33 C
Dhaka
মে ১৫, ২০২১

নার্সকে হত্যার পর লাশ গুমের চেষ্টা, আটক ৪

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী: বিয়ের চাপ দেয়ায় রাজশাহীতে এক নার্সকে হত্যা করে মরদেহ গুম করার চেষ্টা চালানোর ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার প্রধান অভিযুক্ত একজন পুলিশ সদস্য। প্রযুক্তির সহায়তায় ওই পুলিশ সদস্যসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) একটি টিম। সোমবার (১৯ এপ্রিল) দুুপরে তাদেরকে হত্যা মামলায় আদালতে তোলা হয়। পরে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- পুলিশ কনস্টেবল নিমাই চন্দ্র সরকার (৪৩), নগরীর কাশিয়াডাঙ্গা থানাধীন আদারীপাড়া এলাকার ওষুধের দোকানি কবির আহম্মেদ (৩০), রাজপাড়া থানাধীন শ্রীরামপুর এলাকার চটপটি বিক্রেতা সুমন আলী (৩৪) এবং বিলশিমলা এলাকার মাইক্রোবাস চালক আব্দুর রহমান (২৫)।

এদের মধ্যে পুলিশ কনস্টেবল নিমাই চন্দ্র সরকার সাত বছর ধরে রেল পুলিশে (জিআরপি থানা) কর্মরত। তার বাড়ি পাবনার আতাইকুলা উপজেলার চরডাঙ্গা গ্রামে। এর আগে তিনি আরএমপির গোয়েন্দা বিভাগে ছিলেন নিমাই। সেখানে থাকাকালীন তিনি নারী কেলেঙ্কারির ঘটনায় বরখাস্ত হয়েও পরে চাকরি ফিরে পান। বাকি তিন আসামির দুজন তার বন্ধু। চতুর্থ আসামি আব্দুর রহমান মাইক্রোবাস ড্রাইভার। তিনি হিন্দু থেকে মুসলমান হন।

আর নিহত ওই শিক্ষার্থীর নাম ননিকা রাণী রায় (২৪)। তিনি ঠাকুরগাঁও সদরের মিলনপুর এলাকার নিপেন চন্দ্র বর্মণের মেয়ে। ননিকা রাজশাহী নার্সিং কলেজ থেকে মিডওয়াইফারি কোর্সে সদ্য অধ্যয়ন সমাপ্ত করে রাঙ্গামাটিতে একটি হাসপাতালে নার্স হিসেবে চাকরিতে যোগ দেন। এ বছর পিএসসি পরীক্ষাতে অংশ নেয়ার জন্য রাজশাহীতে আসেন। তিনি গত ৪ এপ্রিল নগরীর পাঠানপাড়া এলাকার শহীদ আব্দুস সাত্তার ছাত্রীনিবাসে ওঠেন।

পিবিআই সূত্রে জানা গেছে, ননিকার সঙ্গে পুলিশ কনস্টেবল নিমাই ট্রেনে যাতায়াতের সময় শুভ পরিচয়ে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। ৬-৭ বছরের প্রেমের সম্পর্কের পর গত ৬ এপ্রিল স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে নগরীর তেরখাদিয়া এলাকায় একটি বাসা ভাড়া নেন তিনি। তবে তার পূর্বের স্ত্রী ও সন্তান রয়েছে। ননিকা বিষয়টি জানতে পেরে নিমাইকে বিয়ের জন্য চাপ দেন। এতে নিমাই তার কয়েকজন বন্ধুর সহায়তায় প্রেমিকাকে হত্যা করে প্রথমে আত্মহত্যা পরে মরদেহ গুম করার চেষ্টা করেন।

পিবিআই জানায়, বুধবার (১৪ এপ্রিল) গভীর রাতে ভাড়া বাড়িতে ননিকাকে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে হত্যা করা হয়। হত্যার পর মরদেহ ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টা করেন নিমাই। পরে সিদ্ধাস্ত পরিবর্তন করে বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে মরদেহ গুম করার জন্য নগরীর বন্দর গেট এলাকা থেকে ১২০০ টাকা দিয়ে একটি ড্রাম কিনেন তিনি। এরপর রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকা থেকে দুই হাজার টাকায় একটি মাইক্রোবাস ভাড়া করে বৃহস্পতিবার (১৫ এপ্রিল) সকালে মরদেহটি নগরীর সিটি হাট এলাকার একটি ব্রিজের নিচে ফেলে দেন তারা। পরে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তা পিবিআইয়ের একটি টিম ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করে। উদ্ধার করা হয় মাইক্রোবাসটি। আর ময়নাতদন্ত শেষে নিহত নার্সের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

