31 C
Dhaka
সেপ্টেম্বর ২২, ২০২১

মাছ কেটে ৩০ বছর সংসার চালান তুজিন

হাসনাত হাকিম, কমিউনিটিনিউজ:  “মাছ কাটছি ৩০ বছর। ছোট থেকে এই পেশায় থাকায় এখন অভ্যাস হয়ে গেছে। এটাই আমার রটি-রুজি। দিনে যে দু-তিনশ টাকা দেয় মহাজন; সেটা দিয়েই সংসার চালাই।” কথাগুলো বলছিলেন, মো: তুজিন (৫৩)। নব্বইয়ের দশক থেকে মাছ কেটে জীবীকা নির্বাহ করছেন তিনি। এই পেশায় ৩ দশক পেরিয়ে এখন দস্তুর অভিজ্ঞ তুজিন।

রাজশাহীর সাহেববাজার মাস্টারপাড়া মাছের বাজারে গেলে দেখা মিলবে এরকম ৪০ থেকে ৫০ জন দিনমজুরের। প্রতিটি মাছের দোকানে যেসব মাছ বিক্রি হয় সবগুলো কেটে দেন পিসি-পিস করে দেন তারা। বিনিময়ে মজুরি হিসেবে মহাজন টাকা দেয়। করোনার পূর্বে দিনে ৫০০ টাকা পেলেও এখন পাচ্ছেন ২০০ টাকা।

দুই ছেলে, স্বামী-স্ত্রী, শশুর-শাশুড়ীসহ মোট ৬ জনের পরিবার। বাবার সংসারের অভাব অনটন দূর করতেই ছোটকালে এসেছিলেন এই পেশায়। এখন নিজের সংসার চলে। বড়ছেলেকে সংসারের অভাবে পড়াশোনা না করাতে পারলেও ছোটছেলেকে পড়াশোনা করান।

করোনার প্রভাব পড়েছে তুজিনের মতো এই পেশার ৫০ পরিবারের। রাজশাহীতে মেস খাবারের হোটেল বন্ধ থাকায় কমে গেছে মাছের বিক্রি। অনেক মাছব্যবসায়ী ব্যবসা ছেড়েছেন। ফলে এই অভিজ্ঞ মজুরদের দিনাতিপাত করা দূর্বিষহ হয়ে উঠেছে। রাজশাহী সৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির তথ্য অনুযায়ী এরকম দিনমজুর রয়েছে প্রায় দেড়শ জন। এখন সে সংখ্যা পঞ্চাশের কোটায়!

কথা হয় তুজিনের সাথে। তিনি বলেন,  “করোনার এই মহামারিতে মানুষজন বাজারে আসেনা, বাজার করে না। মাছ বিক্রি কমে যাওয়ার কারণে মহাজন আগেরমতো টাকা দিতে পারেনা। আগে ৫০০ টাকা দিন দিলেও এখন অর্ধেকও দেয় না। সংসার কোনমতে চলছে। মনে হয় আত্মহত্যা করি।”

৩০ বছর ধরে মাছ কাটা বিষয়ে তাঁর কাছে জানতে চাইলে বলেন, আগে হাতেগুনা দু-একজন মাছ কিনে কেটে নিত। এখন ছোট হোক বড় হোক সব মাছ কেটে দিতে হয়। মাছ কাটা এটা আমার অভ্যাসে পরিণত হয়ে গেছে। মাছ কাটতে আমার অনেক ভালো লাগে। দিনে ৫০ থেকে ৬০ মণ মাছ কাটলে আমার কোনো সমস্যা হবে না বরং ভালই লাগবে। এটা খুব আনন্দের সাথে নিয়ে চলি। যখন কোন কাজ আনন্দের সাথে নেয়া হবে সেটা অবশ্যই ভালো হবে। তার ছেলেরাও বাবার এ কাজকে সম্মান দেয়।

মাছ ব্যবসায়ী বাবু বলেন,  “শিক্ষা নগরীতে নাই শিক্ষার্থী। শিক্ষার্থী ছাড়া বাজার জমে না। সাধারণ মানুষ দুই একটা আসতে চাই কিন্তু এখন আরো আসতে পারেনা লকডাউনের কারণে। অনেকে রিকশা থেকে ঘুরে চলে যান । তাদেরকে রিকশা থেকে নামিয়ে দেয় পুলিশ। লোকজন বাজারে আসতে পারেনা। কেউ যদি হেঁটে আসে বেশি  বাজার করতে পারেনা। হেঁটে যাওয়ার ভয়ে।”

মাছ ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক বাবলু কমিউনিটিনিউজকে বলেন, আমার সমিতির ৩’শ জন ব্যবসায়ী আছে। তাদের কাছে এরকম মাছ কাটার জন্য মজুর থাকে। দিনে ৩’শ থেকে ৫’শ টাকা দিতে হয়। কিন্তু বাজার আস্তে আস্তে ছোট হয়ে আসছে। ব্যবসা কমে যাচ্ছে। কারণ আমাদের মাছ আনলোড করার জন্য যদি কোন জায়গা থাকতো তাহলে আমাদের জন্য ভাল হত। আর যদি গাড়ি পার্কিংয়ের জায়গা থাকতো সেটাও ভালো হতো। সেখানে আমাদের মত ব্যবসায়ীরা লসে পড়তো না। রাজশাহীতে ফুটপাতে অনেক অনেক জায়গাতে মাছের বাজার বসে গেছে। যার ফলে রাজশাহী সাহেব বাজার লসের ভিতরে পড়ে গেছে। সরকারের কাছে আকুল আবেদন করছি এ ধরনের ফুটপাতের বাজারগুলো যেন দ্রুততার সহিত উঠিয়ে দেয়া হয়। যাতে করে মুল বাজারে মানুষের যাতায়াতের সুযোগ-সুবিধা ভালো হয়। এবং বেচাকেনা ভালো হয়।

কমিউনিটি/এমএইচ

আরও সংবাদ

গোপনে ৪০ মণ সরকারি বই বিক্রি করলেন প্রধান শিক্ষক

কমিউনিটি নিউজ

এক দিনে আরও ২৬ জনের মৃত্যু

কমিউনিটি নিউজ

বাড়তে পারে গমের দাম

কমিউনিটি নিউজ

রাজশাহীতে শিক্ষিকার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

কমিউনিটি নিউজ

তিন মাস ২৪ দিন পর সবচেয়ে কম মৃত্যু

কমিউনিটি নিউজ

রাজশাহীতে বেড়েছে মাছের দাম, মুরগির কেজি ২৬০ টাকা

কমিউনিটি নিউজ