27 C
Dhaka
আগস্ট ১২, ২০২২

জুমআর দিনের ফজিলত

কমিউনিটিনিউজ ডেস্ক:  আল্লাহ তাআলার কাছে নেয়ামত লাভের সেরা দিন হলো জুমআর দিন। সাপ্তাহিক ইবাদতের মর্যাদাপূর্ণ এ দিনে মুসলিম উম্মাহগন উৎসব মুখর পরিবেশে একত্রিত হয়। তারা শান্তিপূর্ণভাবে নামাজ, তাসবিহ-তাহলিল, কুরআন তেলাওয়াত, মনোযোগের সঙ্গে খুতবা শোনাসহ আদায় করেন জুমআর নামাজ।কেননা এ দিনের ইবাদতের গুরুত্ব ও ফজিলত অন্য দিনের তুলনায় বেশি।

মহান প্রভুর ইচ্ছা সপ্তাহের এ দিনটিতে উম্মতে মুহাম্মাদি মসজিদে এসে একত্রিত হবে। সপ্তাহের জন্য নসিহত গ্রহণ করবে। দিনভর ইবাদত বন্দেগি করার মাধ্যমে তার সন্তুষ্টি অর্জন করবে। এ মর্মে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেন-
‘হে মুমিনগণ! জুমআর দিনে যখন নামাজের জন্য আজান দেয়া হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণে দ্রুত কর এবং বেচাকেনা বন্ধ কর। এটা তোমাদের জন্যে উত্তম যদি তোমরা বুঝ। (সুরা জুমআহ : আয়াত ৯)

এ দিনের ইবাদত-বন্দেগি ও দোয়া কবুলের গুরুত্ব তুলে ধরতে হাদিসে একাধিক বর্ণনা ওঠে এসেছে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ দিনটিতে তাঁর প্রতি দরূদ পাঠের ব্যাপারেও উৎসাহিত করছেন।

পরপর তিন জুমআ পরিত্যাগকারীর জন্য ঘোষণা করা হয়েছে দুঃসংবাদ। যদি কেউ এমনটি করে তবে তার অন্তরে মোহর মেরে দেয়া হয় বলে জানিয়েছেন স্বয়ং বিশ্বনবি। (নাউজুবিল্লাহ)

পক্ষান্তরে যদি কেউ জুমআর নামাজ আদায় করেন তবে তার পেছনের গোনাহগুলো ক্ষমা করে দেয়া হয়। হাদিসে পাবে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘোষণা দেন-
হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি উত্তমরূপে অজু করে, তারপর জুমআয় (নামাজ পড়তে মসজিদে) আসে, মনোযোগের সঙ্গে খুতবা শোনে এবং নিরব থাকে। তার তখন থেকে পরবর্তী জুমআ পর্যন্ত এবং অতিরিক্ত আরও তিন দিনের গোনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়। যে ব্যক্তি (অহেতুক) কংকর স্পর্শ (শব্দ করে খুতবা শোনায় ক্ষতি) করল, সে অনর্থক কাজ করল।’ (মুসলিম)

জুমআর দিন ক্ষমা লাভের বিশেষ আমল: জুমআর দিন নামাজ আদাযকারীর জন্য বাড়তি কিছু কাজের কথাও বলেছেন বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। যা দিনটির এবং নামাজের গুরুত্ব মর্যাদা প্রকাশ করে। হাদিসে এসেছে-
হজরত সালমান ফারসি রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্ত জুমআর দিন-
– গোসল করে;  যথাসম্ভব উত্তমরূপে পবিত্রতা অর্জন করে;  তারপর (শরীরে) তেল মেখে নেয় অথবা সুগন্ধি ব্যবহার করে;  তারপর মসজিদে যায় এবং দুই জনের ফাঁক করে না (কাউকে অতিক্রম করে সামনে না যাওয়া),  আর তার ভাগ্যে নির্ধারিত পরিমাণ (নফল) নামাজ আদায় করে।
– ইমাম যখন খুতবার জন্য মিম্বারে আরোহন করে তখন চুপ থাকে।
তার এ জুমআ থেকে পরবর্তী জুমআর মধ্যবর্তী যাবতীয় গোনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়।’ (ইবনে মাজাহ)

কমিউনিটিনিউজ/ এমএএইচ

ইমামতি নিয়ে তাবলীগ জামায়াতের দু-গ্রুপের হাতাহাতি

রাজশাহীর মারকাজ মসজিদে তাবলীগ জামায়াতের দুই গ্রুপের হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। নামাজের ইমামতিকে কেন্দ্র করে এমন ঘটনা ঘটেছে  বলে জানায় মসজিদের স্থানীয় মুসল্লি।

