33 C
Dhaka
মে ১৫, ২০২১

পরীক্ষার বদলে অ্যাসাইনমেন্ট!

কমিউনিটিনিউজ ডেস্ক: করোনাভাইরাস মহামারির কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ। স্থবির সার্বিক শিক্ষা কার্যক্রম। তাই পাবলিক পরীক্ষার বিকল্প হিসেবে অ্যাসাইনমেন্টকে স্থায়ী করার চিন্তা করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। গত বছরের পঞ্চম শ্রেণি সমাপনী, জেএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হয়নি। সব শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষা বাতিল করে অটো প্রমোশন দেওয়া হয়। এ বছর এসে আবারও সংক্রমণ বেড়েছে। এ অবস্থায় ২০২১ সালের পাবলিক ও স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হবে কিনা, তা অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে।

২০২০ সালের মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের সাপ্তাহিক অ্যাসাইনমেন্টের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা কতটুকু শিখছে, কোথায় কোথায় দুর্বলতা তা শনাক্ত করতে সমীক্ষা চালানো শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে অনলাইনে পরীক্ষা নেওয়া যায় কি না তারও সম্ভাব্যতা যাচাই করতে দুটি কমিটি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

  •  অ্যাসাইনমেন্টের কার্যকারিতা যাচাইয়ে ২ হাজার প্রতিষ্ঠানের স্যাম্পলিং
  •  করোনার পরও অ্যাসাইনমেন্ট বহাল রাখার চিন্তা
  • অনলাইনে পরীক্ষা নেওয়া যায় কি না তারও সম্ভাব্যতা যাচাই করতে দুটি কমিটি গঠন

জানা গেছে, করোনা সময় অ্যাসাইনমেন্ট কতটা কার্যকর তা যাচাই করতে সারাদেশে ২ হাজার স্কুলের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও মাঠ পর্যায়ের শিক্ষা কর্মকর্তাদের অনলাইন জরিপের মাধ্যমে সমীক্ষা করা হবে। কার্যক্রমটি পরিচালনা করবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ পরীক্ষা উন্নয়ন ইউনিট (বেডু)। সমীক্ষা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

  • শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের সাপ্তাহিক অ্যাসাইনমেন্টের (কাজ) মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা কতটুকু শিখছে, কোথায় কোথায় দুর্বলতা তা শনাক্ত করতে সমীক্ষা শুরু হচ্ছে।

কর্মকর্তারা বলছেন, শিক্ষাব্যবস্থায় অ্যাসাইনমেন্ট একটি মাইলফলক। করোনা পরবর্তিত পরিস্থিতিতে এটা আরও কার্যকর প্রক্রিয়া হিসেবে বিশ্বের শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাই ফিজিক্যাল ক্লাসের বাইরে তথা কথিত পরীক্ষা পদ্ধতির মূল্যায়ন বাদ দিয়ে অ্যাসাইনমেন্ট মূল্যায়ন পদ্ধতিতে যাওয়া যায় কি না তা এখন সময়ের দাবি। তাই কন্টিনিউ অ্যাসেসমেন্ট বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিতেই এ সমীক্ষা চালানো হচ্ছে।

জানতে চাইলে বেডুর পরিচালক প্রফেসর রবিউল কবীর চৌধুরী বলেন, ফেস টু ফেস সাক্ষাৎকার নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু করোনার কারণে আমরা সরাসরি সাক্ষাৎকার নিতে পারছি না। অনলাইনেও কোশ্চেনিয়ারের মাধ্যমে সমীক্ষা করা হবে। দুই হাজার স্কুলের যেসব শিক্ষক অ্যাসাইনমেন্ট কাজে জড়িত ছিলেন তাদের মতামত নেওয়া হবে। শিক্ষার্থী স্যাম্পলিং ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হবে। প্রতি শ্রেণির ১০ জন শিক্ষার্থীর মতামত নেব। আর প্রতি শ্রেণির পাঁচ জন শিক্ষার্থীর অভিভাবকের মতামত নেওয়া হবে। তারপরও অন্যরা মতামত দিতে চাইলে সুযোগ দেওয়া হবে।

বেডু সূত্র জানায়, ফোকাস গ্রুপ ডিসকাশনের (এফজিডি) মাধ্যমে সমীক্ষার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু হঠাৎ করে করোনা বেড়ে যাওয়ায় তা বাতিল করা হয়েছে। অ্যাসাইনমেন্ট স্টেকহোল্ডার (অংশীদার) যারা ছিল অর্থাৎ শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক, মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মূলত লক্ষ্য করেই সমীক্ষার প্রশ্ন তৈরি করা হয়েছে। এভাবে তথ্যগুলো তুলে আনা হবে। তথ্যের ভিত্তিতে রিপোর্ট মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হবে।

