27 C
Dhaka
জুন ১৯, ২০২১

করোনায় জুয়ায় ঝুঁকে পড়ছে শিশুরা

করোনায় জুয়ায় ঝুঁকে পড়ছে শিশুরা

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহী নগরীর অন্যতম বিনোদন কেন্দ্র পদ্মা পাঁড় সংলগ্ন লালনশাহ মুক্ত মঞ্চ এলাকার  পাশের একটি ছাউনিতে ১০ থেকে ১২ বছরের একদল শিশুরা  জটলা পাকিয়ে বসে রয়েছে। চুপি সারে তাদের পেছনে দেখা গেল, প্রত্যেকের সামনে ১০ টাকার নোট আর বেশ কিছু মার্বেল পাথর।

শিশুরা তাদের পেছনে অপরিচিত কাউকে দেখলেই দৌড়ে পালায় যে যার মতো। স্থানটিতে প্রতিদিন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত শিশু-কিশোর আর সন্ধ্যা নামলেই জুয়ার আসর বসায় এই বয়সের শিশুরা। তবে সন্ধ্যা নামলেই জুয়ার পাশাপাশি কিছু যুবকের বসে মাদকের আসর।

করোনা পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘ এক বছরের বেশি সময় ধরে সারা দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। এমতাবস্থায় অভিভাবকদের উদাসিনতায় শিশু-কিশোররা জুয়া, মাদকসহ নানা ধরণের অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িয়েছে। আবার দরিদ্র পরিবারের পুরুষ শিক্ষার্থীরা লেখা-পড়া ছেড়ে নানা পেশায় জড়িয়ে পড়েছে, এসব পরিবারের নারী শিক্ষার্থীদের অনেকের বিয়ে দিয়ে দেয়া হচ্ছে।

শহরে যেসব শিক্ষার্থী বাড়িতে থাকছেন তারা অনলাইন ও ডিভাউস নির্ভর হয়ে পড়ছে। এসব শিক্ষার্থী অনলাইনের নামে নেট দুনিয়ার কোন ক্ষেত্রগুলোতে বিচরণ করছে তা নিয়েও সংশয় দেখা দিয়েছে। সার্বিক অর্থে দীর্ঘ শিক্ষা বিরতির কারণে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে।

এমন পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে শিক্ষাবিদদের পরামর্শ শুধু সরকারের ওপর নির্ভরশীল না থেকে অভিভাবকদেরও দায়িত্বশীল হওয়া। তারা বলেন, সন্তানদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণে রাখার পাশাপাশি তাদের সঙ্গে সময় কাটাতে হবে। তাদের মনোভাব বুঝতে হবে। সেই সাথে তাদের শিক্ষার সাথে সম্পৃক্ত রাখতে হবে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) লোক প্রশাসন বিভাগের প্রফেসর ড. প্রবণ কুমার পাণ্ডে জানান, করোনা পরিস্থিতির মধ্যে যে বিষয়টা সব জায়গাতেই আন্ডার ফোকাস থাকছে তা হলো ‘শিক্ষা ব্যবস্থা’। ইউনিসেফের তথ্য মতে করোনা মহামারির কারণে ৯০ শতাংশ শিক্ষার্থী ইফেকটেড। উন্নত বিশ্ব অনেকটা কাভার করতে পেরেছে। তার কারণ তাদের ইনফ্রাস্টাকচার উন্নত।

তবে উন্নয়নশীর রাষ্ট্রগুলোর ক্ষেত্রে বিষয়টা ভিন্ন। বর্তমান সরকারের আমলে তথ্যপ্রযুক্তিতে অভূতপূর্ব সাফল্য এসেছে। তবে আমরা কতটুকু তা গ্রহণ রকতে পেরেছি সেটিই ভাবার। সরকার উদ্যোগ নিয়েছে, তবে তা নানা কারণে ফরপ্রসূ হচ্ছে না। শিক্ষকদের গাফিলতির বিষয় আছে। এতে করে শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার সম্ভাবনা বড়বে। শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মধ্যে রাখতে হবে। সেশনজট বাড়ছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে। এাছাড়া আমাদের একটি প্রবণতা আছে আমরা সবকিছুই সরকারের ওপর চাপিয়ে দেই। শিক্ষকেরও একটা দায়িত্ব আছে। এর বাইরে অভিভাবক, ব্যবসায়ী সবারই একটা দায়িত্ব রয়েছে। সবকিছু সরকার নির্ভরতার কারণে আমরা আমাদের জায়গা থেকে কোন দায়িত্ব নিতে চাইনা বা ইফেকটিভ কিছু করছি না, শুধুমাত্র ক্রিটিসাইজ ছাড়া কিছু কি করছি?

রাবির এই শিক্ষক আরো জানান, সময়ের চেয়ে জীবনের মূল্য অনেক বেশি। এই মুহুর্তে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দিলে আমাদের পক্ষে কি ক্লাসরুম বা হলে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করা সম্ভভ হবে। অনেকে অনলাইনে ক্লাস নিচ্ছে বা করছে। তবে শিক্ষার্থীরা কি অনলাইনে ক্লাস করছে? নাকি অনলাইনে অন্যকিছু করছে। এই বিষয়ে অভিভাবকদের কারণীয় আছে। অভিভাবকদের সন্তানদের নজরদারিতে রাখতে হবে।

কমিউনিটিনিউজ/ এমএএইচ

আরও সংবাদ

মাস্ক ছাড়াই করোনা ওয়ার্ডে ডিউটি, সাংবাদিক প্রবেশে বাধা

কমিউনিটি

গোদাগাড়ীতে কিশোর গ্যাংয়ের ৫ সদস্য গ্রেফতার

কমিউনিটি

আরইউজে সভাপতি সস্ত্রীক করোনায় আক্রান্ত

কমিউনিটি

রাজশাহীতে আরো ১২ জনের মৃত্যু

কমিউনিটি

ভিডিও ছড়ানোর ভয় দেখিয়ে ধর্ষণ ও অর্থ আদায়, অভিযুক্ত গ্রেফতার

কমিউনিটি

রাজশাহীতে করোনায় ১০ জনের মৃত্যু

কমিউনিটি