30 C
Dhaka
আগস্ট ১২, ২০২২

শরীরে অক্সিজেন কমে কেন? জেনে নিন প্রতিকারের উপায়

communitynews.info

স্বাস্থ্য ডেস্ক: করোনাকালে যে নতুন শব্দগুলোর সঙ্গে মানুষ এবার বেশি করে পরিচিত হলো, তার একটি ‘হাইপোক্সিয়া’। শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা কমে যাওয়াকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের পরিভাষায় হাইপোক্সিয়া বলা হয়। শরীরের প্রতিটি অঙ্গপ্রত্যঙ্গের সুষ্ঠু কার্যক্রমের জন্য দরকার অক্সিজেন। ফুসফুসের শ্বসনপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে রক্তের লোহিত রক্তকণিকা এই অক্সিজেন বহন করে সারা শরীরে ছড়িয়ে দেয়। আর শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা কমে গেলে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ বিকল হতে শুরু করে।

তাই করোনাভাইরাস সংক্রমণ শুরুর পর থেকেই ঘরে ঘরে পালস অক্সিমিটার রাখার প্রবণতা দেখা গেছে। কোভিড-১৯–এর অন্যতম উপসর্গ শরীরে অক্সিজেনের পরিমাণ কমে যাওয়া। তবে শুধু কোভিড-১৯ নয়, অন্যান্য অসুখেও হাইপোক্সিয়া হতে পারে।

তাই মানুষ এ বিষয়ে সচেতন হচ্ছেন। রক্তে অক্সিজেন শুধু করোনাভাইরাসের কারণেই কমে না, অন্যান্য অসুখের কারণেও হতে পারে। তবে এটি কোনো অসুখ নয়, উপসর্গ। এই উপসর্গ দেখা দিলে যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসা নিতে হবে, দেরি করার কোনো সুযোগ নেই।

communitynews.infoজেনে নিন কেন হয় অক্সিজেনের ঘাটতি-

একজন সুস্থ মানুষের শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা ৯৭ থেকে ১০০ শতাংশ থাকা উচিত। ফুসফুসে সংক্রমণ বা নিউমোনিয়া হাইপোক্সিয়ার অন্যতম কারণ। দীর্ঘস্থায়ী রোগের কারণেও অনেকের হাইপোক্সিয়া হতে পারে, আবার আচমকাও দেখা দিতে পারে। সিওপিডি (ক্রনিক অবস্ট্র্যাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ) ও হাঁপানি রোগীদের ক্ষেত্রে হাইপোক্সিয়া একটি পরিচিত সমস্যা। ফুসফুসের কার্যক্ষমতায় ঘাটতির কারণে তাঁদের শরীরে এমনিতেই অক্সিজেন কম থাকে। তাই হাঁপানি বা ক্রনিক ব্রঙ্কাইটিসের রোগীর সমস্যা বেড়ে গেলে শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা দ্রুত কমে যায়। তীব্র মাত্রার রক্তাল্পতা বা অ্যানিমিয়ার রোগীদের মধ্যেও এই উপসর্গ দেখা যায়। হৃদ্‌যন্ত্রে বা কিডনিতে সমস্যা থাকলেও এই সমস্যা হতে পারে।

দুর্ঘটনার কারণেও এটি হতে পারে। যেমন, শ্বাসনালিতে কোনো খাবার আটকে গিয়ে বা কোনো স্থানে আটকা পড়ে শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি তৈরি হলে, অনেক উঁচু পর্বতের ওপর বা অগ্নিকাণ্ডের স্থানে অক্সিজেন কমে যেতে পারে।

কাদের ঝুঁকি বেশি হতে পারে?

সুস্থ মানুষের শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা থাকে ৯০-১০০ শতাংশ। এর নিচে নেমে গেলেই সমস্যা দেখা দেয়। এ সমস্যা হতে পারে ক্রনিক কোনো অসুখের কারণে অথবা হঠাৎ করেই। ক্রনিক অবস্ট্রাক্টিভ পালমোনারি ডি‌জিজ বা সিওপিডি, অ্যাজমা ইত্যাদি সমস্যার ক্ষেত্রে দেখা দিতে পারে অক্সিজেনের ঘাটতি। এসব ক্ষেত্রে অক্সিজেনের মাত্রা ৯০ এর নিচে নেমে গেলেই চিকিৎসকের দ্বারস্থ হতে হবে।

রক্তে অক্সিজেন বহন করে হিমোগ্লোবিন। যে কারণে রক্তে হিমোগ্লোবিন কমে গেলে সতর্ক হওয়া জরুরি। বিশেষ করে যারা অ্যানিমিয়ার রোগী তাদের বাড়তি সচেতন থাকতে হবে। এ কারণে নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা করানো উচিত।

অনেক সময় বদ্ধ জায়গায় থাকলে দেখা দিতে পারে অক্সিজেন সংকট বা হাইপক্সিয়া। যাদের হার্টে ব্লক রয়েছে তাদের ক্ষেত্রেও এই সমস্যা দেখা দিতে পারে। এর ফলে রোগীর বুকে ব্যথা হয়। অনেক সময় দুর্ঘটনাবশত শ্বাসনালিতে খাবার আটকে গিয়েও এই সমস্যা দেখা দিতে পারে।