দেশে করোনা পরিস্থিতিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটির কারণে এর ক্ষতি পোষাতে ৩০ কার্যদিবসের জন্য তৈরি করা হয়েছিল সিলেবাস। সংক্ষিপ্ত সিলেবাসের আলোকে গত বছরের ১ নভেম্বর থেকে শুরু হয়েছে মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা। এই পাঠদান শুরুর পর সাপ্তাহিক অ্যাসাইনমেন্টের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের পরবর্তী শ্রেণিতে উত্তীর্ণ করার নির্দেশনা দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সংক্ষিপ্ত সিলেবাস অনুযায়ী প্রতি সপ্তাহে পাঠদান শেষে শিক্ষার্থীদের বাসায় বসে বিষয়ভিত্তিক অ্যাসাইনমেন্ট (কাজ) দেওয়া হয়। শিক্ষার্থী তা শেষ করে শিক্ষকের কাছে জমা দেয়। শিক্ষার্থীকে প্রতি সপ্তাহে তিনটি করে অ্যাসাইনমেন্ট দেওয়া হয়েছিল। অ্যাসাইনমেন্ট জমা নেওয়া, মূল্যায়ন, পরীক্ষকের মন্তব্যসহ শিক্ষার্থীকে দেখানো এবং পরে প্রতিষ্ঠানে সেটি সংরক্ষণ করার কাজ ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করতে নির্দেশ দিয়েছিল মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।

ওই সময়ে মাউশি এক নির্দেশনায় বলেছিল, করোনার কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় সংসদ টেলিভিশনে প্রচারিত ‘আমার ঘরে আমার স্কুল’ প্রোগ্রামের মাধ্যমে পাঠদান এবং স্কুল পর্যায়ে প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় অনলাইন শ্রেণি পাঠদান ও অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। আর মূল্যায়ন যেন তাদের ওপর কোনো মানসিক ও শারীরিক চাপ সৃষ্টি করতে না পারে, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা নিজেরাও যেন তাদের পাঠ অগ্রগতি ও দুর্বলতা সম্পর্কে ধারণা লাভ করতে পারে।

অ্যাসাইনমেন্ট মূল্যায়নের মাধ্যমে শিক্ষকেরা শিক্ষার্থীদের দুর্বল দিক ধরে পরবর্তী শিক্ষাবর্ষে সেগুলোর ওপর বিশেষ নজর দিয়ে কাঙ্ক্ষিত শিখন ফল অর্জনের যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।

সমীক্ষার বিষয়ে জানতে চাইলে মাধ্যমিকও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) পরিচালক (মাধ্যমিক) প্রফেসর মো. বেলাল হোসাইন বলেন, ‘অ্যাসাইনমেন্টগুলো কত শতাংশ কার্যকর হলো, কতভাগ শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছে, কী কী পরিবর্তন আনা দরকার তা জানতে বেডুকে সমীক্ষা করতে বলা হয়েছে। মাঠপর্যায় থেকে তথ্য আনা না হলে অ্যাসানইমেন্টের বাস্তবতা বোঝা যাবে না। তাদের প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে আমরা সামনের দিনগুলোতে সিদ্বান্ত নেব।’ তিনি আরও বলেন, ‘অ্যাসাইনমেন্টে কোনো পরিবর্তন আনতে হবে কিনা, অ্যাসাইনমেন্ট কার্যকর কিনা, পরীক্ষার বিকল্প হিসেবে নেওয়া যাবে কিনা- এ ধরনের অনেক সিদ্বান্ত নিতে সমীক্ষা প্রতিবেদন সহায়ক হবে।’

উল্লেখ্য, করোনায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটির কারণে ক্ষতি পোষাতে ৩০ কার্যদিবসের জন্য তৈরি হয়েছিল সংক্ষিপ্ত সিলেবাস। এর আলোকে গত বছরের ১ নভেম্বর থেকে শুরু হয় মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা। এই পাঠদান শুরুর পরই সাপ্তাহিক অ্যাসাইনমেন্টের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের পরবর্তী শ্রেণিতে উত্তীর্ণ করার নির্দেশনা দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সংক্ষিপ্ত সিলেবাস অনুযায়ী প্রতি সপ্তাহে পাঠদান শেষে শিক্ষার্থীদের বাসায় বসে বিষয়ভিত্তিক ‘অ্যাসাইনমেন্ট (কাজ) দেওয়া হয়। শিক্ষার্থী তা শেষ করে শিক্ষকের কাছে জমা দেয়।

কমিউনিটিনিউজ/ এমএএইচ

আরও সংবাদ

যবিপ্রবিতে পিএইচডি ডিগ্রি প্রদান চালু

কমিউনিটি

নিয়োগপ্রাপ্তদের যোগদান স্থগিত

কমিউনিটি

উপবৃত্তির সাথে দেয়া হবে পোশাক কেনার টাকা

কমিউনিটি

অনলাইনে মৌখিক পরীক্ষা নেবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়

কমিউনিটি

এইচএসসিতে বৃত্তি পাওয়া সাড়ে দশ হাজার শিক্ষার্থীর তালিকা প্রকাশ

কমিউনিটি

পেছাল ডেন্টাল ভর্তি পরীক্ষা

কমিউনিটি