তবে সোমবার দুপুরে আসামিদেরকে পুলিশের গাড়িতে ওঠানোর সময় মামলার চতুর্থ আসামি আব্দুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, “আল্লাহকে বিশ^াস করে আমি হিন্দু থেকে মুসলমান হয়েছি। খুন-গুমের কোনো ঘটনার সঙ্গে আমি কোনোভাবেই সম্পৃক্ত নই। নিমাই ডিবি পুলিশ পরিচয়ে অপারেশনে যাওয়ার কথা বলে আমার গাড়ি ঠিক করে এবং দুই হাজার টাকা ভাড়ায় আমি তাদের সাথে যাই। ভাড়া মেরে চলে আসি। আসার সময় নিমাই আমাকে চা পান করায় এবং বখসিস হিসেবে আরো দুই হাজার টাকা দেয়। এসবের কিছুই আমি জানতাম না।”

এ বিষয়ে সোমবার দুপুরে পিবিআই রাজশাহীর এএসপি আবুল কালাম আযাদ সাংবাদিকদের জানান, নিমাই চন্দ্র সরকার হত্যার কথা স্বীকার করেছে। সে পুলিশ সদস্য হলেও তাকে অপরাধী হিসেবেই ধরা হয় এবং তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ঘটনায় জড়িত বাকিদেরও গ্রেপ্তার করা হয়। মূলত বিয়ের চাপেই ওই নার্সকে হত্যা করা হয়েছে। এমন চাঞ্চল্যকর ঘটনার এত দ্রুত উদঘাটন ও জড়িতদের আইনের আওতায় নেয়া পিবিআইয়ের আরো একটি সফলতা বলেও জানিয়েছেন তিনি।

এর আগে গত শুক্রবার (১৬ এপ্রিল) নগরীর বাইপাস সড়কের সিটি হাট সংলগ্ন একটি ডোবায় ড্রামের ভেতর মরদেহ দেখে পুলিশকে খবর দেন স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং মরদেহ উদ্ধার করে সেটি ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়। এ সময় সময় ডিবি, পিবিআই ও সিআইডির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। পৃথকভাবে তারাও তদন্ত শুরু করেন।

কমিউনিটিনিউজ/ এমএএইচ

২৮ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়লো লকডাউন

কমিউনিটিনিউজ ডেস্ক: করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে চলমান বিধি-নিষেধ (লকডাউন) শেষ হতে না হতেই  আবারো  এক সপ্তাহ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সোমবার (১৯ এপ্রিল) মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলামের সভাপতিত্বে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তথ্য অধিদপ্তরে প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সুরথ কুমার সরকার।

সাংবাদিকদের তিনি বলেন, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে সরকার ঘোষিত চলমান বিধি-নিষেধ আগামী ২২ তারিখ থেকে আরও ৭ দিন বাড়ানো হয়েছে। একইসঙ্গে এ বিষয়ে সোমবার অথবা মঙ্গলবার প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে বলেও জানিয়েছেন।

আরো বলেন,  চলতি মৌসুমে প্রথম দফায় ৫ থেকে ১১ এবং পরে আরও দু’দিন বেড়ে বিধি-নিষেধ ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত চলে। তবে সংক্রমণ ও মৃত্যু বেড়ে যাওয়ায় ১৪ এপ্রিল থেকে আবারও বিধি-নিষেধ জারি করা হয়। এ বিধি-নিষেধ শেষ হবে ২১ এপ্রিল। এরমধ্যে ফের এক সপ্তাহবধি-নিষেধ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিল সরকার। সরকার ঘোষিত চলমান ‘লকডাউন’ আরও এক সপ্তাহ বাড়ানো হয়েছে। এক সপ্তাহ বলতে ২২ তারিখ থেকে আরও ৭ দিন অর্থাৎ ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত ‘লকডাউন’ কার্যকর থাকবে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সচিব পর্যায়ের এক ভার্চ্যুয়াল বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে ১২ এপ্রিল জারি করা প্রজ্ঞাপনের ১৩ বিধি-নিষেধ আরও এক সপ্তাহের জন্যও কার্যকর থাকবে। তবে এ বিষয়ে এখনো প্রক্ষাপন জারি করা হয়নি।

