27 C
Dhaka
জুন ১৯, ২০২১

কারামুক্ত হলেন সাংবাদিক রোজিনা ইসলাম

কারামুক্ত হলেন সাংবাদিক রোজিনা ইসলাম

নিজস্ব প্রতিবেদক: জামিনে বের হলেন প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রোজিনা ইসলাম। রোববার (২৩ মে) বিকেল সোয়া ৪টার দিকে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে তিনি বের হন। কাশিমপুর কারা সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) রোজিনা ইসলামের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন।

এর আগে আজ সকালে অফিসিয়াল সিক্রেটস আইনে করা মামলায় তাঁর জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) (ভার্চুয়াল আদালত)। বিচারক জামিন আদেশে বলেন, ‌‘পাঁচ হাজার টাকা মুচলেকায় তার অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করা হলো। এ ছাড়া তাকে পাসপোর্ট জমা দিতে হবে। গণমাধ্যম ও বিচার বিভাগ একে অপরের পরিপূরক। প্রত্যেকের অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ও সহনশীল আচরণ করবেন এমন প্রত্যাশা করছি।’

এর আগে বৃহস্পতিবার (২০ মে) ঢাকা মহানগর হাকিম বাকি বিল্লার ভার্চুয়াল আদালতে সাংবাদিক রোজিনার জামিন শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। ওই দিন রোজিনার পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এহসানুল হক সমাজি, আমিনুল গনি টিটু, জ্যোতির্ময় বড়ুয়া, প্রশান্ত কুমার কর্মকার ও আশরাফুল আলম। অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষে জামিনের বিরোধিতা করেন হেমায়েত উদ্দিন হিরোন।

আদালত শুনানি শেষে রাষ্ট্রপক্ষের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উপস্থাপন ও জামিন বিষয়ে আদেশের জন্য রোববার (২৩ মে) দিন ধার্য করেন।

গত মঙ্গলবার (১৮ মে) রোজিনা ইসলামকে আদালতে হাজির করে পাঁচদিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। অন্যদিকে তার আইনজীবী প্রশান্ত কুমার কর্মকার তার জামিন চেয়ে আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক তার রিমান্ড আবেদন নামঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে তার জামিন শুনানির জন্য বৃহস্পতিবার (২০ মে) দিন ধার্য করেন।

এরপর রোজিনার আইনজীবী প্রশান্ত কুমার কর্মকার তার চিকিৎসার জন্য আবেদন করেন। আদালত কারাবিধি অনুযায়ী তার চিকিৎসার নির্দেশ দেন। এরপর প্রিজনভ্যানে তাকে গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে সোমবার (১৭ মে) রাতে শাহবাগ থানায় মামলা করা হয়। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলাটি করেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের উপসচিব ডা. মো. শিব্বির আহমেদ উসমানী।

সচিবালয়ে দীর্ঘক্ষণ আটক রাখার পর সোমবার (১৭ মে) রাত ৯টার দিকে সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে শাহবাগ থানায় আনা হয়। তার বিরুদ্ধে অনুমতি ছাড়া মোবাইল ফোনে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ নথির ছবি তোলা এবং আরও কিছু নথি লুকিয়ে রাখার অভিযোগ এনেছে মন্ত্রণালয়।

জামিন পেলেন সাংবাদিক রোজিনা ইসলাম

জামিন পেলেন সাংবাদিক রোজিনা ইসলাম। দণ্ডবিধি ও অফিশিয়াল সিক্রেক্টস অ্যাক্টের মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকা প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রোজিনা ইসলামের জামিন আবেদন বিষয়ে আজ রোববার শুনানি হয়। পাঁচ হাজার টাকা মুচলেকা এবং পাসপোর্ট জমা দেওয়ার শর্তে তিনি জামিন পান।

ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) রোজিনা ইসলামের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন।

