30 C
Dhaka
আগস্ট ২, ২০২১

ছেলের চিকিৎসার টাকা বাঁচাতে স্টেশনে রাত্রীযাপন

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী, হাসনাত হাকিম: রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে বসে কে যেন একটা ছোট্ট ছেলেকে নিয়ে বসে আছে আর খাইয়ে দিচ্ছে। ব্যাপারটা মনে নাড়া দিলো। শুক্রবার (৯ জুলাই) রাত ১১ টার দিকে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনের বাইরে কথা হয় তাদের সাথে।

নয় বছরের ছেলে সন্তানের চিকিৎসা করাতে রাজশাহী এসেছিলেন শওকত ওসমান ও জোৎস্না দম্পতি। পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরে যাচ্ছিলেন তারা। তারা জানান, রাস্তায় গণপরিবহন না থাকায় স্টেশনে রাত কাটাতে হয় তাদের।

তাদের বাড়ি কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায়। একমাত্র ছেলে সন্তান জিহানের উন্নত চিকিৎসা করাতে রাজশাহী এসেছিলেন তারা।

এক ছেলে ও এক মেয়ের জনক বাবা শওকত ওসমান। তিনি  জানান, আদরের একমাত্র ছেলে জিহানের পড়ে গিয়ে হাত ভেঙে যায়। প্রথমে কুষ্টিয়ায় স্থানীয় ডাক্তার দেখিয়েছিলেন। সেখানকার ডাক্তার ও স্থানীয় কয়েকজনের পরামর্শে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহীতে এসেছিলেন।

তিনি আরও জানান, রাজশাহীর হাড় বিশেষজ্ঞ ডা. বিকে দামের কাছে ছেলের প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। আড়াই হাজার টাকার টেস্ট করিয়েছেন। ডাক্তারের রুমে ঠুকতেই ৮০০ টাকা দিতে হয়েছে। ছেলের হাতের অপারেশন করা লাগবে। আগামী সোমবার অপারেশনের তারিখ আছে। যেখানে প্রায় ৮ হাজার টাকা অপারেশন করাতেই লাগবে। ওষুধসহ আরও খরচ তো আছে।

তিনি আরও জানান, তিনি আগে কুষ্টিয়ায় বিড়ি ফ্যাক্টারিতে কাজ করতেন। যে ফ্যাক্টারি দুই বছর আগে বন্ধ হয়েছে। এখন তিনি দিনমজুরের কাজ করেন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যাক্তি তিনি। ছেলের বাকি চিকিৎসার জন্য আরো অর্থের প্রয়োজন। কিন্তু তাদের কাছে পর্যাপ্ত অর্থ নেয়। এখন বাড়ি গিয়ে ধারদেনা করে আবার আসবেন। বাড়ি ভিটা ছাড়া কোন জমিও নাই। যেটা বিক্রি করে টাকার ব্যবস্থা করতে পারেন।

তিনি জানান, তাদের কাছে সিএনজি করে বাড়ি ফেরার মতো কিছু টাকা আছে। এরমধ্যে ভাড়া বেড়েছে। এই টাকায় কুলাবে কি না? জানিনা। ছেলের চিকিৎসার জন্য বৃহস্পতিবার ( ৮ জুলাই) সকালের দিকে রাজশাহী এসেছেন। বিকেলের পর তাদের কাজ শেষ হয়েছে।

অপেক্ষায় থেকে কোন গাড়ি পাননি। এখন রাতও হয়ে গেছে। সকালের দিকে বাড়ি ফেরার গাড়ি পাওয়া যাবে। তাই স্টেশনেই রাত্রিযাপন করতে হবে। আর তাদের কাছে ব্যাগ আছে। ছেলেও অসুস্থ। রাতটা আজকে জেগেই কাটাতে হবে।

মা জোৎনা বেগম বলেন, এখন হোটেলে থাকতে হলে টাকা খরচ হবে। আমাদের কাছে শুধু বাড়ি ফেরার মতো ভাড়াই আছে। সেই টাকা দিয়ে হোটেলে থাকলে বাড়ি যাবো কি করে? তাই এখানেই বসে আছি । এখানে আমাদেরে রাত কাটাতে হবে।

