28 C
Dhaka
ডিসেম্বর ২, ২০২২

করোনাকালে ব্যবসা বেড়েছে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোর

কমিউনিটিনিউজ ডেস্ক: করোনাকালে ব্যবসা বেড়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহকারী ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোর। সরকার ঘোষিত কঠোর বিধিনিষেধ চলাকালে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোর পণ্যভেদে সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি বেড়েছে ৩০০ শতাংশ।  ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ই-ক্যাব) একটি জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে।

  • ই-ক্যাব বলছে, করোনাকালীন সময়ে যেখানে অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে সেখানে ই-কমার্সের অনেক প্রতিষ্ঠান অতীতের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি ডেলিভারি দিয়েছে। নতুন কর্মসংস্থান হয়েছে ৫০ হাজার মানুষের।

সূত্র জানায়, করোনাকালীন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সবচেয়ে বেশি ভালো করেছে। নিত্যপণ্য ও খাদ্য ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষেত্রবিশেষ ৩০০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি করেছে। ২০১৯ সালেও দেশে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবসার প্রবৃদ্ধি ছিল ২৫ শতাংশ। ২০২০ সালে এসে সেই প্রবৃদ্ধি ৭০ থেকে ৮০ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। ২০২০ সালের শেষ ৮ মাসে ই-কমার্সে শুধুমাত্র নিত্যপণ্য লেনদেন হয়েছে ৩ হাজার কোটি টাকার। বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজারের বেশি ডেলিভারি হচ্ছে।

ই-ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওয়াহেদ তমাল বলেন, গতবারের চেয়ে এবার আরও ভালো সেবা দিতে পারবে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলো। আশা করছি, তাদের প্রবৃদ্ধিও বাড়বে। ই-কমার্স সব সময়ই সম্ভাবনাময়। করোনাকালীন সময়ে অনেকগুলো প্রতিষ্ঠান ভালো করছে। নিয়ম মেনে গ্রাহককে সর্বোচ্চ সেবা দেবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা। আর গ্রাহককেও সতর্ক ও সচেতন থাকতে হবে। অনেক ভুয়া প্রতিষ্ঠান ফেসবুক পেজ খুলে নিম্নমানের পণ্য সরবরাহ করে। যা গ্রাহকের বিশ্বাস নষ্ট করে দেয়।

করোনার সময় যে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান সবচেয়ে ভালো করছে তার মধ্যে অন্যতম চালডাল ডটকম। এ প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ইসরাত জাহান বলেন, গত বছর মার্চে ৩ হাজার ডেলিভারি হয়। দুই এক মাসের মধ্যে এই অর্ডার চলে যায় প্রায় ১৫ থেকে ১৬ হাজারের। আমরা সাধ্যমত চেষ্টা করি ডেলিভারি দেওয়ার। কঠোর বিধিনিষেধের কারণে কয়েকগুণ ডেলিভারি বেড়েছে। গত বছরের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে এবার গ্রাহকদের মানসম্মত সেবা দিয়ে যাচ্ছি আমরা।

ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ডাইরেক্ট ফ্রেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপক এসএম শাহনেওয়াজ বলেন, করোনাকালীন সময়ে আমাদের প্রবৃদ্ধি বেড়েছে ৩০ শতাংশের বেশি। কয়েক গুণ বেড়েছে ডেলিভারির সংখ্যা। অনলাইন কেনাকাটায় গ্রাহকরা এখন অভ্যস্ত হয়ে গেছেন। ফলে আমাদের ব্যবসাটাও ভালো যাচ্ছে। গত বছর করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার পর থেকে অনলাইন কেনাকাটা বেড়ে যায়। কিন্তু সেভাবে প্রস্তুতি না থাকায় গ্রাহকদের শতভাগ সেবা দিতে পারিনি আমরা। এবার আমাদের শুরু থেকেই প্রস্তুতি ছিল। শতভাগ মানসম্মত সেবা নিয়েই আমরা প্রস্তুত রয়েছি।

ই-ক্যাবের সভাপতি শমী কায়সার জানান, গত বছর করোনা সংক্রমণ রোধে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছিল সরকার। ওইসময় স্বাস্থ্যবিধি মেনে নিত্যপণ্য ই-কমার্সের মাধ্যমে বিক্রি সচল রাখার নির্দেশনা দিয়েছিল। এরই ধারাবাহিকতায় চলতি বছরও অনলাইনে নিরাপদে পণ্য ও সেবা সচল রাখার ব্যাপারে পরিপত্র জারি করা হয়েছে। মূলত এসব কারণে প্রতিষ্ঠানগুলো ভালোভাবে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারছে। ফলে প্রবৃদ্ধিও বাড়ছে।

