30 C
Dhaka
আগস্ট ৯, ২০২২

করোনার প্রণোদনার টাকা কোথায় গেল!

প্রণোদনা

ডেস্ক প্রতিবেদন, কমিউনিটিনিউজ: করোনা ভাইরাসের জন্যে সরকারের দেয়া ঘোষণার প্রণোদনার টাকা কোথায় গেল এ প্রশ্ন তুলেছেন দেশের জেলার ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, প্রণোদনার টাকা জেলা পর্যায়ের ব্যবসায়ীদের কাছে সমবন্টন হয় নি।

শনিবার (২২ জানুয়ারি) ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) নেতাদের সঙ্গে এক আলোচনায় এসব প্রশ্ন তোলেন বিভিন্ন জেলার ব্যবসায়ী নেতারা। এসময়ে তারা ভ্যাট ও করসহ নানা বিষয়ে সমস্যার কথা তুলে ধরেন। সম্প্রতি এফবিসিসিআইয়ের সঙ্গে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

জেলা ব্যবসায়ীরা প্রশ্ন করে জানতে চান, জেলা পর্যায়ের ক্ষতিগ্রস্ত ছোট ব্যবসায়ীরা প্রণোদনার টাকা পাননি। তাহলে ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য ঘোষিত প্রণোদনার টাকা গেল কোথায়?

রাজধানীর মতিঝিলে এফবিসিসিআই মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে দেশের এফবিসিসিআইসহ জেলা চেম্বারগুলোর শতাধিক নেতা উপস্থিত ছিলেন। বক্তব্য দেন জেলা পর্যায়ের প্রায় ২১ জন ব্যবসায়ী। এ সময়ে তাঁরা মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন ব্যবসায়ীর সমস্যার কথা তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে কিশোরগঞ্জ জেলা চেম্বারের সভাপতি মুজিবুর রহমান প্রশ্ন তোলেন, প্রণোদনার টাকা কে কাকে দিল, কারা পেল, তা আমরা জানি না। যার যেটুকু প্রাপ্য, সেটুকু পাচ্ছে না।

প্রণোদনা নিয়ে একাধিক জেলা চেম্বারের ব্যবসায়ী নেতার অভিযোগ শুনে এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিনও তাঁর সত্যতা স্বীকার করেন। এ সময়ে তিনি বলেন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের ঠিকভাবে প্রণোদনার টাকা না পাওয়ার ঘটনাকে ষড়যন্ত্র (স্যাবোটেজ)। সরকার টাকা দিচ্ছে কিন্তু প্রকৃত ব্যবসায়ীরা টাকা পাচ্ছে না, এটা একধরনের ষড়যন্ত্র। আমাদের এর বিরুদ্ধে কাজ করতে হবে। এসব ষড়যন্ত্রকারীকে ধরিয়ে দিতে হবে।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে কর ও ভ্যাট আদায়ের নামে সরকারি কর্মকর্তাদের হয়রানির কথাও তুলে ধরেন জেলার ব্যবসায়ী নেতারা। কিশোরগঞ্জ চেম্বারের সভাপতি বলেন, সরকারি কর্মকর্তারা আমাদের কাছ থেকে ঘুষ নিয়ে গাড়ি-বাড়ি করছেন। আর আমরা ব্যবসা করে গাড়ি-বাড়ি করতে পারছি না। এক কোটি টাকা ভ্যাট দিলে তিন কোটি টাকা ঘুষ দিতে হয়।

চার ঘণ্টা ধরে চলা এ সভায় সভাপতিত্ব করেন কাউন্সিল অব চেম্বার প্রেসিডেন্টসের সভাপতি ও এফবিসিসিআইয়ের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী। তিনি ভ্যাট প্রদানে ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন। বলেন, সারা দেশের ব্যবসায়ীরা এ নিয়ে তাঁদের সমস্যার কথা জানিয়েছেন। করোনার কারণে কয়েক মাস তাঁরা আয় করতে পারেননি। আয় না করলে ব্যবসায়ীরা আয়কর দেবেন কোথা থেকে?