নিয়মিত খেয়াল রাখতে হবে

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিয়মিত অক্সিজেনের মাত্রা মেপে দেখার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা। এই মাত্রা ৯০ এর নিচে নেমে গেলে রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বেশিরভাগ করোনা রোগীর ক্ষেত্রে শ্বাসকষ্টের সমস্যা দেখা দিচ্ছে। করোনাভাইরাস ফুসফুসে ঢুকে অ্যালভিওলাই ও ফুসফুসের থলিগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এর ফলে ফুসফুস ঠিকভাবে অক্সিজেন সরবরাহ করতে পারে না।

যেভাবে বুঝবেন অক্সিজেনের ঘাটতি বোঝার উপায় আছে-

করোনাভাইরাসের মতো রোগে আক্রান্ত হয়ে হঠাৎ বেশি ক্লান্ত বোধ করলে, মাথা ঘুরতে শুরু করলে, শরীর অতিরিক্ত অবসন্ন লাগলে, ঝিমুনি বোধ হলে, সবকিছু এলোমেলো মনে হলে দ্রুত সতর্ক হওয়া উচিত। এ ছাড়া যাঁরা হাইপোক্সিয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন, তাঁদের নিয়মিত অক্সিজেন মাত্রা পর্যবেক্ষণ করা উচিত। পালস অক্সিমিটার নামের ছোট্ট যন্ত্রটি এখন প্রায় বাড়িতেই আছে, যা আঙুলের মধ্যে লাগিয়ে শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা ও পালস রেট মাপা যায়। যদি অক্সিজেন মাত্রা ৯২ শতাংশের নিচে নেমে যায় তবে মস্তিষ্কে ও অন্যান্য অঙ্গে অক্সিজেনের ঘাটতি হয়।

অক্সিজেনের মাত্রা ক্রমাগত কমতে থাকলে হৃৎপিণ্ড, যকৃৎ, কিডনি ইত্যাদি বিকল হতে শুরু করে। বয়স্কদের ক্ষেত্রে কথাবার্তা অসংলগ্ন হতে শুরু করা গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ। আবার কিছু কিছু ক্ষেত্রে ‘সাইলেন্ট হাইপোক্সিয়া’ হয়। অর্থাৎ, অক্সিজেনের মাত্রা কম, কিন্তু শ্বাসকষ্ট না হওয়ায় তিনি তা উপলব্ধি করতে পারেন না। ফলে চিকিৎসা পেতে অনেক দেরি হয়ে যায়। কোভিড-১৯–এ আক্রান্ত কিছু রোগীর ক্ষেত্রে এ ঘটনা ঘটেছে। একে বলে ‘হ্যাপি হাইপোক্সিয়া’। সে ক্ষেত্রে বড় ভরসা হলো পালস অক্সিমিটারের সাহায্যে বাড়িতে অক্সিজেন সেচুরেশন দেখা।

তাই দিনে অন্তত দুবার অক্সিমিটারে শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা মেপে দেখা উচিত। অক্সিমিটারের রিডিং যদি ৯৪ শতাংশের নিচে নেমে যায়, তখনই হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে। তবে অনেক হাঁপানি ও সিওপিডির রোগীদের শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা স্বাভাবিক অবস্থাতেই ৯৪ থাকে, তাই তাদের ক্ষেত্রে ৯০–এর নিচে নামলে বিপজ্জনক।

প্রতিকারের উপায়:

করোনার এই সময়ে ভিড়ের মধ্যে গেলে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। আবার এক জায়গায় অনেক মানুষ থাকলে সেখানে কার্বন ডাইঅক্সাইডের মাত্রা বেড়ে যায় অক্সিজেনের মাত্রা কমতে থাকে। ফলে ভিড়ের ভেতর মাস্ক পরে থাকলে শ্বাসকষ্ট হবে। কিন্তু সংক্রমণ এড়াতে মাস্ক ছাড়া চলা যাবে না। তাই ভিড় এড়িয়ে চলতে হবে।

আপনি যদি নিজের গাড়িতে একা থাকেন তবে মাস্ক ছাড়াও থাকতে পারেন। কিন্তু গাড়িতে অন্য কেউ থাকলে দুজনকেই মাস্ক পরতে হবে।

যেকোনো রকম শরীরচর্চার সময় মাস্ক পরা যাবে না। কারণ এতে শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা কমে যেতে পারে। এমন কোনো জায়গায় শরীরচর্চা করুন, যেখানে মানুষ কম।

কমিউনিটিনিউজ/ এমএএইচ

আরও সংবাদ

সিদ্ধ ডিম রেখে কতক্ষণ পর খাওয়া নিরাপদ?

কমিউনিটি নিউজ

কোথায় কত ঘন্টা বাঁচতে পারে ওমিক্রন!

কমিউনিটি নিউজ

দেশে করোনায় মৃত্যু ও সংক্রমণ দুই বাড়ছে

কমিউনিটি নিউজ

ইউরোপে সাড়ে ৭ কোটি ছাড়িয়েছে আক্রান্ত

কমিউনিটি নিউজ

২৪ ঘণ্টায় ৫ জনের মৃত্যু

কমিউনিটি নিউজ

হঠাৎ সর্দিজ্বর হলে কী করবেন?

কমিউনিটি নিউজ