কমিউনিটিনিউজ/ এমএএইচ 

আজও করোনায় ১০১ জনের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক: গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দেশে আরো ১০১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে দেশে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১০ হাজার ২৮৩ জনে। এ সময় নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন ৩ হাজার ৪৭৩ জন। এতে মোট শনাক্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৭ লাখ ১৫ হাজার ২৫২ জনে। শনিবার (১৭ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রীনা ফ্লোরা স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনামুক্ত হয়েছেন ৫ হাজার ৯০৭ জন। এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ৬ লাখ ৮ হাজার ৮১৫ জন।

২৪ ঘণ্টায় ১৫ হাজার ৪১৩ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। পরীক্ষা করা হয়েছে ১৬ হাজার ১৮৫টি। নমুনা পরীক্ষার তুলনায় শনাক্তের হার ২১ দশমিক ৪৬ শতাংশ। দেশে এ পর্যন্ত মোট নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৫১ লাখ ৫০ হাজার ৬৬৩টি। মোট পরীক্ষার তুলনায় শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ৮৯ শতাংশ।

আরো পড়ুন:

গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ১০১ জনের মধ্যে ঢাকা বিভাগের ৬৭ জন। চট্টগ্রামের ২৩, রাজশাহী ২, খুলনা ৩, বরিশাল ১, সিলেট ২ জন, রংপুর ০ ও ময়মনসিংহের ৩ জন মারা গেছেন ।

জেনে নেই কোন বিভাগে কতজনের মৃত্যু ও সুস্থ হয়েছে:

  • ঢাকা: সুস্থ ৪২০০ জন, মৃত্যু ৬৭ জন
  • চট্টগ্রাম: সুস্থ ১৪৬৮ জন, মৃত্যু ২৩ জন
  • বরিশাল: সুস্থ ৩১ জন, মৃত্যু ১ জন
  • খুলনা: সুস্থ ৪৬ জন, মৃত্যু ৩ জন
  • রাজশাহী: সুস্থ ৮১ জন, মৃত্যু ২ জন
  • সিলেট: সুস্থ ৪৪ জন, মৃত্যু ২ জন
  • রংপুর: সুস্থ ১১ জন, মৃত্যু ০
  • ময়মনসিংহ: সুস্থ ২৬ জন, মৃত্যু ৩ জন

২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ১০১ জনের মধ্যে ৬৯ জন পুরুষ, ৩২ জন নারী। এদের মধ্যে ৯৯ জন হাসপাতালে এবং ২ জন বাড়িতে মারা গেছেন। এ পর্যন্ত ভাইরাসটিতে মোট মারা যাওয়া ১০ হাজার ২৮৩ জনের মধ্যে পুরুষ ৭ হাজার ৬৩৫ জন এবং নারী ২ হাজার ৬৪৮ জন।

বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মারা যাওয়া ১০১ জনের মধ্যে ৫৮ জনেরই বয়স ৬০ বছরের বেশি। এছাড়া ৫১ থেকে ৬০ বছরের ২৯, ৪১ থেকে ৫০ বছরের ৮ জন এবং ৩১ থেকে ৪০ বছরের ৩ জন এবং ২১ থেকে ৩০ বছরের ৩ জন রয়েছেন।

এর আগে শুক্রবারও (১৬ এপ্রিল) করোনায় মারা যান রেকর্ড ১০১ জন। আগেরদিন বৃহস্পতিবার করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ৯৪ জনের মৃত্যু হয়। এটি দেশে একদিনে করোনায় তৃতীয় সর্বোচ্চ মৃত্যু। তার আগে বুধবার মারা যান ৯৬ জন, যা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।

বিশ্বের অবস্থান

করোনা মহামারির থাবায় বিশ্বজুড়ে সংক্রমণ ও প্রাণহানি অব্যাহত রয়েছে। ভয়াবহভাবে বেড়েই চলেছে ভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। গত ২৪ ঘণ্টায় সারা বিশ্বে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন সাড়ে ১২ হাজারের বেশি মানুষ। একই সময়ে ভাইরাসটিতে নতুন করে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ছাড়িয়েছে আট লাখ ৩০ হাজার।

