31 C
Dhaka
সেপ্টেম্বর ২২, ২০২১

জরাজীর্ণ ভবনে চলছে ইউপি’র কার্যক্রম, রাতে মাদক আড্ডা

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাণীনগর (নওগাঁ) : জীবনের ঝুকি নিয়ে জরাজীর্ণ ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের নিচে বসে চেয়ারম্যান, সচিব, সদস্যরা সেবাদান কার্যক্রম অব্যাহত রাখলেও কারো কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। সেই সাথে প্রতিদিন সেবা নিতে আসা মানুষরা যতক্ষণ সেখানে থাকেন চরম আতংকে থাকতে হচ্ছে।

পরিষদের চারদিকে নিরাপত্তা বেষ্টনী নড়বড়ে হওয়ার রাতের আধারে মাদকসেবীদের আসর বসে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

জানা গেছে, নিজস্ব ভবন না থাকায় ভাড়ায় চলতো ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম । বিগত জোট সরকারের আমলে খাঁনপুকুর নামক স্থানে চৌধুরীদের পুকুরের পাশে ৬৬শতাংশ জমি ক্রয় করে একটি দ্বিতল ভবন ও পাশে একতলা একটি ভবন নির্মাণ করে।

দীর্ঘদিন যাবত এই ভবনগুলোর কোন সংস্কার কিংবা মেরামত না করার কারণে বর্তমানে দুটি ভবনই অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ন হয়ে পড়েছে। প্রতিদিনই ভবনের ছাদ থেকে পলেস্তার খুলে পড়ছে। খুলে পড়ছে পোকায় নষ্ট হওয়া দরজা-জানালাসহ অন্যান্য উপকরনগুলো।

জানালার গ্রিলগুলো মরিচায় নষ্ট হয়ে গেছে। পরিষদের গ্রাম আদালত কক্ষ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ন হওয়ার কারণে বর্তমানে এজলাস কক্ষে পরিষদের সকল প্রকারের বিচার কার্য পরিচালনা করা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।

এছাড়াও পরিষদের চারদিকে নিরাপত্তা বেষ্টনী নড়বড়ে হওয়ার কারণে রাতের বেলায় এখানে বসে মাদকসেবীদের আড্ডা। পরিষদের অনেক মূল্যবান জিনিস রাতের আঁধারে চুরিও হয়ে গেছে।

অনেক সময় পরিষদে সেবা নিতে আসা বিভিন্ন মানুষের মাথায় পলেস্তার খুলে পড়ে একাধিকবার ঘটেছে দুর্ঘটনার। তবুও জনগুরুত্বপূর্ন এই প্রতিষ্ঠানে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিনিয়তই সেবা দিয়ে আসছে সংশ্লিষ্টরা।

পরিষদে সেবা নিতে আসা রাতোয়াল গ্রামের রহিদুল ইসলাম রাইপ, আব্দুর রাজ্জাক, মাসুদ রানাসহ অনেকেই বলেন পরিষদে কোন সেবা নিতে আসলে ভয়ে ভয়ে থাকতে হয়। তাই সেবা নেওয়া সময় পর্যন্ত পরিষদের বাহিরে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়।

বর্তমান সরকারের সবকিছুতে আধুনিকতা ও ডিজিটাল উন্নয়নের ছোঁয়া লাগলেও এমন জনগুরুত্বপূর্ন প্রতিষ্ঠানে এখন পর্যন্ত উন্নয়নের কোন ছোঁয়াই স্পর্শ করেনি। এটি এই ইউনিয়ন বাসীদের জন্য অত্যন্ত দু:খজনক একটি বিষয়।

দেশের প্রত্যন্ত গ্রামা লে শহরের সুবিধা পৌছে দেওয়ার আগে এই ইউনিয়ন পরিষদকে আধুনিকায়ন করা অত্যন্ত জরুরী এবং সময়ের দাবী।

পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম বাবলু বলেন আমি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর নিজ উদ্যোগে ঝুঁকিপূর্ন পুরো ভবনের মধ্যে চেয়ারম্যানের বসার ঘরটি কোন মতে সংস্কার করেছি।

পরিষদের পুরো ভবনগুলো সংস্কার করার মতো বিপুল পরিমাণ অর্থ জোগান দেওয়া পরিষদের পক্ষে সম্ভব নয়। কিন্তু সেবা দেওয়া জরুরী বলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আমরা প্রতিদিনই চেষ্টা করছি পরিষদে আসা মানুষদের মানসম্মত সেবা দিতে।

পরিষদ ভবনের এমন জরাজীর্ণ অবস্থা উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানিয়েছি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুশান্ত কুমার মাহাতো বলেন, পরিষদ ভবন পরিদর্শন করে জেলা প্রশাসক স্যারকে জানিয়েছি। দ্রুত সংস্কার বা নতুন ভবন নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে লিখিত ভাবে জানানো বলে তিনি জানিয়েছেন।

আরও সংবাদ

গোপনে ৪০ মণ সরকারি বই বিক্রি করলেন প্রধান শিক্ষক

কমিউনিটি নিউজ

রাজশাহীতে শিক্ষিকার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

কমিউনিটি নিউজ

রাজশাহীতে বেড়েছে মাছের দাম, মুরগির কেজি ২৬০ টাকা

কমিউনিটি নিউজ

শিক্ষার্থীদের লাগানো গাছ কেটে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা

কমিউনিটি নিউজ

হাওর অঞ্চলের মৎস্যসম্পদ উন্নয়নে ব্যাপক পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে : মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী

কমিউনিটি নিউজ

বাংলাদেশও উন্নতশীল দেশের কাতারে দাঁড়াবে : জনপ্রশাসন সচিব

কমিউনিটি নিউজ