25 C
Dhaka
ডিসেম্বর ২, ২০২২

জেনে নিন ট্রেডমার্ক রেজিস্ট্রেশনের পদ্ধতি

অর্থনীতি ডেস্ক, কমিউনিটি নিউজ: উদ্যোক্তাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে একটা হল মেধাস্বত্ব সংরক্ষণ করা। আপনি যদি সঠিকভাবে আপনার প্রতিষ্ঠানের ট্রেডমার্ক রেজিস্ট্রেশন না করান, তাহলে এর মেধাস্বত্ব যে কেউ ব্যবহার করতে পারবেন।

আমাদের দেশে তথ্যের অভাব, উটকো ও জটিল প্রক্রিয়া, দুর্নীতি এবং প্রকৃত সাহায্যকারীর অভাবে ট্রেডমার্ক রেজিস্ট্রেশন পাওয়া আমাদের অনেকের জন্যই খারাপ অভিজ্ঞতা।

ট্রেডমার্ক রেজিস্ট্রেশনের বিষয়ে বেশ গবেষণার পর সমস্যার সমাধানে আমাদের একটি বিনীত প্রচেষ্টা নিচে তুলে ধরছি। দেখে নিন বাংলাদেশে ট্রেডমার্ক রেজিস্ট্রেশনের পদ্ধতি এবং খরচ কেমন:

আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র:

মার্ক/লোগো/ডিভাইসের নাম, প্রতিরূপ অথবা বিবরণ

আবেদনকারীর নাম

আবেদনকারীর ঠিকানা ও জাতীয়তা

আবেদনকারীর পদমর্যাদা (যেমন: মার্চেন্ডাইজার/কারখানার মালিক/সেবা প্রদানকারী/অন্যান্য)

মালামাল/সেবার সবিস্তার বিবরণী ও ধরণ

মার্ক ব্যবহারের তারিখ (তা বাংলাদেশে ব্যবহৃত হোক কিংবা ব্যবহারের জন্য প্রস্তাবিত হোক)

সাধারণ/নির্দিষ্ট মোক্তারনামা (পাওয়ার অব অ্যাটর্নি), যা পরবর্তীতেও নথিভুক্ত করা যায়।

এটি কারা দেয়: ট্রেডমার্ক আইন, ২০০৯ এবং ১৯৬৩ বিধি অনুসারে, পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর ট্রেডমার্ক রেজিস্ট্রেশন দিয়ে থাকে।

একনজরে ট্রেডমার্ক রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া:

১. প্রাপ্যতা খোঁজ করা: রেজিস্ট্রেশনের জন্য আবেদনের আগে খুঁজে নিন যে ট্রেডমার্কটি ইতোমধ্যেই ব্যবহৃত কিংবা অন্য কারো দ্বারা রেজিস্টার্ড হয়ে গিয়েছে কি না।

২. আবেদন: DPDT থেকে আপনার রেজিস্ট্রেশন ফরম সংগ্রহ করুন এবং ঠিকভাবে পূরণ করে জমা দিন।

৩. আবেদনের স্বীকারোক্তি: আবেদনের রসিদের উপর রেজিস্ট্রার সরকারি নথিভুক্তকরণ রসিদ ইস্যু করেন। ঐ ডকুমেন্টে ট্রেডমার্ক সম্পর্কিত যাবতীয় নথিভুক্ত বিবরণ থাকে, যেমন: আবেদন নম্বর, আবেদনের তারিখ, ট্রেডমার্ক ইত্যাদি।

৪. আবেদনপত্র যাচাই: আবেদনপত্র গ্রহণের পর রেজিস্ট্রার ২টি বিষয় যাচাই করে দেখবেন: (ক) স্বাতন্ত্র্যসূচক বৈশিষ্ট্য এবং (খ) আইনের দাবীর সাথে সাধারণ সম্মতি।

৫. স্বীকৃতির চিঠি: যদি আবেদনপত্রটি সব দাবীর সাথে সঙ্গতিপূর্ণ হয়, তখন রেজিস্ট্রার ঐ মার্কটির বিরোধিতা প্রাপ্তির জন্য ট্রেডমার্কস জার্নালে বিজ্ঞাপন দেয়ার জন্য একটি স্বীকৃতির চিঠি ইস্যু করেন। অথবা, রেজিস্ট্রি আপত্তি সংক্রান্ত লিখিত জবাব চেয়ে আপত্তি উত্থাপন করেন।

