28 C
Dhaka
আগস্ট ১৩, ২০২২

বাসায় তারাবি পড়া যাবে কি?

  • মুফতি আসিম নাজিব

রমজানে এশার নামাজের পর যে ২০ রাকাত সুন্নতে মুয়াক্কাদার নামাজ আদায় করা হয়, সেটাকে তারাবির নামাজ বলে। পুরুষদের জন্য তারাবির নামাজ মসজিদে জামাতের সঙ্গে আদায় করা সুন্নত।

নারীদের জন্যও ২০ রাকাত তারাবি সুন্নত। তারাবির নামাজে কোরআন শরিফ খতম করা সুন্নত আমল। তারাবির নামাজের সময় হলো- এশার নামাজের পর থেকে ফজরের নামাজের সময়ের আগ পর্যন্ত।

বৈশ্বিক করোনা ভাইরাসের ছড়াছড়ির কারণে গতবারের মতো এইবারও অনেকে ঘরে, বাসায় কিংবা নিজস্ব প্রতিষ্ঠানে তারাবির নামাজ আদায় করবেন। কেউ পরিবারের সঙ্গে তারাবি পড়লে — তাদের নামাজের জামাত ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয় নিয়ে আমাদের পাঠকদের জন্য আমাদের আয়োজন।

ঘরে তারাবি ও মাহরামদের নিয়ে জামাত
শরিয়ত অনুমোদিত কোনো কারণে যদি কোনো পুরুষ মসজিদে যেতে না পারে, তাহলে ঘরের মাহরাম নারীদের সঙ্গে নিয়ে জামাতে নামাজ পড়া তার জন্য বৈধ। এ ক্ষেত্রে সবাই জামাতের সওয়াব পাবে। কিন্তু গায়রে মাহরাম নারীদের নিয়ে ঘরে জামাতে নামাজ আদায় সমীচীন নয়।

  • তবুও গায়রে মাহরাম নারীরা যদি ঘরে নামাজের জামাতে শরিক হতে চায়, অবশ্যই তারা পর্দার আড়ালে থেকে জামাতে অংশগ্রহণ করবে। পর্দার বিধান লঙ্ঘন করে জামাত করা বৈধ নয়। (খুলাসাতুল ফাতাওয়া : ১/২২৮; আপকে মাসায়েল আওর উনকা হল : ২/২২৭)
    এভাবে নামাজ পড়তে গেলে জামাতে দাঁড়ানোর পদ্ধতি হলো— এক বা একাধিক নারী পেছনের সারিতে দাঁড়াবে। (রদ্দুল মুহতার : ১/৫৬৬; আহসানুল ফাতাওয়া : ৩/২৯৯)

আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, ‘আমি নবী করিম (সা.)-এর সঙ্গে ঘরে জামাতে নামাজ পড়েছি, একবার আমি নবী করিম (সা.)-এর পাশে দাঁড়িয়েছি, আর আয়েশা (রা.) আমাদের পেছনে দাঁড়িয়ে আমাদের সঙ্গে জামাতে শরিক হয়েছিলেন। (নাসাঈ, হাদিস : ৮০৩)

স্বামী-স্ত্রীর জামাতের বিধান-পদ্ধতি
স্বামী-স্ত্রী উভয়ে জামাতে নামাজ আদায় করতে পারবে। তবে স্ত্রী স্বামীর পাশাপাশি না দাঁড়িয়ে পেছনে দাঁড়াবে। এতটুকু সম্ভব না হলে, ডান পাশে একটু পেছনে সরে দাঁড়ালেও নামাজ হয়ে যাবে। তবে স্ত্রী স্বামীর সঙ্গে সমান হয়ে দাঁড়াতে পারবে না, কারণ এভাবে দাঁড়ালে উভয়ের নামাজ নষ্ট হয়ে যাবে। (রদ্দুল মুহতার : ১/৫৭২)

নাবালেগ ও নারীদের কাতারের অবস্থান
সাধারণত নামাজের জামাতে কাতারবদ্ধ হওয়ার সুন্নত পদ্ধতি হলো, প্রথমে বালেগ পুরুষ দাঁড়াবে, এরপর নাবালেগ বা অপ্রাপ্ত বয়স্ক বালক দাঁড়াবে। যদি নারীরা জামাতে অংশগ্রহণ করে তারা সবার পেছনে দাঁড়াবে। (সুনানুল বাইহাকি, হাদিস নং : ৫১৬৬; হেদায়া : ১/২৩৯)

