31 C
Dhaka
আগস্ট ১৯, ২০২২

করোনা সংক্রমনে বেশি ঝুঁকি বাজার–গণপরিবহনে

কমিউনিটিনিউজ ডেস্ক: প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস প্রতিদিনই আক্রান্ত ও শনাক্তের নতুন নতুন রেকর্ড তৈরি হয়েছে। গত ৫ মার্চ থেকে ৫ এপ্রিল পর্যন্ত কারা বেশি আক্রান্ত হয়েছে এমন একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)।

আইইডিসিআর বলছে, করোনায় আক্রান্তদের বড় অংশই হয় বাজারে গেছেন, নয়তো গণপরিবহন ব্যবহার করেছেন।

প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, যেসব জায়গা থেকে মানুষ বেশি সংক্রমিত হচ্ছে, সেগুলোর মধ্যে আরও রয়েছে উপাসনালয়, সভা-সেমিনারের মতো জনসমাগমস্থল, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র, এক বিভাগ থেকে আরেক বিভাগে ভ্রমণ, সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া এবং পর্যটনকেন্দ্র। করোনায় আক্রান্ত রোগীদের হিস্ট্রি (ইতিহাস) পর্যালোচনা করে সংক্রমণ ছড়ানোর ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ এসব উৎসস্থল চিহ্নিত করা হয়েছে।

আইইডিসিআর বলছে,

১. আক্রান্ত রোগীদের ৬১ শতাংশের বাজারে যাওয়া এবং গণপরিবহন ব্যবহারের ইতিহাস রয়েছে।
২. সংক্রমিত হওয়া ৩০ শতাংশের বেশি মানুষ জনসমাগমস্থল এবং উপাসনালয়ে গিয়েছিলেন।
৩. ৫ মার্চ থেকে ৫ এপ্রিল পর্যন্ত প্রায় সাড়ে আট হাজার করোনা রোগীর তথ্য পর্যালোচনা করেছে আইইডিসিআর।

ওই সাড়ে আট হাজার রোগীর তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, তাদের মধ্যে স্বাস্থ্যসেবাকেন্দ্রে গিয়েছিলেন ২৬ শতাংশ, করোনায় আক্রান্ত রোগীর সংস্পর্শে এসেছিলেন ২২ শতাংশ। এ ছাড়া আন্তঃবিভাগ ভ্রমণ করেছিলেন ১৩ শতাংশ, সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন ১২ শতাংশ।

আরো পড়ুন:

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আইইডিসিআর আক্রান্ত রোগীদের ‘কন্ট্যাক্ট ট্রেসিং’ (রোগীর সংস্পর্শে আসা সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করা) এর কাজটি করে আসছে। এই সময় রোগীদের কাছ থেকে বেশ কিছু তথ্য সংগ্রহ করা হয়। সেগুলোর মধ্যে আছে শনাক্ত হওয়া ব্যক্তি সংক্রমিত হওয়ার আগে কোথায় কোথায় গিয়েছিলেন এবং কোথা থেকে সংক্রমিত হয়েছেন বলে ধারণা করেন। রোগীদের কাছ থেকে সংগৃহীত সব তথ্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকেও সরবরাহ করা হয়।

আইইডিসিআরের উপদেষ্টা ড. মোশতাক হোসেন বলেন, করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার লকডাউন ঘোষণা করেছে। তবে এর আদর্শ ব্যবস্থাটা হতো সবাইকে ঘরে রাখতে পারলেই। কিন্তু জীবন জীবিকার তাগিদে মানুষ বাইরে বের হচ্ছে। এ অবস্থায় সংক্রমণ কমাতে হলে তাদের সমস্যাগুলোও তো চিহ্নিত করে সমাধান করতে হবে। আমাদের উদ্দেশ্য হলো সংক্রমণ যেন না বাড়ে, সেটাকে নিয়ন্ত্রণ করা। কিন্তু সংক্রমণ যেভাবে দাবনলের মতো বাড়ছে, সেক্ষেত্রে আমাদের প্রতিটা পদক্ষেপই ঝুঁকি বিবেচনায় সুনির্দিষ্ট করে নিতে হবে।

