25 C
Dhaka
ডিসেম্বর ২, ২০২২

চালের কেজিতে বাড়লো ৪ টাকা

কমিউনিটিনিউজ ডেস্ক:  সরকার ঘোষিত ১৮ দফা বিধিনিষেধকে পুজি করে চালের দাম বাড়াচ্ছে সিন্ডিকেট ব্যবসীয়ারা। এই সময়ের মধ্যে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন বাজারগুলোতে কেজিতে চালের দাম বেড়েছে ২ থেকে ৪ টাকা করে। বাজারে চালের সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বেড়েছে বলে জানিয়েছেন খুচরা ব্যবসায়ীরা। তবে পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন ১০ থেকে ১৫ দিন পর চালের দাম কিছুটা কমতে পারে।

খুচরা ব্যবসায়ীদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ৫ এপ্রিল সরকার এক সপ্তাহের বিধিনিষেধ ঘোষণা করলে দু’দিন চালের বিক্রি বেড়ে যায়। অনেক ক্রেতা বাড়তি চাল কিনে রাখেন। এর সঙ্গে লকডাউনের মধ্যে বাজারে চালের সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছেন মিলমালিকরা। সবকিছু মিলে চালের দাম বেড়ে গেছে।

সোমবার (১২ এপ্রিল) রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা ব্যবসায়ীদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে মিনিকেট ও নাজিরশাইল চাল  রকমভেদে বিক্রি হচ্ছে ৬৬ থেকে ৭০ টাকা কেজি, যা বিধিনিষেধ ঘোষণার আগে ছিল ৬৪ থেকে ৬৬ টাকা কেজি। অর্থাৎ চিকন চালের দাম কেজিতে বেড়েছে ৪ টাকা পর্যন্ত।

দাম বাড়ার এই তালিকায় রয়েছে মাঝারি মানের পইজাম ও লতা চালের পাশাপাশি গরিবের মোটা চালও। বর্তমানে মাঝারি মানের চালের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫৬ থেকে ৬০ টাকা, যা আগে ছিল ৫৪ থেকে ৫৬ টাকার মধ্যে। অপরদিকে মোটা চালের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৫২ টাকা, যা আগে ছিল ৪৬ থেকে ৫০ টাকা।

চাল ব্যবসায়ী লুৎফর রহমান  বলেন, ‘এক সপ্তাহ আগেও আমরা রশিদের ২৫ কেজির এক বস্তা চাল ১৬০০ টাকা বিক্রি করেছি। কিন্তু গত তিনদিনে যে হারে দাম বেড়েছে তাতে এখন ১৬৮০ টাকা বস্তা বিক্রি করতে হচ্ছে। রশিদের মতো অন্যান্য কোম্পানির চালের দামও বেড়েছে।হুট করে রাজধানীর বাজারে চালের দাম বাড়লেও ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে চালের দাম কমে যেতে পারে বলে জানিয়েছেন পাইকারি ব্যবসায়ীরা। এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের ন্যাশনাল রাইস মিলের কর্ণধার মোহাম্মদ হাসান রাজু বলেন, ‘সাধারণত এই সময়ে বাজারে চালের সরবরাহ কম থাকে। এবারও সেটাই দেখা যাচ্ছে। এ কারণে চালের একটু দাম বেড়েছে। তবে ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে চালের দাম কমে যাবে।’

আরো পড়ুন:

আরেক দফা বাড়লো চালের দাম, স্থিতিশীল সবজি

উৎপাদন বাড়লেও চালের বাজারে নেই স্বস্তি

করোনাকালে দেশে খাদ্য ঝুঁকি থাকবে না : কৃষিমন্ত্রী

ব্যবসায়ীরা বলছেন, ‘বাজারে চালের সরবরাহ কমে গেছে। রশিদের মিনিকেট চাল কয়েকদিন ধরে আসছে না। অল্পকিছু যে চাল আসছে তার সবগুলোর দাম কেজিতে ২ থেকে ৪ টাকা বেড়ে গেছে।’ ‘মার্চ মাসে রশিদের ২৫ কেজির এক বস্তা চাল কিনেছিলাম ১৬০০ টাকা দিয়ে। এখন সেই চালের বস্তা বিক্রি হচ্ছে ১৬৮০ টাকা। ব্যবসায়ী পরিচিত হওয়ায় আমার কাছ থেকে ১৬৫০ টাকা নিয়েছে।’

তারা বলেন, ‘মহামারিতে একদিকে মানুষ মরছে। অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা সবকিছুর দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন। কিন্তু দাম নিয়ন্ত্রণে কেউ কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। সব চাপ গিয়ে পড়ছে আমাদের মতো নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর। আমাদের কষ্ট দেখার কেউ নেই।ইতোমধ্যে হাওরের ধান ওঠা শুরু হয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যে বগুড়া, নওগাঁর ধান ওঠা শুরু হবে। এসব ধানের চাল বাজারে আসলে দাম কমে যাবে।

চালের দাম বাড়ার তথ্য উঠে এসেছে সরকারি প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ-টিসিবির তথ্যেও। তবে দামের বিষয়ে খুচরা ব্যবসায়ীদের দেয়া তথ্যের সঙ্গে টিসিবির দামের মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে।

সরকারি প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, মিনিকেট ও নাজির চালের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৬৫ টাকা। মাসের ব্যবধানে এই চালের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। তবে মাসের ব্যবধানে মোটা চালের দাম ২ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ বেড়ে এখন কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪৬ থেকে ৫২ টাকা। আর মাঝারি মানের চালের দাম মাসের ব্যবধানে ১ দশমিক ৮২ শতাংশ বেড়ে কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫২ থেকে ৬০ টাকা।

