33 C
Dhaka
আগস্ট ১২, ২০২২

অপর্যাপ্ত ব্যবস্থাপনায় চলছে চিকিৎসা, বাড়ছে করোনা সংক্রমণ-ভোগান্তি

হাসনাত হাকিম: রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ক্রমবর্ধমান করোনা রোগীর চাপে হাসপাতালের উত্তরের একটি বিল্ডিংয়ের তিন তলায় অবস্থিত ২৫ নম্বর চক্ষু ওয়ার্ডকে করোনা ওয়ার্ড হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। যে ওয়ার্ডটি এখনো পুরোপুরি প্রস্তুত হয়নি। কিন্তু রোগী বাড়তে থাকাই অর্ধপ্রস্তুতকৃত এই ওয়ার্ডেই চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। আইসিইউ ও অক্সিজেন সংকটসহ পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকলেও থেমে নেই চিকিৎসা। তবে সংকটের সঙ্গে ব্যবস্থাপনাগত ত্রুটিগুলোকেও করোনা রোগীদের কার্যকর সেবা নিশ্চিতের প্রতিবন্ধকতা হিসেবে দায়ী করছেন রোগীর স্বজনসহ সংশ্লিষ্ঠরা।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে রামেক হাসপাতালে ৮৬ জন করোনা রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। হাসপাতালে করোনা রোগীদের জন্য মাত্র ১০ টি আইসিইউ ও ১৮ টি ভেন্টিলেটর সুবিধা রয়েছে। কিন্তু বিদ্যমান আইসিইউ এর চেয়ে আইসিইউ লাগবে এমন রোগীর সংখ্যা প্রায় দ্বিগুন। এখন প্রতিদিন প্রায় ৮ থেকে ১০ জন রোগীকে সিরিয়ালের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে। অক্সিজেন এর সংকট রয়েছে। এতে পর্যাপ্ত আইসিইউসহ অক্সিজেনের কারণে রোগীকে যেমন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে তেমনি আইসিইউ এর অপেক্ষার প্রহর গুনতে গুনতে রোগী মারাও যাচ্ছে।

করোনা রোগী বাড়তে থাকায় তিন তলায় অবস্থিত চক্ষু ওয়ার্ডটিকে করোনা ওয়ার্ড হিসেবে প্রস্তুত করা হয়েছে। কিন্তু এই ওয়ার্ডে করোনার রোগীদের জন্য খুবই কষ্টকর। কেননা এখানে কোন লিফটের ব্যবস্থা নেই। একজন করোনা রোগীকে হেটে এই তিন তলায় উঠতে হচ্ছে। এতে রোগীর শারীরিক অবস্থারও অবনতি হচ্ছে বলে জানা যায়।

হাসপাতালের নাম বলতে অনিচ্ছুক এক আয়া বলেন, “এই ওয়ার্ডে (২৫ নং ওয়ার্ড) রোগীর চিকিৎসা তো দূরে থাক সিঁড়ি বেয়ে উঠতে উঠতেই মরবে (মৃত্যু হবে)। শুনলাম এক বৃদ্ধ রোগি এই সিঁড়ি বেয়ে ওঠার পর তার অবস্থা আরো খারাপ হয়েছে। ওনার নাকি আইসিইউ দরকার ছিলো সেখানেও নাকি একগাদা (অনেক) সিরিয়াল। বাঁচবে কি মরবে কে জানে! তবে মরুক (মৃত্যু) আর বাচুক (বেঁচে থাকা) বাবা আমি এই ট্রলি ধরতে পারবো না। সেই তিন তলাই এই ট্রলি নিলে নিজেই মরবো। তই (তবে) যাই বলি রোগিদের স্বজনদের সহযোগিতাতো করবই। তারাও তো আর শখ করে এখানে আসেনি।

অন্যদিকে, এই ওয়ার্ডের আরেকজন রোগীর স্বজন মোসা. রজিনা বেগম কান্নাজনিত স্বরে বললেন, আমার রোগিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে নিয়ে এসেছি। শ^াসকষ্ট হওয়ায় ডাক্তার এখানে পাঠিয়েছে। এখনো কোন বেড পাইনি, অক্সিজেন পাইনি। এই ওয়ার্ডের বারান্দায় রোগিকে রেখেছি। সে আমার স্বামী। আমরা দু’জনেই এসেছি। বাসায় ছোট ছেলে আছে। তাকেও নিয়ে আসিনি। এটা কি ভালো জায়গারে ভাই?