কঠোর বিধি-নিষেধ বা লকডাউনে ১৩ নির্দেশনা হলো- সব সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিস, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে ও সব কর্মকর্তা-কর্মচারী নিজ নিজ কর্মস্থলে অবস্থান করবেন। তবে বিমান সমুদ্র ও স্থলবন্দর এবং তৎসংশ্লিষ্ট অফিস নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আদালতসমূহের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারি করবে। সব পরিবহন (সড়ক, নৌ, রেলপথ, অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট) বন্ধ থাকবে। তবে পণ্য পরিবহন, উৎপাদন ব্যবস্থা ও জরুরি সেবাদানের ক্ষেত্রে এই আদেশ প্রযোজ্য হবে না।

অতিজরুরি প্রয়োজন ব্যতীত (ওষুধ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যদি ক্রয়, চিকিৎসাসেবা মরদেহ দাফন বা সৎকার ইত্যাদি) কোনোভাবে বাড়ির বাইরে বের হওয়া যাবে না। তবে টিকা কার্ড প্রদান সাপেক্ষে টিকা গ্রহণের জন্য যাতায়াত করা যাবে। খাবারের দোকান ও হোটেল-রেস্তোরাঁয় দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা এবং রাত ১২টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত কেবলমাত্র বিক্রয় বা সরবরাহ (online/ Takeway) করা যাবে। শপিংমলসহ অন্য দোকান বন্ধ থাকবে। কাঁচাবাজার এবং নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত উন্মুক্ত স্থানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্রয়-বিক্রয় করা যাবে। বাজার কর্তৃপক্ষ স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টি নিশ্চিত করবে। বোরো ধান কাটার জরুরি প্রয়োজনে কৃষিশ্রমিক পরিবহনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন সমন্বয় করবে।

শিল্পকারখানা স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় চালু থাকবে। তবে শ্রমিকদের স্ব-স্ব প্রতিষ্ঠান কর্তৃক নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থাপনায় আনা-নেওয়া নিশ্চিত করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা এবং জরুরি পরিষেবা, যেমন- কৃষি উপকরণ (সার, বীজ, কীটনাশক, কৃষি যন্ত্রপাতি ইত্যাদি) খাদ্যশস্য ও খাদ্যদ্রব্য পরিবহন, ত্রাণ বিতরণ, স্বাস্থ্যসেবা, কোভিড-১৯ টিকা প্রদান, বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস, জ্বালানি, ফায়ার সার্ভিস, বন্দরসমূহ (স্থলবন্দর, নৌবন্দর ও সমুদ্রবন্দর) কার্যক্রম, টেলিফোন ও ইন্টারনেট (সরকারি-বেসরকারি), গণমাধ্যম (প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া), বেসরকারি নিরাপত্তাব্যবস্থা, ডাকসেবাসহ অন্যান্য জরুরি ও অত্যাবশ্যকীয় পণ্য ও সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অফিস, তাদের কর্মচারী ও যানবাহন এ নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে থাকবে।

সারাদেশে জেলা ও মাঠ প্রশাসন উল্লেখিত নির্দেশনা বাস্তবায়নের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী নিয়মিত টহল জোরদার করবে।

এছাড়া স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক তার পক্ষে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগকে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয় ক্ষমতা প্রদান করবেন। স্বাস্থ্য বিধি অনুসরণ করে জুমা ও তারাবি নামাজের জমায়েত বিষয়ে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা জারি করবে। নির্দেশনাসমূহ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগ প্রয়োজনের সম্পূরক নির্দেশনা জারি করতে পারবে।

কমিউনিটিনিউজ/ এমএএইচ

আরও সংবাদ

স্বপ্নের ঠিকানা পাচ্ছে চারঘাটের আরও ১০ পরিবার

কমিউনিটি

আড়াই’শ পরিবারের পাশে বাঘা উপজেলা চেয়ারম্যান লাভলু

কমিউনিটি

করোনায় জুয়ায় ঝুঁকে পড়ছে শিশুরা

কমিউনিটি

করোনায় রাজশাহী জেলা আ.লীগ সভাপতি মেরাজ মোল্লার ইন্তেকাল

কমিউনিটি

রডের বদলে রাস্তার গ্রিল, প্রকল্পের পাঁচ মেট্রিকটন লোহা গায়েব

কমিউনিটি

নওগাঁয় ইয়াবাসহ ছাত্রলীগ নেতা আটক

কমিউনিটি