31 C
Dhaka
আগস্ট ১৯, ২০২২

২০ হাজার জনকে কোরআনিক ভাষা শেখাবে ‘সাফীরুল কোরআন’

নিজস্ব প্রতিবেদক, কমিউনিটিনিউজ: পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষ্যে বাংলা ভাষা-ভাষী ২০ হাজারেরও বেশি সংখ্যক মুসলমান নারী-পুরুষকে কোরআনিক ভাষা শেখাবে সাফীরুল কোরআন। বিনামূল্যে এ ভাষা শেখানোর উদ্যোগ নিয়েছে দ্বীনি শিক্ষার প্রতিষ্ঠানটি। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটির অ্যাডমিন প্রধান মুহাম্মাদ রশিদ আল মাজিদ খান সিদ্দিকী মামুন অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোতে আনুষ্ঠানিক এই উদ্যোগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

‘সাফীরুল কোরআন’ হলো সহজ উপায়ে কোরানিক ভাষা শেখার এমন একটি বিস্তারিত কোর্স, যার মাধ্যমে পবিত্র আল কোরআনের আয়াত পড়ে বা শুনে অতি সহজে প্রতিটি শব্দ বা বাক্যের অর্থ বোঝা যায়। কোরআনিক ভাষা শেখার এই কার্যকরী কোর্সটি সাধারণত তিনটি স্তরে শেখানো হয়ে থাকে।

যার প্রাথমিক স্তরের কোর্সটি সম্পন্ন করার পর আগ্রহী শিক্ষার্থীরা কোরআনিক ভাষার প্রায় ৭০-৮০ শতাংশ শব্দ বা আয়াতের ভাবার্থ বুঝতে সক্ষম হবেন। দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্তরের কোর্স শেষ করার মাধ্যমে তারা কোরআন-হাদিসের পবিত্র গ্রন্থগুলো পড়ে সঠিক অর্থ অনুধাবনের পাশাপাশি এগুলোর ওপর অধিকতর গবেষণা ও জ্ঞানার্জনের সক্ষমতা অর্জন করেন।

সাফীরুল কোরআনের লেখক ও গবেষক, লন্ডন প্রবাসী বাংলাদেশী ওস্তাদ ড. আবুল কালাম আজাদ। তিনি নব্বইয়ের দশকে উচ্চতর শিক্ষার উদ্দেশ্যে মদীনায় পাড়ি জমান। এরপর থেকে প্রবাসেই তাঁর জীবনের অধিকাংশ সময় কেটেছে।

বিখ্যাত মদীনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চতর ডিগ্রী অর্জনের পরবর্তী কয়েক দশক তিনি পবিত্র আল কোরআনের উপর বিস্তারিত পড়াশোনা ও গবেষণার মাধ্যমে সহজে আল-কোরআন পড়ে বোঝার আধুনিক পদ্ধতি ‘সাফীরুল কোরআন’ উদ্ভাবন করেন। এবং গত কয়েক বছর ধরেই এই অভিনব পদ্ধতি প্রয়োগ করে তিনি নিজেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভাষা-ভাষী মুসলিম জনগোষ্ঠীর মাঝে নির্দিষ্ট ফি’র বিনিময়ে বিস্তারিত কোর্সটি পরিচালনা করে আসছেন।

এবারই প্রথম আসন্ন রমজান উপলক্ষ্যে সম্পূর্ণ ফ্রি’তে প্রাথমিক কোর্স “মিনি সাফীরুল কোরআন” পরিচালনার ঘোষণা দিয়েছে সাফীরুল কোরআন। মক্কা/কা’বা ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, প্রথম রোজা থেকেই কোর্সটি শুরু করা হবে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা। বাংলাদেশ সময় প্রতিদিন দুপুর ২টা এবং যুক্তরাজ্য সময় সকাল ৯টায় সাফীরুল কোরআনের অফিসিয়াল পেইজ ও গ্রুপে তৎক্ষণাত প্রদত্ত ক্লাসের জুমলিংকে ঢুকে একঘণ্টার এই মিনি কোর্সটি শিখতে পারবেন বাংলা ভাষা-ভাষী যেকোন বয়স ও শ্রেণি-পেশার মুসলিম নারী-পুরুষ।

ওস্তাদ ড. আবুল কালাম আজাদ বলেন, “দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টার পর এবার রমজানে সারাবিশ্বের বাংলা ভাষা-ভাষী ভাই-বোনদের জন্য বিনামূল্যে ‘সাফীরুল কোরআন’ এর বুনিয়াদী কোর্স চালুর উদ্যোগ নিতে পেরে মহান আল্লাহ্-রাব্বুল আল-আমিনের দরবারে অশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি-‘আলহামদুলিল্লাহ’। প্রাথমিক এই কোর্সটিতে বিভিন্ন বয়সী প্রায় ২০ হাজারের অধিক মুসলিম ভাই-বোনের সম্মেলিত যোগদান আমাদের ক্ষুদ্র প্রয়াশকে বিকশিত করবে।

কোরআনে বহুল ব্যবহৃত শব্দগুলো থেকে প্রতিদিন মাত্র ১০টা করে শব্দার্থ শিখতে পারলে, এক রমজান মাসে প্রায় ৩০০ শব্দ শিখে ফেলতে পারবেন। ইনশাআল্লাহ উক্ত শব্দের সমাহারে শিক্ষার্থীরা আল কোরআনের প্রায় ৭০-৮০ শতাংশ শব্দ বা আয়াতের ভাবার্থ বুঝতে পারবেন।
তিনি বলেন, সারাবিশ্বের সকল বাংলা ভাষা-ভাষী মুসলমান ভাই-বোনের যোগদানের সুবিধার্থে মিনি কোর্সটি আমরা অনলাইন প্ল্যাটফর্মে আয়োজন করছি।

