31 C
Dhaka
সেপ্টেম্বর ২২, ২০২১

ভাড়া পাচ্ছে না ‘গরিবের অ্যাম্বুলেন্স’

হাসনাত হাকিম, নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী:  রাজশাহীতে ‘গরিবের অ্যাম্বুলেন্স’ তিন চাকার ভ্যান। নরম গদি লাগিয়ে করা হয়েছে বেশ আরামদায়ক। অস্বচ্ছল ও কম দূরত্বে রোগী আনা-নেওয়ার কাজে অল্প টাকায় ভালো বাহন এই ভ্যান। তাই চালকরা নামও রেখেছেন ‘গরিবের অ্যাম্বুলেন্স’।

জরুরি চিকিৎসা সেবায় সরকারি অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহার হলেও নিম্নমধ্যবিত্ত ও গরীব রোগীদের যাতায়াতে আশীর্বাদ ভ্যান। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে দেখা মেলে এই স্বল্প খরচে ও সুন্দর আয়োজনের এ বাহনটি।

হাসপাতালে উন্নয়নের ছোঁয়া-রোগীদের অনাগ্রহ ও করোনার কারণে এই অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া পাচ্ছেন না। ভাড়া না পাওয়ায় আস্তে আস্তে হারিয়ে যেতে বসেছে এই ‘ভ্যান অ্যাম্বুলেন্স’গুলো।

গত ৫ থেকে ৬ বছরের ব্যবধানে কমেছে এ অ্যাম্বুলেন্সের সংখ্যা। এখন হাসপাতালের সামনে মাত্র ৪ টি এমন বাহন দেখা যায়। তবে ‘ভ্যান অ্যাম্বুলেন্স’ চালকরা বলছেন, গত ৬ থেকে ৭ বছর আগে ১৫ থেকে ১৬ টি এই রকমের ভ্যান ছিলো। যা রোগী বহনের কাজে ব্যবহার করতো নিম্ন-মধ্যবিত্তরা।

এ বিষয়ে কথা হয় রাজশাহী বিভাগীয় শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত উত্তরাঞ্চলের মানুষের চিকিৎসার সেবার অন্যতম ভরসাস্থল রাজশাহী মেডিকেলে কলেজ (রামেক) হাসপাতালের সামনে দাড়িয়ে থাকা ভ্যান চালকদের সঙ্গে।

‘ভ্যান অ্যাম্বুলেন্স’ চালক শহিদুল ইসলাম জানান, প্রায় ১৫ বছর আগে হাসপাতালের একটি প্রজেক্টে কাজ করেছিলেন। প্রজেক্ট শেষ হলে তিনি কর্মহীন হয়ে পড়েন। এসময় হাসপাতালের রোগী পরিবহণের জন্য একটি ভ্যান কেনেন। কিন্তু সেখানে কাঠের ভ্যান থাকায় রোগীরা আসতে চাইতো না।

চালক শহিদুল জানান, সেখানে হাত ভাঙ্গা,পা ভাঙ্গা বা যেসব রোগীদের কোমরে ব্যাথা আছে তাদের এই ভ্যানে বসতে সমস্যা হতো। এ কারণে রোগীরা আসতে চাইতো না। এক সময় পরিকল্পনা করেন, ভ্যানের উপরে মোটা গোদি বসাবেন। সেটা করলেন। এরপর রোগীরা স্বচ্ছন্দ্যে বসে থাকতে পারে। হাত ভাঙ্গা,পা ভাঙ্গা বা যেসব রোগীদের কোমরে ব্যাথা আছে তেমন রোগীদের আর বসতে সমস্যা হয় না।

শহিদুলের এই ভ্যান বানানোর পর রোগীর চাহিদা বাড়ে। এই দেখে আরো কয়েকজন এমন ভ্যান বানান। যারা এই ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতো। সেসময় ১৫ থেকে ১৬ টা এমন ভ্যান ছিলো। কিন্তু সময়ের আবর্তনে এখন রয়েছে মাত্র ৪ টি ভ্যান। সামনে হয়তো এগুলোও আর থাকবেনা।

শহিদুল ইসলাম বলেন, এ গাড়ি চালিয়েই তাদের পরিবারের চার সদস্যের পেট চলে। এখন এ পরিবহণে তেমন ভাড়া হয় না। বাকি চালকদেরও একই অবস্থা। এদের অনেকেই এ পেশা পরিবর্তন করেছেন।

শহিদুল ইসলাম জানান, এখন করোনার রোগী বেশি। কিন্তু তারা করোনার রোগীদের এই ভ্যানে নিচ্ছেন না। খোলা পরিবেশ, করোনা রোগী পরিবহণে তাদের ভয় লাগে। এছাড়া, তারা কোন মৃত ব্যক্তিকেও এই অ্যাম্বুলেন্সে নেন না। কেননা এই গাড়িতে বসে থেকেই তারা আড্ডা দেন, ভাড়া না থাকলে শুয়ে-বসে সময় পার করেন। অনেক সময় খাওয়া-দাওয়ার কাজও এই গাড়িতেই সারতে হয়।

আর ভাড়ার বিষয়টা তারা সময় ও দূরত্বভেদে রোগীদের থেকে বা তাদের স্বজনদের থেকে থাকেন। অনেক সময় কাজ দ্রুত করে দিলে রোগীর স্বজনরা কাজে খুশি হয়ে বকশিস দেন। এভাবেই দিন চলছে তাদের।

তিনি আরও জানান, এ গাড়িতে এখন একটি সমস্যা আছে। গাড়ির উপরে কোন ছাদ নেই। প্রখর রোদ-বৃষ্টিতে সমস্যা হয়। একারণে যেদিন ভারী বর্ষণ কিংবা ঝিরিঝিরি বৃষ্টি লেগেই থাকে সেদিন আর তাদের ভাড়া হয় না। রোদ থাকলে কাছের ভাড়া হয়। দূরের রোগীরা অন্য পরিবহণ খুঁজে নেন।

তিনি আরও জানান, তারা নগরীর বাইরে যান না। নগরীর মধ্যে বিভিন্ন জায়গায় রোগী নিয়ে যায়। তবে প্রধানত তারা হাসপাতালের যেসব রোগীদের টেস্ট সম্ভব হয় না; বাইরে রোগী নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন পড়ে এমন রোগীদের২ বেশি পরিবহণ করেন। এখন হাসপাতালে প্যাথলজিক্যাল টেস্টের উন্নয়ন হয়েছে। সেই রোগিও তেমন নাই।

এর আগে তাদের কয়েকজনকে দালাল হিসেবে উল্লেখ করাই অনেকেই এ পেশা ছেড়েছেন। একরণে বর্তমানে যারা আছেন তারাও মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেন।

কমিউনিটিনিউজ/এমএএইচ

আরও সংবাদ

রাজশাহীতে শিক্ষিকার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

কমিউনিটি নিউজ

রাজশাহীতে বেড়েছে মাছের দাম, মুরগির কেজি ২৬০ টাকা

কমিউনিটি নিউজ

শিক্ষার্থীদের লাগানো গাছ কেটে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা

কমিউনিটি নিউজ

বাংলাদেশও উন্নতশীল দেশের কাতারে দাঁড়াবে : জনপ্রশাসন সচিব

কমিউনিটি নিউজ

গোদাগাড়ীতে ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের মেলা

কমিউনিটি নিউজ

স্কুল-কলেজ খুলতে রাজশাহীতে চলছে জোর প্রস্তুতি

কমিউনিটি নিউজ