29 C
Dhaka
জুন ১৮, ২০২১

ঢাকায় নিম্ন আয়ের বস্তিবাসীরা বায়ু দূষণসহ নানা ঝুঁকির মুখে

ঢাকায় নিম্ন আয়ের বস্তিবাসীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, কমিউনিটি নিউজ: ঢাকায় নিম্ন আয়ের বস্তিবাসীরা বায়ু দূষণসহ নানা ঝুঁকির মুখে রয়েছে বলে এক গবেষণা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এর ফলে তারা বায়ু দূষণজনিত রোগ যেমন- লেরেঞ্জিয়াল সমস্যা, হাঁপানি এবং শ্বাসনালীর সমস্যায় ভুগছেন।

এতে বলা হয়েছে, ঢাকার দুই প্রান্তিক ঘনবসতিপূর্ণ নিম্ন-আয়ের এলাকায় বায়ু অংশের ঘনত্ব ২৪ ঘণ্টায় বাংলাদেশের জন্য অনুমোদিত বৈশ্বিক মানের চেয়ে চার থেকে পাঁচগুণ বেশি।

আজ বুধবার (১৯ মে) ভার্চুয়াল অনষ্ঠানে “আরবান লোকালাইজড পল্যুশন ইন দ্য কন্টেক্সট অব ক্লাইমেট চেঞ্জ” শীর্ষক একটি গবেষণা ফলাফলে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।

প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ, বাংলাদেশ ইয়ুথ এনভায়রনমেন্টাল ইনিশিয়েটিভ (বিওয়াইইআই) এবং পপুলেশন সার্ভিসেস অ্যান্ড ট্রেইনিং সেন্টার (পিএসটিসি) কর্তৃক বাস্তবায়িত ‘দ্য ফিচার গ্রিন আর্থ’ প্রকল্পের আওতায় গবেষণাটি পরিচালনা করা হয়।

প্রকল্পটি বুয়েটের আরবান অ্যান্ড রিজিওনাল প্ল্যানিং (ইউআরপি) ডিপার্টমেন্ট এবং ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ক্লাইমেন্ট চেঞ্জ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইসিসিসিএডি) এর সাথে গবেষণাটি পরিচালনা করা হয়।

গত ২০২০ এর ডিসেম্বর থেকে ২০২১ এর জানুয়ারি পর্যন্ত গুণগত ও পরিমাণগত তথ্য নিয়ে মিশ্র পদ্ধতি অনুসরণ করে এই গবেষণা পরিচালিত হয়।

গবেষণার ফলাফলে বলা হয়, ঘরের ভিতর বায়ু দূষণের সবচেয়ে বড় উৎস হলো রান্নার জন্য ব্যবহৃত মাটির চুলা এবং জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত বায়োম্যাস। রান্না করার সময় দীর্ঘ সময় ধরে ধোঁয়ার সংস্পর্শে আসার কারণে নারীরা বায়ু দূষণে সবচেয়ে মারাত্মকভাবে আক্রান্ত হন।

ঢাকার প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার পানি সরবরাহ, স্যানিটেশন, আভ্যন্তরীন বায়ু দূষণ এবং কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সম্পর্কিত চিত্র নিরূপণে ঢাকার দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিসিসি)-এর দুইটি বৃহৎ বস্তি এলাকা, ধলপুর সিটিপল্লী বস্তি এবং ঢাকা ম্যাচ কলোনি, শ্যামপুর-এ গবেষণাটি পরিচালিত হয়। এই দুই নিম্ন-আয়ের বসতি বিভিন্ন বায়ু দূষণকারী কলকারখানা যেমন- স্টিলের মিল, প্লাস্টিক ফ্যাক্টরি, মেলামাইন ফ্যাক্টরি, ইট ভাটা ইত্যাদি দ্বারা বেষ্টিত।

গবেষণা ফলাফল উপস্থাপন করেন, বুয়েটের আরবান অ্যান্ড রিজিওনাল প্ল্যানিং বিভাগের অধ্যাপক আফসানা হক এবং আইসিসিসিএড-এর সমন্বয়ক সরদার শফিকুল আলম।

ইউনিসেফের এক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে আফসানা হক বলেন, ঢাকায় প্রায় ৫০০০ বস্তি রয়েছে যেখানে ৪ মিলিয়ন মানুষ বসবাস করেন। জীবন ধারণে মৌলিক সুবিধাগুলো পাওয়া যেখানে বিরাট চ্যালেঞ্জ, জলবায়ু পরিবর্তন তাদের বাস্তবতাকে করে তুলেছে আরো জটিল।

গবেষণার অংশ হিসেবে স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর অ্যাটমোস্ফেরিক পল্যুশন স্টাডিজ (ক্যাপস) গবেষণা এলাকার পানি ও বায়ু পরীক্ষা করেন। বায়ু পরীক্ষায় দেখা গেছে, ধলপুরে বায়ূর ঘনত্ব পি.এম ১১৬.৯৬ µg/m3 ও  পি.এম  ১৬৪.৭১ µg/m3, এবং ঢাকা ম্যাচ কলোনিতে পি.এম ৮৩.৯৬ µg/m3 ও পি.এম ১৫৫.৫০ µg/m3।

