25 C
Dhaka
ডিসেম্বর ২, ২০২২

প্রত্যায়ন নিয়ে ধান কাটতে এলাকা ছাড়ছেন বাঘার ২০ হাজার শ্রমিক

নিজস্ব প্রতিবেদক, বাঘা (রাজশাহী): গত মৌসুমের ন্যায় রাজশাহীর বাঘা থেকে প্রত্যায়ন নিয়ে চলতি মৌসুমেও ধান কাটতে এলাকা ছাড়ছেন প্রায় ২০ হাজার শ্রমিক। চলতি সপ্তাহ থেকে শ্রমিকরা এলাকার বাইরে ধান কাটতে যাওয়া শুরু করেছেন। করোনা ভাইরাস জনিত কারণে সরকারের নির্দেশনা মেনে ধান কাটতে এলাকার বাইরে যাচ্ছেন এই শ্রমিকরা।

  • উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য মতে জানা যায়, ৬ হাজার শ্রমিক ইতিমধ্যে আবেদন করে প্রত্যায়নপত্র নিয়েছেন। করেছেন। এসব শ্রমিকরা ধান কাটতে নাটোর, নওগাঁ, জয়পুরহাট, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া জেলার বিভিন্ন উপজেলায় যাচ্ছেন। শ্রমিকরা ভটভটিসহ বিভিন্ন যানবাহনে যাচ্ছেন।

এ বিষয়ে ছাতারি গ্রামের শ্রমিক দলনেতা হাফিজুল ইসলাম জানান, এসময় এলাকায় তেমন কোন কাজ থাকেনা। প্রায় দুই মাস বেকার অবস্থায় থাকতে হয়। তাই সংসার চালাতে গিয়ে অনেকে ঋণগ্রস্থ হয়ে পড়ে। তাই ধান কাটার এই মৌসুমে খাদ্য সংগ্রহের জন্য এলাকার বাইওে যায়। তবে একেক জন শ্রমিক ২০-২৫ মণ ধান নিয়ে বাড়ি ফিরেন। এই ধান খাদ্যের অভাব দুর করে এবং দেনা পাওনা শোধ করা হয়। গত মৌসুমে যানবাহন চলাচলে বিধি নিষেধ থাকায় চুক্তিভিত্তিক গাড়ি ভাড়া করে গিয়েছিলাম। আবার অনেকে বাইসাইকেল ও ভ্যান নিয়ে গিয়েছিল।

বাঘায় থামছেই না পুকুর খনন

বাঘায় পৃথক সন্ত্রাসীর হামলায় ২ যুবলীগ নেতা আহত

উপজেলা কৃষি অফিসার শফিউল্লাহ সুলতান বলেন, ধান উৎপাদিত এলাকায় প্রতিবছর এ সময় শ্রমিক সংকট দেখা দেয়। এর প্রেক্ষিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নির্দেশক্রমে করোনা ভাইরাসের মধ্যে প্রত্যায়নপত্র দিয়ে শ্রমিক পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। সেই ক্ষেত্রে উপজেলার নির্বাহী অফিসার ও আমার যৌথ স্বাক্ষরে প্রত্যয়নপত্র (অনুমতি) দেওয়া হচ্ছে। তবে এরমধ্যে কেহ যদি করোনা আক্রান্ত এলাকা থেকে নিজ এলাকায় ফিরে আসে, তাদের নমুনা পরীক্ষা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার পাপিয়া সুলতানা বলেন, যেহেতু শ্রমিকরা এক দলে কাজ করবে। সেজন্য নিজেদের সাবধনতা অবলম্বন করে দুরত্ব বজায় রেখে কাজ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বেশি বেশি পানি পান ও ঘনঘন সাবান দিয়ে হাত ধৌত করার জন্য পরামর্শ দিয়ে প্রত্যায়ন পত্র দেয়া হচ্ছে।

 উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা কৃষি অফিসারের কাছে থেকে গ্রুপ ভিত্তিক আবেদন করে প্রত্যয়নপত্র নিয়েছেন শ্রমিকরা। গত মৌসিুমে গ্রুপ ভিত্তিক আবেদন করে উপজেলা থেকে প্রায় ১৫/২০ জনের একেকটি দল ধান কাটতে গিয়েছিল প্রায় ২২ হাজার শ্রমিক। চলতি মৌসুমেও ২০ হাজার শ্রমিক পর্যায়ক্রমে ধান কাটতে যাওয়ার জন্য এলাকা ছাড়তে শুরু করেছেন।

কমিউনিটিনিউজ/ এমএএইচ 

বাঘায় থামছেই না পুকুর খনন

নিজস্ব প্রতিবেদক, বাঘা (রাজশাহী):রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় অপরিকল্পিতভাবে পুকুর খনন থামছেই না। এ বিষয়ে স্থানীয়রা বিভিন্ন স্থানে অভিযোগ করেও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছেনা। পুকুর খনননের কারনে ফসল ফলাতে না পেরে অনেকেই মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