আদালতে রোজিনা ইসলামের পক্ষে তাঁর আইনজীবীরা জামিন চান। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা জামিনের বিরোধিতা করেন। আদালতের সামনে গণমাধ্যমকর্মীরা ভিড় করেন। ছিল বিপুলসংখ্যক পুলিশের উপস্থিতি। আদালতের বাইরে রোজিনার স্বামী ও স্বজনরা অপেক্ষায় ছিলেন।

শুনানি শেষে সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর হেমায়েত উদ্দিন খান হিরণ সাংবাদিকদের বলেন, ‘কোনো মানুষ আইনের ঊর্ধ্বে নই। আসামির বিরুদ্ধে যে ধারায় মামলা করা হয়েছে সেটা জামিন অযোগ্য। আর তাঁকে জামিন দিলে তদন্তে বিঘ্ন ঘটবে। এ ছাড়া আসামির কাছ থেকে আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। এ জন্য তাঁকে জামিন দেওয়া ঠিক হবে না।’

রোজিনার আইনজীবী এহসানুল হক সমাজী সাংবাদিকদের বলেন, ‘এজাহারে সে রকম কোনো আলামতের বর্ণনা নেই। যে আলামতের কথা বলা হচ্ছে, তা পরে ম্যানিপুলেট করা। তাই এ মামলায় জামিন পাওয়াটা আসামির প্রতি কোনো দয়া বা অনুগ্রহ নয়; বরং জামিন পাওয়াটা তাঁর মৌলিক অধিকার।’

গত ১৭ মে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পাঁচ ঘণ্টা আটকে রাখার পর নথিপত্র চুরি ও ছবি তুলে নেওয়ার অভিযোগে দণ্ডবিধির ৩৭৯ ও ৪১১ ধারায় এবং অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টের ৩ ও ৫ ধারায় মামলা দিয়ে রোজিনাকে শাহবাগ থানায় হস্তান্তর করা হয়।

পরের দিন ১৮ মে সকাল ৮টায় রোজিনাকে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করা হয়। এরপর মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাঁকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শাহবাগ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আরিফুর রহমান সরদার। পরে শুনানি শেষে ওই আবেদন খারিজ করে দেন আদালত। একই সঙ্গে রোজিনার জামিন শুনানির জন্য বৃহস্পতিবার (২০ মে) নির্ধারণ করেন আদালত। তবে ওইদিন শুনানি শেষ হলেও আদেশ রবিবার (২৩ মে) দেওয়া হবে বলে জানান আদালত।

রোজিনাকে হেনস্তা ও গ্রেপ্তারের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থা। বিভিন্ন সংগঠন, দল ও প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকেও রোজিনার গ্রেপ্তারের ব্যাপারে ক্ষোভ প্রকাশ করে মুক্তি দাবি অব্যাহত রয়েছে।

এছাড়া রোজিনাকে থানায় সোপর্দ, মামলা দায়ের, সারা রাত থানায় রাখা, আদালতে পাঠিয়ে রিমান্ডের আবেদন এবং জামিন না দিয়ে কারাগারে পাঠানোর ঘটনায় গভীর উদ্বেগ, ক্ষোভ প্রকাশ, তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে সম্পাদক পরিষদ। তাঁর মুক্তির দাবিতে অব্যাহত আছে সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠনের কর্মসূচি।

কমিউনিটিনিউজ/এমএএইচ

আরও সংবাদ

মাস্ক ছাড়াই করোনা ওয়ার্ডে ডিউটি, সাংবাদিক প্রবেশে বাধা

কমিউনিটি

দেশে আরো ৫৪ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ৩৮৮৩

কমিউনিটি

আরইউজে সভাপতি সস্ত্রীক করোনায় আক্রান্ত

কমিউনিটি

রাজশাহীতে আরো ১২ জনের মৃত্যু

কমিউনিটি

করোনায় আরো ৬৩ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ৩৮৪০

কমিউনিটি

রাজশাহীতে করোনায় ১০ জনের মৃত্যু

কমিউনিটি