30 C
Dhaka
আগস্ট ১২, ২০২২

পেয়ারা খেলে যেসব উপকার পাবেন

communitynews.info

স্বাস্থ্য ডেস্ক:  চোখজুড়ানো সবুজ রঙের ফল পেয়ারা। দেখতে সুন্দর, সেইসঙ্গে খেতেও সুস্বাদু। এর পুষ্টিগুণও কিন্তু অনেক। শরীরে পুষ্টির ঘাটতি তৈরি হলে তা পূরণে সাহায্য করে পেয়ারা। তাই প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় রাখতে পারেন সুস্বাদু এই ফল। পেয়ারায় প্রচুর ভিটামিন থাকার কারণে একে ভিটামিনের খনিও বলা হয়। এই ফল ঋতু পরিবর্তনের সময় ভাইরাসজনিত অসুখ থেকেও দূরে থাকতে সাহায্য করে।

সুস্বাদু ফল পেয়ারায় আছে ভিটামিন সি, পটাশিয়াম, ক্যারোটিনয়েডস, আঁশ, ফোলেট ও ক্যালসিয়াম। কমলাকে ভিটামিন সি এর খনি মনে করা হলেও মূলত পেয়ারায় এই ভিটামিন রয়েছে কমলার চেয়েও চারগুণ বেশি। সেইসঙ্গে আছে প্রয়োজনীয় আয়রন। এই উপকারী উপাদানগুলো শরীরে ভিটামিন ও খনিজের ঘাটতি দূর করে।

চলুন জেনে নিই পেয়ারা খেলে কী উপকার পাবেন

ত্বকের বয়স কমে যায়

নানা কারণে অসময়েই কি বুড়িয়ে যাচ্ছে ত্বক, সেই সঙ্গে প্রকাশ পাচ্ছে বলিরেখা? তাহলে বন্ধু আজ থেকেই ত্বকের পরিচর্যায় পেয়ারাকে কাজে লাগাতে শুরু করুন। দেখবেন উপকার পাবেন। আসলে এই ফলটিতে উপস্থিত ভিটামিন এ, বি, সি এবং পটাশিয়াম, ত্বকের অন্দরে জমতে থাকা ক্ষতিকর টক্সিক উপাদানদের বের করে দেয়। সেই সঙ্গে স্কিন সেলেদের যাতে কোনওভাবে ক্ষতি না হয়, সেদিকেও খেয়াল রাখে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ত্বকের বয়স তো কমেই, সেই সঙ্গে বলিরেখাও মিলিয়ে যেতে শুরু করে। এই কারণেই তো ত্বকের পরিচর্যায় নিয়মিত পেয়ারাকে কাজে লাগানোর পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকেরা।

ডায়রিয়ায় পেয়ারা

পেয়ারা ডায়রিয়ার বিরুদ্ধে লড়তে পারে। তাই নিয়মিত পেয়ারা খেলে ডায়রিয়া হওয়ার আশঙ্কা কমে যাবে অনেকটা। পেয়ারার আছে ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করার ক্ষমতা। এ ছাড়া আমাশয় হওয়ার জন্য যে ব্যাকটেরিয়াটি দায়ী, তার বংশবৃদ্ধিকে কমিয়ে দিতে সক্ষম পেয়ারা। তাই সদাইপাতির সঙ্গে পেয়ারাও কিনুন।

রক্তে সুগারের মাত্রাকে নিয়ন্ত্রণে চলে আসে

পেয়ারায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার, যা রক্তে শর্করার মাত্রাকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। আর এই ফলটি যেহেতু গ্লাইকেমিক ইনডেক্সে একেবারে নিচের দিকে আসে, তাই পেয়েরা খেলে ব্লাড সুগার বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কাও থাকে না। তাই ডায়াবেটিক রোগীরা নিশ্চিন্তে এই ফলটি খেতে পারেন।

কোষ্ঠকাঠিন্য

কাঁচা হোক কিংবা পাকা—সব পেয়ারাই কিন্তু গুণে অনন্য। অনেকে পাকা পেয়ারা হেলায় ফেলে দেন। পাকা পেয়ারায় কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়। তাই পাকা পেয়ারাও যত্ন করে খান।