৬. আবেদনপত্র প্রত্যাখ্যান: বিভিন্ন কারণে আপনার আবেদনপত্র প্রত্যাখ্যান করা হতে পারে। তবে যাই হোক, যখন এটা ঘটবে আপনি অবশ্যই তিন মাসের মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিসের জবাব দিবেন এবং এই বিষয়ে শুনানির আবেদন করবেন, এটা না করলে আপনার আবেদনপত্র পরিত্যক্ত হয়ে যাবে।

৭. আবেদনপত্র গ্রহণ: যদি পরীক্ষক আবেদনপত্র এবং দাবীর প্রতি সন্তুষ্ট হন, রেজিস্ট্রার সেই মার্কটিকে ট্রেড মার্কস জার্নালে বিজ্ঞাপন দেয়ার জন্য গ্রহণ করেন।

৮. বিরোধিতা: যখন ট্রেডমার্কটি বিরোধিতার জন্য ট্রেডমার্কস জার্নালে বিজ্ঞাপন দিবে, প্রকাশের তারিখ থেকে দুই মাসের মধ্যে যেকোনো ব্যক্তি রেজিস্ট্রারের কাছে ফরম TM-5-এ বিরোধিতার নোটিস করতে পারবে।

৯. রেজিস্ট্রেশন: যদি বিরোধিতার মেয়াদের মধ্যে কোন বিরোধিতা না আসে বা প্রতিপক্ষ যদি আবেদনকারীর পক্ষে স্থির অবস্থান নেয়, রেজিস্ট্রার তখন নির্ধারিত ফী গ্রহণ করে ঐ ট্রেডমার্কের জন্য রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট ইস্যু করতে বাধ্য হবে।

১০. রেজিস্ট্রেশনের তারিখ: ট্রেডমার্কের রেজিস্ট্রেশনের তারিখ হবে নথিভুক্ত করার তারিখে।

১১. রেজিস্ট্রেশনের মেয়াদের সময়কাল: একটি রেজিস্টার্ড ট্রেডমার্ক প্রাথমিকভাবে নথিভুক্ত হওয়ার তারিখ থেকে সাত (৭) বছরের জন্য বৈধ হয় এবং এরপর প্রতি দশ বছর পর পর রেজিস্ট্রেশন পুনরাবৃত্তি করা যায়।

১২. প্রয়োজনীয় সময়: সবকিছু ঠিকঠাক চললে এই পুরো প্রক্রিয়ার জন্য এক থেকে দুই সপ্তাহের বেশি লাগা উচিৎ নয়। কিন্তু প্রায়শই এটা দীর্ঘায়িত হয়ে থাকে। DPDT-তে আপনাকে সবকিছুই ম্যানুয়ালি পূরণ করতে হবে। সুতরাং সময় বেশি লাগলে অপেক্ষা করুন এবং যদি আপনার কোন জরুরি অবস্থা থাকে তাহলে দ্রুত শুরু করুন।

ট্রেডমার্ক রেজিস্ট্রেশনের খরচ: সবকিছুর উপর নির্ভর করে আসল খরচ দুই থেকে চার হাজারের বেশি হওয়া উচিৎ নয়।

আরও সংবাদ

বিশ্ববাজারে ফের কমলো গমের দাম

কমিউনিটি নিউজ

ঢাকায় ৩০ হাজার লিটার পাম ও সয়াবিন তেল উদ্ধার

কমিউনিটি নিউজ

এখানে কোনও সিন্ডিকেট নেই, দাবি মিলারদের

কমিউনিটি নিউজ

করোনার প্রণোদনার টাকা কোথায় গেল!

কমিউনিটি নিউজ

প্রবাসী ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগের আহ্বান কৃষিমন্ত্রীর

কমিউনিটি নিউজ

পেঁয়াজের ঘাটতি দেখা দিলে নেদারল্যান্ডস থেকে আমদানি : কৃষিমন্ত্রী

কমিউনিটি নিউজ