তিনি আরও বলেন, করোনার আগে রাজশাহী থেকে কুষ্টিয়া দৌলতপুর যেতে আগে লাগতো ৪ থেকে ৫০০টাকা। আর এখন আসতে লেগেছে ১ হাজার ২০০ টাকা। মানে আবার যেতে লাগবে ১ হাজার ২০০ টাকা লাগবে। এতো টাকা তো আর নাই। আর এই লকডাউনে তো সব কিছু শেষ করে দিয়েছে। কোনো কাজ-কাম পাইনা। আগে তো মানুষের বাড়িতে গেলে কিছু কাজ পেতাম। এখন আর সেটাও পাইনা। এখন ছেলের চিকিৎসা নিয়ে চিন্তায় আছি।

শওকত জানান,  শুনেছেন রাজশাহীতে ভালো চিকিৎসা সেবা পাওয়া যায়। তাই ছেলের একটু ভালো চিকিৎসার জন্য লকডাউনের বাধা ডিঙ্গিয়ে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার রাস্তা পাড়ি দিয়েছেন।গত বৃহস্পতিবার এখানে আসেন। টাকা সল্পতার কারনে কোনো আবাসিক হোটেলে থাকতে পারেননি।

আরো পড়ুন: রাজশাহীতে লাশেই লাখ টাকার বাণিজ্য!

তিনি বলেন, হোটেলে থাকতে হলে টাকা খরচ হবে। শুধু বাড়ি যাওয়ার ভাড়াই আছে। সেই টাকা দিয়ে হোটেলে থাকলে বাড়ি যাবো কি করে? তাই এখানেই বসে আছি । এখানে আমাদেরে রাত কাটাতে হবে। যেখানে আগে আসতে যেতে লাগতো সর্বোচ্চ ৪ থেকে ৫’শ টাকা। আর এখন আসতেই লেগেছে ১২ ’শ টাকা। মানে আবার যেতে লাগবে ১২’শ টাকা। এতো টাকা তো আর নাই। আর এই লকডাউনে তো সব কিছু শেষ করে দিয়েছে। কোনো কাজ-কাম পাইনা। আগে তো মানুষের বাড়িতে গেলে কিছু কাজ পেতাম। এখন আর সেটাও পাইনা।

অন্য ভিডিও দেখুন: একজন অসহায় রিকশাওয়ালার জীবনযুদ্ধের গল্প (ভিডিও)

তিনি বলেন, লকডাউনের কারণে অসুস্থ বাচ্চাকে অনেক কষ্ট করে নিয়ে এসেছি। আমি কৃষি কাজ করি। অ্যাম্বুলেন্সে করে বাচ্চাকে নিয়ে আসার মতো সামর্থ্য নেই আমার। তারপরও ১২’শ টাকা ভাড়া দিয়ে এসেছি।

এমনকি চিকিৎসকের লিখে দেওয়া প্রাথমিক পর্যায়ের ওষুধ, স্যালাইন, ইঞ্জেকশন কেনার জন্য টাকাও নেই। তাই বাধ্য হয়েই আবার ফিরে যেতে হচ্ছে। বাড়ি গিয়ে ঘর ভিটা যা আছে বিক্রি করে এসে চিকিৎসা করাতে হবে।

ভিটা-মাটি বিক্রি করে এসে অপারেশন করাবো। এখন আর কি করবো ছেলেকে তো ভালো করতে হবে। টাকা পায়সা যা নিয়ে এসেছিলাম সব টাকা শেষ হয়ে গেছে এখন শুধ গাড়ী ভাড়া মোটামোটি আছে।

কমিউনিটিনিউজ/ এমএএইচ

আরও সংবাদ

ভাড়া পাচ্ছে না ‘গরিবের অ্যাম্বুলেন্স’

কমিউনিটি নিউজ

মাছ কেটে ৩০ বছর সংসার চালান তুজিন

কমিউনিটি নিউজ

পুঠিয়ায় ২০ কেজি গাঁজাসহ আটক ১

কমিউনিটি নিউজ

রামেক হাসপাতালে ১১ জনের মৃত্যু

কমিউনিটি নিউজ

করোনায় অসহায়দের ঈদ সামগ্রী দিলো ‘এইচআর একাডেমি’

কমিউনিটি নিউজ

‘সংগ্রাম’ করে বাঁচতে হচ্ছে শামুখখোল পাখিদের

কমিউনিটি নিউজ