দৃষ্টিশক্তির উন্নতি ঘটে

প্রচুর মাত্রায় ভিটামিন এ থাকার কারণে নিয়মিত পেয়ারা খেলে দৃষ্টিশক্তির মারাত্মক উন্নতি ঘটে। সেই সঙ্গে ছানি, ম্যাকুলার ডিজেনারেশন এবং গ্লকোমার মতো রোগও দূরে থাকে।

স্ট্রেসের প্রকোপ কমে

গত কয়েক দশকে আমাদের দেশের পাশাপাশি সমগ্র বিশ্বে যে রোগগুলির প্রকোপ চোখে পরার মতো বৃদ্ধি পেয়েছে, সেগুলির প্রায় সবকটির সঙ্গেই মানসিক চাপ বা স্ট্রেসের সরাসরি যোগ রয়েছে। তাই সময় থাকতে থাকতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়াটা জরুরি। এক্ষেত্রে পেয়ারা আপনাকে দারুনভাবে সাহায্য করতে পারে। আসলে এতে উপস্থিত ম্যাগনেসিয়াম নার্ভের চাপ কমানোর মধ্যে দিয়ে স্ট্রেস কমাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

স্কিন টোনার হিসেবে দারুন কাজে আসে

প্রচুর মাত্রায় ভিটামিন, মিনারেল এবং নানাবিধ উপকারি উপাদান থাকার কারণে শুধু পেয়ারা নয়, পেয়ারা পাতাকেও স্কিন টোনার হিসেবে কাজে লাগানো যেতে পারে। এক্ষেত্রে এক বাটি জলে পেয়ারা অথবা পেয়ারা পাতা সেদ্ধ করে সেই জল দিয়ে মুখ ধুতে হবে। এমনটা করলে ত্বকের অন্দরে পুষ্টির ঘাটতি দূর হয়। ফলে ত্বকের সৌন্দর্য বাড়তে সময় লাগবে না। প্রসঙ্গত, এই ঘরোয়া টোটকাটিকে কাজে লাগালে ত্বক বেজায় টানটান হয়ে ওঠে। যে কারণে বলিরেখার হাত থেকেও নিস্তার মেলে। প্রসঙ্গত, ব্রণর প্রকোপ কমাতেও একইভাবে যদি পেয়ারাকে কাজে লাগাতে পারেন, তাহলে কিন্তু দারুন উপকার পাওয়া যায়।

ঠান্ডা কাশিতে
পেয়ারা ঠান্ডা কাশিরও পথ্য। এ ছাড়া শ্বাসতন্ত্র, গলা ও ফুসফুসকে ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ থেকে সুরক্ষা দেয়। পেয়ারায় আছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি ও খনিজ। তাই নিয়মিত পেয়ারা খেলে যখন-তখন ঠান্ডা লাগার শঙ্কা কমে যাবে।

হেয়ার ফলের মাত্রা কমে

অতিরিক্তি চুল পড়ে যাওয়ার কারণে যদি চিন্তায় থাকেন, তাহলে পেয়ারাকে কাজে লাগাতে ভুলবেন না যেন! আসলে ভিটামিন সি-তে পরিপূর্ণ থাকার কারণে এই ফলটি নিয়মিত খেলে স্কাল্পের অন্দরে পুষ্টির ঘাটতি দূর হয়। সেই সঙ্গে চুলের গোড়া শক্তপোক্ত হয়ে ওঠে। ফলে মাত্রাতিরিক্তি চুল পড়ে যাওয়ার সমস্যা কমতে সময় লাগে না।

ত্বকের জন্য পেয়ারা
ত্বক ভালো রাখতে পেয়ারার জুড়ি নেই। পেয়ারায় আছে অ্যাসট্রিনজেন্টসহ আরও কিছু ত্বকবান্ধব উপাদান। তাই পেয়ারা ত্বক যেমন ভালো রাখে, অন্যদিকে ত্বককে টানটান করতে সাহায্য করে। এক গবেষণায় দেখা গেছে, বাজারে যেসব সৌন্দর্যবর্ধক ক্রিম বা স্কিন টোনার পাওয়া যায়, তার চেয়ে পেয়ারার কার্যক্ষমতা অনেক বেশি।

