33 C
Dhaka
আগস্ট ৯, ২০২২

পুলিশের সহযোগীতায় ২ বছর পর বৃদ্ধা মর্জিনা খুঁজে পেল পরিবার

নিজস্ব  প্রতিবেদক, মহাদেবপুর (নওগাঁ) : নওগাঁর মহাদেবপুরে রাস্তার পাশে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা বৃদ্ধা মর্জিনা বেগমকে (৮০) উদ্ধার করে পরিবারের নিকট পৌঁছে দিয়েছে থানা পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৫ এপ্রিল) রাত আড়াইটার দিকে রাজশাহী জেলার পবা থানার হাটপারিলা গ্রামে বৃদ্ধার বাড়িতে ছেলে মজিবর এবং তার পরিবারের কাছে পৌঁছে দেয়া হয়। তাকে বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে প্রশংসায় ভাসছে মহাদেবপুর থানা পুলিশ। মর্জিনা বেগম এর পরিবার জানিয়েছে প্রায় দুই বছর পর তাদের মাকে ফিরে পেয়েছেন।

থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৩ এপ্রিল রাত ১০ টা ২১ মিনিটের দিকে ‘জাতীয় জরুরী সেবা-৯৯৯’ থেকে ফোনে জানানো হয় উপজেলা সুজাইল রাস্তার পাশে এক বয়োবৃদ্ধ মহিলা অভুক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। তার বয়স প্রায় ৯৫ থেকে ১০০ বছর হবে। ফোন পাওয়ার কিছু সময়ের মধ্যে মহাদেবপুর থানা পুলিশ সেখানে উপস্থিত হয়ে জীর্ণশীর্ণ অবস্থায় বয়োবৃদ্ধ মহিলাকে উদ্ধার করে। সেখানে তার জন্য পানীয় এবং আহারের ব্যবস্থা করা হয়।

তিনি শারীরিকভাবে এতোই দুর্বল ছিলেন যে কথাও ছিল অস্পষ্ট। নিজের নাম পরিচয় ও ঠিকানা ঠিকমতো বলতে পারছিলেন না। তাকে উদ্ধার করে থানা পুলিশের তত্ত্বাবধানে মহাদেবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হয়।

মহাদেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজম উদ্দিন মাহমুদ বলেন, ‘বৃদ্ধা মর্জিনা বেগমের চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি আমরা সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে তার ছবি ছড়িয়ে দিয়ে পরিচয় জানার জন্য চেষ্টা করি। অবশেষে তার সঠিক পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়। পরে পুলিশ সুপার আবদুল মান্নান মিয়া স্যারের নির্দেশে বৃহস্পতিবার রাত আড়াইটার দিকে রাজশাহীর পবা থানার হাটপারিলা গ্রামে বৃদ্ধার বাড়িতে উপস্থিত হয়। তার ছেলে মজিবর এবং তার পরিবারের কাছে পৌঁছে দেয়া হয়।’

বৃদ্ধার পরিবারের বরাত দিয়ে ওসি আরো বলেন, ‘প্রায় দুই বছর আগে স্বামী পরিত্যক্তা মর্জিনা বেগম তার ছেলে মজিবরের সাথে বসবাস করাকালীন সময়ে নিখোঁজ হয়। মর্জিনার তিন মেয়ে ও এক ছেলে। দুই বছর যাবত ছেলেমেয়েরা তাদের মাকে খোঁজাখুঁজি করে কোথাও পায়নি। মা’কে না পাওয়ার পর তারা আশা ছেড়েই দিয়েছিলেন। মর্জিনা বেগমকে দুই বছর পর ফিরে পেয়ে তার পরিবারের সদস্যরা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

কমিউনিটিনিউজ/ এমএএইচ 

হেফাজতের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে সরকার

কমিউনিটিনিউজ ডেস্ক: স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে ধ্বংসাত্মক তৎপরতা চালানোয় হেফাজতে ইসলামের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। ইতোমধ্যে ভিডিও ফুটেজ দেখে ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান শুরু হয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে তাণ্ডব ও ধ্বংসাত্মক ঘটনার দায়ে হেফাজতে ইসলামের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সরকার।

সরকারের সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, এই সব ঘটনার ভিডিও ফুটেজ রয়েছে সরকার ও প্রশাসনের হাতে।  ইতোমধ্যেই কিছু সংখ্যক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এসব ধ্বংসাত্মক ঘটনায় অর্ধশতধিক মামলা হয়েছে হেফাজতের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এছাড়াও ২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজত অবস্থান নিয়ে যে তাণ্ডব চালায় তারও মামলা রয়েছে। সেই মামলাগুলোও সক্রিয় করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।ধ্বংসযজ্ঞে সরাসরি যারা জড়িত এবং যারা নেতৃত্ব ও নির্দেশ দিয়েছন তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে সরকার। এই প্রক্রিয়া থেকে হেফাজতের শীর্ষ নেতাও বাদ পড়বেন না। তাদেরও গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হতে পারে বলে সূত্রগুলো জানায়।

