28 C
Dhaka
আগস্ট ১২, ২০২২

দেশে করোনায় ৬৩ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ৭৪৬২

আবারও বিশ্বজুড়ে বেড়েছে আক্রান্ত ও মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক: সারাদেশে মহামারি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৬৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে নয় হাজার ৫৮৪ জনে। আক্রান্ত  হয়েছেন ৭ হাজার ৪৬২ জন। সবমিলিয়ে দেশে এ পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৭৩ হাজার ৫৯৪ জনে। শুক্রবার (৯ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনামুক্ত হয়েছেন ৩ হাজার ৫১১ জন। এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ৫ লাখ ৬৮ হাজার ৫৪১ জন। ৩১ হাজার ৮৭৯ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। পরীক্ষা করা হয়েছে ৩১ হাজার ৫৬৪টি। মোট নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৪৯ লাখ ৪৭ হাজার ৪১২টি।

নমুনা পরীক্ষার তুলনায় শনাক্তের হার ২৩ দশমিক ৫৭ শতাংশ। মোট পরীক্ষার তুলনায় শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ৬২ শতাংশ।

এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ৬৩ জনের মধ্যে ৪৩ জন পুরুষ, বাকি ২০ জন নারী। এদের সবাই হাসপাতালে মারা গেছেন। মোট মারা যাওয়া ৯ হাজার ৫৮৪ জনের মধ্যে পুরুষ ৭ হাজার ১৭৩ জন, নারী ২ হাজার ৪১১ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ৬৩ জনের মধ্যে ঢাকা বিভাগেরই রয়েছেন ৪২ জন। এছাড়া চট্টগ্রামে ১০, রাজশাহীতে ২, খুলনায় ৩, বরিশালে ৪, সিলেট ও ময়মনসিংহের একজন করে রয়েছেন।

জেনে নেই কোন বিভাগে কতজনের মৃত্যু ও সুস্থ হয়েছে:

  • ঢাকা: সুস্থ ২২৭২ জন, মৃত্যু ৪৩ জন
  • চট্টগ্রাম: সুস্থ ৯৩২ জন, মৃত্যু ১৫ জন
  • বরিশাল: সুস্থ ৩৫ জন, মৃত্যু ৪ জন
  • খুলনা: সুস্থ ১৯ জন, মৃত্যু ৭ জন
  • রাজশাহী: সুস্থ ৩২ জন, মৃত্যু ৩ জন
  • সিলেট: সুস্থ ৭৪ জন, মৃত্যু ২ জন
  • রংপুর: সুস্থ ২৬ জন, মৃত্যু ০
  • ময়মনসিংহ: সুস্থ ১ জন, মৃত্যু ০

বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মারা যাওয়া ৬৩ জনের মধ্যে ষাটোর্ধ্ব ৩৬ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের ১৬, ৪১ থেকে ৫০ বছরের ৪, ৩১ থেকে ৪০ বছরের ৫ এবং ২১ থেকে ৩০ বছরের ২ জন রয়েছেন।

বিশ্বেরর অবস্থান

সারাবিশ্বে এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন ১৩ কোটি ৪৫ লাখ ৮ হাজার ৫৩২ জন। এ মহামারিতে এখন পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ২৯ লাখ ১৪ হাজার ৭৭৪ জনের। এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাস সৃষ্ট মহামারি কোভিড-১৯ থেকে সুস্থ হয়েছেন ১০ কোটি ৮৩ লাখ ৪ হাজার ১১২ জন।

বিশ্বে কোন দেশের অবস্থান কোথায়?

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে করোনাভাইরাস আক্রান্ত হয়ে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। দেশটিতে এখন পর্যন্ত করোনায় ৫ লাখ ৭৩ হাজার ৮৫৬ জন মারা গেছেন। এছাড়া করোনা শনাক্ত হয়েছে ৩ কোটি ১৭ লাখ ১৭ হাজার ৪০৪ জনের। আর সুস্থ হয়েছেন ২ কোটি ৪২ লাখ ৭২ হাজার ৮৬৯ জন।

যুক্তরাষ্ট্রের পর করোনায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ ব্রাজিল। আক্রান্ত ও মৃত্যু বিবেচনায় দেশটির অবস্থান দ্বিতীয়। লাতিন আমেরিকার এই দেশটিতে এখন পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ১ কোটি ৩২ লাখ ৮৬ হাজার ৩২৪ জন। তাদের মধ্যে মারা গেছেন ৩ লাখ ৪৫ হাজার ২৮৭ জন। আর সুস্থ হয়েছেন ১ কোটি ১৭ লাখ ৩২ হাজার ১৯৩ জন।

তালিকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছে ভারত। এশিয়ার মধ্যে ভারত করোনায় সবচেয়ে বিপর্যস্ত দেশ। দেশটিতে এখন পর্যন্ত করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন ১ কোটি ৩০ লাখ ৫৭ হাজার ৯৫৪ জন। মারা গেছেন ১ লাখ ৬৭ হাজার ৬৯৪ জন। আর সুস্থ হয়েছেন ১ কোটি ১৯ লাখ ১০ হাজার ৭৪১ জন।

করোনাভাইরাস শনাক্তের তালিকায় চারে ইউরোপের দেশ ফ্রান্স। দেশটিতে এখন পর্যন্ত ৪৯ লাখ ৩৯ হাজার ২৫৮ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। মারা গেছেন ৯৮ হাজার ৬৫ জন। আর সুস্থ হয়েছেন ৩ লাখ ৩ হাজার ৬৩৯ জন।

তালিকার পঞ্চম স্থানে থাকা রাশিয়ায় এখন পর্যন্ত ১ লাখ ১ হাজার ৮৪৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। শনাক্ত ৪৬ লাখ ১৪ হাজার ৮৩৪ জন। এর মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ৪২ লাখ ৩৯ হাজার ৩৮ জন।

এরপর করোনাভাইরাস শনাক্তের দিক থেকে তালিকায় রয়েছে যথাক্রমে যুক্তরাজ্য, ইতালি, তুরস্ক, স্পেন ও জার্মানি। তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ৩৩তম।

গতকালের করোনা পরিস্থিতি

২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে করোনা আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন ৬ হাজার ৮৫৪ জন। একই সময়ে ভাইরাসটিতে মারা গেছেন ৭৪ জন। যা এ যাবতকালে দেশে করোনায় একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু। গতকাল করোনামুক্ত হয়েছেন ৩ হাজার ৩৯১ জন।

উল্লেখ্য, গত বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়। আর প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘটে গত বছরের ১৮ মার্চ।

জরুরি সেবা ছাড়া বন্ধ থাকবে সব

এদিকে, ১৪ এপ্রিল থেকে সাত দিন জরুরি সেবা ছাড়া সরকারি-বেসরকারি অফিস, যানবাহন, গার্মেন্টস কারখানাসহ সবকিছু বন্ধ থাকবে। শুক্রবার (৯ এপ্রিল) গণমাধ্যমকে এ কথা জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন।

তিনি জানান, লকডাউন চলাকালে কোনোভাবেই মানুষকে ঘরের বাইরে আসতে দেওয়া হবে না। এ বিষয়ে রোববার (১১ এপ্রিল) প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।

করোনার লাগাম টেনে ধরতে গত ৫ এপ্রিল থেকে দেশে এক সপ্তাহের কঠোর নিষেধাজ্ঞা চলছে। আজ এ নিষেধাজ্ঞা পঞ্চম দিন। এ সময়কালে ১১ নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল সরকার। যদিও এর মধ্যে দুটি শিথিল করা হয়েছে। সীমিত পরিসরে চালু করা হয়েছে যানবাহন ও খুলে দেওয়া হয়েছে শপিংমল, মার্কেট ও দোকানপাট।

২ সপ্তাহ কঠোর লকডাউন চায় জাতীয় কারিগরি কমিটি

দেশে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণের লাগাম টেনে ধরতে দুই সপ্তাহের কঠোর লকডাউন চায় কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি কমিটি। শুক্রবার (৯ এপ্রিল) জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

কমিউনিটিনিউজ/ এমএএইচ

গাছে মুকুল আসলেও নেই আম

হাসনাত হাকিম, নিজস্ব প্রতিবেদক: মুকুল আসলেও গাছে নেই আম। গুঠি আসার সময় পর্যন্ত একাধিক হাত বদল হয় আমবাগানগুলোতে। কিন্তু এ বছর ভিন্ন চিত্র দেখা দিচ্ছে। নানান জটিলতার কারণে আম ব্যবসায়ীরা আম বাগান ক্রয় করতে আগ্রহ প্রকাশ করছেন না কেউ। এসব ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছিলো আমের রাজধানী ক্ষ্যাত চাঁপাইনবাবগঞ্জের নারায়নপুর এলাকার আম চাষী জিয়ারুল ইসলাম।