যেখানে বাংলাদেশের জাতীয় নীতিমালা অনুযায়ী নির্ধারিত মান পি.এম ২.৫ µg/m3 এবং পি.এম ১০ µg/m3।

পানি পরীক্ষার ফলাফলে দেখা গেছে যে, উভয় গবেষণা এলাকার নমুনা পানিই বিদেশী কণা দ্বারা দূষিত হয়ে মানদণ্ডের মাত্রা অতিক্রম করেছে। নমুনা পরীক্ষায় ই. কোলি (৭ কিংবা তার বেশি) এবং মোট কোলিফর্মের অগণিত কলোনির অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। গবেষণা এলাকায় বায়োলজিকাল অক্সিজেন ডিমান্ড এবং ক্লোরিন কনসেন্ট্রেশনের পরিমাণও অতিরিক্ত পাওয়া গেছে।

গবেষণা এলাকায় বসবাসরত স্থানীয়রা দীর্ঘসময় ধরেই একাধিক পানি-সংক্রান্ত সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন, যেমন- দূরবর্তী পানির উৎস, পানির সংকট এবং নিম্ন মান। তারা পানির সরবরাহের সাথে জড়িত নানা স্বাস্থ্যসংক্রান্ত এবং সামাজিক-সাংস্কৃতিক সমস্যার কথাও তুলে ধরেন।

গবেষণা এলাকা দুটিতে, পানির উৎস এবং সরবরাহ হয় সাপ্লাই লাইন এবং ডিপ টিউবওয়েলের মাধ্যমে। কিন্তু পানির সরবরাহ থাকে অল্প সময়ের জন্য এবং প্রায়ই তা বিঘ্নিত হয়।

অধিকাংশ নারীদের পানি সংগ্রহের জন্য ৫ থেকে ১০ মিনিট পথ হাঁটতে হয়। লাইনে দাঁড়িয়ে দেড় থেকে দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয় পানি সংগ্রহের জন্য। প্রতি মাসে প্রতিটি বসতবাড়ি গড়ে  ৪০০-৫০০ টাকা বিল দিলেও মেলে না যথাযথ মানের পানি।

গবেষণা প্রকাশ ও আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী তাজুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের গড় আয় বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে আমরা মধ্য আয়ের দেশে পরিণত হবে। এইসকল অর্জনের বিপরীতে যেসকল চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে সেগুলো চিহ্নিত করে উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন।

সচেতনতাকে এই চ্যালেঞ্জের মূল হাতিয়ার উল্লেখ করে তিনি বলেন, সমাজের প্রতিটি স্তরে সচেতনতা তৈরি করতে হবে। কমিউনিটি উদ্যোগকে উৎসাহিত করতে হবে। বর্জ্য নিষ্কাশন, পানি সরবরাহ এবং পানি ও বায়ু দূষণ রোধে সরকারি, বেসরকারি, ব্যক্তিমালিকানাধীন-সকল খাতকে একত্রে কাজ করতে হবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বুয়েটের উপাচার্য সত্য প্রসাদ মজুমদার। সঞ্চালনায় ছিলেন পিএসটিসি-র নির্বাহী পরিচালক ড. নূর মোহাম্মদ।

আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, রাজউকের প্রকল্প পরিচালক আশরাফুল ইসলাম, ওয়াটারএইড বাংলাদেশ-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর হাসিনা জাহান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফরিদ আহমেদ এবং বুয়েটের প্রো-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুল জব্বার খান।

আরো উপস্থিত ছিলেন, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ-এর প্রোগ্রাম ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ইমপ্লিমেন্টেশন পরিচালক আফরোজ মহল, প্রকল্প ব্যবস্থাপক মানিক কুমার সাহা, আইসিসিসিএডি এর পরিচালক অধ্যাপক সলিমুল হক এবং বুয়েটের ইউআরপি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক মুসলেহ উদ্দিন হাসান।  ঢাকায় নিম্ন আয়ের বস্তিবাসীরা বায়ু দূষণসহ নানা ঝুঁকির মুখে শিরোনামের সংবাদটির তথ্য প্লান বাংলাদেশ থেকে সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছে।

আরও সংবাদ

কয়েক বিভাগে ভারী বৃষ্টিাপাতের সম্ভাবনা

কমিউনিটি

৫ দিনের মধ্যে বৃষ্টিপাতের প্রবনতা হ্রাস হতে পারে

কমিউনিটি

তিন বিভাগে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা

কমিউনিটি

পাঁচ দিনের মধ্যে আবহাওয়া পরিবর্তন হতে পারে

কমিউনিটি

দু’দিন পর বৃষ্টির পরিমাণ কমার সম্ভাবনা

কমিউনিটি

আগামী দু’দিন বজ্রবৃষ্টির প্রবনতা অব্যাহত থাকতে পারে

কমিউনিটি