30 C
Dhaka
আগস্ট ২, ২০২১

রাজশাহী নগরীতে উপচে পড়া ভিড়, উপেক্ষিত স্বাস্থ্যবিধি

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী, হাসনাত হাকিম: রাজশাহী নগরীতে টানা এক মাসের বেশি সময় ধরে লকডাউন শেষে গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়েছে লকডাউন বিরতি। আর এদিকে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের দ্বিতীয় বৃহত্তম উৎসব ইদুল আজহাকে সামনে রেখে শুরু হয়েছে কেনাকাটা। ঈদকে সামনে রেখে মার্কেটগুলোতে বেচাকেনা বেশ জমে উঠতে শুরু করেছে।

তবে যানবাহন কিংবা মার্কেট কোন জায়গাতেই স্বাস্থ্যবিধি বিষয়ে তেমন গুরুত্ব  দেখঝা যায়নি।। অধিকাংশ মানুষের কাছে মাস্ক থাকলেও তার ব্যবহার ঠিক মত করছেন না। অনেকের মুখ থেকে নাকে উঠছে না মাস্ক।  অনেকে হাতে নিয়েই ঘুরছেন। আর এক্ষেত্রে প্রশাসনের কোন তৎপরতা কিংবা সচেতনতামূলক কার্যক্রম এদিন লক্ষ্য করা যায়নি।

শুক্রবার (১৬ জুলাই ২০২১) দুপুরে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ও মার্কেটগুলো ঘুরে দেখা যায়, নগরীজুড়ে আবারও কর্মচঞ্চলতা শুরু হয়েছে। স্বাভাবিক হয়েছে গণপরিবহণ চলাচল। নগরীর জিরো পয়েন্ট এলাকায় ক্ষুদ্র যানজটও দেখা গেছে। খুলেছে শপিংমল ও দোকানপাট। এতে স্বস্থি প্রকাশ করছে যাত্রী, চালকসহ, ক্রেতা-বিক্রেতারাও।

ক্ষুদ্র যানবাহন অটো রিক্সা বা অটোতে যানবাহনে স্বাস্থ্যবিধি মানছে না। রিক্সায় দুজনে এর পরিবর্তে তিন থেকে চারজন আবার অটোতে ৪ শিটের পরিবর্তে ৬ থেকে ৭ জন যাত্রী নিয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে।

তবে স্বাস্থ্যবিধির বিষয়ে জানতে চাইলেই বিভিন্ন অজুহাত দেখাচ্ছেন তারা। নগরীর কোর্ট বাইপাস এলাকায় পাঁচ জনের সিটে ৬ জন যাত্রী নিয়ে অরেকজন যাত্রীর অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে ছিলেন এক অটো রিকশা চালক। তার গাড়িতে দুইজন যাত্রী মাস্ক পরে ছিলেন। চালকসহ অন্যাদের মাস্ক নাকের নিচে ছিলো। নাম জানতে চাইলে তিনি বলতে চাননি।

নগরীর শপিংমলগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি মানতে আগ্রহ দেখা গেলেও মার্কেটের দোকানগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষিতই ছিলো।

ক্রেতাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, লকডাউনের কারণে আগে কোনো পোশাক কিনতে না পারায় এখন ভিড় করছেন। এবং কেনাকাটায় হুমড়ি খেয়ে পড়েছেন। এদের মধ্যে যাদের আয় ভালো , আবার কারো পরিবারের সদস্য থাকেন প্রবাসে।

মার্কেট ব্যবসায়ী মঞ্জুর আলি বলেন, লকডাউনের কারণে কয়েকদিন তেমন কোন ক্রেতা ছিলো। কিন্তু সামনে কড়াকড়ি ঈদের কারণেই  ক্রেতা একটু বেড়েছে। গতকাল থেকেই মূলত ক্রেতা বেশি। বেচাকেনা বেশ ভালোই হচ্ছে। আজ সকাল থেকে ১ টা পর্যন্ত বিুকও হয়েছে ২৫ হাজার টাকার মত। রাত হতে হতে  আশা করছি আরো ৫০ হাজার বিক্রি হবে।

তবে, তারা চেষ্টা করে যাচ্ছেন সরকারি নির্দেশনানুযায়ী মাস্কসহ সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করার। কিন্তু কিছুক্ষেত্রে হয়তো স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত হচ্ছে না।

নগরীর কাঁচাবাজারসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দোকানগুলোতেও ক্রেতাদের ভিড় ছিলো। মাস্টারপাড়া ও সাহেব বাজার কাঁচাবাজারে পা রাখার জায়গা ছিলো না।এই গরমের মধ্যে গাদাগাদি করেই বাজার করতে দেখা গেছে মানুষকে।

আরো পড়ুন:

এদিকে খুলেছে শপিংমল ও দোকানপাট। এতে স্বস্থি প্রকাশ করছে যাত্রী, চালকসহ ক্রেতা-বিক্রেতারাও। তবে স্বাস্থ্যবিধির বিষয়ে জানতে চাইলেই বিভিন্ন অজুহাত দেখাচ্ছেন তারা।

বউ, সন্তানদের জন্য বাজার করতে হবে। আর তাছাড়া গাড়িতে তো জায়গায় আছে। একটা বেশি যাত্রী তুললে সমস্যা কি। আর তাদের কাছে মাস্ক আছে।