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি রিজওয়ান রাহমান বলেন, স্বাধীনতার ৫০ বছর হয়েছে, কিন্তু কর-ভ্যাট নিয়ে হয়রানি এখনো বন্ধ হয়নি। তাই এই ব্যবস্থাকে অনলাইনের আওতায় এনে পুরোপুরি স্বয়ংক্রিয় করতে হবে। এটাই এই সমস্যার সমাধান।

টাঙ্গাইল চেম্বারের সভাপতি ও সাংসদ খান আহমেদ বলেন, করোনার মধ্যে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। অথচ প্রণোদনার টাকা তাঁদের কাছে পৌঁছায়নি। নীলফামারী চেম্বারের সভাপতি মারুফ জামান জানান, তাঁর জেলায় ক্ষতিগ্রস্ত ছোট ব্যবসায়ীরা সরকারি প্রণোদনার কোনো অর্থ পাননি। একই কথা বলেন গোপালগঞ্জ, ঝিনাইদহ ও বান্দরবান জেলা চেম্বারের নেতারাও।

এদিকে প্রণোদনার ঋণ পরিশোধের সময় বাড়ানোর দাবি জানিয়ে এফবিসিসিআই সভাপতি জসিম উদ্দিন বলেন, ঋণ আদায়ের বিষয়ে কিছু কিছু ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংককে ভুল তথ্য দিয়েছে। তারা বলেছে যে ৭০-৮০ শতাংশ ঋণ আদায় হয়ে গেছে। এ জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক আর সময় বাড়াইনি।

এ ব্যবসায়ী নেতা আরও বলেন, ব্যবসায়ীরা ক্ষতি পুষিয়ে এখনো ঘুরে দাঁড়াতে পারেননি। করোনার প্রকোপ আবার বেড়েছে। এই অবস্থায় বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, ঋণ পরিশোধে ব্যবসায়ীরা আর সময় পাবেন না। এটা হলে ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ ব্যবসায়ী ঋণখেলাপি হওয়ার শঙ্কা আছে।

কর-ভ্যাট নিয়ে হয়রানি দূর করতে কর্মসূচি নেওয়ার কথা জানিয়ে জসিম উদ্দিন বলেন, সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে এসব দাবি লিখিতভাবে জানানো হবে। এ ছাড়া দেশের আটটি বিভাগে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে ভ্যাট, রাজস্ব এবং জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নিয়ে সেমিনারের আয়োজন করা হবে। করোনা পরিস্থিতি একটু স্বাভাবিক হলেই এই কর্মসূচি শুরু করা হবে। এ ছাড়া প্রণোদনার বিষয়ে সব জেলা চেম্বারে একটি হেল্প ডেস্ক করার প্রস্তাব করেন জসিম উদ্দিন।

সভায় মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) সভাপতি মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে যে মূল্যস্ফীতি চলছে, তার একটা বড় কারণ কর-ভ্যাট নিয়ে সমস্যার কারণে হচ্ছে। তাই এই সমস্যা দূর করতে হবে।

ফরেন ইনভেস্টর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফআইসিসিআই) সভাপতি নাসের এজাজ বলেন, কেবল সমস্যা সমাধানের দাবি জানালেই হবে না। সমাধানের পথেরও সন্ধান দিতে হবে।

বাগেরহাট চেম্বারের সভাপতি শেখ লিয়াকত হোসেন বলেন, ভ্যাট আইনের ৮২ ধারাসহ কয়েকটি ধারা দিয়ে কর্মকর্তারা ব্যবসায়ীদের ভয় দেখান। এসব বিষয় পর্যবেক্ষণের জন্য এফবিসিসিআইকে একটি কমিটি করার পরামর্শ দেন তিনি।

চট্টগ্রাম শিল্প ও বণিক সমিতির সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসের পরও ভ্যাট দেওয়ার প্রক্রিয়া হয়রানিমুক্ত হয়নি। তিনি বলেন, ব্যবসায়ীরা লাভ করলে কর-ভ্যাট দেবেন। কিন্তু লোকসান করলেও দেবেন, এটা কোনো আইন হতে পারে না।

আরও সংবাদ

ঢাকায় ৩০ হাজার লিটার পাম ও সয়াবিন তেল উদ্ধার

কমিউনিটি নিউজ

এখানে কোনও সিন্ডিকেট নেই, দাবি মিলারদের

কমিউনিটি নিউজ

প্রবাসী ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগের আহ্বান কৃষিমন্ত্রীর

কমিউনিটি নিউজ

পেঁয়াজের ঘাটতি দেখা দিলে নেদারল্যান্ডস থেকে আমদানি : কৃষিমন্ত্রী

কমিউনিটি নিউজ

কৃষিপণ্যের দাম নির্ধারণ করলো সরকার

কমিউনিটি নিউজ

কৃষিপণ্যের রপ্তানি বাড়াতে নেদারল্যান্ড ও যুক্তরাজ্যে যাচ্ছে ১৫ সদস্যের প্রতিনিধিদল

কমিউনিটি নিউজ