মোশতাক হোসেন বলেন, অধিকাংশ মানুষ প্রয়োজনেই ঘর থেকে বের হচ্ছে, প্রয়োজন ছাড়া খুব মানুষই বের হচ্ছে। এখন যারা জীবিকার তাগিদে বের হতে বাধ্য হচ্ছে, তাদের তো জোর করে আবদ্ধ করে রাখা যাবে না। আর বের হওয়ার পর তাদের জন্য যদি গণপরিবহনের ব্যবস্থা না করা হয়, তাহলে তো তারা গাদাগাদি করেই যে যেভাবে পারে গন্তব্যে ছুটবে। এতে বরং তাদের মধ্যে সংক্রমণের ঝুঁকিটা বেড়ে যায়। তারচেয়ে সীমিত আকারে কিছু গণপরিবহন চালু করে দিয়ে স্বাস্থ্যবিধিটা যদি মানতে বাধ্য করা যায়, তাহলেই হয়তো ভালো হবে।

চার দিন ধরে দৈনিক মৃত্যু ৬০–এর বেশি

দেশে সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউয়ে নতুন রোগীর সঙ্গে মৃত্যুও খুব দ্রুত বাড়ছে। ১০ দিন ধরে প্রতিদিনই অর্ধশতাধিক মানুষের মৃত্যুর তথ্য দিচ্ছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এই ১০ দিনে ৫৯০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে চার দিন ধরে মৃত্যু ৬০–এর ওপরে। এই চার দিনে ২৬৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত ৬৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে দেশে মোট ৯ হাজার ৫৮৪ জনের মৃত্যু হলো করোনায়। গত ২৪ ঘণ্টায় ৩১ হাজার ৬৫৪ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। তাঁদের মধ্যে ৭ হাজার ৪৬২ জনের দেহে সংক্রমণ শনাক্ত হয়। পরীক্ষার বিপরীতে সংক্রমণ শনাক্তের হার ২৩ দশশিক ৫৭ শতাংশ। আর এখন পর্যন্ত দেশে মোট ৬ লাখ ৭৩ হাজার ৫৯৪ জনের দেহে সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে।

২০১৯ সালের শেষ দিকে চীনের উহানে প্রথম করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ে। ক্রমে তা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। বাংলাদেশে প্রথম সংক্রমণ শনাক্তের কথা জানানো হয় গত বছরের ৮ মার্চ। প্রথম মৃত্যুর খবর জানানো হয় ১৮ মার্চ। মে মাসের শেষ দিক থেকে সংক্রমণ দ্রুত ছড়াতে থাকে। জুন–জুলাই মাসে প্রথম দফায় সংক্রমণ চূড়ায় উঠেছিল। এরপর থেকে কমতে থাকে। মাঝে কিছুদিন ঊর্ধ্বমুখী হলেও গত ডিসেম্বরের মাঝামাঝি থেকে ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি পর্যন্ত পরিস্থিতি অনেকটা নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছিল। এরপর থেকে আবার ক্রমে বাড়তে শুরু করে।

গত মার্চ থেকে দ্বিতীয় ঢেউয়ের আলামত পাওয়া যাচ্ছিল। ওই মাসের মাঝামাঝি থেকে রোগী ও মৃত্যু বাড়ছিল। অন্তত দুই সপ্তাহ ‘পূর্ণ লকডাউন’ ছাড়া সংক্রমণের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না বলে মনে করছে কোভিড-১৯ জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি।

কমিউনিটিনিউজ/ এমএইচ

বিনা সুদে ঋণ পাচ্ছেন বইপ্রেমীরা

কমিউনিটিনিউজ ডেস্ক: বিনা সুদে বইপ্রেমীরা এই সুযোগ পাচ্ছেন। বই পড়ার অভ্যাসকে জনপ্রিয় করতে ২০২০ সালের একুশে বইমেলায় বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে নিজস্ব স্টলের মাধ্যমে প্রথম কার্যক্রম শুরু করে ব্যতিক্রমধর্মী লোন সেবা চালু করেছে আইপিডিসি ফাইন্যান্স লিমিটেড।। ‘আইপিডিসি সুবোধ’ বাংলাদেশের প্রথম ও একমাত্র বই কেনার লোন সেবা।