এমন অনেক প্রশ্নের সঙ্গেই করোনা রোগীদের নিয়ে হাসাপাতালের ব্যবস্থাপনাগত ক্রটির চিত্র তুলে ধরছেন, রোগী ও তার স্বজনরা।
এক রোগীর স্বজন আকাশ আলি জানান, তার রোগীকে করোনার লক্ষণসহ ২৫ নং ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। রোগীকে তিন তলা হেঁটে উপরে উঠতে হয়েছে। তারপর ডাক্তার দেখার পর আইসিইউ লাগবে বলে জানায়। কিন্তু আইসিইউ ফাঁকা ছিলো না। শেষ পর্যন্ত আইসিইউ না পেয়ে তার রোগি মারা যায়।

তিনি আরো জানান, রোগী মারা যাওয়ার পর তাদেরকে বিব্রতকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়। তিন তলায় কোন লিফট নেই। রাত সাড়ে ৮ টার দিকে তার রোগী হেঁটে তিন তলাই উঠলো। রাতপোহানোর আগেই লাশকে কোলে নিয়ে নিচে নামাতে হয়েছে। আর এখানে রোগীর দেখাশোনার জন্য তেমন কোন লোক না থাকায় স্বজন হিসেবে তাদেরকেই সবসময় কাছে থাকতে হয়েছে।

এদিকে হাসপাতালে করোনা রোগীর পাশাপাশি অন্যান্য রোগীর সংখ্যাও বেড়েছে। কিন্তু সেই অনুযায়ী রোগীদের মাঝে বাড়েনি সচেতনতা। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকেও এ বিষয়ে কার্যকর তেমন কোন পদক্ষেপ নিতে দেখা যায় নি।

শনিবার (১০ এপ্রিল) হাসপাতালের বর্হিবিভাগ ও জরুরি বিভাগগুলো ঘুরে দেখা যায়, হাসপাতালের মধ্যেও অনেকেই মাস্ক ব্যবহার করছেন না। বর্হিবিভাগের টিকিট কাউন্টার থেকে শুরু করে ডাক্তারদের রুমের বাইরে রোগীদের সিরিয়ালে সামাজিক দূরত্বের কোন বালাই ছিলো না। এমন চিত্র শুধু বর্হিবিভাগ নয়, জরুরি বিভাগের অবস্থাও প্রায় একই। শিশু ওয়ার্ড, নিউরোমেডিসিন ওয়ার্ড, গাইনি ওয়ার্ডসহ আরো কয়েকটি ওয়ার্ডে রোগীদের চাপ ছিলো চোখে পড়ার মত। ওয়ার্ডের বাইরে বারান্দা থেকেও অনেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। রোগীদের সাথে থাকা একাধিক স্বজন এ ভিড় আরো বাড়িয়েছে। এতে জরুরি বিভাগেও স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত হচ্ছে না।