জানা গেছে, শনিবার সকালে বাঘা উপজেলার চাকিপাড়া বিলে চলছে পুকুর খননের মহাউসৎসব। এছাড়া পুকুরর খনন করা হচ্ছে বাউসা ইউনিয়নের মধ্যে মাঝপাড়া, দিঘার চুনির বিল, কামারপাড়া বিল, পীরগাছা ও মনিগ্রাম ইউনিয়নের হেলালপুর, কলাবাড়িয়া, হাবাসপুর এবং বাজুবাঘা ইউনিয়নের হিজলপল্লী, বারখাদিয়া, নওটিকা এলাকায় ভেকু দিয়ে ব্যাপকহারে কাটা হচ্ছে পুকুর।

এই সব এলাকায় অপরিকল্পিতভাবে অসংখ্য পুকুর খনন করা হচ্ছে। ফলে বর্ষা মৌসুমে বিলে বিভিন্ন উৎপাদিত ফসলি জমিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। পুকুর খননে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে প্রায় ৫০ হাজার বিঘা জমিতে আবাদ করা সম্ভব হচ্ছে না। এদিকে পুকুর কাটার কারনে শত শত বিঘা জমিতে রোপন করা আম গাছের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

দেখা যায়নি বলে জানান তারা।

আরো পড়ুন:

মহাদেবপুরে মাঠজুড়ে বোরোর বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা

প্রতিবেশীর অত্যাচারে উচ্ছেদ আতঙ্কে অসহায় পরিবার

বাঘায় পদ্মাচরজুড়ে মিষ্টি আলুর বাম্পার আবাদ

গত ৩-৪ বছর ধরে পুকুর খননের কারণে এলাকার কৃষকরা ফসল ফলাতে পারছেন না। যেসব জমিতে বিগত সময়ে এক বছরে তিন ধরনের ফসল উৎপাদন হতো। বর্তমানে কোনো মৌসুমে ফসল ফলাতে পারছেন না কৃষকরা। ফলে শত শত কৃষক মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

দেখা যায়নি বলে জানান তারা।

আরো পড়ুন:

বাঘায় পৃথক সন্ত্রাসীর হামলায় ২ যুবলীগ নেতা আহত

বাউসা গ্রামের রতন কুমার, বারখাদিয়া গ্রামের রবিউল ইসলাম, জোতরাঘব গ্রামের চঞ্চল মাহমুদ জানান, বর্তমানে উপজেলার বিভিন্ন বিলগুলোতে যেভাবে পুকুর খনন করা হচ্ছে, তাতে দুই/তিন বছরের মধ্যে আর কোন ফসলি জমি থাকবে না। এদিকে বর্ষা মৌসুমের জন্য পদ্মা নদীর সঙ্গে ড্রেন করে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা দরকার। পুকুর খননের কারনে অনেক সমস্যায় পড়ছে এলাকার সাধারণ মানুষ। আসঙ্কাজনক হারে কমছে ফসলি জমি।

মনিগ্রাম ইউনিয়নের হাবাসপুর গ্রামের অসিত কুমার জানান, আমার আগের পুকুর মেরামত করেছি। তবে ইতিমধ্যে সেটা কাটা হয়ে গেছে। তবে নতুন করে কোন পুকুর খনন করা হচ্ছে না। স্থানীয়দের দাবি তিনি নতুনভাবে ১১ বিঘা ফসলী জমিতে পুকুর খননের কাজ করছেন।
এদিকে তেথুলিয়া গ্রামের অচিত তলা বিলে পুকুর খননকারি জামাল উদ্দিন বলেন, আমার নিচু জমিতে ফসল হয় না। তাই পুকুর খনন করছি। ভেকু না পাওয়ার কারনে চার বিঘার মধ্যে একটি মাত্র পাড় শুধু বাধা হয়েছে। এদিকে শনিবার সকালে চাকিপাড়া বিলে চলছে পুকুর খননের মহাউসৎসব।

বাউসা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান শফিকুর রহমান শফিক বলেন, পুকুর খনন চলছে শুনেছি। বিষয়টি প্রশাসনকে অবগত করা হয়েছে।
বাঘা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিউল্লাহ সুলতান বলেন, পুকুর খনের বিষয়টি জেনেছি। আগামী মাসের মাসিক সমন্বয় সভায় উপস্থাপনা করা হবে।

এ বিষয়ে বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পাপিয়া সুলতানা বলেন, যেখানে পুকুর খনন হচ্ছে, সেখানে গিয়ে অভিযান চালিয়ে ভেকু সরিয়ে নেয়ার নির্দেশ দেয়া হচ্ছে। আর যে সকল এলাকায় আরো নতুনভাবে পুকুর খনন চলছে, সেই এলাকায় অভিযান চালানো হবে এবং পুকুর খননকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কমিউনিটিনিউজ/ এমএএইচ 

আরও সংবাদ

সোমবারের (১৯ সেপ্টেম্বর) পোল্ট্রির ডিম মুরগি ও বাচ্চার পাইকারি দাম

কমিউনিটি নিউজ

বিশ্ববাজারে কমেছে গম ও ভুট্টার দাম

কমিউনিটি নিউজ

জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির প্রভাবে যশোরে কাঁচাবাজারে আগুন

কমিউনিটি নিউজ

রাজশাহীতে গাঁজাসহ যুবক আটক

কমিউনিটি নিউজ

কলার জমিতে কাটোয়া ডাটা চাষে স্বাবলম্বী নারীরা

কমিউনিটি নিউজ

ডিমের হালি ৪৪, ব্রয়লারের কেজিতে বাড়লো ১০ টাকা

কমিউনিটি নিউজ