নতুন বইয়ের ঘ্রাণে, সুবোধ জানুক প্রাণে’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখেই  এই ঋণের সুবিধা দিচ্ছে আইপিডিসি।

করোনা পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে দেশের জনপ্রিয় ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম রকমারি ডটকমের সঙ্গে ‌‌‌‘সুবোধ’ উদ্যোগটি চালু করেছে আইপিডিসি ফাইন্যান্স। ফলে গ্রাহকেরা ঘরে বসেই বই কিনতে পারবেন। এজন্য রকমারির ওয়েবসাইটের হোমপেজে আইপিডিসি সুবোধ মেন্যু রয়েছে। এখানে প্রবেশের করে গ্রাহকরা বই কেনার জন্য লোনের আবেদন করতে পারবেন। আবেদন মঞ্জুর হলে গ্রাহক এসএমএস পাবেন।

আরো পড়ুন:

আইপিডিসি সুবোধ থেকে একজন গ্রাহক এক হাজার ৫০০ থেকে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত লোন নিতে পারবেন। লোন পেতে গ্রাহককে ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী বাংলাদেশী নাগরিক হতে হবে। লোনের জন্য আবেদনকারীর জাতীয় পরিচপত্রের ছবি, স্টুডেন্ট আইডি/পেশাগত পরিচয়পত্রের ছবি ও আবেদনকারীর ছবি জমা দিতে হবে। বিনা সুদে তিন কিস্তিতে এই লোন পরিশোধ করা যাবে। এ বছরের ১৪ এপ্রিল (বুধবার) পর্যন্ত এই সেবা পাওয়া যাবে।

আইপিডিসি ফাইন্যান্সেরর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মমিনুল ইসলাম বলেন, বইপ্রেমীদের বই পড়ার আনন্দকে আরও বাড়িয়ে দিতে আইপিডিসি সুবোধ উদ্যোগটি হাতে নিয়েছে। এর মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের মধ্যে বই পাড়ার আগ্রহ আরও বাড়বে। আগামী দিনের বাংলাদেশের জন্য বুদ্ধিদীপ্ত নেতৃত্ব নিশ্চিত করতে হলে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতেই হবে। আশা করি, আইপিডিসি সুবোধ যার যার আগ্রহের বিষয়ের বই পড়ার জন্য সব শ্রেণির পাঠককে সুযোগ করে দেবে।’

রকমারি ডটকমের স্বত্বাধিকারী প্রতিষ্ঠান অন্যরকম গ্রুপের চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান সোহাগ বলেন, মনকে আলোকিত করার সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যম হলো বই পড়া। এক আরও উৎসাহিত করতে আইপিডিসি সুবোধ কার্যকর ভূমিকা রাখবে। এভাবেই একদিন বইয়ে বইয়ে সয়লাব হবে ৫৬ হাজার বর্গমাইল।

কমিউনিটিনিউজ/ এমএএইচ

আরও সংবাদ

সিদ্ধ ডিম রেখে কতক্ষণ পর খাওয়া নিরাপদ?

কমিউনিটি নিউজ

কোথায় কত ঘন্টা বাঁচতে পারে ওমিক্রন!

কমিউনিটি নিউজ

দেশে করোনায় মৃত্যু ও সংক্রমণ দুই বাড়ছে

কমিউনিটি নিউজ

ইউরোপে সাড়ে ৭ কোটি ছাড়িয়েছে আক্রান্ত

কমিউনিটি নিউজ

২৪ ঘণ্টায় ৫ জনের মৃত্যু

কমিউনিটি নিউজ

হঠাৎ সর্দিজ্বর হলে কী করবেন?

কমিউনিটি নিউজ