28 C
Dhaka
আগস্ট ১৩, ২০২২

আল্লাহ বান্দার সহজ করতে চান

  • মাহমুদ আহমদ 

আল্লাহ পাকের কাছে হাজারো শুকরিয়া যে, সুস্থ এবং আরামের সাথে রোজার দিনগুলো অতিবাহিত করাচ্ছেন। দ্রুতই কেটে যাচ্ছে রহমতের দশক। জানিনা এ দিনগুলোতে কতটুকু আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি লাভ করতে পারছি। দয়াময় আল্লাহর কাছে আমাদের সকাতর প্রার্থনা, হে দয়াময় প্রভূ! আমরা তোমার দুর্বল বান্দা, আমাদেরকে তুমি ক্ষমা করে তোমার রহমতের বারি ধারায় সিক্ত কর।

আমাদের মধ্যে অনেকে এমনও আছেন যারা রমজানের রোজা রাখার জন্য অনেক আগ্রহী ছিলেন কিন্তু অসুস্থতার কারণে রোজা রাখতে পারছেন না। যাদের নিয়ত ছিল রোজা রাখার কিন্তু অসুস্থতার কারণে রোজা রাখতে পারছেন না তাদের বলবো আপনারা মন খারাপ না করে দোয়া করুন।

আরো পড়ুন:

রোজাদারের আনন্দ ইফতার

রোজা ছেড়ে দিলে যা করতে হবে

রোজা রেখে টিকা নিলে সমস্যা নেই

আপনারা এই দোয়া করুন যেন সুস্থ হলে রোজা পূর্ণ করতে পারেন, তাহলে দেখবেন আল্লাহ তায়ালা আপনাদেরকে উত্তম প্রতিদান দিবেন। কেননা আল্লাহ বান্দার অন্তর দেখেন।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহপাক বিশেষ কিছু অবস্থায় রোজা রাখতে বারণ করেছেন, যেমন সফরে অথবা অসুস্থ অবস্থায় রোজা রাখতে আল্লাহ নিষেধ করেছেন।

এছাড়া শিশুদের, গর্ভবতীদের এবং স্তন্যদানকারী মহিলাদেরও রোজা না রাখার কথা বলা  হয়েছে। পবিত্র কোরআনে এ বিষয়ে স্পষ্ট আদেশ থাকা সত্বেও অনেকে গায়ের জোরে অসুস্থ্য অবস্থায় এবং সফরে রোজা রাখেন, এটা মোটেও আল্লাহ পাকের সন্তুষ্টির কারণ নয়। আল্লাহ যা আদেশ দিয়েছেন তা পালন করার মধ্যেই আল্লাহর সন্তুষ্টি নিহিত।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তোমাদের মাঝে যে এ মাসকে পাবে সে যেন এতে রোজা রাখে। কিন্তু যে অসুস্থ অথবা সফরে থাকে তাকে অন্যান্য দিনে রোজার এ সংখ্যা পূর্ণ করতে হবে। আল্লাহ তোমাদের জন্য স্বাচ্ছন্দ্য চান এবং তোমাদের জন্য কাঠিন্য চান না’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ৮৫)।

এ আয়াতে আল্লাহতায়ালা স্পষ্ট করে উল্লেখ করেছেন, ‘আল্লাহ তায়ালা তোমাদের জন্য সহজ চান আর তোমাদেরকে কষ্টে ফেলতে চান না।’ কিন্তু আমাদের আফসোস হয় তাদের জন্য যারা এই রোজাকে কষ্টদায়ক বানিয়ে নেয়। তারা রোজার বিষয়ে বেশ কঠোরতা অবলম্বন করে।

সমস্ত রোজাকেই তারা ইসলাম মনে করে আর তাই যতই অসুস্থ হোক বা দুর্বল, বৃদ্ধ হোক বা গর্ভবতী বা স্তন্যদানকারী তাদের ক্ষেত্রেও ছাড় দিতে চায় না।

অসুস্থতা যদি বেড়েও যায় অথবা স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটে তারপরেও রোজা ছাড়ে না। রোজার ক্ষেত্রে এ ধরনের কঠোরতা কোনো ভাবেই ইসলাম সম্মত নয়। আল্লাহপাক মানুষের স্বাচ্ছ্যন্দ চান, মানুষের কষ্ট হোক এটা তিনি চান না।

অপর দিকে কিছু মানুষ এমনও আছে যাদের কাছে রমজানের দিনগুলোর যেন কোনো গুরুত্বই নেই। রমজানুল মোবারক মাস আসে আর তার ফজল ও রহমতের বৃষ্টি বর্ষণ করে চলে যায় কিন্তু তাদের এ দিকে খেয়ালও থাকে না যে, রমজান আসলো এবং চলে গেল।

