33 C
Dhaka
মে ১৫, ২০২১

যে কারণে খাবেন গরম পানি

যে কারণে খাবেন গরম পানি

স্বাস্থ্য ডেস্ক: পর্যাপ্ত পানি পান করলে শরীর অনেক অসুখ থেকে মুক্ত থাকে, এমনটা আমরা সবাই জানি। একজন প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের প্রতিদিন আট গ্লাস পানি পান করা যথেষ্ট। অনেকে এর থেকে বেশিও পান করে থাকেন। কিন্তু এরপরও তাদের সমস্যা কমে না। তাদের ত্বক, চুল কিংবা শরীরে পানির অভাবে সমস্যা দেখা যায়। আসলে কখন কতটুকু পানি পান করা উচিত তা আমরা অনেকেই জানি না।

গরমকালে ফ্রিজের ঠান্ডা পানি পান করে প্রাণ জুড়ানোর অভ্যাস আছে অনেকেরই। এতে সাময়িক প্রশান্তি মিললেও আসলে তা ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই গরমে ঠান্ডা পানি নয়, গরম পানি পান করা ভালো। এর কারণ হলো, গরম পানি পান করার অনেক উপকারিতা রয়েছে, যা ঠান্ডা পানি পান করলে পাওয়া যায় না।

হজম শক্তি বৃদ্ধি করে

গরম পানি হজম শক্তিকে বৃদ্ধি করে। পাকস্থলী এবং অন্ত্রের মধ্য দিয়ে যাবার সময় হজম অঙ্গগুলিকে আরও ভালোভাবে হাইড্রেটেড করে, যার ফলে বর্জ্য বস্তু শরীর থেকে নিষ্কাশিত হয় এবং হজম ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। রাতে ঘুমানোর আগে এক গ্লাস গরম পানি পান করুন।

প্রাকৃতিকভাবে বিশুদ্ধ রাখে

আমাদের শরীরে নানা রকম বিষাক্ত পদার্থ জমানোর জন্য অনেকটাই দায়ী আমাদের খাদ্যাভ্যাস। আমরা প্রায় সবাই অতিরিক্ত মশলাদার, ভাজাপোড়া জাতীয় খাবার খেতে পছন্দ করি। আবার খাবার খাওয়ার জন্য নির্দিষ্ট সময়ও মানি না। এসব কারণে শরীরে বিষাক্ত পদার্থের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। এর বাইরে দূষণ ও জীবনযাপনের নানা অনিয়ম তো রয়েছেই। যেসব ডিটক্স ড্রিংক উপকারী, তা তৈরি করে খাওয়ার সময় মেলে না অনেকেরই। তাই আপনি যদি চান শরীর বিষমুক্ত, সুস্থ থাকুক তবে গরম পানি পানের অভ্যাস করুন। গরম পানি পান করলে তা আমাদের শরীরের তাপমাত্রা বাড়ায়। এর ফলে ঘাম হয়। শরীরে জমে থাকা বিষাক্ত পদার্থ ঘামের সঙ্গে বের হয়ে যায় অনেকটাই।

কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে 

এটি বহু মানুষের একটি সাধারণ সমস্যা। এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে রাত্রে ঘুমানোর আগে এবং সকালে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে এক গ্লাস করে গরম পানি পান করুন। এটি অন্ত্রের মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় অন্ত্রকে সংকুচিত করে বর্জ্য পদার্থ দূর করতে সহায়তা করে।

যে তাপমাত্রায় গরম পানি খাবেন

অত্যাধিক তাপমাত্রা যুক্ত গরম পানি খাবেন না। ৬০ ডিগ্রি তাপমাত্রা বা তার কম তাপমাত্রা যুক্ত পানি পান করুন। সাধারণ অর্থে, ঈষদুষ্ণ পানি পান করুন। নাহলে জিভ পুড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

শরীরের ব্যথা থেকে মুক্তি দেয়

গরম পানি পান করলে রক্ত সঞ্চালন ভালোভাবে হয় বলে এটি শরীরের প্রতিটি স্নায়ুকে সচল রাখতে সাহায্য করে, যা শরীরের বিভিন্ন ব্যথা থেকে মুক্তি দেয়। মাথা যন্ত্রণা, গাঁটে গাঁটে ব্যথা, মহিলাদের ক্ষেত্রে মাসিক ঋতুচক্রের খিঁচুনিতেও আরামদায়ক গরম পানি।

