27 C
Dhaka
জুন ১৯, ২০২১

প্লাস্টিকের ক্যারেটে বিলুপ্তির পথে বাঁশের ঝুড়ি

সজিব ইসলাম, চারঘাট (রাজশাহী) প্রতিনিধি: আমের মৌসুমে বাঁশের তৈরি ঝুড়ি (টুকরি) তৈরি করতে অনেক ব্যস্ত সময় পার করতেন রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার বামনদিঘী গ্রামের ইনতাজ আলী। পেশায় বাঁশ শিল্পের কারিগর। বাজারে আম পরিবহনের জন্য প্লাস্টিকের ক্যারেট আসার পর বিলুপ্তির পথে এই বাঁশের ঝুড়ি। ফলে আয় বন্ধ হয়ে গেছে ইনতাজ আলীর মতো অসংখ্য কারিগরের।

প্রায় দেড় যুগ ধরে ইনতাজ এই পেশায় জড়িত। বাঁশের চটা দিয়ে চাটাই, কুলা, ডালা, চাঙারি, টুকরি, ওড়া, চালুনি, মাছ রাখার খলই সহ নানান জিনিস তৈরিতে পটু তিনি।

সরেজমিনে উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৮ কিঃমিঃ দূরে ইন্তাজ আলীর বাড়ির পাশের ছোট কারখানায় গিয়ে দেখা যায়, আম-লিচুর মৌসুমে আম-লিচু পরিবহনের জন্য টুকরি তৈরির পরিবর্তে তিনি একটি ডালা তৈরি করছেন। অথচ এই সময়ে তার আম-লিচু পরিবহনের জন্য টুকরি তৈরিতে ব্যস্ত থাকার কথা। কিন্তু কোন রকম ব্যস্ততা নেই তার বাঁশ শিল্পের ছোট কারখানায়।

আম পরিবহনের জন্য এবার টুকরি তৈরি করছেন না? এমন প্রশ্ন করতেই ইন্তাজ আলী বিষন্ন মনে বলেন, প্লাস্টিকের ক্যারেট বাজারে আসার পর থেকে কেউ টুকরি তৈরি করে নিতে চাই না।

ইন্তাজ আলী আরও বলেন , এই মৌসুমে টুকরি তৈরির জন্য আমার সাথে ২-৩ জন শ্রমিক থাকতো। আম-লিচু ব্যবসায়ীরা মৌসুমের আগেই টুকরি তৈরির জন্য অগ্রিম অর্ডার করে রাখতেন। একটি টুকরি তে খরচ বাদ দিয়ে আমার ২০০-৩০০ টাকা লাভ হতো। অথচ প্লাস্টিকের ক্যারেট বাজারে আসার পরে আমার রোজগার অনেক কম।

শুধু ইনতাজ আলীই নয় তার মত চারঘাট উপজেলার অসংখ্য বাঁশ শিল্পের কারিগরদের একই অবস্থা। ভালো নেই তারা।

প্রতিবছর বৈশাখ- জৈষ্ঠ্যতে আম ও লিচুকে কেন্দ্র করে বাঁশের তৈরি ঝুড়ি-টুকরির চাহিদা থাকে প্রচুর। ফলে এই সময়টায় ব্যস্ত সময় পার করতেন এ উপজেলার কারিগররা । কিন্তু বর্তমানে এসব ঝুড়ির পরিবর্তে প্লাস্টিকের ক্যারেট ব্যবহৃত হওয়ার ফলে অনেকটা ফাঁকা সময় পার করছেন বাঁশ শিল্পের কারিগররা।

প্রতিবছর দল বেধে প্রতিযোগিতা করে কাঁচা বাসের চটা দিয়ে ঝুড়ি (টুকরি) তৈরি করতো এ উপজেলার ডালিপাড়া গ্রামের অনেকে , সেখানেও আজ হাত গুটিয়ে কর্মহীন হয়ে অবসর সময় কাটাচ্ছে সেই বাঁশ শিল্পের কারিগররা। আবার পেশা বদলেছেন অনেকে।

বর্তমানে আধুনিকতার ছোঁয়ায় প্রায় বিলুপ্তির পথে বাঁশ শিল্প। পরিবেশ বান্ধব বাঁশ দিয়ে তৈরি ঝুড়িতে আম লিচুসহ নিত্য দিনের প্রয়োজনীয় নানান সামগ্রী প্রক্রিয়াজাত করণে বহুল ব্যবহার ছিলো। যার ফলে এর কদরও ছিলো ভালো। সাথে জড়িয়ে ছিলো হাজারো পরিবারের জীবিকা।

