25 C
Dhaka
ডিসেম্বর ২, ২০২২

বাঘায় পদ্মাচরজুড়ে মিষ্টি আলুর বাম্পার আবাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক, বাঘা (রাজশাহী): রাজশাহীর বাঘা উপজেলার পদ্মাচরজুড়ে মিষ্টি আলুর বাম্পার আবাদ করা হয়েছে। এ আলু স্থানীয়ভাবে চাহিদা মিটিয়ে ঢাকা, চট্রগ্রাম, সিলেট, গাজিপুর, টাংঙ্গাইল, ময়মনসিংহসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়।

চাষীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, উপজেলার পদ্মার চকরাজাপুরসহ ১৫টি চরে অগ্রাহায়ণ মাসের প্রথম সপ্তাহে থেকে শুরু হয় মিষ্টি আলুর চারা বপন। ফাল্গুন মাসের তৃতীয় সপ্তাহে থেকে মিষ্টি আলু মাটির নিচে পরিপক্ক হয় এবং আগাম জাতের আলু তোলা শুরু হয়। চৈত্র ও বৈশাখ মাসে পুরোপুরি আলু তোলার জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়বে চাষীরা।

উপজেলার চকরাজাপুর, কালিদাসখালী চরে গিয়ে দেখা গেছে, খেতজুড়ে আবাদ করা হয়েছে মিষ্টি আলুর। তবে কেউ কেউ আগাম জাতের আলু কোদাল দিয়ে মাটি কুপিয়ে আলগা করে তোলা শুরু করেছে।

কালিদাসখালী চরের কৃষক মেহেদী হাসান বলেন, এ মৌসুমে দুই একর জমিতে মিষ্টি আলু চাষ করেছি। প্রতি একরে ২৫০ মণ ফলন আশা করেন। গত বছর প্রতি মণ মিষ্টি আলু পাইকারি ৪০০-৬০০ টাকা দরে বিক্রি করছি। দুই একর জমিতে চারা বপন ও আলু তোলা পর্যন্ত মোট খরচ হয়েছে প্রায় ৮০ হাজার টাকা। বিক্রি দেড় লক্ষ টাকা আশা করছেন।

এ চরে আগে কোন আবাদ হতো না। বর্তমানে আলুর চাষ করছি। তবে এ আলু বিক্রি করতে কোনো কষ্ট করতে হয় না। দেশের বিভিন্ন এলাকার পাইকাররা এসে জমি থেকে আলু তোলার পর নিয়ে যায়। বর্তমান সরকারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এমপি পদ্মার চরে বিদ্যুতের আলোর ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। পাশাপাশি একটি হিমাগাগের ব্যবস্থা করলে আলুগুলো হিমাগারে রেখে পরে বিক্রি করতে পারলে লাভ আরো বেশি হতো। পচনের ভয়ে কম দামে বিক্রি করে দিতে হয়।

বাঘা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুহাম্মদ শফিউল্লাহ সুলতান বলেন, এ বছর মিষ্টি আলু উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় মিষ্টি আলুর বাম্পার ফলন আশা করছি। চলতি মৌসুমে ৩৫ হেক্টর জমিতে মিষ্টি আলুর চাষ হয়েছে। স্থানীয় জাতের পাশাপাশি হাইব্রিড জাতের মিষ্টি আলুর চাষ করেছেন চাষীরা।

কমিউনিটিনিউজ / এমএএইচ

চার বছরেও হয়নি সেতুর সংযোগ, দুর্ভোগে চরবাসী

নিজস্ব প্রতিবেদক, বাঘা (রাজশাহী): রাজশাহী বাঘা উপজেলার চর এলাকার পদ্মার নালার উপর সেতুর সংযোগ সড়ক না হওয়ায় চরবাসীর চরম দুর্ভোগে রয়েছে। চরের বাসিন্দাদের যাতায়াতের জন্য সেতু নির্মাণ করা হলেও তা কোনো কাজেই আসছে না।
সেতু নির্মাণের চার বছর পেরিয়ে গেলেও তৈরি হয়নি সংযোগ সড়ক। এ কারণে দুপাড়ের বাসিন্দারা সেতুর পাশ দিয়েই চলাচল করেন। ফলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বলে জানান  ভুক্তভোগীরা।

দুটি সেতু নিয়ে ৫ জানুয়ারি গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর একটি সেতুর সংযোগের জন্য মাটি দিয়ে ভরাট করা হলেও আরেকটি একই অবস্থায় পড়ে আছে। স্থানীয়দের দাবি অবশিষ্ট সেতুটিও মাটি ভরাট করে ব্যবস্থা করে দেয়ার।