আজ মঙ্গলবার (২৩ মার্চ ২০২১) যোহর নামাজের সময় নগরীর উপশহর সেনানিবাস এলাকায় অবস্থিত মারকাজ মসজিদে এ হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।  পরে ঘটনাস্থলে পুলিশের উপস্থিতিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আমলে সূরা ও আলেমে নেজামুদ্দিন নামক দুই দলের অনুসারীরা যোহহের নামাজের জন্য মসজিদে অবস্থান নেয়। সেখানে আলেমে নেজামুদ্দিনের অনুসারী মুফতি মাওলানা নজরুল ইসলাম ২০ বছর ধরে নামাজের ইমামতি করছেন। কিন্তু আমলে সূরার অনুসারীরা মাওলানা জাহিদকে ইমাম করে নামাজ আদায়ের জন্যে বলে। এসময় দুই দলের অনুসারীদের মাঝে বাকবিতন্ডার এক পর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

খবর পেয়ে বোয়ালিয়া মডেল থানা পুলিশ পরিস্থিতি শান্ত করে। আলেমে নেজামুদ্দিনের অনুসারীদের দাবি, আমলে সূরা বা সাদ পন্থীরা এ মসজিদকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। এ মসজিদে নিয়োগপ্রাপ্ত ইমাম ও খতিব আছেন। যিনি দীর্ঘ ২০ বছর ধরে ইমামতি করছেন। তার ইমামতিতেই এখানকার স্থানীয়সহ সকলে নামাজ আদায় করে। এতোদিন তারাও এই ইমামের ইমামতিতেই নামাজ আদায় করেছে। কিন্তু তারা মসজিদ ও পার্শবর্তী মাদরাসাকে কেন্দ্র করে অপতৎপরতা চালিয়ে সফল না হয়ে এভাবে হঠাৎ করে মসজিদে এসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। যা সমীচিন নয়।

আমলে সূরার অনুসারী মো. সাইদুজ্জামান ও আতাউর রহমান জানান, মসজিদে স্থায়ী কোন ইমাম নেয়। এখানে নেজামুদ্দিন পন্থীদের একজন ইমাম ইমামতি করান। কিন্তু বিভিন্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রায় ২ বছর আগে জেলা প্রশাসক নামাজের ইমামতিসহ তাবলিগের ইবাদতের সময় ভাগ করে দেন। যেখানে তারা ৪ দিন এবং নেজামুদ্দিন পন্থীরা ৩ দিন ইমামতিসহ তাবলিগের ইবাদত করতে পারবে। তারা এ নিয়ম মেনে তাদের নির্ধারিত দিনে আজ যোহরের নামাজের সময় তাদের ইমাম ইমামতির জন্য দাঁড়ান। এ সময় নেজামুদ্দিন পন্থীরা বাঁধা দেয়। যেটা কাম্য নয়।

আলেমে নেজামুদ্দিনের অনুসারী মুফতি নজরুল ইসলাম জানান, তিনি এই মসজিদে ২০ বছর ধরে ইমামতি দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এছাড়া তিনি মারকাজ মাদরাসার অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্বরত আছেন। এর আগে আমলে সূরার অনুসারীরা মাদরাসা বন্ধসহ বিভিন্ন অপতৎপরতায় আইনগতভাবে ঠিকতে না পেরে মসজিদে বিশৃঙ্খলা ঘটিয়েছে। এছাড়া তারা যে সময় ভাগের কথা বলছে এটাও সঠিক নয়। কেননা মসজিদে তাবলিগের ইবাদতের সময় জেলা প্রশাসক ভাগ করে দিয়েছিলেন। ইমামতির না।

এ বিষয়ে বোয়ালিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিবারণ চন্দ্র বর্মণ জানান, মসজিদটিতে ২০ বছর ধরে ইমামতি করেন মুফতি নজরুল ইসলাম। তিনি পার্শবর্তী মাদরাসার অধ্যক্ষ এবং মাওলানা সাদের অনুসারীরা। এতোদিন তার ইমামতিতেই নামাজ আদায় করতেন। কিন্তু তারা তাবলিগের ইবাদতসহ ইমামতির ভাগ দাবি করে। এতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। দুইপক্ষের নিয়ে মিমাংসায় বসা হবে। মসজিদে পুলিশের বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

কমিউনিটিনিউজ/ এমএএইচ

আরও সংবাদ

আজ পবিত্র আশুরা, জানুন ইতিহাস

কমিউনিটি নিউজ

কিয়ামতের দিন কাফিররা যেসব কারণে আফসোস করবে

কমিউনিটি নিউজ

পাগলা মসজিদের দানবাক্সে গৃহবধূর চিঠি, অবাক ম্যাজিস্ট্রেট

কমিউনিটি নিউজ

২১ জুলাই (বুধবার) পবিত্র ঈদুল আজহা

কমিউনিটি নিউজ

নিরাপদ আশ্রয় ও রিজিক পেতে দোয়া করুন

কমিউনিটি নিউজ

১২ নির্দেশনায় মসজিদেই হবে ঈদের নামাজ

কমিউনিটি নিউজ