এ বিষয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী জানান, রামেক হাসপাতালে করোনা রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। বর্তমানে প্রায় ৮৬ জন রোগী ভর্তি আছে। এ পরিস্থিতি অবনতির শঙ্কা থাকায় তারা প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এরইমধ্যে ২৫ নং ওয়ার্ডকে করোনা ওয়ার্ড করা হয়েছে। নতুন করে ২২ নং ওর্য়াডকে প্রস্তুত করা হচ্ছে। যেটা শনিবারেই চালু হয়ে যাবে। এগুলো শেষ হলে ১৬ ও ৩ নং ওয়ার্ডও প্রস্তুত করা হবে। তবে এটা সত্য ২৫ নং ওয়ার্ডে করোনা রোগীদের উঠা-নামাই সমস্যা হচ্ছে। তবে এ সমস্যা সামনে থাকবে না। রোগীদের মধ্যে যারা একটু সুস্থ তাদেরকেই ২৫ নং ওয়ার্ডে পাঠানো হবে।

তিনি আরো জানান, তাদেরকে নানা সীমাবন্ধতার মধ্যে কাজ করতে হচ্ছে। তাদের ইচ্ছা থাকলেও সবকিছু তারা করতে পারছেন না। হাসাপাতালে আইসিইউ সংকট আছে। এটা স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়েও জানানো হয়েছে। সামনে কিছুদিনের মধ্যে হয়তো আটটা আইসিইউ পাওয়াও যাবে। আর অক্সিজেনের যেন সংকট না হয় সেজন্য কাজ চলমান রয়েছে। করোনা রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিতে গিয়ে সাধারণ রোগীদের কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। তবে তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছেন। আর বর্হিবিভাগসহ জরুরি বিভাগে স্বাস্থ্যবিধির বিষয় নিশ্চিত করার চেষ্টা করছেন। কিন্তু রোগীরা সচেতন হচ্ছে না। তাদেরকে বলেও কাজ হচ্ছে না। একারণে তো আর চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধও রাখা যায় না। সুতরাং রোগীদের আরো সচেতন হতে হবে জানান তিনি।

কমিউনিটিনিউজ/ এমএএইচ

রাজশাহীতে হিটশকে ক্ষতি ১০ শতাংশ ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী: অতিরিক্ত গরমে মানুষ যেমন হিটস্ট্রোক করে; তীব্র তাপদাহে ধানগাছও এমনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়,আর সেটাকেই ধানের হিটশক বা হিট ইনজুরি বলা হয়। রাজশাহী অঞ্চলে গত মার্চের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে বিরাজ করছে শুষ্ক বাতাস। তাপমাত্রা রয়েছে ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের উপরে। আর তাতেই হিটশকে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জেলার ২৮ হেক্টর জমির ধান। এতে করে বোরো আবাদের ন্যূনতম ক্ষতি হয় ৫ থেকে ১০ শতাংশের কাছাকাছি। এ ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন বৃষ্টি না হওয়া ও তীব্র তাপদাহে শুকিয়ে যাচ্ছে ধানগাছ। ধানের শীষগুলো সাদা হয়ে যাচ্ছে। আর উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কপাল পুড়ছে কৃষকদের। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট এ পরিস্থিতিকে কৃষিতে নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন ধান গবেষকরা।

রাজশাহীতে মোট ৬৬ হাজার হেক্টর জমিতে ধানের আবাদ হয়েছে। গত রোববারের (৪ এপ্রিল) বৃষ্টি ও আদ্রতাহীন শুষ্ক ঝড়ে ২৮ হেক্টর জমির বোরো ধান হিটশকে পুড়েছে। হেক্টর প্রতি ৬ মেট্রিকটন ধান হিসেবে লোকসানের পরিমাণ দাঁড়ায় ১৬৮ মেট্রিকটন। এখানেই শেষ নয়, ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরো পড়ুন: জিআই পণ্যের স্বীকৃতি পাচ্ছে রাজশাহী সিল্ক

বন্ধ রাজশাহীর সব বিনোদন কেন্দ্র

রাজশাহীতে সন্ত্রাসীদের সাথে খিচুড়ি রান্না করে খেল পুলিশ!