সাইনাসের সমস্যা দূর করে

গরমেও অনেকের গরম-ঠান্ডার কারণে সর্দি লেগে যেতে পারে। অনেকের আবার রয়েছে সাইনাসের সমস্যা। সর্দি-কাশি কিংবা ঠান্ডা লাগার সমস্যায় গরম পানি উপকারী একথা জানেন নিশ্চয়ই। তাই এ ধরনের সমস্যা দেখা দিলে গরম পানি পান করুন। নিয়মিত গরম পানি পান করলে তা জমে থাকা মিউকাস দূর করতে সাহায্য করে। এতে গলা ব্যথার মতো সমস্যাও দ্রুত ভালো হয়।

রক্ত সঞ্চালন ঠিক রাখে

গরম পানি শরীরের ব্লাড ভেসেলস্কে সক্রিয় রাখতে সাহায্য করে। ফলে প্রতিটি নার্ভ সচল থাকে, যা শরীরকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।

দ্রুত হজম হয়

হজমের সমস্যা হলে গরম পানি পানের অভ্যাস করুন। প্রয়োজনীয় পানি পান না করলে ক্ষুদ্রান্ত আমাদের শরীরের ভেতর থেকে পানি শোষণ করে। এর ফলে দেখা দেয় পানিশূন্যতা এবং হজমের নানা সমস্যা। এভাবে চলতে থাকলে দেখা দিতে পারে কোষ্ঠকাঠিন্য, গ্যাস ও পেট ফাঁপার মতো সমস্যা। তাই ঠান্ডা পানির বদলে গরম পানি পান করুন। এটি পুরো হজম প্রক্রিয়ায় সাহায্য করবে। তবে ফুটন্ত গরম পানি পান করবেন না, হালকা গরম হলেই যথেষ্ট।

অনিয়মিত পিরিয়ড ও ব্যথা থেকে মুক্তি দেয়

মহিলাদের ক্ষেত্রে গরম পানি পান করার একটি বড় সুবিধা হলো, এটি অনিয়মিত ঋতুস্রাব ঠিক করতে এবং ঋতুস্রাবের ব্যথা থেকে উপশম দিতে সহায়তা করে। অনেক সময় রক্ত জমাট বেঁধে তা বেরোতে না পারলে ব্যথা হতে থাকে। এই সময় গরম পানি পান করলে জমাট বাধা রক্ত ভেঙে গিয়ে ব্লাড ফ্লো সঠিকভাবে হয়, যা ব্যথা থেকে মুক্তি দেয়।

ওজন বৃদ্ধির ভয় নেই

ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য অনেকেই গরম পানি পানের অভ্যাস করেন। হালকা গরম পানি শরীরের মেটাবলিজম বাড়িয়ে অতিরিক্ত ফ্যাট ঝরাতে সাহায্য করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খাবার খাওয়ার আগে দুই গ্লাস হালকা গরম পানি খেলে মেটাবলিজম রেট অন্তত ত্রিশ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। এর ফলে শরীরে জমে থাকা বাড়তি মেদ দ্রুত ঝরে। সকালে ঘুম থেকে ওঠার পরেও হালকা গরম পানি পান করলে উপকার পাওয়া যায়।

কীভাবে এবং কখন পান করবেন

প্রতিদিন রাতে খাওয়ার পরে ঘুমাতে যাওয়ার আগে এক গ্লাস গরম পানি পান করুন। আবার সকালে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে এক গ্লাস গরম পানি পান করুন। সকালে এই গরম পানির সঙ্গে মধু বা লেবু মিশিয়ে পান করতে পারেন।

যে তাপমাত্রায় গরম পানি খাবেন

অত্যাধিক তাপমাত্রা যুক্ত গরম পানি খাবেন না। ৬০ ডিগ্রি তাপমাত্রা বা তার কম তাপমাত্রা যুক্ত পানি পান করুন। সাধারণ অর্থে, ঈষদুষ্ণ পানি পান করুন। নাহলে জিভ পুড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

কমিউনিটিনিউজ/এমএএইচ

আরও সংবাদ

যুক্তরাজ্যের ভ্রমণে লাল তালিকায় বাংলাদেশ

কমিউনিটি

বাংলাদেশসহ চার দেশকে আমিরাত প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা

কমিউনিটি

দেশে করোনায় ৩৮ জনের মৃত্যু

কমিউনিটি

করোনায় রাজশাহী জেলা আ.লীগ সভাপতি মেরাজ মোল্লার ইন্তেকাল

কমিউনিটি

বিশ্বে আরও ১৩ হাজার মানুষের মৃত্যু

কমিউনিটি

দেশে আরও ৪৫ জনের মৃত্যু

কমিউনিটি