নগরীতে খুলেছে মার্কেট। ব্যস্ত সময় পার করছেন ব্যবসায়ীরা। তবে এর ভিন্ন চিত্র আছে। শপিংমল ও আরডিএ মার্কেটের ভিতরের দোকানগুলোতে অনেকে অলস সময় পার করতেও দেখা যায়। এদিন নগরীর সাহেব বাজার, আরডিএ মার্কেট, কাপড়পট্টি, গণকপাড়া, নিউ মার্কেট, কোর্ট বাজার এলাকায় বেশি মানুষের সমাগম দেখা গেছে। শপিংমালের চেয়ে বাইরের ফুটপাতের দোকানগুলোতেই ক্রেতাদের উপস্থিতি বেশি।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, বৃহস্পতিবার থেকে লকডাউন খুলেছে। সকাল থেকেই তারা দোকান খুলেছেন। কিন্তু ক্রেতা বলতে হাতেগোনা কয়েকটা। এখনো সেইভাবে মার্কেট জমে উঠেনি। এরমধ্যে অনেকে শুধু দেখছেন। অনেকে কেনা দামও বলছেন। তবে ক্রেতাদের প্রতিক্রিয়া ঠিক ভিন্ন। তারা বলছেন-করোনায় এমনিতেই মানুষের আয় করেছে। এরমধ্যে সন্তানদের বায়না মেটাতে বা দীর্ঘ দিন পোশাক কেনেনি একারণে বাজারে এসেছেন। কিন্তু বিক্রেতারা বেশি দাম চাচ্ছেন।

নগরীর বিলসিমলা এলাকা থেকে সাহেব বাজার এলাকায় বাজার করতে এসেছিলেন পারভীন খাতুন। তিনি জানান, লকডাউনের কারণে অনেক দিন বাজারে আসেন নি তিনি। সামনে ইদ। ছোট একটা ছেলে ও একটা মেয়ে আছে। তাদের জন্যই মূলত বাজারে আসা। সন্তানদের জন্যই কিছু কিনবেন। এবারের ইদে তিনি কিছু নেবেন না। কারণ তার বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো না। আর ব্যবসায়ীরা একটু বেশি দাম চাচ্ছেন।

তিনি আরও জানান, স্বাস্থ্যবিধি বলতে তিনি মাস্ক এনেছেন। তার সন্তানদের কাছেও মাস্ক আছে। ছোট্ট বাচ্চা তো তাই বোঝে না। মাস্ক খুলে রেখেছে। তিনি বাজারে আসলে মাস্ক ব্যবহার করেন।

ডিএ মার্কেটের ফ্যাশান বাজার গার্মেন্টস দোকানের মালিক আব্দুর মতিন জানান, এখনো বেচাকেনা তেমন জমে উঠেনি। ক্রেতা আসছে, দেখছে। অনেকে দাম না বলেই চলে যাচ্ছে। অনেকে কেনা দামও বলছে না। তবে তিনি আশাবাদী সামনের দিনগুলোতে বেচাকেনা জমে উঠবে। আর স্বাস্থ্যবিধি বলতে মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা আছে।

এ বিষয়ে আরডিএ মার্কেট ব্যবসায়ী সমন্বয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সেকেন্দার আলী জানান, আজকে প্রথম দিন হিসেবে মার্কেটে কেনাবেচা ভালোই হচ্ছে। তবে এটা আরো বাড়বে। তবে স্বাস্থ্যবিধি সেভাবে নিশ্চিত হচ্ছে না এটা ঠিক। এটা শুধু মার্কেটে না পুরো নগরীর চিত্রও এমন।

তিনি আরো জানান, ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে তারা স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতে ব্যবসায়ীক নেতা ও প্রশাসনের সমন্বয়ে কমিটি করে সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ের পরামর্শ দেয়া হয়েছিলো। যেটির তেমন কোন প্রতিফলন দেখেন নি। মার্কেটগুলোতে মাঝে মাঝে হঠাৎ করে প্রশাসনিক তৎপরতার চেয়ে সকলের সহযোগিতায় সমন্বিত সচেতনতামূলক কর্মসূচির জন্য স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

সামনে ঈদুল আজহা এই কারণেই ক্রেতা বাড়ছে। আর এর আগে গত একমাস দোকান বন্ধ থাকায় অনেক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। সেখানে বেচাকেনা ছিলোনা। ক্রেতাও ছিলো না। এখন লকডাউন শিথিল করে দেয়ায় বাজারে মোটামুটি ভিড় লক্ষ করা গেছে। তবে, স্বাস্থ্যবিধি মানার ব্যাপারে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে নিশ্চিত হচ্ছেনা। এক্ষেত্রে সার্বক্ষনিক মনিটরিং করা হচ্ছে।

কমিউনিটিনিউজ / এমএএইচ

আরও সংবাদ

দেশে মৃতের সংখ্যা ২১ হাজার ছাড়াল

কমিউনিটি নিউজ

ভাড়া পাচ্ছে না ‘গরিবের অ্যাম্বুলেন্স’

কমিউনিটি নিউজ

মাছ কেটে ৩০ বছর সংসার চালান তুজিন

কমিউনিটি নিউজ

ট্রাক মাইক্রোবাসের সংঘর্ষে চালক নিহত

কমিউনিটি নিউজ

২৪ ঘণ্টায় করোনায় সর্বোচ্চ প্রাণ হারালেন ২৫৮ জন

কমিউনিটি নিউজ

দেশে সর্বোচ্চ ২৪৭ জনের মৃত্যু

কমিউনিটি নিউজ