জানা গেছে, ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর থেকে অবিভক্ত গড়গড়ি ইউনিয়নের পদ্মার চরাঞ্চলে নদীর দুটি নালার ওপর দুটি সেতু নির্মাণ করা হয়। বাঘা-লালপুর যাতায়াত সড়কের দক্ষিণে পদ্মার তীর ঘেঁষে সুলতানপুর ও কড়ালি নওশারা এলাকায় ৪০ ফুট দীর্ঘ এবং ১২ ফুট প্রশস্ত সেতু দুটির নির্মাণ ব্যয় হয়েছে ৬৬ লাখ টাকা। কিন্তু নির্মাণের পর থেকে সেতু দুটির ওপর দিয়ে মানুষ কিংবা যানবাহন চলাচল করতে পারছিল না।

এরমধ্যে গণমাধ্যমে ৫ জানুয়ারি সেতু দুটি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করা হয়। তারপর একটির সংযোগের ব্যবস্থা করা হলেও আরেক করা হয়নি। শুধু সংযোগ সড়কের অভাবে কাজে আসছে না সেতুটি। চরের ৩৫টি পরিবারের ছেলে মেয়েদের লেখাপড়া করতে আসতে হয় সেতুর উত্তর পাশের সুলতানপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় ও নওপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। প্রতিদিন স্কুল শিক্ষার্থীসহ অর্ধ সহস্রাধিক মানুষও এই পথ দিয়ে যাতায়াত করেন।

সরেজমিন দেখা গেছে, সেতু দুটির একটি হল-সুলতানপুর সাধু মিয়ার মোড় সংলগ্ন এলাকার দক্ষিণের পদ্মা নদীর খালের ওপর। আরেকটি এর ৫০০ গজ পূর্বে কড়ালি নওশারা এলাকার খাদেম ও জালেকের বাড়ির দক্ষিণের পদ্মা নদীর খালের ওপর। সেতুর দক্ষিণে বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলের ফসলি জমি। সেই চরে বসবাস করে ৩৫টি পরিবার। কড়ালি নওশারা এলাকার খাদেম ও জালেকের বাড়ির দক্ষিণের পদ্মা নদীর খালের ওপর সেতুটির সংযোগ সড়কের ব্যবস্থা করে দেয়া হয়েছে। বর্তমানে সেতুর উপর দিয়ে মানুষ চলাচল করছে। আরেকটি সেতুর নিচ দিয়ে চলাচল করছে মানুষ।

সুলতানপুর এলাকার কলেজ শিক্ষক সোলাইমান হোসেন ও কড়ালি নওশারা এলাকার মুনসুর আলী মন্ডল বলেন, জনস্বার্থে সেতু নির্মাণ করা হলেও চার বছর পর একটি চলাচলের জন্য মাটি ফেলে রাস্তা তৈরি করা হলেও আরেকটি করা হয়নি। নির্মাণের পর থেকেই সেতুটির এই দশা। দাদপুর এলাকার সবজি ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম বলেন, সেতুর উত্তরে সুলতানপুর, খানপুর বাজারে যেতে হলে অনেক দূর ঘুরে যেতে হয়।

উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট লায়েব উদ্দীন লাভলু বলেন, আমি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার আগে সেতুর কাজ হয়েছে। কিছু কর্মকর্তা ও ঠিকাদার এমন কাজ করে শুধু রাষ্ট্রের অর্থ অপচয় করেছে। জনগণের কোনো কাজে আসছে না।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার পাপিয়া সুলতানা বলেন, সেতুর বিষয়ে ঠিকাদাদের সাথে কথা হয়েছে, তারা মাটি ফেলে ঠিক করে দিতে চেয়েছেন। অল্প দিনের মধ্যেই কাজ শুরু হবে।

কমিউনিটিনিউজ / এমএএইচ

আরও সংবাদ

সোমবারের (১৯ সেপ্টেম্বর) পোল্ট্রির ডিম মুরগি ও বাচ্চার পাইকারি দাম

কমিউনিটি নিউজ

বিশ্ববাজারে কমেছে গম ও ভুট্টার দাম

কমিউনিটি নিউজ

জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির প্রভাবে যশোরে কাঁচাবাজারে আগুন

কমিউনিটি নিউজ

রাজশাহীতে গাঁজাসহ যুবক আটক

কমিউনিটি নিউজ

কলার জমিতে কাটোয়া ডাটা চাষে স্বাবলম্বী নারীরা

কমিউনিটি নিউজ

ডিমের হালি ৪৪, ব্রয়লারের কেজিতে বাড়লো ১০ টাকা

কমিউনিটি নিউজ