এতে বিশ্বব্যাপী করোনায় আক্রান্তের সংখ্যাও ছাড়িয়েছে ১৪ কোটি ৫ লাখের ১১ হাজারের ঘর। অন্যদিকে মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৩০ লাখ ১২ হাজার। ভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ের ধাক্কায় বিশ্বের প্রায় সব দেশেই বেড়েছে সংক্রমণ ও প্রাণহানির সংখ্যা।

শনিবার (১৭ এপ্রিল) সকালে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত, মৃত্যু ও সুস্থতার হিসাব রাখা ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটারস থেকে পাওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা বিশ্বে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১২ হাজার ৫১৪ জন। এতে বিশ্বজুড়ে মৃতের সংখ্যা পৌঁছেছে ৩০ লাখ ১২ হাজার ৭ জনে।

এছাড়া, একই সময়ের মধ্যে ভাইরাসটিতে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৮ লাখ ৩০ হাজার ৫২ জন। এতে ভাইরাসে আক্রান্ত মোট রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪ কোটি ৫ লাখ ১১ হাজার ৪২৫ জনে।

করোনাভাইরাসে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে এখন পর্যন্ত ৩ কোটি ২৩ লাখ ৫ হাজার ৯১২ জন করোনায় আক্রান্ত এবং ৫ লাখ ৭৯ হাজার ৯৪২ জন মারা গেছেন। লাতিন আমেরিকার দেশ ব্রাজিল করোনায় আক্রান্তের দিক থেকে তৃতীয় ও মৃত্যুর সংখ্যায় তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। দেশটিতে মোট শনাক্ত রোগী এক কোটি ৩৮ লাখ ৩৪ হাজার ৩৪২ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ৩ লাখ ৬৯ হাজার ২৪ জনের।

অন্যদিকে করোনায় আক্রান্তের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে প্রতিবেশি দেশ ভারত। তবে ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃতের তালিকায় দেশটির অবস্থান চতুর্থ। দেশটিতে মোট আক্রান্ত এক কোটি ৪৫ লাখ ২১ হাজার ৬৮৩ জন এবং মারা গেছেন ১ লাখ ৭৫ হাজার ৬৭৩ জন।

এছাড়া এখন পর্যন্ত ফ্রান্সে ৫২ লাখ ২৪ হাজার ৩২১ জন, রাশিয়ায় ৪৬ লাখ ৮৪ হাজার ১৪৮ জন, যুক্তরাজ্যে ৪৩ লাখ ৮৩ হাজার ৫৭২ জন, ইতালি ৩৮ লাখ ৪২ হাজার ৭৯ জন, তুরস্কে ৪১ লাখ ৫০ হাজার ৩৯ জন, স্পেন ৩৪ লাখ ৭ হাজার ২৮৩ জন, জার্মানি ৩১ লাখ ১৬ হাজার ৯৫০ জন এবং মেক্সিকোতে ২২ লাখ ৯৯ হাজার ৯৩৯ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।

অন্যদিকে করোনায় আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত ফ্রান্সে এক লাখ ৪০৪ জন, রাশিয়ায় এক লাখ ৪ হাজার ৭৯৫ জন, যুক্তরাজ্যে এক লাখ ২৭ হাজার ২২৫ জন, ইতালিতে এক লাখ ১৬ হাজার ৩৬৬ জন, তুরস্কে ৩৫ হাজার ৩২০ জন, স্পেনে ৭৬ হাজার ৯৮১ জন, জার্মানিতে ৮০ হাজার ৩৮৭ জন এবং মেক্সিকোতে ২ লাখ ১১ হাজার ৬৯৩ জন মারা গেছেন।

কমিউনিটিনিউজ/ এমএএইচ 

আরও সংবাদ

বিশ্ববাজারে ফের কমলো গমের দাম

কমিউনিটি নিউজ

ঢাকায় ৩০ হাজার লিটার পাম ও সয়াবিন তেল উদ্ধার

কমিউনিটি নিউজ

এখানে কোনও সিন্ডিকেট নেই, দাবি মিলারদের

কমিউনিটি নিউজ

করোনার প্রণোদনার টাকা কোথায় গেল!

কমিউনিটি নিউজ

প্রবাসী ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগের আহ্বান কৃষিমন্ত্রীর

কমিউনিটি নিউজ

পেঁয়াজের ঘাটতি দেখা দিলে নেদারল্যান্ডস থেকে আমদানি : কৃষিমন্ত্রী

কমিউনিটি নিউজ