31 C
Dhaka
আগস্ট ১৯, ২০২২

বাঘায় থামছেই না পুকুর খনন

নিজস্ব প্রতিবেদক, বাঘা (রাজশাহী):রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় অপরিকল্পিতভাবে পুকুর খনন থামছেই না। এ বিষয়ে স্থানীয়রা বিভিন্ন স্থানে অভিযোগ করেও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছেনা। পুকুর খনননের কারনে ফসল ফলাতে না পেরে অনেকেই মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

জানা গেছে, শনিবার সকালে বাঘা উপজেলার চাকিপাড়া বিলে চলছে পুকুর খননের মহাউসৎসব। এছাড়া পুকুরর খনন করা হচ্ছে বাউসা ইউনিয়নের মধ্যে মাঝপাড়া, দিঘার চুনির বিল, কামারপাড়া বিল, পীরগাছা ও মনিগ্রাম ইউনিয়নের হেলালপুর, কলাবাড়িয়া, হাবাসপুর এবং বাজুবাঘা ইউনিয়নের হিজলপল্লী, বারখাদিয়া, নওটিকা এলাকায় ভেকু দিয়ে ব্যাপকহারে কাটা হচ্ছে পুকুর।

এই সব এলাকায় অপরিকল্পিতভাবে অসংখ্য পুকুর খনন করা হচ্ছে। ফলে বর্ষা মৌসুমে বিলে বিভিন্ন উৎপাদিত ফসলি জমিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। পুকুর খননে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে প্রায় ৫০ হাজার বিঘা জমিতে আবাদ করা সম্ভব হচ্ছে না। এদিকে পুকুর কাটার কারনে শত শত বিঘা জমিতে রোপন করা আম গাছের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

দেখা যায়নি বলে জানান তারা।

আরো পড়ুন:

মহাদেবপুরে মাঠজুড়ে বোরোর বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা

প্রতিবেশীর অত্যাচারে উচ্ছেদ আতঙ্কে অসহায় পরিবার

বাঘায় পদ্মাচরজুড়ে মিষ্টি আলুর বাম্পার আবাদ

গত ৩-৪ বছর ধরে পুকুর খননের কারণে এলাকার কৃষকরা ফসল ফলাতে পারছেন না। যেসব জমিতে বিগত সময়ে এক বছরে তিন ধরনের ফসল উৎপাদন হতো। বর্তমানে কোনো মৌসুমে ফসল ফলাতে পারছেন না কৃষকরা। ফলে শত শত কৃষক মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

দেখা যায়নি বলে জানান তারা।

আরো পড়ুন:

বাঘায় পৃথক সন্ত্রাসীর হামলায় ২ যুবলীগ নেতা আহত

বাউসা গ্রামের রতন কুমার, বারখাদিয়া গ্রামের রবিউল ইসলাম, জোতরাঘব গ্রামের চঞ্চল মাহমুদ জানান, বর্তমানে উপজেলার বিভিন্ন বিলগুলোতে যেভাবে পুকুর খনন করা হচ্ছে, তাতে দুই/তিন বছরের মধ্যে আর কোন ফসলি জমি থাকবে না। এদিকে বর্ষা মৌসুমের জন্য পদ্মা নদীর সঙ্গে ড্রেন করে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা দরকার। পুকুর খননের কারনে অনেক সমস্যায় পড়ছে এলাকার সাধারণ মানুষ। আসঙ্কাজনক হারে কমছে ফসলি জমি।

মনিগ্রাম ইউনিয়নের হাবাসপুর গ্রামের অসিত কুমার জানান, আমার আগের পুকুর মেরামত করেছি। তবে ইতিমধ্যে সেটা কাটা হয়ে গেছে। তবে নতুন করে কোন পুকুর খনন করা হচ্ছে না। স্থানীয়দের দাবি তিনি নতুনভাবে ১১ বিঘা ফসলী জমিতে পুকুর খননের কাজ করছেন।
এদিকে তেথুলিয়া গ্রামের অচিত তলা বিলে পুকুর খননকারি জামাল উদ্দিন বলেন, আমার নিচু জমিতে ফসল হয় না। তাই পুকুর খনন করছি। ভেকু না পাওয়ার কারনে চার বিঘার মধ্যে একটি মাত্র পাড় শুধু বাধা হয়েছে। এদিকে শনিবার সকালে চাকিপাড়া বিলে চলছে পুকুর খননের মহাউসৎসব।

বাউসা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান শফিকুর রহমান শফিক বলেন, পুকুর খনন চলছে শুনেছি। বিষয়টি প্রশাসনকে অবগত করা হয়েছে।
বাঘা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিউল্লাহ সুলতান বলেন, পুকুর খনের বিষয়টি জেনেছি। আগামী মাসের মাসিক সমন্বয় সভায় উপস্থাপনা করা হবে।

এ বিষয়ে বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পাপিয়া সুলতানা বলেন, যেখানে পুকুর খনন হচ্ছে, সেখানে গিয়ে অভিযান চালিয়ে ভেকু সরিয়ে নেয়ার নির্দেশ দেয়া হচ্ছে। আর যে সকল এলাকায় আরো নতুনভাবে পুকুর খনন চলছে, সেই এলাকায় অভিযান চালানো হবে এবং পুকুর খননকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কমিউনিটিনিউজ/ এমএএইচ 