ইসলাম শান্তির ধর্ম। ইসলাম নিজের কিছু বিধি বিধানের এমন কিছু শর্ত নির্ধারণ করে দিয়েছে যে, যদি এই শর্ত কারো মধ্যে পাওয়া যায় তবে সে যেন এই হুকুমের ওপর আমল করে আর যদি না পাওয়া যায় তবে যেন না করে। যেমন হজ্জ বা জাকাত ইত্যাদির বিধি বিধান। এগুলো সবার জন্য আবশ্যকীয় নয়। রমজান মাসে সফর করা অবস্থায় রোজা রাখায় প্রকৃত পক্ষে এতে কোনো কল্যাণ নেই। এমন অবস্থায় রোজা না রাখাটাই কল্যাণ। আমরা নামাজ, রোজাসহ অন্যান্য আমল শুধুমাত্র আল্লাহতায়ালার নির্দেশেই করে থাকি, তাই রোজা সম্পর্কে আল্লাহর যে আদেশ-নিষেধ রয়েছে তাও মানতে হবে। অসুস্থতা এমনই যদি হয় যে, তার পক্ষে রোজা রাখা সম্ভব হচ্ছে না তাহলে সে ফিদিয়া আদায় করবে।

আমাদেরকে অবশ্যই মনে রাখতে হবে রমজানের রোজা হচ্ছে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের একমাত্র মাধ্যম। এই রোজা রাখার বিষয়ে আমরা যদি কোনো দূর্বলতা দেখাই তাহলে এটা আমাদের জন্য দুর্ভাগ্যের কারণ হবে। এছাড়া কোন উপযুক্ত কারণ ব্যতিত নগন্য নগন্য বিষয়ে অজুহাত দাঁড় করিয়ে রমজানের রোজা ত্যাগ করা মোটেও উচিত নয়। আমরা অনেককেই দেখতে পাই সামান্য কারণেই রোজা ছেড়ে দেন বা রাখেন না।

এছাড়া যারা জেনে বুঝে রোজা ত্যাগ করে তাদের সম্পর্কে মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোন কারণ ছাড়াই রমজানের একটি রোজাও ত্যাগ করে বা ছেড়ে দেয় সে ব্যক্তি যদি পরবর্তিতে জীবন ভরও ঐ রোজার বদলে রোজা রাখে তবুও সেটা তার পরিপুরক হবে না’ (মুসনাদ দারমি)।

আমাদের উচিত হবে সামান্য কোন কারণ দেখিয়ে যেন রোজা থেকে বিরত না হই। রোজা রাখতে একান্তই যদি অপারগ হই সেটা ভিন্ন বিষয় কিন্তু কোন ধরনের বাহানা যেন আমরা অন্বেষন না করি। এছাড়া আল্লাহ তার বান্দার অন্তর দেখে থাকেন সে বিষয়টি আমাদের মাথায় রাখতে হবে।

আমাদের সবাইকে রোজার বিষয়ে আল্লাহতায়ালার যে নির্দেশাবলী রয়েছে তার ওপর আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

লেখক: ইসলামি গবেষক ও কলামিস্ট
masumon83@yahoo.com

কমিউনিটিনিউজ/ এমএএইচ 

পেঁপের বীজ ফেলে দেন? উপকারিতা জানলে আর ফেলবেন না

কমিউনিটিনিউজ ডেস্ক: গরমকালে অনেকেই পেঁপে খেতে ভালোবাসেন। তবে পেঁপে খাওয়া পর এর বীজ সকলেই ফেলে দেন। কিন্তু জানেন কি পেঁপের বীজ শরীরের পক্ষে কতটা উপকারী? ওজন কম করা থেকে শুরু করে নানান সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে পেঁপের বীজ কার্যকরী।

পেঁপের বীজে রয়েছে নানা ভিটামিন ও ফসফরাস, ম্যাগনেশিয়াম, ক্যালসিয়ামের মতো জরুরি কিছু মিনারেল। এটি ফ্ল্যাবনয়েডের অন্যতম উৎস, যা হজমশক্তি বাড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।

জেনে নিন কি কি কাজে লাগে পেঁপের বীজ…

ওজন কমাতে যেভাবে ব্যবহার করবেন

পেঁপেতে একাধিক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, মিনারেল থাকে। ক্যালরির পরিমাণও পেঁপের বীজে কম। পেঁপেতে উপস্থিত উৎসেচক ওজম কমানোর পাশাপাশি ব্যাড কোলেস্টেরল কম করতেও সাহায্য করে। পেঁপের বীজ শুকিয়ে গুঁড়ো করে নিন। ১০-১৫ দিন পর্যন্ত ১ চামচ করে এই গুঁড়ো খেলে ওজন কমানো সহজ হতে পারে। এক দিনে ৫-৮ গ্রাম বীজের গুঁড়ো খান। লেবুর রসের সঙ্গে পেঁপের বীজের গুঁড়ো খেতে পারেন। এমনকি স্যালাডের ওপর ছড়িয়েও এটি খাওয়া যেতে পারে।