রাজশাহীতে দেবরের বিরুদ্ধে ভাবিকে ধর্ষণের অভিযোগ, থানায় মামলা

এদিকে রাজশাহীর আবহাওয়া অফিসসূত্রে জানা গেছে, ৪ এপ্রিল বিকেল চারটার পর থেকে হঠাৎ গরম বাতাস বইতে শুরু করে। তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের উপর ছিল। এছাড়াও গত দু-সপ্তাহ ধরে প্রায়ই দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে রাজশাহীতে। যা ৩৫ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে উঠানামা করেছে। ফলে তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং আর্দ্রতা না থাকায় ধানের এমন ক্ষতি হয়েছে বলে মনে করছেন তারা।

জানা গেছে, গত রোববার (৪ এপ্রিল) রাজশাহী, কিশোরগঞ্জের হাওর এলাকা এবং নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ, গোপালগঞ্জ, কুষ্টিয়া ও ময়মনসিংহ জেলাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় হিটশকে বোরো ধানের শতকরা ৫ শতাংশেরও বেশি ক্ষতি হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. তাহমিদ হোসেন আনছারী বলেন, তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়া কিংবা কমে যাওয়া, দুই কারনেই হিটশক বা হিট ইনজুরি হয়ে থাকে। তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার উপরে থাকলে ধানে হিটশক হয়। হিটশকে ধানের ফলনের প্রাথমিক পর্যায়ে বেশি ক্ষতি হয়।

তিনি আরও বলেন, ঐদিন কিংবা তার একদিন আগে যেসব ধান পরাগায়ন হচ্ছিল, সেই ধানের শীষগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরাগায়ন করতে পারেনি এবং ফ্লাওয়ারিং স্টেজ চলার কারণে ওইসব ধানের শীষ থেকে পানি বেরিয়ে গেছে। সেই সাথে বৃষ্টি না হওয়া ও পরের দিন রোদ উঠার পর শীষগুলো সাদা আকার ধারণ করে শুকিয়ে যায়।

ঝড়ের দিন ফুল ফোটা অবস্থায় থাকা জমির ৫ থেকে ১০ শতাংশ ধান প্রথমে সাদা ও পরবর্তীতে কালো বর্ণ ধারণ করে এবং এরপর চিটা হয়ে গেছে। তাছাড়া ঝড়ের কারনে পাতায় পাতায় ঘর্ষণে পাতা ফেটে গিয়ে ক্ষতস্থান দিয়ে ব্যকটেরিয়া প্রবেশ করে বিএলবি বা পাতাপোড়া রোগ সৃষ্টি হয়েছে। পাতার অগ্রভাগ ও কিনারা পুড়ে যাওয়ার মত হয়ে খড়ের মত রং ধারণ করেছে।

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) রাজশাহী আঞ্চলিক কার্যালয়ের প্রধান ড. মো. ফজলুল ইসলাম বলেন, এবার দীর্ঘ সময় বৃষ্টির দেখা নেই। আবহাওয়া অত্যন্ত রুক্ষ। ৪ এপ্রিল সারাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি ছাড়াই ঝড় শুরু হয়। সেদিন বাতাস ছিল অতিরিক্ত গরম। ফলে ঐদিন যেসব ধানের শীষ বের হয়েছিল সেগুলোর ফুল ঝরে যায়।

আরো পড়ুন: রাজশাহীর দুই পৌরসভায় নৌকার মনোনয়ন পেতে দৌড়ঝাঁপ শুরু

তিনি বলেন, ওই দিন বাতাসের গতির সাথে আর্দ্রতার মিল না থাকায় স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি গরম অনুভূত হয়েছে। এতে ডিহাইড্রেশন প্রক্রিয়ায় সদ্য ফোটা শীষ থেকে পানি বের হয়ে গেছে, এবং শীষ শুকিয়ে গেছে। বৃষ্টি হলে এমনটা হত না। রাজশাহীতে ক্ষতির পরিমাণটা কম হয়েছে। হাওর অঞ্চলে হিটশকের বেশি প্রভাব পড়েছে বলে জানান ঐ কর্মকর্তা।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ডা. আউয়াল বলেন, জেলায় এবার ৬৬ হাজার হেক্টর জমিতে বোরোর আবাদ হয়েছে। ৪ এপ্রিল ঘন্টাব্যাপী বৃষ্টিহীন ঝড়ো বাতাস প্রবাহিত হয়েছে। তাপমাত্রা বেশি হওয়ায় ও বাতাসে আর্দ্রতা না থাকায় বোরো ধানের ক্ষেতের শীষ মরে গেছে।