ভিন্ন ভিন্ন বা একাকী নামাজ পড়লে…

নারী-পুরুষ নিজেরা একাকী কিংবা ভিন্ন ভিন্ন নামাজ পড়ার সময় বরাবর বা সামনে-পেছনে দাঁড়াতে পারবে। এ ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের সামনে-পেছনে বা সমানভাবে দাঁড়ানোর উল্লেখিত বিধান প্রযোজ্য নয়। একে অপরের সামনে-পেছনে থাকলে নামাজের শুদ্ধতায় কোনো প্রভাব পড়বে না। কারণ, প্রত্যেকে আলাদা নামাজ পড়ছে কিংবা আলাদা আলাদা জামাতে অংশগ্রহণ করেছে। তাই আগেরি উল্লেখিত বিধান এখানে প্রযোজ্য নয়। (মাবসুতে সারাখসি : ১/১৮৫)

শুধু নারীদের জামাত বৈধ নয়

  • ঘরে বা অন্য কোথাও নারীরা একত্রিত হয়ে কোনো নারীকে ইমাম বানিয়ে নামাজের জামাত করা মাকরূহে তাহরিমি তথা নাজায়েজ। যদিও জামাতে আদায়কৃত ওই নামাজ শুদ্ধ হয়ে যাবে, তবে তারা সবাই গোনাহগার হবে। তারপরও যদি নারীরা আলাদা জামাত করে, তাহলে যিনি ইমাম হবেন, তিনি কাতারে সবার সামনে দাঁড়াবেন না; বরং প্রথম কাতারের মাঝখানে দাঁড়াবেন। (তাবঈনুল হাকায়েক : ১/১৩৫, ফাতাওয়া দারুল উলুম : ৩/৪৩)

প্রসঙ্গত রাসুল (সা.)-এর জামানায় তার স্ত্রীগণ একত্রিত হয়ে জামাতে নামাজ আদায় করার কোনো প্রমাণ হাদিস শরিফে পাওয়া যায় না। আলী (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘কোনো নারী জামাতের ইমামতি করতে পারবে না। ’ অনুরূপ তাবেঈ ইবরাহিম নাখয়ি, ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ, রবিআ ও ইবনে শিহাব জুহরি (রহ.) প্রমুখ থেকে তা বর্ণিত হয়েছে। (আলমুদাওয়ানাতুল কোবরা : ১/১৭৮) প্রখ্যাত হাদিসবিশারদ ও ফিকাবিদ শিব্বির আহমদ উসমানি (রহ.) বলেন, হাদিসটির সূত্র বিশুদ্ধ। (ইলাউস সুনান : ৩/১৩০১)

কমিউনিটিনিউজ/ এমএএইচ

দ. আফ্রিকায় করোনায় বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যু

কমিউনিটিনিউজ ডেস্ক:  প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দক্ষিণ আফ্রিকায় থাকা মোহাম্মদ রতন (৪০) নামে এক বাংলাদেশি মারা গেছেন। স্থানীয় সময় ১৪ এপ্রিল (বুধবার) দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গের স্প্রিং শহরে মারা যান ।

করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর স্থানীয় একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। দু’সপ্তাহের বেশি সময় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। জোহানেসবার্গে দীর্ঘদিন ব্যবসা করে আসছিলেন তিনি।

তার দেশের বাড়ি মুন্সিগঞ্জের মোল্লাকান্দি ইউনিয়নের আমঘাটা গ্রামে।

বিশ্বে একদিনে প্রায় ১৩ হাজার মানুষের মৃত্যু

করোনা মহামারির থাবায় বিশ্বজুড়ে সংক্রমণ ও প্রাণহানি অব্যাহত রয়েছে। ভয়াবহভাবে বেড়েই চলেছে ভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। গত ২৪ ঘণ্টায় সারা বিশ্বে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন প্রায় ১৩ হাজার মানুষ। একই সময়ে ভাইরাসটিতে নতুন করে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ছাড়িয়েছে সাত লাখ ৪৫ হাজার।

এতে বিশ্বব্যাপী করোনায় আক্রান্তের সংখ্যাও ছাড়িয়েছে ১৩ কোটি ৮৮ লাখের ঘর। অন্যদিকে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে প্রায় ২৯ লাখ ৮৫ হাজার। ভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ের ধাক্কায় বিশ্বের প্রায় সব দেশেই বেড়েছে সংক্রমণ ও প্রাণহানির সংখ্যা।