চালের এমন দাম বাড়লেও গত জানুয়ারিতে চাল আমদানির শুল্ক ৬২ দশমিক ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশে নামিয়ে আনে সরকার। সরকার এমন ছাড় দিলেও তার সুফল মেলেনি। সরকার যখন চাল আমদানির শুল্ক কমানোর ঘোষণা দেয়, সেসময় রাজধানীর বাজারগুলোতে খুচরা পর্যায়ে নাজিরশাইল ও মিনিকেট চালের কেজি বিক্রি হচ্ছিল ৬০ থেকে ৬৪ টাকা। মাঝারি মানের পাইজাম ও লতা চালের কেজি ছিল ৫২ থেকে ৫৪ টাকা। আর মোটা চাল ছিল ৫০ টাকার নিচে।

এদিকে চালের অস্বাভাবিক দাম বাড়ায় প্রতিদিনই টিসিবির ট্রাকে ভিড় করছেন নিম্ন আয়ের মানুষেরা। এমন টিসিবির ট্রাক আসার আগেই অনেক স্থানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন এসব নিম্ন আয়ের মানুষ।

কমিউনিটিনিউজ/ এমএএইচ

খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল

কমিউনিটিনিউজ ডেস্ক: করোনাভাইরাসে আক্রান্ত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল আছে। এখন পর্যন্ত তার (খালেদার) শরীরে করোনার কোনো উপসর্গ নেই। স্বাভাবিকভাবেই তিনি শ্বাস-প্রশ্বাস নিচ্ছেন। এছাড়া করোনা আক্রান্ত তার অন্য স্টাফদের অবস্থাও ভালো বলে জানিয়েছেন,  বিএনপি চেয়ারপারসনের ব্যক্তিগত চিকিৎসক বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ডা. জাহিদ হোসেন।

সোমবার (১২ এপ্রিল) সকালে গণমাধ্যমকে ডা. জাহিদ জানান, ২৪ ঘণ্টাই বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার খোঁজ রাখা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত তিনি সুস্থ আছেন। আপনারা তার জন্য দোয়া করবেন। তিনি দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।

জানা গেছে, খালেদা জিয়া  গুলশানে তার নিজ বাসভবন ফিরোজার দ্বিতীয় তলার একটি রুমে আছেন। রাতে লন্ডনে অবস্থানরত ছেলে তারেক রহমান ও প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর পরিবারের সদস্যরা অনলাইনে ভিডিওকলের মাধ্যমে তার সার্বিক শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিয়েছেন। এছাড়া খালেদার ব্যক্তিগত স্টাফদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন তার ভাই শামীম ইস্কান্দর ও ছোট ভাইয়ের স্ত্রী।

আরো পড়ুন:

করোনা আক্রান্ত খালেদা জিয়া

চেয়ারম্যানের মদপানের ছবি ফেসবুকে ভাইরাল

করোনা সংক্রমনে বেশি ঝুঁকি বাজার–গণপরিবহনে

বিধি ভঙ্গ করায় নরওয়ের প্রধানমন্ত্রীকে জরিমানা

চিকিৎসক সূত্রে জানা যায়, এখন প্রতিদিনই খালেদা জিয়াকে দেখতে যাবেন তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. এফ এম সিদ্দিকী ও ড. মামুন। আর লন্ডন থেকে তাদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন বড় ছেলের স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান। এছাড়া খালেদা জিয়ার অন্যান্য ডাক্তার এবং ড্যাবের চিকিৎসকরাও তার খোঁজ রাখছেন।

রোববার (১১ এপ্রিল) রাতে খালেদা জিয়াকে দেখে এসে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ড. মামুন জানান, খালেদা জিয়ার শরীরে এখন করোনার কোনো উপসর্গ নেই। তার বাসার অন্য স্টাফরা করোনা আক্রান্ত হওয়ার কারণে বাড়তি সর্তকতার জন্য তার করোনা টেস্ট করা হয়। রিপোর্ট পজিটিভ আসে।

তিনি আরও জানিয়েছিলেন, খালেদা জিয়ার বাসা ফিরোজায় অক্সিজেন সিলিন্ডার থেকে শুরু করে দরকারি সব চিকিৎসা-সরঞ্জাম আছে। তারপরও বাড়তি সর্তকতা হিসেবে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে তার জন্য আইসিইউসহ কেবিন বুকিং দেওয়া আছে।

রোববার (১১ এপ্রিল) খালেদা জিয়া করোনায় আক্রান্তের খবর ছড়িয়ে পড়ে।  প্রথমে দলের পক্ষ থেকে এই খবরের সত্যতা স্বীকার না করলেও পরবর্তীতে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংবাদ সম্মেলনে খালেদা জিয়া করোনা আক্রান্ত বলে জানান। একইসঙ্গে  খালেদা জিয়ার অবস্থা স্থিতিশীল আছে বলেও জানিয়েছিলেন তিনি।

কমিউনিটিনিউজ/ এমএএইচ

আরও সংবাদ

বিশ্ববাজারে ফের কমলো গমের দাম

কমিউনিটি নিউজ

ঢাকায় ৩০ হাজার লিটার পাম ও সয়াবিন তেল উদ্ধার

কমিউনিটি নিউজ

এখানে কোনও সিন্ডিকেট নেই, দাবি মিলারদের

কমিউনিটি নিউজ

করোনার প্রণোদনার টাকা কোথায় গেল!

কমিউনিটি নিউজ

প্রবাসী ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগের আহ্বান কৃষিমন্ত্রীর

কমিউনিটি নিউজ

পেঁয়াজের ঘাটতি দেখা দিলে নেদারল্যান্ডস থেকে আমদানি : কৃষিমন্ত্রী

কমিউনিটি নিউজ