33 C
Dhaka
মে ১৫, ২০২১

স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য যুক্তরাজ্যে পাড়ি দিতে চান খালেদা জিয়া!

কমিউনিটিনিউজ ডেস্ক: নেতাদের কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ। কাছের স্বজনরাও রয়েছে বিদেশে। বয়সের ভারে নুয়ে পড়া শরীরের গতিও নেই ভালো। এজন্য হয়তো চিকিৎসার নামে যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমাতে চান বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া।
  • রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাজ্যে পাড়ি দেয়ার সিদ্ধান্ত বিএনপি নেত্রীর নেতিবাচক পদক্ষেপ হবে। কথিত আপসহীন ও দেশপ্রেমিক তকমার অহংবোধ ভেঙে চুরমার হয়ে যাবে। খালেদা জিয়ার যুক্তরাজ্য গমন ঠিক প্রাণের মায়ায় এম মোরশেদ খানের বিদেশ পালানোর মতোই হয়ে যাবে।

এদিকে বিএনপি নেত্রীর গুলশানের ভাড়াবাড়ি ‘ফিরোজা’র ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে, দেশ ছেড়ে যুক্তরাজ্যে যাওয়ার বিষয়টি তারেক রহমানকে জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন। এরই মধ্যে যুক্তরাজ্যে বিএনপি-জামায়াতের আস্থাভাজন আইনজীবী লর্ড কার্লাইলের সঙ্গে পরামর্শ করেছেন তারেক।

  • বিএনপি চেয়ারপার্সনের ঘনিষ্ঠ একাধিক সূত্র বলছে, দলীয় নেতা ও পরিবারের সদস্যদের চাপে শারীরিক দিক থেকে যথেষ্ট দুর্বল হয়ে পড়েছেন তিনি। করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর তার শারীরিক অবস্থা আরো করুণ। লকডাউনের কারণে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বিমান চলাচল বন্ধ। তবুও বিশেষ ফ্লাইটে যুক্তরাজ্য যাওয়ার চিন্তা করছেন । চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যে গেলে সেখানেই স্থায়ীভাবে বসবাসের চিন্তা রয়েছে তার।

সূত্রগুলো বলছে, দলের বর্তমান ও ভবিষ্যতের রাজনৈতিক অবস্থা বিবেচনায় যুক্তরাজ্য গমনের কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হচ্ছেন খালেদা জিয়া। তার অবর্তমানে প্রতিনিধি হয়ে দেশে বিএনপিকে নেতৃত্ব দেবেন মির্জা ফখরুল। আর খালেদা লন্ডন থেকে ছায়া নেতৃত্ব দেবেন।

সূত্রে আরো বলছে, পুরো পরিবার লন্ডনে থাকায় দেশে আর মন টিকছে না খালেদা জিয়ার। জীবনের বাকিটা সময় তিনি পরিবারের সঙ্গে লন্ডনে কাটাতে চান। একই সঙ্গে উন্নত চিকিৎসাও পেতে চান তিনি। এরই মধ্যে রাজনৈতিক আশ্রয়ের নামে যুক্তরাজ্যে কীভাবে স্থায়ীভাবে থাকা যায় সেই বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে তারেককে নির্দেশ দিয়েছেন খালেদা জিয়া।

কমিউনিটিনিউজ/ এমএএইচ 

মহাদেবপুরে মাঠজুড়ে বোরোর বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা

নিজস্ব প্রতিবেদক , মহাদেবপুর (নওগাঁ) :  দেশের উত্তর জনপদের খাদ্য ভাণ্ডার খ্যাত নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার ফসলের মাঠজুড়ে বোরোর বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। সুশোভিত বোরো’র ক্ষেত দেখে মনে হবে এ যেন আবহমান বাংলার উদ্ভাসিত রূপ। চোখ জুড়ানো দিগন্ত বিস্তৃত ফসলের মাঠে সবুজের সমারোহ হৃদয়কে নাড়িয়ে দেয়। মাঠে মাঠে দোলা খাচ্ছে চলতি মৌসুমের বোরো ধানের গাছ। কৃষকদের মনে দোলা দিতে থাকে অনাবিল আনন্দও।  দৃষ্টিসীমা ছাপিয়ে বাতাসে দোল খাচ্ছে বোরো ধানের সোনালী শীষ। আর এ দোলায় লুকিয়ে আছে হাজারো কৃষকের স্বপ্ন।

পোকামাকড় ও রোগ-বালাইয়ের আক্রমণ ছাড়াই বেড়ে ওঠা ধানের শীষে ভরে গেছে মাঠ। প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা কোন বিপর্যয় না ঘটলে এ অঞ্চলের কৃষকদের বাড়ির আঙ্গিনা ভড়ে উঠবে সোনালী ধানের হাসিতে। বর্তমানে চলছে শেষ মহূর্তের পরিচর্যা। আগামী ১০ থেকে ১২ দিনের মধ্যে পুরোদমে ধান কাটা-মাড়াই শুরু হবে। গৃরস্থ আর কৃষাণ-কৃষাণীরা এখন গোলা, খলা, আঙ্গিনা পরিষ্কার করায় ব্যস্ত। তাদের মনে দোলা দিচ্ছে অনাবিল আনন্দ।

