31 C
Dhaka
সেপ্টেম্বর ২২, ২০২১

করোনায় পরিবেশ অধিদপ্তর মহাপরিচালকের মৃত্যু

কমিউনিটিনিউজ ডেস্ক: করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. এ. কে. এম. রফিক আহাম্মদের মৃত্যু হয়েছে (ইন্নালিল্লাহি…রাজিউন)। শনিবার (১০ এপ্রিল২০২১) ভোর সাড়ে ৪টায় রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন – পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা দীপংকর বর ।

এর আগে ২৩ মার্চ তার করোনা টেস্টের রেজাল্ট পজিটিভ আসে। পরে ২৭ মার্চ তাকে রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। সেখানে দীর্ঘ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর অবস্থার অবনতি হলে ৮ এপ্রিল দিবাগত রাতে লাইফ সাপোর্টে নেয়া হয়। পরে তিনি আজ ভোরে মারা যান।

আরো পড়ুন:

তিনি জানান, ড. এ কে এম র‌ফিক আহাম্মদের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন, উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার এবং সচিব জিয়াউল হাসান এনডিসি। ড. এ কে এম রফিক আহাম্মদ ১০ম বিসিএস ফোরামের সদস্য এবং প্রশাসন ক্যাডারের অতিরিক্ত সচিব ছিলেন।

উল্লেখ্য,  ডাঃ এ.কে.এম. রফিক আহমদ ২২ মে ২০১৯ এ মহাপরিচালক হিসাবে পরিবেশ অধিদফতরে যোগদান করেছিলেন।  ১৯৯১ সালে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (প্রশাসন) ক্যাডারে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন এবং গত ২৭ বছরে বেশ কয়েকটি ক্ষেত্র ও কেন্দ্রীয় পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। এই পোস্টের অব্যবহিত আগে তিনি দুবাই-বাংলাদেশের কনসুলেট জেনারেলের বাণিজ্যিক পরামর্শদাতা হিসাবে সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং বাংলাদেশের মধ্যে বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ সম্পর্কিত দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক বিষয় নিয়ে কাজ করেছেন।

এর আগে তিনি তৎকালীন পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ে সিনিয়র সহকারী সচিব এবং মাননীয় মন্ত্রীর ব্যক্তিগত সচিব হিসাবে কাজ করেছিলেন। ডাঃ আহমদ ২০১৪ সালে পরিচালক (জলবায়ু পরিবর্তন ও আন্তর্জাতিক সম্মেলন) হিসাবে পরিবেশ অধিদফতরেও কাজ করেছিলেন।

তিনি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রাণিবিদ্যায় স্নাতক (অনার্স) এবং স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। পরবর্তীতে, তিনি ২০০১ সালে অ্যাডিলয়েড, অস্ট্রেলিয়া ইন এনভায়রনমেন্টাল স্টাডিজ-এ একটি মাস্টার প্রোগ্রাম গ্রহণ করেছিলেন। তিনি ২০০৭ সালে অ্যাডিলেড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিভাগে পিএইচডি সম্পন্ন করেছিলেন। ২০০৯ সালে অ্যাডিলেড বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ণ বিষয়ে একটি পোস্টডক্টোরাল গবেষণা গ্রহণের জন্য তিনি একটি প্রচেষ্টা গবেষণা ফেলোশিপ পেয়েছিলেন। ডাঃ আহমদ যে কোন পরিবেশগত বিষয়ে কৌশল বা কর্ম পরিকল্পনা প্রণয়ন করার দক্ষতা অর্জন করে দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং পরিবেশ ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে জাপানে তিন মাসের একটি বিস্তৃত প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন। তার জার্নাল নিবন্ধগুলির তিনটি আন্তর্জাতিক প্রকাশনা রয়েছে যা তার পণ্ডিত রচনার বৌদ্ধিক দক্ষতা দেখায়।