জিয়ারুল ইসলাম জানান, এ বছর আম গাছে প্রচুর মুকুল এসছে। প্রাকৃতিক দূযোর্গের কারণে আম হয়তো তেমন নাই। লকডাউন আর পোকার আক্রমনে উৎপাদন বাধাগ্রস্থত হয়েছে। গত মৌসুমে দাম না পাওয়ায় অনেক আম ব্যবসায়ী ক্ষতির মুখে পড়েন। আসল পুঁজি না পেয়ে বিভিন্ন পেশায় ঝুঁকে পড়েছেন। এবারো করোনার ভয়াবহতা আম ব্যবসায়ীদের ভাবিয়ে তুলেছে। তাই গুঠি হলেও আমবাগান ক্রয় করতে ব্যবসায়ীরা পিছিয়ে গেছেন। এ সময় একটা আমবাগান কয়েকবার হাত বদল হলেও এখন পর্যন্ত বাগান বেঁচা-বিক্রির বালাই নেই।
করোনায় আম বাজারজাত করা নিয়ে চরম হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন আম ব্যবসায়ীরা। সরকারের কাছে আমসহ বিভিন্ন কাঁচা ফল বাজারজাত করতে সহাযোগিতার দাবী করেছেন।জেলার একমাত্র অর্থকরি ফসল আম। আম থেকে আয় করতে না পারলে অর্থনৈতিক ব্যবস্থা চরম ভাবে ভেঙ্গে পড়বে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।

আরো পড়ুন: ৮ অঞ্চলে ঝড় বৃষ্টির সম্ভাবনা

লকডাউনেও মার্কেট খোলা রাজশাহীতে

আম ব্যবসায়ীরা ও আম ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক চুটু জানান, গত বছর থেকে দেশে কোরনা পরিস্থিতি খুব খারাপ হওয়ায় আম বাজারজাত করতে বেগ পেতে হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যায় ভোলাহাটের সুস্বাদু আম। কিন্তু করোনায় লকডাউনহওয়ায় আম দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আম বাজারজাত করা ব্যয়বহুল ও পরিবহণ করা কষ্ট হয়ে যায়। ফলে ব্যবসায়ীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

আরো পড়ুন:  জেনে নিন আমলকির পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা  

রমজানের আগেই অস্থির নিত্য পণ্যের বাজার

চাঁপাইনাবাবগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, এ বছর আমের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩৪ হাজার ৭৩৮ মেট্রিক টন। যা গত বছরের থেকে বেশী। গত বছর উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিলো ৩২ হাজার ৫৮০ মেট্রিক টন। তিনি আরো বলেন, গত বছরের ৪ অক্টোবর থেকে কোনো বৃষ্টি নাই। যার ফলে গাছের গোড়ায় তেমন শক্তি পায়না। তাই হালকা বাতাস হলেই গাছের গোড়া নড়ে বসে যাচ্ছে। আমে তেমন রস পাচ্ছেনা । তাই ঝরে যাচ্ছে। তারপরও ফলন ভালো আছে বলে জানান।

এদিকে লকডাউন হলেও আমসহ বিভিন্ন কাঁচামালের বাজারজাতের ব্যাপারে সরকারের কাছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার দাবী জানান ব্যবসায়ীরা।

কমিউনিটিনিউজ/ এমএএইচ

আরও সংবাদ

দেশে কতদিনের জ্বালানি আছে তা জানালো বিপিসি

কমিউনিটি নিউজ

যশোর অঞ্চলে টেকসই কৃষি সম্প্রসারণ প্রকল্প চালু হবে ২০২৭ সালে

কমিউনিটি নিউজ

বিশ্ববাজারে কমেছে গম ও ভুট্টার দাম

কমিউনিটি নিউজ

জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির প্রভাবে যশোরে কাঁচাবাজারে আগুন

কমিউনিটি নিউজ

সুইস ব্যাংকের কাছে নির্দিষ্ট কোনও তথ্য চায়নি বাংলাদেশ: রাষ্ট্রদূত

কমিউনিটি নিউজ

শ্রীলঙ্কায় এক ধাক্কায় বিদ্যুতের দাম বাড়লো ৭৫ শতাংশ

কমিউনিটি নিউজ