা মানুষ পুরো জীবনে কত টাকা আয় করবে সেটা লিখিত, কে কার জীবনসঙ্গী হবে সেটা লিখিত, কবে কোথায় মারা যাবে সেটাও লিখিত আছে। আশ্চর্যের ব্যাপার হচ্ছে, আমি কতগুলো দানা ভাত দুনিয়াতে খেয়ে তারপর মারা যাবো সেটা লিখিত। একটি দানাও কম না, একটিও বেশি না।

কুরআনুল কারীমে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘এমন অনেক জন্তু আছে, যারা আগামীকালের জন্য খাদ্য সঞ্চিত রাখে না। আল্লাহই রিজিক দেন তাদের ও তোমাদেরও। তিনি সর্বশ্রোতা তোমরা যা বলো, আর সর্বজ্ঞ যা তোমরা করো।’ [সূরা আনকাবুত : ৬০]

হাদিসে বলা হয়েছে,  ‘হজরত মুতাল্লিব ইবনে হানতাব রা: থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সা: বলেছেন, নিশ্চয় জিব্রাইল আমার অন্তরে ওহি ঢেলে দিয়েছেন, অবশ্যই রিজিক শেষ হওয়ার আগে কারো মৃত্যু হয় না। সুতরাং তোমরা হারাম ছেড়ে হালাল পথে রিজিকের অনুসন্ধান করো।’ [মুসান্নেফে ইবনে আবী শায়বা ৯/২৫৪]

সুতরাং টাকার পেছনে দৌড়াতে গিয়ে কুরআন-সুন্নাহর খেলাফ করা যাবে না। একটা কথা এখানে বলে রাখা ভালো, দুনিয়া কামানোতে নিষেধ নেই। তবে দুনিয়া কামাতে গিয়ে আখিরাত ভোলা যাবে না। এটার প্রমাণ পাওয়া যায় কুরআনের এই আয়াত থেকে।

আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘জুমার দিন খুতবা শোনার পর নামাজ শেষে (রিজিকের অনুসন্ধানে) জমিনে ছড়িয়ে পড়ো। নিজের চেষ্টার মাধ্যমে অর্থাৎ চাকরি-বাকরি, ব্যবসা-বাণিজ্য ইত্যাদির মাধ্যমে রিজিক অনুসন্ধান করো। সুখে-দুঃখে সব অবস্থায় আল্লাহকে স্মরণ করো। যাতে তোমরা দুনিয়াতে ও আখিরাতে সফল হও।’ [সূরা জুম‘আ ১০]

রিজিক মানে শুধু খাদ্য সামগ্রী নয়, বরং জীবন-উপকরণের সবকিছু। অর্থাৎ সব প্রাণীর জীবন-উপকরণের দায়িত্ব আল্লাহ তায়ালা নিজেই গ্রহণ করেছেন। আল্লাহ তায়ালা বান্দার তাকদিরে যা লিখে রেখেছেন এবং যতোটুকু লিখে রেখেছেন, তা সে ততোটুকু পাবেই।

ধরেন এটা লিখিত যে আমি সারাজীবনে ১ কোটি টাকা আয় করবো, এই সিদ্ধান্ত আল্লাহ্‌ তায়ালা নিয়েছেন। তবে আমি হালাল উপায়ে আয় করবো না হারাম উপায়ে আয় করবো সেই সিদ্ধান্ত আমার। যদি ধৈর্য ধারণ করি, আল্লাহ্‌ তায়ালার কাছে চাই, তাহলে হালাল উপায়ে ওই ১ কোটি আয় করেই আমি মারা যাবো, হারাম উপায়ে হলেও ওই ১ কোটিই… নাথিং মোর, নাথিং লেস!

আমি যেই ফলটি আজকে ঢাকা বসে খাচ্ছি, সেটা হয়ত ইতালি কিংবা থাইল্যান্ড থেকে ইমপোর্ট করা। ওই গাছে যখন মুকুল হয়েছে তখনই এটা নির্ধারিত যে সেটি আমার কাছে পৌঁছাবে। এর মধ্যে কত পাখি ওই ফলের উপর বসেছে, কত মানুষ এই ফলটি পাড়তে গেছে, সেখান থেকে সুইসে এসে দোকানে অনেকে এই ফলটি নেড়েচেড়ে রেখে গেছে, পছন্দ হয় নি, কিনে নি। এই সব ঘটনার কারণ একটাই, ফলটি আমার রিজিকে লিখিত। যতক্ষণ না আমি কিনতে যাচ্ছি, ততক্ষণ সেটা ওখানেই থাকবে।

এর মধ্যে আমি মারা যেতে পারতাম, অন্য কোথাও চলে যেতে পারতাম, কিন্তু না। রিজিকে যেহেতু লিখিত আমি এই ফলটি না খেয়ে মারা যাবো না। রিজিক জিনিসটা এতোটাই শক্তিশালী!

কিংবা যেই আত্মীয় কিংবা বন্ধু-বান্ধব আমার বাসায় আসছে, সে আসলে আমার খাবার খাচ্ছে না। এটা তারই রিজিক, শুধুমাত্র আল্লাহ্‌ তায়ালা আমার মাধ্যমে তার কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন। হতে পারে এর মধ্যে আমাদের জন্য মঙ্গল রয়েছে। কেউ কারওটা খাচ্ছে না, যে যার রিজিকের ভাগই খাচ্ছে। আমরা হালাল না হারাম উপায়ে খাচ্ছি সেটা নির্ভর করছে আমি আল্লাহ্‌ তায়ালার উপর কতটুকু তাওয়াক্কাল আছি, কতটুকু ভরসা করে আছি। আল্লাহ্‌ তায়ালা আমাদের সঠিক পথ ও রিজিক এর তৌফিক দান করুন।

  • মাসতুরা খাতুন
  • ফাজিল তৃতীয় বর্ষ, রাজশাহী মদিনাতুল উলুম কামিল মাদরাসা, রাজশাহী

আরও সংবাদ

নিরাপদ আশ্রয় ও রিজিক পেতে দোয়া করুন

কমিউনিটি

১২ নির্দেশনায় মসজিদেই হবে ঈদের নামাজ

কমিউনিটি

রাজশাহীতে ফিতরা টাকা নির্ধারণ

কমিউনিটি

আল্লাহ বান্দার সহজ করতে চান

কমিউনিটি

রোজাদারের আনন্দ ইফতারে

কমিউনিটি

জাহান্নাম থেকে মুক্তির বিশেষ মুহূর্ত

কমিউনিটি