30 C
Dhaka
আগস্ট ২, ২০২১

মাস্ক খুললেই ছটপট করছেন সেতারুন নেসা

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী, হাসনাত হাকিম: মুখে অক্সিজেন মাস্ক লাগানো অবস্থায় জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে শুয়ে আছেন ৬৭ বছর বয়সী সেতারুন নেসা। মুখ থেকে মাস্ক খুললেই যেন তখন গোটা শরীরই নড়ে উঠছে। কিন্তু কথা বলার শারীরিক সক্ষমতা তাঁর ছিলো না। তবে ইশারা করে কিছু যেন বলতে চায়।

ট্রলিতে ওঠানোর জন্য অ্যাম্বুলেন্সের অক্সিজেন মাস্ক খোলা হলো। সেমসয় সেতারুন নেসার দম যেন বের হয়ে আসছে এমন করছিলো। দ্রুতই আবার তাঁকে ট্রলিতে উঠিয়ে আরেকটি অক্সিজেন সিলিন্ডারের মাস্ক লাগানো হলো। এর পর ওয়ার্ডের দিকে নিয়ে গেলেন তাঁর দুই ছেলে রাফি ও সাফি।

শুক্রবার (১৬ জুলাই ২০২১) রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে দুপুর একটার দিকে তাঁর এমন শ্বাসকষ্টই দেখা গেল। সেতারুন নেসার বাড়ি চাঁপাইনবাগঞ্জ সদর উপজেলায়। রামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে একটু পর অ্যাম্বুলেন্স এসে থামছে। এভাবেই প্রতিদিন অ্যাম্বুলেন্স থেকে বের করা হচ্ছে সেতারুন নেসার মত শতাাধিক রোগীকে।

সবাই চান মনভরে একটু শ্বাস নিতে। অ্যাম্বুলেন্সের অক্সিজেন মাস্কটি খুলে অন্য অক্সিজেন মাস্ক পরানোর মত সময়ও তাঁরা দিতে চাচ্ছেন না। একটু সময়ের জন্য অক্সিজেন মাস্ক খুললে তাঁরা ছটফট করছেন তারা।

সেতারুন নেসার ভর্তির প্রক্রিয়া শেষ করে নিয়ে গেলেন করোনা ৪ ওয়ার্ডে। সেখানে চিকিৎসকেরা জানালেন, সেতারুন নেসার শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন। দ্রুতই আইসিইউতে নেয়া দরকার। তবে, হাসপাতালে তো আইসিইউ পেতে অপেক্ষায় আছেন আরও ৪০ জন।

কান্না কণ্ঠে তার ছোট ছেলে সাফি বললেন, ‘আইসিইউ দরকার। পাওয়া যাচ্ছে না। কতক্ষণ বাঁচবে তা তো জানি না। জানিনা কি হবে? আমরা চাই আমার মাকে বাঁচাতে। যেভাবেই হোক মাকে বাঁচাবো। তাদের অভিযোগ, ভর্তি করতেই অনেক সময় লাগছে। এখন কিভাবে কি করি বুঝছিনা।’

বড় ছেলে রাফি জানান, তাদের মাকে প্রথমে ভর্তি করা হয়েছিল চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতালে। সেখানে কয়েকদিন চিকিৎসায় কোন উন্নতি হয়নি। তাই আনা হয়েছে রামেক হাসপাতাল। সেতারুন নেসাকে ভর্তির জন্য তার দুই ছেলে যখন ছোটাছুটি করছিলেন।

চিকিৎসকেরা বলছেন, পঞ্চাশের বেশি বয়সী যারা তারাই মূলত; বেশি শ্বাসকষ্টে ভুগছেন। জরুরি বিভাগেই অক্সিমিটারে মেপে দেখা যাচ্ছে, কারও অক্সিজেনের স্যাচুরেশন ৪০, কারও ৫০, কারও ৬০ আবার কারও ৭০ বা ৮০।

একজন সুস্থ মানুষের স্যাচুরেশন ৯৪ এর উপরে থাকা দরকার । নচেৎ তিনি ষুস্থ্য থাকতে পারবেন না। শ্বাসকষ্ট নিয়ে যাঁরা হাসপাতালে আসছেন, তাঁদের নমুনা পরীক্ষা করে দেখা যাচ্ছে অনেকেরই করোনা পজিটিভ হচ্ছে। অর্থাৎ করোনায় আক্রান্ত হয়ে তাঁদের ফুসফুস ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আর এই ফুসফুস ‘রিকভার’ করা চিকিৎসকদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ছে। এতে অনেকে মারাও যাচ্ছেন।

রামেক হাসপাতালের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. মোঃ মাহবুবুর রহমান খান বাদশাহ কমিউনিটিনিউজকে জানান, যাদের করোনায় ফুসফুস প্রায় অকার্যকর তাদের কোন লাভ হয় না। আর যারা একটু ভালো থাকেন তারা মোটামুটি সুস্থ্য হয়ে উঠে।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী কমিউনিটিনিউজকে বলেন, ‘আমাদের এখানে বেডের চেয়ে রোগী অনেক বেশি। রোগী এনেই স্বজনেরা বলছেন, বাসায় অক্সিজেনের স্যাচুরেশন ছিল ৯০ এর নিচে। আমরাও মেপে দেখছি। একটু পর্যবেক্ষণ করছি। সে কারণে ভর্তিতে সময় একটু বেশি লাগছে।অক্সিজেন স্বাভাবিক আছে এমন রোগীকে ভর্তি নিলে তো জায়গায় দেয়া যাবে না। যাঁরা এসেছে, এ পর্যন্ত সবাইকে ভর্তি নিয়েছি। কাউকে ফিরিয়ে দেইনি। এ জন্য আমাদের সক্ষমতা বাড়াতে হচ্ছে। তবে যত দ্রুত রোগী বাড়ছে তত দ্রুত সক্ষমতা বাড়াতে আমাদের বেগ পেতে হচ্ছে।’

কমিউনিটিনিউজ/এমএএইচ

আরও সংবাদ

দেশে মৃতের সংখ্যা ২১ হাজার ছাড়াল

কমিউনিটি নিউজ

ভাড়া পাচ্ছে না ‘গরিবের অ্যাম্বুলেন্স’

কমিউনিটি নিউজ

মাছ কেটে ৩০ বছর সংসার চালান তুজিন

কমিউনিটি নিউজ

ট্রাক মাইক্রোবাসের সংঘর্ষে চালক নিহত

কমিউনিটি নিউজ

২৪ ঘণ্টায় করোনায় সর্বোচ্চ প্রাণ হারালেন ২৫৮ জন

কমিউনিটি নিউজ

দেশে সর্বোচ্চ ২৪৭ জনের মৃত্যু

কমিউনিটি নিউজ