30 C
Dhaka
আগস্ট ১২, ২০২২

টিকার মেধাস্বত্ত্ব ছাড়ের প্রস্তাবে জার্মানির বিরোধিতা

কমিউনিটিনিউজ ডেস্ক: কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনের মেধাস্বত্ত্ব ছাড়ে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত প্রস্তাবের বিরোধিতা করে জার্মানি বলেছে, মেধাস্বত্ত্ব টিকার উৎপাদন বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বাধা নয়।  “মেধাস্বত্ত্বের সংরক্ষণ নতুন কিছু সৃষ্টির একটি উৎস এবং এমনটাই থাকা উচিত,” বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে দেশটির সরকারের পক্ষ থেকে  এমন কথা বলা হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘বর্তমানে বিশ্বে করোনা টিকার ডোজের যে সংকট চলছে, তার সমাধান হচ্ছে টিকার উৎপাদান বাড়ানো। পেটেন্ট বা মেধাস্বত্ব ছাড় নয়। পেটেন্ট বা মেধাস্বত্ব নতুন আবিষ্কারের ক্ষেত্রে রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে এবং এটি যেমন রয়েছে, তেমনই থাকা উচিত।’

জার্মানির এ অবস্থানের আগে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) বলেছিল, তারা কোভিড টিকার মেধাস্বত্ত্ব উন্মুক্ত করে দেওয়ার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনায় রাজি। জোটের একাধিক সদস্য রাষ্ট্র প্রস্তাবটিতে পূর্ণ সমর্থনও দিয়েছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।

মেধাস্বত্ত উন্মুক্ত হলে টিকার উৎপাদন ব্যাপকভাবে বাড়বে ও দরিদ্র দেশগুলোকে সুলভ মূল্যে জীবন রক্ষাকারী ভ্যাকসিন সরবরাহ করা যাবে বলে দাবি সমর্থকদের।

এদিকে প্রস্তাবটির বিরোধীরা বলছে, মেধাস্বত্ত্বে ছাড় দিলেও কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাবে না। তাদের মতে, ভ্যাকসিন উৎপাদনের ক্ষেত্রে বাধা হচ্ছে উৎপাদন সক্ষমতা ও এর মান ধরে রাখা, মেধাস্বত্ত্ব নয়।

ওষুধ নির্মাতা কোম্পানিগুলোর এ আপত্তির সঙ্গে গলা মিলিয়েছে জার্মানিও। উৎপাদন বাড়াতে টিকা নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করছে বলেও জানিয়েছে দেশটি।

ইইউ’র সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক শক্তি জার্মানির কোম্পানি বায়োএনটেকের বানানো কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন বিশ্বজুড়ে বহুল ব্যবহৃত টিকাগুলোর মধ্যে অন্যতম।

টিকার মেধাস্বত্ত্ব উন্মুক্ত করে দেওয়ার ধারণাটির প্রস্তাবক ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকা; দেশ দু’টি বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় ৬০টির মতো দেশের একটি গ্রুপকে নেতৃত্ব দিচ্ছে। এ দেশগুলো কয়েক মাস ধরেই কোভিড ভ্যাকসিনের মেধাস্বত্ত্ব সাময়িক সময়ের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আসছিল।

করোনা টিকা আবিষ্কারের পর বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তা উৎপাদনের অনুমোদন দেওয়ার জন্য ছয় মাস আগে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা বরাবর আবেদন করেছিল ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকা। কিন্তু এ ব্যাপারে এ দুটি রাষ্ট্রের প্রয়োজন ছিল যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ ডব্লিউটিওর সদস্যরাষ্ট্রগুলোর সম্মতি ও সুপারিশ।

সেই সুপারিশের জন্য ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকাসহ বিশ্বের প্রায় ৬০ দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অনুরোধ করেছিলেন; কিন্তু ডোনাল্ড ট্রাম্প এ বিষয়ে কোনো প্রকার সুপারিশ করতে তীব্র আপত্তি জানান।

যুক্তরাষ্ট্রের আগের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন, যুক্তরাজ্য ও ইইউ এর তীব্র বিরোধিতা করলেও জো বাইডেনের সমর্থন পাওয়ার পর প্রস্তাবটি নিয়ে বিশ্বজুড়ে ফের আলোচনা শুরু হয়।

প্রস্তাবটির ব্যাপারে জার্মানির বিরোধিতার আগেই ইউরোপিয়ান কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডেয়ার লাইয়েন বলেন, মেধাস্বত্ত্ব সংরক্ষণে ছাড় দেওয়ার প্রস্তাব নিয়ে ২৭ দেশের জোট ‘আলোচনায় প্রস্তুত’।

ফন ডেয়ার লাইয়েন কিছুদিন আগেও মেধাস্বত্ত্ব উন্মুক্ত করে দেওয়ার বিরোধী ছিলেন। কয়েক সপ্তাহ আগে নিউ ইয়র্ক টাইমসকে বলেছিলেন, তিনি ‘প্যাটেন্ট ছেড়ে দেওয়ার পক্ষে নন’।

বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) প্রধান এনগোজি ওকোনজো-ইওয়েলা কোভিড টিকার মেধাস্বত্ত্ব নিয়ে বাইডেন প্রশাসনের অবস্থানকে স্বাগত জানিয়েছেন। টিকার উৎপাদন নিয়ে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর একটি ‘বাস্তবধর্মী সমঝোতায়’ পৌঁছানো উচিত বলেও মন্তব্য করেন এ নারী।

“এখন যে বৈষম্য চলছে তা ঠিক নয়,” বলেছেন তিনি।

তবে তার উত্তরসূরি প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারে বলেছিলেন, তিনি ক্ষমতায় গেলে টিকা উৎপাদনে মেধাস্বত্ব ছাড়ে যতখানি সম্ভব বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশগুলোকে সহযোগিতা করবেন।

সেই অনুযায়ী টিকার মেধাস্বত্ব ছাড়ের ব্যাপারে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার প্রস্তাবনায় সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বাইডেন প্রশাসন। বুধবার মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি ক্যাথরিন তাই এক বিবৃতিতে ‍বাইডেন প্রশাসনের সাম্প্রতিক এই সিদ্ধান্ত জানান।
যুক্তরাষ্ট্র সরকারের এই সিদ্ধান্ত সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেন বলেছিলেন, ইউরোপীয় করোনা টিকা উৎপাদনে মেধাস্বত্ব বা পেটেন্ট তুলে নেওয়া বিষয়ক আলোচনায় বসতে আগ্রহী।

ইইউ প্রেসিডেন্টের এই মন্তব্যের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বিবৃতি দিল ইউরোপীয় ইউনিয়নের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক শক্তি জার্মানি। ইইউয়ের অপর দুই প্রভাবশালী সদস্যরাষ্ট্র ফ্রান্স ও ইতালি অবশ্য জানিয়েছে, তারা টিকার মেধাস্বত্ব ছাড়ের প্রস্তাবনায় পূর্ণ সমর্থন দেবে। বিশ্বের বৃহত্তম দেশ রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও জানিয়েছেন, মেধাস্বত্ব ছাড়ের প্রস্তাবনায় তার সমর্থন রয়েছে।

তুলনামূলকভাবে এই ইস্যুতে অনেকটা নিরপেক্ষ অবস্থান নিয়েছে যুক্তরাজ্য। বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে দেশটির সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বর্তমান বিশ্বে যে সংকট দেখা দিয়েছে, তা সমাধানে সবার মিলিত প্রয়াস প্রয়োজন। এ কারণে ডব্লিউটিও যে সিদ্ধান্ত নেবে তা সমর্থন করবে যুক্তরাজ্য।

এদিকে, বুধবার যুক্তরাষ্ট্র যখন টিকার মেধাস্বত্ব ছাড়ে সমর্থন দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিল, তখনই হতাশা প্রকাশ করেছিল বহুজাতিক ওষুধ কোম্পানিগুলোর ঐক্য সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব ফার্মাসিউটিক্যাল ম্যানুফেকচারার্স অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েশনন (আইএফএফএমএ)।

বৃহস্পতিবার সংস্থাটির প্রেসিডেন্ট টমান কুয়েনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তে ফেডারেশন গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। তিনি আরো বলেন, টিকা উৎপাদনের পেটেন্ট বা মেধাস্বত্ব ছাড় নয়, বরং বিশ্বের উন্নত দেশগুলো টিকার যে বিপুল পরিমান ডোজ মজুত করেছে, সেগুলো বাইরে আনাই বর্তামন টিকার ডোজের সংকটের সমাধান।

বৃহস্পতিবার কুয়েনি বলেন, ‘উন্নত দেশগুলো যে পরিমাণ টিকার ডোজ মজুত করেছে, বর্তমান বিশ্বে টিকার ডোজের সংকটের প্রেক্ষিতে সেই ব্যাপারটি খুব হতাশাজনক। ওই ডোজগুলো বাইরে আনা প্রয়োজন। পাশাপাশি কোম্পানিগুলোর উৎপাদনও বাড়াতে হবে। এভাবেই টিকার ডোজের সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। মেধাস্বত্ব বা পেটেন্ট তুলে দেওয়া কোনো সমাধান নয়।

কমিউনিটিনিউজ/ এমএএইচ

আরও সংবাদ

সিদ্ধ ডিম রেখে কতক্ষণ পর খাওয়া নিরাপদ?

কমিউনিটি নিউজ

কোথায় কত ঘন্টা বাঁচতে পারে ওমিক্রন!

কমিউনিটি নিউজ

দেশে করোনায় মৃত্যু ও সংক্রমণ দুই বাড়ছে

কমিউনিটি নিউজ

ইউরোপে সাড়ে ৭ কোটি ছাড়িয়েছে আক্রান্ত

কমিউনিটি নিউজ

২৪ ঘণ্টায় ৫ জনের মৃত্যু

কমিউনিটি নিউজ

হঠাৎ সর্দিজ্বর হলে কী করবেন?

কমিউনিটি নিউজ