আরো পড়ুন:

পুলিশের সহযোগীতায় ২ বছর পর বৃদ্ধা মর্জিনা খুঁজে পেল পরিবার

প্রত্যায়ন নিয়ে চলতি মৌসুমেও ধান কাটতে যাচ্ছেন শ্রমিকরা

অবৈধ ইটভাটায় প্রকাশ্যে পোড়ানো হচ্ছে কাঠ, উজাড় হচ্ছে গাছপালা

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তরা উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের ৩০টি ব্লকে প্রত্যেক সপ্তাহে একদিন ক্ষেতের আইলে আলোক ফাঁদ পেতে ক্ষতিকর পোকার উপস্থিতি নিশ্চিত করে কৃষকদের বালাইনাশক প্রয়োগের পরামর্শ দিচ্ছে। এতে কৃষকরা সহজেই তাদের ফসল ক্ষতিকর পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষা করছে। এদিকে, মহামারি করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে দেশজুড়ে আবারও শুরু হয়েছে লকডাউন। গত বছরের চেয়ে দ্বিগুণ রাক্ষুসে হয়ে উঠেছে ভাইরাসটি। সরকারও সংক্রমণ রোধে কঠোর অবস্থানে। অন্যদিকে আগাম বন্যার আভাস। দ্রুত কাটতে হবে বোরো ধান। তবে এবার আর কৃষকদের শ্রমিক সংকটে পড়তে হবে না। গত বছরের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাবে কৃষি বিভাগ। সেই সথে ব্যবহার করা হবে ‘কম্বাইন হারভেস্টার’ নামে কৃষিযন্ত্র, যা ৮০ জনের বেশি শ্রমিকের কাজ করতে সক্ষম।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাদেবপুর উপজেলা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় এবার বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২৬ হাজার ৬০০ হেক্টর। সেখানে আবাদ হয়েছে ২৮ হাজার ৩৭০ হেক্টর জমিতে। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১ হাজার ৭৭০ হেক্টর বেশি। বোরো চাষ বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রণোদনা হিসেবে বিনামূল্যে ৬৫০ জন কৃষককের প্রত্যেককে ৫ কেজি উন্নত জাতের ধানবীজ, ২০ কেজি ডিএপি ও ১০ কেজি এমওপি সার এবং ৬ হাজার ৭৫০ জন কৃষককে ২ কেজি করে উন্নত জাতের হাইব্রিড বীজ সরবরাহ করছে কৃষি বিভাগ।

উপজেলার শিবরামপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল কুদ্দুস বলেন, ‘আমন ধানের ভালো দাম পেয়েছি। সে জন্য বোরো ধান চাষ করছি। আশা করি বাজারে ধানের ভালো দাম পাওয়া যাবে।’ তিনি বলেন, ‘গত বারের চেয়ে এবার ধান ভাল হয়েছে। আর কয়েকদিন পর কাটা শুরু করা যাবে। ক্ষেতে রোগ-বালাই ও পোকা আক্রমণ করতে পারেনি। প্রকৃতি অনুকূলে থাকলে স্বপ্নের সোনালী ধান যথাসময়ে ঘরে তুলতে পারবো।’ সিদ্দিকপুর গ্রামের কৃষক আব্দুর রহমান বলেন, ‘এ বছর তিন একর জমিতে বোরো আবাদ করেছি। আশা করছি বাম্পার ফলন হবে।’

মহাদেবপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ অরুন চন্দ্র রায় বলেন, ‘বাম্পার ফলন ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে আমরা মাঠ পর্যায়ে কাজ করে আসছি। কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের পাশে থেকে বিভিন্ন সেবা দিয়ে আসছে। কৃষকরা যাতে কোন প্রকার সমস্যায় না পড়েন এ জন্য আমরা সার্বক্ষণিক নজর রাখছি। আশা করছি, বিগত মৌসুমের মতো এবারও বাম্পার ফলন হবে।’

কমিউনিটিনিউজ/ এমএএইচ 

আরও সংবাদ

ফের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসায় হেফাজত

কমিউনিটি

কৃষকের ধান কেটে ঘরে তুলে দিল ছাত্রলীগ

কমিউনিটি

হেফাজতের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা

কমিউনিটি

দেশের আগে নিজ দলে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আহ্বান কাদেরের

কমিউনিটি

মহাদেবপুরে মাঠজুড়ে বোরোর বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা

কমিউনিটি

হেফাজতের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে সরকার

কমিউনিটি