সংক্রমণের আশঙ্কা কমে

একেবারেই ঠিক শুনেছেন বন্ধু! আসলে এই ফলটিতে উপস্থিত অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল এজেন্ট, শরীরে প্রবেশ করা মাত্র ক্ষতিকর জীবাণুদের মারতে শুরু করে। ফলে কোনও ধরনের সংক্রমণের আশঙ্কা কমে যায়। সেই সঙ্গে শরীরে উপস্থিত সমস্ত ধরনের বিষাক্ত উপাদানও বেরিয়ে যায়। ফলে নিমেষে শরীর চাঙ্গা হয়ে ওঠে। সেই সঙ্গে আয়ুও বাড়ে চোখে পরার মতো।

স্কার্ভিতে পেয়ারা
স্কার্ভি রোগেরও ভালো দাওয়াই কিন্তু পেয়ারা। স্কার্ভিতে মাড়ি ফুলে যায়, রক্ত ঝরে মাড়ি থেকে। পেয়ারায় প্রচুর ভিটামিন সি থাকায় স্কার্ভির বিরুদ্ধে তার লড়ার ক্ষমতাও বেশি। হিসাব করে দেখা গেছে, একটি কমলায় থাকা ভিটামিন সি-র তুলনায় পেয়ারায় ভিটামিন সি থাকে চার গুণ বেশি।

ব্ল্যাকহেডস দূর হয়

এক্ষেত্রে পরিমাণ মতো পেয়ারা পাতা নিয়ে সেগুলিকে ছোট ছোট টুকরো করে নিতে হবে। তারপর তাতে জল মিশিয়ে বানিয়ে ফেলতে হবে একটি পেস্ট। এবার সেই পেস্টটি মুখে লাগিয়ে ভাল করে মাসাজ করলেই দেখবেন ব্ল্যাকহেডসের প্রকোপ কমবে চোখে পরার মতো। সেই সঙ্গে ত্বকের উপরিংশে জমতে থাকা মৃত কোষের স্তর সরে যাওয়ার কারণে ত্বকের উজ্জ্বলতাও বাড়বে চোখে পরার মতো।

ক্যানসারেও পেয়ারা
ক্যানসার প্রতিরোধেও পেয়ারা কাজ করে। এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, লাইকোপেন, ক্যানসার কোষের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়তে পারে। নির্দিষ্ট করে বললে, প্রস্টেট ক্যানসার আর স্তন ক্যানসারের জন্য পেয়ারা উপকারী। পুষ্টি পূরণে আর রোগ প্রতিরোধে পেয়ারার জুড়ি নেই।

মায়েদের জন্য দারুন উপকারি

গর্ভাবস্থায় মা এবং বাচ্চাকে সুস্থ রাখতে ফলিক অ্যাসিডের ঘাটতি যাতে মায়ের শরীরে কখনও না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখটা একান্ত প্রয়োজন। আর এই কাজে পেয়ারার কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে! কারণ এই ফলটির অন্দরে রয়েছে প্রচুর মাত্রায় ফলিক অ্যাসিড। তাই তো নিয়মিত পেয়ারা খাওয়া শুরু করলে ভাবী মায়ের শরীরে এই বিশেষ উপাদানটির ঘাটতি দেখা দেওয়ার আশঙ্কা আর থাকে না বললেই চলে। ফলে প্রসবের সময় এবং তার আগে কোনও ধরনের জটিলতা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা যায় কমে।

কমিউনিটিনিউজ/ এমএএইচ 

আরও সংবাদ

সিদ্ধ ডিম রেখে কতক্ষণ পর খাওয়া নিরাপদ?

কমিউনিটি নিউজ

কোথায় কত ঘন্টা বাঁচতে পারে ওমিক্রন!

কমিউনিটি নিউজ

দেশে করোনায় মৃত্যু ও সংক্রমণ দুই বাড়ছে

কমিউনিটি নিউজ

ইউরোপে সাড়ে ৭ কোটি ছাড়িয়েছে আক্রান্ত

কমিউনিটি নিউজ

২৪ ঘণ্টায় ৫ জনের মৃত্যু

কমিউনিটি নিউজ

হঠাৎ সর্দিজ্বর হলে কী করবেন?

কমিউনিটি নিউজ