কিন্তু বর্তমানে প্লাস্টিকের ক্যারেটের জনপ্রিয়তা বেড়ে যাওয়ায় তাদের ব্যবসায় ধস নেমেছে। ফলে কদর হারিয়েছে এসব ঝুড়ি তৈরির কারিগরদেরও। ফলে কর্মহীন হয়ে অবসর সময় পার করছেন এসব কারিগররা।

রাজশাহীর বানেশ্বর বাজারের আম লিচু ও গুড়ের নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান গ্রীন এন্টার প্রাইজ এর পরিচালক সুফেল রানা বলেন, বাঁশের তৈরি ঝুড়ির চাইতে প্লাস্টিকের ক্যারেটে আম ও পন্য পরিবহনে অনেক সুবিধা রয়েছে। প্লাস্টিক ক্যারেটে আম পরিবহনে আম নস্ট হওয়ার সম্ভাবনা অনেক কম যা বাঁশের তৈরি ঝুড়িতে অনেকটা ঝুঁকিপূর্ণ। এছাড়াও প্লাস্টিকেরর ক্যারেট কয়েকবার ব্যবহার করা যায় অপরদিকে বাঁশের তৈরি ঝুড়ি একবারের বেশি ব্যবহার করা যায় না। এজন্য প্লাস্টিকের তৈরি ক্যারেটের চাহিদা বেশি। যার কারনে আমের মৌসুমে বাঁশের তৈরি ঝুড়ির যে চাহিদা ছিল তা আজ অনেকটাই বিলুপ্তির পথে।

এমতাবস্থায়, এই শিল্প টিকিয়ে রাখতে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছেন কারিগররা। এছাড়া আধুনিকতা ছোঁয়ায় পরিবেশ বান্ধব বাঁশে ঝুড়ি যেন হারিয়ে না যায়, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার্থে ও কর্মক্ষেত্র বৃদ্ধিতে প্লাস্টিকের ক্যারেটের পরিবর্তে বাঁশের ঝুড়ি ব্যবহারে উদ্ভুদকরণের তাগিদ সুশীল সমাজের।

রাজশাহীর বানেশ্বর বাজারের আম লিচু ও গুড়ের নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান গ্রীন এন্টার প্রাইজ এর পরিচালক সুফেল রানা বলেন, বাঁশের তৈরি ঝুড়ির চাইতে প্লাস্টিকের ক্যারেটে আম ও পন্য পরিবহনে অনেক সুবিধা রয়েছে। প্লাস্টিক ক্যারেটে আম পরিবহনে আম নস্ট হওয়ার সম্ভাবনা অনেক কম যা বাঁশের তৈরি ঝুড়িতে অনেকটা ঝুঁকিপূর্ণ। এছাড়াও প্লাস্টিকের ক্যারেট কয়েকবার ব্যবহার করা যায় অপরদিকে বাঁশের তৈরি ঝুড়ি একবারের বেশি ব্যবহার করা যায় না। এজন্য প্লাস্টিকের তৈরি ক্যারেটের চাহিদা বেশি। যার কারনে আমের মৌসুমে বাঁশের তৈরি ঝুড়ির যে চাহিদা ছিল তা আজ অনেকটাই বিলুপ্তির পথে।

এগ্রিকেয়ার/এমএইচ

আরও সংবাদ

মাস্ক ছাড়াই করোনা ওয়ার্ডে ডিউটি, সাংবাদিক প্রবেশে বাধা

কমিউনিটি

ভিডিও ছড়ানোর ভয় দেখিয়ে ধর্ষণ ও অর্থ আদায়, অভিযুক্ত গ্রেফতার

কমিউনিটি

অক্সিজেন-বেড সংকটে রামেক হাসপাতাল

কমিউনিটি

যাত্রাশিল্পী মুক্তির দিন কাটছে অর্ধাহারে অনাহারে

কমিউনিটি

অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে চলছে হাসপাতালের সামনের ফুটপাতের হোটেল

কমিউনিটি

সংরক্ষণ না থাকায় নষ্ট রাজশাহীর ৫০শতাংশ আম

কমিউনিটি