আমাদের অফিসিয়াল পেইজ ও গ্রুপে যুক্ত হয়ে যে কেউ এই কোর্সটি করতে পারবেন। তাছাড়া জরুরী অপারগতায় যদি কেউ লাইভ ক্লাসে যোগ দিতে না পারেন, তাদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে ক্লাসের রেকর্ড ভিডিওটি আমরা পরবর্তীতে আমাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজে রাখার সুব্যবস্থা করছি।

আগ্রহী শিক্ষার্থীদের কোর্সে জয়েন করতে সাফীরুল কোরআনের অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজ-(https://www.facebook.com/safeerulquranarabic/ ), ফেসবুক গ্রুপ- (https://www.facebook.com/groups/968358366683050/?ref=share), এবং টেলিগ্রাম গ্রুপে- (https://t.me/joinchat/CS4ieRVbdYs4ZWRk ) দ্রুত যুক্ত হওয়ার জন্য অনুরোধ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

কমিউনিটিনিউজ/ এমএএইচ

চাঁদ দেখা নিয়ে নবী (সা.) যা বলেছেন

ধর্ম ডেস্ক: চাঁদ দেখা নিয়ে নবীজি (সা.) কি বলেছেন তা আমরা কোরআন ও হাদিসের আলোকে আলোচনা করা হলো :

চাঁদ দেখা প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে বলেন, ‘লোকেরা আপনাকে নতুন মাসের চাঁদ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। আপনি তাদের বলে দিন, এটা মানুষের (বিভিন্ন কাজকর্মের) এবং হজের সময় নির্ধারণ করার জন্য।’ (সুরা আল-বাকারা, আয়াত : ১৮৯)

পবিত্র রমজান মাসের রোজা প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে যারা এ মাস পাবে, সে যেন এ মাসে রোজা রাখে।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ১৮৫)

হাদিস শরিফে রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন—

তোমরা চাঁদ দেখে রোজা রাখো এবং চাঁদ দেখে ঈদ করো। কিন্তু যদি আকাশে মেঘ থাকে, তাহলে গণনায় ৩০ পূর্ণ করে নাও।
বুখারি, হাদিস : ১৯০৯; মুসলিম, হাদিস : ১০৮১

অন্য বর্ণনায় রাসুল (সা.) বলেন, ‘তোমরা (নতুন চাঁদ) না দেখা পর্যন্ত রোজা রেখো না এবং তা (নতুন চাঁদ) না দেখা পর্যন্ত রোজা ছেড়ে দিয়ো না।’ (মুআত্তা মালিক, হাদিস : ৬৩৫)

এই হাদিস দ্বারা বোঝা যায়, রমজান শুরু কিংবা ঈদ করার ব্যাপারটা চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল। কোনো এলাকায় চাঁদ দেখা না গেলে তাদের জন্য রোজা রাখা নিষিদ্ধ।

আরো পড়ুন:

চাঁদ দেখা গেলে বুধবার রোজা

রোজা রেখে টিকা নিলে সমস্যা নেই

ইতালিতে রমজান শুরু, বিধিনিষেধে তারাবি

চাঁদ দেখা যাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো এলাকার প্রত্যেকে দেখা জরুরি নয়। বরং বিশ্বস্ত কোনো ব্যক্তি দেখলেও রোজা শুরু করার অবকাশ রয়েছে।

কেউ কেউ মনে করেন, এই হাদিসের মাধ্যমে একই দিনে বিশ্বব্যাপী রোজা ও ঈদ পালন করা সাব্যস্ত হয়। তাদের দাবি, মহান আল্লাহ মধ্যপ্রাচ্যকে মধ্যস্থল বানিয়েছেন। তাই সেখানে চাঁদ দেখা গেলে সারা বিশ্বে রোজা ও ঈদ পালন করতে হবে! অথচ পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তারা আপনাকে নতুন চাঁদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। বলুন, তা হলো মানুষ ও হজের জন্য সময় নির্দেশক।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ১৮৯)

এ আয়াতের ব্যাখ্যায় তাফসিরবিদরা বলেন, এখানে ‘আহিল্লাহ’ শব্দ আনা হয়েছে, যার অর্থ একাধিক নতুন চাঁদ, যা একেক উদয়স্থলে একেক দিন উদিত হয়।

ইসলামের মৌলিক রুকন বা ভিত্তি পাঁচটি। এর মধ্যে রোজা ও হজ চাঁদ দেখার সঙ্গে সম্পৃক্ত।

কমিউনিটিনিউজ/ এমএএইচ

আরও সংবাদ

আজ পবিত্র আশুরা, জানুন ইতিহাস

কমিউনিটি নিউজ

কিয়ামতের দিন কাফিররা যেসব কারণে আফসোস করবে

কমিউনিটি নিউজ

পাগলা মসজিদের দানবাক্সে গৃহবধূর চিঠি, অবাক ম্যাজিস্ট্রেট

কমিউনিটি নিউজ

২১ জুলাই (বুধবার) পবিত্র ঈদুল আজহা

কমিউনিটি নিউজ

নিরাপদ আশ্রয় ও রিজিক পেতে দোয়া করুন

কমিউনিটি নিউজ

১২ নির্দেশনায় মসজিদেই হবে ঈদের নামাজ

কমিউনিটি নিউজ