আরো পড়ুন:

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে হেফাজত কর্মসূচি দিয়ে তাণ্ডব চালায়। এসব ঘটনা ঘটিয়ে হেফাজত রাষ্ট্রের ও মহান স্বাধীনতার বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে বলে সরকার ও আওয়ামী লীগ মনে করছে। এ বিষয়গুলোকে সরকার আর স্বাভাবিকভাবে দেখছে না। এ ধরনের ঘটনার পর হেফাজতের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে তারা আরও অগ্রসর হবে বলে আওয়ামী লীগের নেতারা মনে করছেন। তাই আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঘটাতে না পারে।

গত ১৩ এপ্রিল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, যারা ধর্মের নামে স্বার্থ হাসিলের নোংরা রাজনীতি করছে এবং সম্পদ নষ্ট করছে, ভিডিও ফুটেজ দেখে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তাদের ধরা হচ্ছে।

এর আগে গত ৪ এপ্রিল জাতীয় সংসদের অধিবেশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালও বলেছিলেন ভিডিও ফুটেজ দেখে তাণ্ডবে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গত  বছর হেফাজতে ইসলামের আমির আহমদ শফীকে মানসিকভাবে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করে তার পরিবার। তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করার অভিযোগে পরিবারের পক্ষ থেকে হেফাজতের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। সেই মামলায়ও হেফাজতের শীর্ষ নেতারা ফেঁসে যেতে পারেন।

আরো পড়ুন:

চারঘাটে শর্ট সার্কিটের আগুনে গরুসহ ৩টি বাড়ি পুড়ে ছাই

গাছে বেঁধে কিশোর নির্যাতন, অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য গ্রেপ্তার

শীতার্তদের পাশে রাজশাহী কলেজ ‘বুনোদল’

সরকার ও আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সরকার ও আওয়ামী লীগ হেফাজতে ইসলামের বিষয়ে অনেকটাই নমনীয় ছিলো। বিভিন্ন সময় তাদের কিছু দাবি-দাওয়া মেনে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু গত বছর হেফাজত ঢাকায় বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য স্থাপনের বিরোধিতা করে এবং কুষ্টিয়াতে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুর করে। বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য টেনেহিঁচড়ে নদীতে ফেলে দেওয়ার মতো ঔদ্ধত্যপূর্ণ হুমকি দেন হেফাজতের নেতারা। এর পর সুনামগঞ্জের শাল্লায় হিন্দু ধর্মালম্বীদের বাড়িঘর ও মন্দিরে ভাঙচুর করা হয়।

আরো পড়ুন

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাংলাদেশ সফরের বিরোধিতা করে ২৬ মার্চে এবং তার পর কয়েক দিন ধরে চট্টগ্রাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নারায়ণগঞ্জ, ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে হেফাজতের কর্মসূচি থেকে ব্যাপক তাণ্ডব চালানো হয় এবং সহিংসতার ঘটনা ঘটে। সেই সময় হেফাজতের নেতাকর্মীরা সরকারি অফিসসহ বিভিন্ন স্থাপনায় আগুন দেন এবং ধ্বংসাত্মক তৎপরতায় লিপ্ত হন। হেফাজতের নেতাকর্মীরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মুরালসহ বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন। রেললাইন, রেলস্টেশন, ভূমি অফিসসহ সরকারি বিভিন্ন অফিস, থানায় হামলা ও অস্ত্র লুট, ইউএনও অফিস, আওয়ামী লীগ অফিস, বাড়িঘর কোনো কিছুই হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ থেকে বাদ পড়েনি।

কমিউনিটিনিউজ/ এমএএইচ 

আরও সংবাদ

রাজশাহী কলেজে চালু হলো মেধাবৃত্তি

কমিউনিটি নিউজ

পুলিশের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে নিজের মোটরসাইকেলে আগুন দিলেন যুবক

কমিউনিটি নিউজ

২০ টাকার নাপা সিরাপ ৩৫ টাকায় বিক্রি, জরিমানা

কমিউনিটি নিউজ

আমের দামে খুশি রাজশাহীর চাষিরা

কমিউনিটি নিউজ

রামেক হাসপাতালে ভর্তি সাবেক খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম

কমিউনিটি নিউজ

রাজশাহীতে জাল ভোট দেওয়ায় আটক ২

কমিউনিটি নিউজ