  • বৃহস্পতিবার (১৫ এপ্রিল) সকালে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত, মৃত্যু ও সুস্থতার হিসাব রাখা ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটারস থেকে পাওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা বিশ্বে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১২ হাজার ৯২৪ জন। এতে বিশ্বজুড়ে মৃতের সংখ্যা পৌঁছেছে ২৯ লাখ ৮৪ হাজার ৯০১ জনে।

এছাড়া, একই সময়ের মধ্যে ভাইরাসটিতে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৭ লাখ ৪৫ হাজার ৪৯৩ জন। এতে ভাইরাসে আক্রান্ত মোট রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩ কোটি ৮৮ লাখ ২০ হাজার ১৬৬ জনে।

করোনাভাইরাসে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে এখন পর্যন্ত ৩ কোটি ২১ লাখ ৪৯ হাজার ২২৩ জন করোনায় আক্রান্ত এবং ৫ লাখ ৭৮ হাজার ৯২ জন মারা গেছেন। লাতিন আমেরিকার দেশ ব্রাজিল করোনায় আক্রান্তের দিক থেকে তৃতীয় ও মৃত্যুর দিক দিয়ে তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। দেশটিতে মোট শনাক্ত রোগী এক কোটি ৩৬ লাখ ৭৭ হাজার ৫৬৪ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ৩ লাখ ৬২ হাজার ১৮০ জনের।

অন্যদিকে করোনায় আক্রান্তের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থান উঠে এসেছে প্রতিবেশি দেশ ভারত। তবে ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃতের তালিকায় দেশটির অবস্থান চতুর্থ। দেশটিতে মোট আক্রান্ত এক কোটি ৪০ লাখ ৭০ হাজার ৮৯০ জন এবং মারা গেছেন ১ লাখ ৭৩ হাজার ১৫২ জন।

এছাড়া এখন পর্যন্ত ফ্রান্সে ৫১ লাখ ৪৯ হাজার ৮৩৪ জন, রাশিয়ায় ৪৬ লাখ ৬৬ হাজার ২০৯ জন, যুক্তরাজ্যে ৪৩ লাখ ৭৮ হাজার ৩০৫ জন, ইতালি ৩৮ লাখ ৯ হাজার ১৯৩ জন, তুরস্কে ৪০ লাখ ২৫ হাজার ৫৫৭ জন, স্পেন ৩৩ লাখ ৮৭ হাজার ২২ জন, জার্মানি ৩০ লাখ ৬৪ হাজার ৩৮২ জন এবং মেক্সিকোতে ২২ লাখ ৮৬ হাজার ১৩৩ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।

অন্যদিকে করোনায় আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত ফ্রান্সে ৯৯ হাজার ৭৭৭ জন, রাশিয়ায় এক লাখ ৪ হাজার, যুক্তরাজ্যে এক লাখ ২৭ হাজার ১৬১ জন, ইতালিতে এক লাখ ১৫ হাজার ৫৫৭ জন, তুরস্কে ৩৪ হাজার ৭৩৪ জন, স্পেনে ৭৬ হাজার ৭৫৬ জন, জার্মানিতে ৭৯ হাজার ৮১৩ জন এবং মেক্সিকোতে ২ লাখ ১০ হাজার ২৯৪ জন মারা গেছেন।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের উহানে প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। এরপর গত বছরের ১১ মার্চ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) করোনাকে ‘বৈশ্বিক মহামারি’ হিসেবে ঘোষণা করে। এর আগে একই বছরের ২০ জানুয়ারি জরুরি পরিস্থিতি ঘোষণা করে ডব্লিউএইচও। বিশ্ব এখন করোনা মহামারির দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলা করছে।

কমিউনিটিনিউজ/ এমএএইচ

আরও সংবাদ

আজ পবিত্র আশুরা, জানুন ইতিহাস

কমিউনিটি নিউজ

কিয়ামতের দিন কাফিররা যেসব কারণে আফসোস করবে

কমিউনিটি নিউজ

পাগলা মসজিদের দানবাক্সে গৃহবধূর চিঠি, অবাক ম্যাজিস্ট্রেট

কমিউনিটি নিউজ

২১ জুলাই (বুধবার) পবিত্র ঈদুল আজহা

কমিউনিটি নিউজ

নিরাপদ আশ্রয় ও রিজিক পেতে দোয়া করুন

কমিউনিটি নিউজ

১২ নির্দেশনায় মসজিদেই হবে ঈদের নামাজ

কমিউনিটি নিউজ