30 C
Dhaka
আগস্ট ১২, ২০২২

রমজানে ডায়বেটিস রোগীদের করণীয়

  • ডা. এফএমএ জাহিদ

রমজানেও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করা  অতীব জরুরি। যেহেতু এখন করোনা মহামারিকাল চলছে। তারা যেমন একটি সংক্রমণ ঝুকিতে থাকে। এবং যেকোনো  রোগ জীবাণু তার শরীরে প্রবেশ করলে সেটা আরো ঝুকিপূর্ণ হয়ে যায় । তাই রমজানেও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ রাখতে হবে।  সুন্দরভাবে নিয়ন্ত্রণ রাখার তিনটি পথ আছে নিম্নে তা আলোচনা করা হলো:-

১. খাদ্য নিয়ন্ত্র্রণ করতে হয়;

২. প্রতিদিন নিয়মিত হাটতে হয়;

৩. ঔষধ সেবন বা ইনসুলিন গ্রহন করতে হয়।

১. খাদ্য নিয়ন্ত্র্রণ

অন্যন্য দিনের তুলনায় রমজানে একটু ভিন্নতর হয়, যেমন রোজাতে সবাই এক গ্লাস সরবত খেতে চান, সেখানে চিনি বা গুড় দিয়ে তৈরি কোনো সরবত খাওয়া যাবেনা। জিরো ক্যালোরি দিয়ে অথবা লেবুর রস বা ভিটামিন সি ট্যাবলেট দিয়ে সরবত বানিয়ে খেতে হবে। তারপর বলা যায় একটা খেজুর খাওয়া সুন্নত।  একটা খেজুর, এক মুঠো মুড়ি, এক মুঠো ঘুগনি। এছড়াও গ্যাসের সমস্যা না থাকলে  একটা পিঁয়াজু বা ডাল বড়া এগুলো খাওয়া যেতে পারে। আবার কেউ যদি চায় এক মুঠো চিড়া, একটা কলা। এশার নামাজ পর সাধারণত এক প্লেট ভাত এবং তার সাথে শাক-সবজি, মাছ, মাংস খেতে পারে।

এরপর আবার সেহেরীতে দুই কাপ ভাত সাথে ডাল, শাক-সবজি, মাছ, মাংস খেতে পারে।অনেকে সেহেরীতে এক কাপ দুধ অথবা একটা কলা খেয়ে থাকে সেটাও করতে পারে তাতে সমস্যা নাই। এর মধ্যে যারা ঔষধ খেয়ে নিয়ন্ত্রণ করে থাকে তাদের জন্য, কেউ হয়তো একটি ঔষধ খায় যেমন: (এ্যামারিন বা  সেকরিন গ্লেমেরিন বা গ্লুকোরণ) এই ধরনের ঔষধ ইফতারিতে খেয়ে ফেলতে পারেন অথবা ইফতারির পরেও খেতে পারেন। যদি কেউ দুইটা ঔষধ খায় তাহলে তারাবির নামাজের পর আরেকটা ট্যাবলেট খেয়ে নিতে পারেন।  মোট কথা সেহেরীতে কোনো ঔষধ খেতে হবেনা ।

৩. ঔষধ সেবন বা ইনসুলিন গ্রহন

যারা ইনসুলিন ‍নিয়ে থাকেন, সকালে যারা ইনসুলিন নিয়ে থাকেন তারা ইফতারির পরপর নিয়ে নেবেন। তারপর বাকি ইফতারিগুলো করে নিবেন।  কিন্তু রাতে যেই ডোজটা থাকবে সেই ডোজটা বাদ দেয়ায় ভালো তবে অনেক সময় অনেকের প্রয়োজন হয় সেক্ষেত্রে সেহেরীতে নিবে হবে তবে অর্ধেক মাত্রায়। যার মানে হলো ২০ ইউনিট নিলে ১০ ইউনিট নিতে হবে। আর সকালের ডেটা সেটা ইফতারির সময় একই ইউনিট থাকবে। অনেকে আবার দুইটা  ইনসুলিন নিয়ে থাকেন একটা সকালে একটা দুপুরে। সেক্ষেত্রে যা করতে হবে  সকালেরটা ইফতারিতে আর দুপুরেরটা তারাবির পরপর।  এবং রাতের ডোজটা  বাদ দিয়ে থাকতে বলি।

. প্রতিদিন নিয়মিত হাটা বা ব্যায়াম করা

যারা ভাবেন ব্যায়াম করলে হয়তো সারা দিন রোজা রাখা কঠিন হয়ে যাবে। সেক্ষেত্রে বলে থাকি রোজার মাসে ব্যায়াম করার দরকার নাই। রোজার মাসে তারাবির নামাজে যতটুকু ব্যায়াম হয় তাতেই হয়ে যাবে ।  আর যারা সাহস  পান যে রোজার কোনো সমস্যা হবেনা তাহলে  করতে পারেন আরো ভালো হবে।

আবার এই লকডাউনেও যদি যাতায়াতের সমস্যা থাকে তাহলে  যদি কেউ ডাক্তারের পরামর্শ বা চিকিৎসা নেয়ার প্রয়োজন মনে করে তাহলে যেতে পারে।

  • ডা. এফএমএ জাহিদ
  • ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞ , রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারের উপ-প্রধান মেডিকেল অফিসার ও বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ, রাজশাহী মহানগরের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা সম্পাদক।

কমিউনিটিনিউজ/ এমএএইচ 

আরও সংবাদ

সিদ্ধ ডিম রেখে কতক্ষণ পর খাওয়া নিরাপদ?

কমিউনিটি নিউজ

কোথায় কত ঘন্টা বাঁচতে পারে ওমিক্রন!

কমিউনিটি নিউজ

দেশে করোনায় মৃত্যু ও সংক্রমণ দুই বাড়ছে

কমিউনিটি নিউজ

ইউরোপে সাড়ে ৭ কোটি ছাড়িয়েছে আক্রান্ত

কমিউনিটি নিউজ

২৪ ঘণ্টায় ৫ জনের মৃত্যু

কমিউনিটি নিউজ

হঠাৎ সর্দিজ্বর হলে কী করবেন?

কমিউনিটি নিউজ