তিনি আরও বলেন, জলীয় বাষ্প কম থাকলে আমরা যে তাপমাত্রা রেকর্ড করি না কেন, এর চেয়ে অনেক বেশি তাপমাত্রা অনুভূত হবে। তখন মনে হয় লু-হাওয়া বয়ে যাচ্ছে। সেদিন মূলত এ ব্যাপারটা ঘটেছিল। এখন পর্যন্ত ২৮ হেক্টর জমিতে বোরো ধান হিটশকে আক্রান্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। হেক্টর প্রতি ৬ মেট্রিকটন ধান হিসেবে ১৬৮ মেট্রিকটন ধানের ক্ষতিসাধন হয়েছে।

রাজশাহী সেচ ও পানি ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. মনিরুজ্জামান বলেন, এ অঞ্চলের ধান চাষীদের কোন সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা নেই। ধানের ফ্লাওয়ারিং স্টেজ আসার আগে এবং এর পরবর্তী ১০ থেকে ১২ দিন জমিতে ২ থেকে ৩ ইঞ্চি পানি রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এখানকার কৃষকরা সেই মোতাবেক ধান চাষ করে আসছেন। যাদের সেচ দেওয়ার পরিস্থিতি বা সুযোগ আছে তারা দেবেন। আর যাদের সেই সুযোগ নেই সেটা আলাদা ব্যাপার।

ধানের হিটশক বা তীব্র তাপমাত্রায় চাষীদের করণীয় বিষয়ে ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট জানায়, ধানের দানা শক্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত জমিতে ২ থেকে ৩ ইঞ্চি পানি ধরে রাখতে হবে। ধানের অগ্রভাগ বা পাতাপোড়া রোগ দেখা দিলে প্রতি ৫ শতাংশ জমিতে থিওভিট ও এমওপি ৬০ গ্রাম, ২০ গ্রাম দস্তা বা জিঙ্ক ১০ লিটার পানিতে মিশিয়ে প্রয়োগ করতে হবে। সেই সাথে প্রতি বিঘা জমিতে ৫ কেজি পটাশ দিলে ভালো ফলন পাওয়া যাবে। ধানে ব্লাস্ট রোগ দেখা দিলে ট্রাইসাক্লাজল গ্রুপের ছত্রাকনাশক প্রতি ১০ লিটার পানিতে মিশিয়ে ৭ থেকে ১০ দিন প্রয়োগ করলে ধানের ব্লাস্ট প্রতিরোধ করা যায়।

কমিউনিটিনিউজ/ এমএএইচ

আরও সংবাদ

দেশে কতদিনের জ্বালানি আছে তা জানালো বিপিসি

কমিউনিটি নিউজ

যশোর অঞ্চলে টেকসই কৃষি সম্প্রসারণ প্রকল্প চালু হবে ২০২৭ সালে

কমিউনিটি নিউজ

বিশ্ববাজারে কমেছে গম ও ভুট্টার দাম

কমিউনিটি নিউজ

জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির প্রভাবে যশোরে কাঁচাবাজারে আগুন

কমিউনিটি নিউজ

রাজশাহীতে গাঁজাসহ যুবক আটক

কমিউনিটি নিউজ

সুইস ব্যাংকের কাছে নির্দিষ্ট কোনও তথ্য চায়নি বাংলাদেশ: রাষ্ট্রদূত

কমিউনিটি নিউজ