30 C
Dhaka
আগস্ট ২, ২০২১

আলোচিত সেই মেয়র দল থেকে বহিষ্কার

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী : রাজশাহী বাঘা উপজেলার আড়ানী পৌরসভার সেই আলোচিত মেয়র মুক্তার আলীকে বহিস্কার করেছে মন্ত্রণালয়।

সোমবার (১২ জুলাই২০২১)  স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ফারুক হোসেন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়,  যেহেতু স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন, ২০০৯ এর ধারা ৩১(১) অনুয়ায়ী যে ক্ষেয়ে কোন পৌরসভার মেয়র বা কোন কাউন্সিলর অপসারণের কার্যক্রম আরম্ভ করা হইয়াছে অথবা তাহার বিদ্ধে ফৌজদারী মামলায় অভিযােগপত্র আদালত কর্তৃক গৃহীত হইয়াছে, সেই ক্ষেত্রে নির্ধারিত কর্তৃপক্ষের বিবেচনায় মেয়র অথবা কাউন্সিলর কর্তৃক ক্ষমতা প্রয়োগ পৌরসভার স্বার্থের পরিপন্থি অথবা প্রশাসনিক দৃষ্টিকোণ সমীচীন না হইলে, সরকার লিখিত আদেশের মাধ্যমে মােয়র অথবা কাউন্সিলর-কে সাময়িক বরখাস্ত করতে পারিবে।

রাজশাহী জেলার বাঘা উপজেলাধীন আড়ানী পৌর মেয়র মাে. মুক্তার আলী এর বিরুদ্ধে বাঘা থানায় ০৭/০৭২০২১ খ্রি. তারিখে পেনাল কোড, ১৮৬০ এর ১৪৩/৪৪৮/৩২৫/৩২৬/৩২৫/৩২৬/৩০৭/৪২৭/৩৮০৬ ধারায় ৭ নং মামলা আর্মস এ্যাক্ট, ১৮৭৮ এর ১৯(এ)/১৯(এফ) ধারায় ৮নং মামলা এবং মাদক নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর ৩৬ (১), ১০ (ক)/৩৬ (১), ১৯ (ক)/৩৬(১), ৮(ক)/৪১ ধারায় ৯ নং মামলা দায়ের করা হয়েছে। যেহেতু উল্লেখিত অপরাধ স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন, ২০০৯ এর ধারা ৩২ এর উপ-ধারা (১) এর (খ) ও (ঘ) অনুযায়ী মেয়রকে অপসারণযোগ্য অপরাধ।

যেহেতু রাজশাহী জেলার বাঘা উপজেলার আড়ানী পৌরসভার মেয়র মাে. মুক্তার আলীর বিরুদ্ধে বাঘা থানায় ৭ জুলাই পেনাল কোড, ১৮৬০ এর ১৪৩/৪৪৮/৩২৩/৩২৪/৩২৫/৩২৬/৩০৭/৪২৭/৩৮০/৫০৬ ধারায়, ৭নং মামলা, আর্মস এ্যাক্ট, ১৮৭৮ এর ১৯(এ)/১৯(এফ) ধারায় ৮নং মামলা এবং মাদক নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর ৩৬ (১), ১০ (ক)/৩৬ (১), ১৯ (ক)/৩৬(১), ৮(ক)/৪১ ধারায় ৯নং মামলা দায়ের হওয়ায় এরুপ অপরাধমূলক কার্যক্রম পৌর পরিষদসহ জনস্বার্থের পরিপন্থী বলে মনে করে সরকার ।

সেহেতু, স্থানীয় সরকার (স্টেরসভা) আইন, ২০০৯ এর ধারা ৩১৫১) অনুয়ায়ী রাজশাহী জেলার বাঘা উপজেলাধীন আড়ানী পৌরসভার মেয়র মাে. মুক্তার আলীকে আড়ানী পৌরসভার মেয়র পদ থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হলাে।

এ আদেশ জনস্বার্থে জারি করা হলো এবং অবিলম্বে কার্যকর করা হবে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।

জানা যায়, গত ৬ জুলাই রাতে আড়ানী বাজারে এক কলেজ শিক্ষককে মারধর করেন মেয়র মুক্তার আলী ও তার সহযোগীরা। মারধরের শিকার হয়ে মেয়রের বিরুদ্ধে রাতেই থানায় মামলা করেন ওই শিক্ষক। রাতে মেয়রের বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় মেয়র বাড়ি থেকে পালিয়ে যান।

এই অভিযানে বাড়ি থেকে সই করা চেক, আগ্নেয়াস্ত্র, মাদকদ্রব্য ও নগদ ৯৪ লাখ ৯৮ হাজার টাকা জব্দ করা হয়।

এ সময় আটক করা হয় মেয়রের স্ত্রী জেসমিন বেগম এবং দুই ভাতিজা শান্ত ও সোহানকে। অস্ত্র এবং মাদক উদ্ধারের ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে বুধবার থানায় দুটি মামলা করা হয়।

  • এরপর শুক্রবার ভোররাতে পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশি এলাকার ফুরফুরা মাজার শরীফের পেছনের গ্রাম থেকে মুক্তার আলীকে গ্রেফতার করা হয়। মুক্তারের সঙ্গে তার সহযোগী শ্যালক রজন আহম্মেদকেও গ্রেফতার করা হয়।

পরে মুক্তার আলীকে নিয়ে আড়ানী পৌরসভার পিয়াদাপাড়া মহল্লার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ১ লাখ ৩২ হাজার টাকা, ফেনসিডিল, গাঁজা ও ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় অস্ত্র ও মাদক আইনে আরও দুটি মামলা করে থানা পুলিশ।

বাঘা থানার ওসি নজরুল ইসলাম জানান, বুধবার ও শুক্রবার দায়ের করা দুটি অস্ত্র মামলায় মেয়র মুক্তারের রিমান্ড চাওয়া হয়েছিল। একই সঙ্গে মুক্তার ও তার শ্যালকের পক্ষে আইনজীবী জামিন আবেদন করেন। কিন্তু শুনানির সময় বিচারক জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করেন। এ সময় আদালত শুধু মেয়রের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। তারপর তাকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে। শ্যালক রজনকে আদালত কারাগারে পাঠিয়েছেন।

গত বুধবার মেয়রের স্ত্রী এবং দুই ভাতিজাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তাদের আইনজীবী জামিনের আবেদন করলে আদালত তা নামঞ্জুর করেন।

কমিউনিটিনিউজ/  এমএএইচ

আরও সংবাদ

ভাড়া পাচ্ছে না ‘গরিবের অ্যাম্বুলেন্স’

কমিউনিটি নিউজ

মাছ কেটে ৩০ বছর সংসার চালান তুজিন

কমিউনিটি নিউজ

পুঠিয়ায় ২০ কেজি গাঁজাসহ আটক ১

কমিউনিটি নিউজ

রামেক হাসপাতালে ১১ জনের মৃত্যু

কমিউনিটি নিউজ

করোনায় অসহায়দের ঈদ সামগ্রী দিলো ‘এইচআর একাডেমি’

কমিউনিটি নিউজ

‘সংগ্রাম’ করে বাঁচতে হচ্ছে শামুখখোল পাখিদের

কমিউনিটি নিউজ