লকডাউন উপেক্ষা করেই চলছে হাট-বাজার, মানা হচ্ছেনা স্বাস্থ্যবিধি

নিজস্ব প্রতিবেদক, মহাদেবপুর (নওগাঁ) : মহামারি করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সারাদেশে সরকার কঠোর লকডাউন ঘোষণা করেছে। বাদ নাই  নওগাঁ মহাদেবপুরও। বিধিনিষেধ মেনে চলতে সচেতনতামূলক প্রচার, লকডাউন কার্যকর করতে মাঠে কাজ করছে উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশ। কিন্তু উপজেলা শহর, হাটবাজার ও ১০টি ইউনিয়নের অধিকাংশ গ্রামের মানুষ মানছেনা স্বাস্থ্যবিধি, মুখে নেই মাস্ক, শারীরিক দূরত্বর বালাই নেই।

শহরের বিভিন্ন এলাকায় লকডাউন উপেক্ষা করে প্রতিদিনের মতো চলছে ক্ষুদ্র ও মাঝারি গণপরিবহন। কর্মজীবিসহ সাধারণ মানুষ স্বাস্থ্যবিধির তোয়াক্কা না করে গণপরিবহনযোগে নিজ কর্মস্থলে যোগ দিচ্ছে।

আরো পড়ুন:

পুলিশের সহযোগীতায় ২ বছর পর বৃদ্ধা মর্জিনা খুঁজে পেল পরিবার

প্রত্যায়ন নিয়ে চলতি মৌসুমেও ধান কাটতে যাচ্ছেন শ্রমিকরা

অবৈধ ইটভাটায় প্রকাশ্যে পোড়ানো হচ্ছে কাঠ, উজাড় হচ্ছে গাছপালা

লকডাউনের চতুর্থ দিন শনিবার ছিলো উপজেলার বৃহত্তম ‘মহাদেবপুরহাট এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সকাল থেকেই শুরু হয় হাটে লোকজনের আনাগোনা। বেলা বাড়তে বাড়তে ব্যাপক জনসমাগম। ক্রেতা-বিক্রেতার ভিড় ঠেলে সবাই বেচাকেনায় ব্যস্ত। সবজি, মাছ-মাংশ ও গরু-ছাগলের হাটে অধিক জনসমাগম এবং একে অপরের শরীর স্পর্শ করে গাদাগাদি করে চলে বেচাকেনা। হাটে আসা অনেককে স্বাস্থ্যবিধি মানতে দেখা যায়নি। বিশেষ করে ব্যবসায়ীদের মাঝে  এ ব্যাপারে উদাসীনতা দেখা গেছে।

ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে,  গরম লাগে-এমন নানা অজুহাতে ব্যবসায়ীদের অনেককে মাস্ক পরতে দেখা যায়নি বলে জানান তারা।

আরো পড়ুন:

মহাদেবপুরে মাঠজুড়ে বোরোর বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা

প্রতিবেশীর অত্যাচারে উচ্ছেদ আতঙ্কে অসহায় পরিবার

এদিকে, উপজেলার ব্যস্ত সড়কগুলোতে তেমন একটা ভিড় নেই। মূলসড়কের চেয়ে ভিন্নচিত্র শহরের অলিগলিতে। সংশ্লিষ্টদের বৃদ্ধাআঙ্গুলী দেখিয়ে চলছে গণপরিবহন। কাজের অপেক্ষায় কোথাও কোথাও শ্রমিকদের দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। দোকানপাট ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানও খোলা রয়েছে। যানবাহন চলাচলে শুধুমাত্র মাছ চত্বর এলাকায় পুলিশ চেকপোস্ট পার হতে হচ্ছে। কোভিড সংক্রমণ রোধে ঘোষিত লকডাউনের ৪র্থ দিনের এ চিত্র শহরের বিভিন্ন জায়গায়।

মহাদেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজম উদ্দিন মাহমুদ বলেন, ‘অযথা ঘোরাঘুরি কিংবা অজুহাত দেখিয়ে বাইরে আসা লোকদের পুলিশের জেরার মুখে পড়তে হচ্ছে। সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক লকডাউন কার্যকরে পুলিশ সার্বক্ষণিক কাজ করছে।’

মহাদেবপুর উপজেলা করোনাভাইরাস প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি ইউএনও মিজানুর রহমান মিলন বলেন, ‘কঠোর বিধিনিষেধ (লকডাউন) বাস্তবায়নে প্রতিনিয়ত উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান চালানো হচ্ছে। জরুরি পরিসেবা চালু আছে। ওষুধ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দোকান ছাড়া বাকি সব বন্ধ আছে।’ তিনি বলেন, ‘স্বাস্থ্যবিধি মেনে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চত করে মহাদেবপুর হাট বসানোর জন্য উপজেলা প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরের ভেটেরিনারী সার্জন ডা. গোলাম রাব্বানীকে প্রধান করে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। হাটে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করলে খোঁজ নিয়ে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।’

কমিউনিটিনিউজ/ এমএএইচ 

আরও সংবাদ

রাজশাহীতে গাঁজাসহ যুবক আটক

কমিউনিটি নিউজ

রাজশাহী কলেজে চালু হলো মেধাবৃত্তি

কমিউনিটি নিউজ

পুলিশের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে নিজের মোটরসাইকেলে আগুন দিলেন যুবক

কমিউনিটি নিউজ

২০ টাকার নাপা সিরাপ ৩৫ টাকায় বিক্রি, জরিমানা

কমিউনিটি নিউজ

আমের দামে খুশি রাজশাহীর চাষিরা

কমিউনিটি নিউজ

রামেক হাসপাতালে ভর্তি সাবেক খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম

কমিউনিটি নিউজ