ত্বক উজ্জ্বল করবে

পেঁপের বীজে অ্যান্টি এজিং গুণ থাকে। ত্বকের ঔজ্জ্বল্য বজায় রাখার পাশাপাশি বলিরেখা দূর করতেও সাহায্য করে এটি। পেঁপে খাওয়ার সময় এই বীজ চিবিয়ে খেয়ে নিন। এর পর জল পান করুন। এমন করলে অসময়ে বলিরেখা ও ফাইন লাইন দেখা দেবে না।

হজম শক্তি বাড়ায়

পেঁপের বীজে অধিক পরিমাণে পাচক উৎসেচক থাকে। যা প্রোটিন ভাঙতে সাহায্য করে প্রাকৃতিক পাচন ক্রিয়ায় সাহায্য করে। পেঁপের বীজকে রোদে শুকিয়ে মিক্সারে গুঁড়ো করে নিন। সামান্য উষ্ণ জলের সঙ্গে এটি খান।

ডেঙ্গুজ্বর দুর করে

ডেঙ্গুজ্বর এ বৈজ্ঞানিক যুগে এসেও এক মহামারীর নাম। প্রতি বছরই ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুমুখে পতিত হচ্ছেন লাখ লাখ মানুষ। বিজ্ঞানীরা বলছেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে পেঁপের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য! এর কারণ হিসেবে জানা গেছে, ডেঙ্গু আক্রান্ত হলেই শরীরে যে প্লেটলেটের ঘাটতি থাকে, তা পেঁপের বীজ কমিয়ে দেয়। এ সময় নিয়মিত পেঁপে বীজ ও পেঁপেপাতা খেতে থাকলে প্লেটলেট কাউন্ট আবার স্বাভাবিক মাত্রায় ফিরে আসে।

লিভারের সমস্যা দুর করে

যকৃত বা লিভারের সমস্যায় পেঁপের বীজ অনন্য ভূমিকার রাখে। বিশেষজ্ঞদের মতে, একটু পানি আর দইয়ের সঙ্গে পেঁপের বীজ মিশিয়ে নিয়মিত খেতে পারলে যকৃত ভালো থাকে।

ঋতুস্রাব সমস্যায় দুর করে

ঋতুস্রাবের সময় অসহ্য যন্ত্রণার সম্পূর্ণ উপশমের জন্য পেঁপের বীজ অত্যন্ত কার্যকরী! পিরিয়ড চলাকালীন পেঁপে বীজের সঙ্গে মধু মিশিয়ে ১ চামচ করে খেলে এ সময়ের ব্যথা অনেক কম বোধ হবে।

ত্বক পরিচর্যায় কাজ করে

পেঁপের বীজ আর পাতা বেটে ফেসপ্যাক বানিয়ে ফেলা যায়। বার ওই প্যাক মুখে লাগিয়ে অন্তত ১০ মিনিট রেখে দিলেই হয়। সপ্তাহে অন্তত ২-৩ দিন এভাবে পেঁপের বীজের ফেসপ্যাক তৈরি করে মুখে মাখলে তৈলাক্ত ত্বক আর ব্রণ-ফুসকুড়ির সমস্যা থেকে সহজেই মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

জীবাণু ধ্বংস করে

পেঁপে বীজে রয়েছে এক ধরনের উৎসেচক, যা আমাদের শরীরে প্রবেশ করা নানা ক্ষতিকর জীবাণুকে মেরে ফেলে। এ ছাড়া শরীরে প্রোটিনের বিপাকে সাহায্য করে।

কমিউনিটিনিউজ/ এমএএইচ 

আরও সংবাদ

আজ পবিত্র আশুরা, জানুন ইতিহাস

কমিউনিটি নিউজ

কিয়ামতের দিন কাফিররা যেসব কারণে আফসোস করবে

কমিউনিটি নিউজ

পাগলা মসজিদের দানবাক্সে গৃহবধূর চিঠি, অবাক ম্যাজিস্ট্রেট

কমিউনিটি নিউজ

২১ জুলাই (বুধবার) পবিত্র ঈদুল আজহা

কমিউনিটি নিউজ

নিরাপদ আশ্রয় ও রিজিক পেতে দোয়া করুন

কমিউনিটি নিউজ

১২ নির্দেশনায় মসজিদেই হবে ঈদের নামাজ

কমিউনিটি নিউজ