ডঃ আহমদ বৈশ্বিক উষ্ণায়ন, ওজোন স্তর হ্রাস, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, দূষণ নিয়ন্ত্রণ, পরিবেশ শিক্ষা, প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনার মতো বিভিন্ন পরিবেশ, সামাজিক, শিক্ষামূলক ও অর্থনৈতিক বিষয় নিয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সেমিনার, কর্মশালা, সম্মেলন এবং সভাগুলিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিলেন। , শিক্ষা ব্যবস্থাপনা এবং অর্থনৈতিক / বিনিয়োগ ফোরাম। শিক্ষা, প্রশিক্ষণ এবং পেশাদার ভূমিকার জন্য তিনি বিশেষজ্ঞ ও পেশাদারদের একটি ভাল নেটওয়ার্কের সাথে সংযোগ স্থাপনের জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ঘুরে দেখেন। বর্তমানে ড। আহমদ বাংলাদেশ সরকারের অতিরিক্ত সচিব পদে অধিষ্ঠিত আছেন।

কমিউনিটিনিউজ / এমএএইচ

করোনা সংক্রমণের লাগাম টানার উপায় কি?

কমিউনিটিনিউজ ডেস্ক: সারাদেশে মহামারি করোনাভাইরাসের সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। সংক্রমণ রোধে গত ৫ এপ্রিল থেকে আগামী ১১ এপ্রিল পর্যন্ত কঠোর বিধিনিষেধ জারি করা হলেও জীবন ও জীবিকার প্রয়োজনে হাজার হাজার মানুষ পথে নামছে, সব সিটি করপোরেশন এলাকায় গণপরিবহন চলছে, আজ থেকে শপিংমল ও মার্কেটগুলোও খুলে দেয়া হয়েছে।

গত কয়েক দিন টানা সাত হাজারেরও বেশি করোনা রোগী রোগী শনাক্ত হচ্ছে। মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ছয় লাখ ৬৬ হাজার ১৩২ জনে। সর্বশেষ নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ২০ দশমিক ৬৫ শতাংশ। মোট নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ৫৫ শতাংশ।

সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের (আইসিইউ) শয্যার পাশাপাশি সাধারণ শয্যায় রোগী ভর্তি করা মুশকিল হয়ে পড়ছে। টাকা খরচ করেও হাসপাতালে ভর্তি হওয়া যাবে না— এমন ভয়ঙ্কর পরিস্থিতিরও আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সম্প্রতি আইসিডিডিআর’বি, আইইডিসিআর ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের যৌথ এক গবেষণায় দেখা গেছে, বর্তমানে করোনায় আক্রান্তদের ৮১ শতাংশের নমুনায় দক্ষিণ আফ্রিকার করোনাভাইরাসের ভ্যারিয়েন্টের মিল পাওয়া গেছে। এ ভাইরাসের কারণে দেশের সর্বত্র দ্রুত সংক্রমণ ঘটছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছেন, হাসপাতালে আইসিইউ কিংবা সাধারণ শয্যা বৃদ্ধি সমাধান নয়। সংক্রমণ ও মৃত্যুর এই হার অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি সামাল দেয়া অসম্ভব হয়ে পড়বে। এখন দেশের সবার একটাই প্রশ্ন, করোনার লাগাম টেনে ধরার কি কোনো সমাধান নেই?

একাধিক রোগতত্ত্ব ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ বলছেন, বর্তমানে করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি বিবেচনায় হাসপাতালে চিকিৎসা সুবিধা বৃদ্ধির পাশাপাশি সংক্রমণ প্রতিরোধে বেশি নজর দেয়া উচিত। করোনার সংক্রমণ রোধে সারাদেশে সঠিকভাবে মাস্ক পরিধানে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার মাধ্যমে মানুষকে উদ্ধুদ্ধ করতে পারলে সংক্রমণ ও মৃত্যুরোধ করা অসম্ভব কিছু নয়। সরকার করোনা চিকিৎসায় শত শত কোটি টাকা খরচ করছে।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে সরকারিভাবে সারাদেশে বিনামূল্যে মাস্ক বিতরণ ও সঠিকভাবে মাস্কের ব্যবহার নিশ্চিত করতে কর্মসূচি পরিচালনা করা যেতে পারে। শুধু মাস্কের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারলেই সংক্রমণ বহুলাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব বলে মনে করেন তারা।

রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. এ এস এম আলমগীর হোসেন বলেন, দেশের ৪৮টি জেলায় করোনা সংক্রমণের হার (বিদেশগামী যাত্রীদের নমুনা পরীক্ষা ও শনাক্ত বাদে) সর্বনিম্ন ১০ শতাংশ থেকে ৪০ শতাংশ। মানুষ স্বাস্থ্যবিধি মেনে না চললে সামনে ভয়াবহ বিপদ। বিশেষ করে সঠিকভাবে মাস্ক পরিধান করলে সংক্রমণ থেকে অনেকটা রক্ষা পাওয়া সম্ভব।

সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে উদ্ধুদ্ধ করতে কী করা প্রয়োজন— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকারিভাবে বিভিন্ন জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে মাস্ক বিতরণ চলছে। কিন্তু মাস্ক ব্যবহারে সবাইকে উদ্ধুদ্ধকরণে কোথায় নাগরিক সমাজ কোথায় বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও পাড়া মহল্লার ক্লাব? তারা সবাই মিলে দল গঠন করে রাস্তার মোড়ে মোড়ে দাঁড়িয়ে সামাজিক দায়িত্বের অংশ হিসেবে বিনামূল্যে মাস্ক বিতরণ করতে পারে। যারা মাস্ক পরিধান করছে না তাদের মাস্ক পরার সুফল ও না পরার কুফল ইত্যাদি বুঝিয়ে মাস্ক দিতে পারে। কিন্তু তা হচ্ছে না।

আরো পড়ুন : দেশে করোনায় ৬৩ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ৭৪৬২

স্বাস্থ্য ভালো রাখতে খেতে পারেন চিয়া সিড

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ফার্মাকোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান বলেন, দেশে করোনা পরিস্থিতি ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে। এই মুহূর্তে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, বিশেষ করে মাস্কের সার্বক্ষণিক ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি।

তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুযোর্গ-ঘূর্ণিঝড় ও বন্যার সময় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশা নির্বিশেষে নিপীড়িতদের পাশে দাঁড়ানোর অতীত ইতিহাস আমাদের রয়েছে। কিন্তু বর্তমানে সামাজিকভাবে সাড়া মিলছে না, যা খুবই জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেন।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মীরজাদি সেব্রিনা ফ্লোরা সম্প্রতি ভার্চুয়াল এক সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, দেশের শতভাগ মানুষকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। মানুষকে ঘরের বাইরে বের হলে মাস্ক পরিধান করতে হবে।

আইইডিসিআরের সাবেক এক ঊর্ধ্বতন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, মাস্কের সঠিক ব্যবহার খুবই জরুরি। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, মন্ত্রী-সচিব থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের অনেকেই কথা বলার সময় মাস্ক খুলে কথা বলেন, যাতে ভুল ম্যাসেজ যায়। তখন সাধারণ মানুষ ধরে নেন, মাস্ক খুলে কথা বললে ভাইরাস সংক্রমিত হয় না।

তিনি আরও বলেন, করোনাভাইরাস সারাদেশেই ছড়িয়ে পড়ছে। স্বাস্থ্যবিধি বিশেষ করে সকলে মাস্ক সঠিকভাবে পরিধান না করলে সামনে ভয়াবহ বিপদ। সঠিকভাবে সকলে মাস্ক পরিধান করলে সংক্রমণ দ্রুত কমে যাবে।

কমিউনিটিনিউজ / এমএএইচ

আরও সংবাদ

গোপনে ৪০ মণ সরকারি বই বিক্রি করলেন প্রধান শিক্ষক

কমিউনিটি নিউজ

এক দিনে আরও ২৬ জনের মৃত্যু

কমিউনিটি নিউজ

বাড়তে পারে গমের দাম

কমিউনিটি নিউজ

তিন মাস ২৪ দিন পর সবচেয়ে কম মৃত্যু

কমিউনিটি নিউজ

গত ২৪ ঘণ্টায় বিশ্বে মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ১০ হাজার

কমিউনিটি নিউজ

চুয়েট, কুয়েট ও রুয়েটের ভর্তি পরীক্ষা নভেম্বরে

কমিউনিটি নিউজ