28 C
Dhaka
আগস্ট ১৩, ২০২২

রেকর্ডে শনাক্তের দিনে, মৃত্যু ৬৩

আবারও বিশ্বজুড়ে বেড়েছে আক্রান্ত ও মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক, কমিউনিটিনিউজ: দেশে প্রতিনিয়ত বাড়ছে করোনায় সংক্রামনের সংখ্যা। যা দেশে করোনা পরিস্থিতির ক্রমাগত অবনতি হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে করোনা আক্রান্ত হিসেবে রেকর্ড সংখ্যক রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এ সময় করোনা শনাক্ত হয়েছে ৭ হাজার ৬৬২ জনের। করোনায় মারা গেছেন ৬৩ জন, যা দিনে তৃতীয় সর্বোচ্চ। করোনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৯ হাজার ৪৪৭ জনে।

৬ এপ্রিল করোনায় ৬৬ জনের মৃত্যু হয়েছিল, যা ছিল দেশে করোনা মহামারি শুরুর পর থেকে সর্বোচ্চ। এ সময় আক্রান্ত হিসেবে নতুন করে শনাক্ত হয়েছিল ৭ হাজার ২১৩ জন।

বুধবার (৭ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত পরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মীরজাদি সেব্রিনা ফ্লোরা স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

আরো পড়ুন: লকডাউনেও মার্কেট খোলা রাজশাহীতে

আবারো আটক ‘শিশুবক্তা’ রফিকুল

একদিনে করোনা শনাক্তের রেকর্ড

করোনায় স্থগিত জাতীয় লীগ

গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষায় শনাক্তের হার ২২ দশমিক ০২ শতাংশ।

জেনে নেই কোন বিভাগে কতজনের মৃত্যু ও সুস্থ হয়েছে:

  • ঢাকা: সুস্থ ১৯৬৮ জন, মৃত্যু ৫৪ জন
  • চট্টগ্রাম: সুস্থ ৭৭৮ জন, মৃত্যু ৪ জন
  • বরিশাল: সুস্থ ২৭ জন, মৃত্যু ২ জন
  • খুলনা: সুস্থ ৩৯ জন, মৃত্যু ২ জন
  • রাজশাহী: সুস্থ ৪০ জন, মৃত্যু ৩ জন
  • সিলেট: সুস্থ ৯৫ জন, মৃত্যু ১ জন
  • রংপুর: সুস্থ ৪ জন, মৃত্যু ০
  • ময়মনসিংহ: সুস্থ ৯ জন, মৃত্যু ২ জন

বিশ্বে কোন দেশের অবস্থান কোথায়?

বিশ্বে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছেই। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে এ ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ১৩ কোটি ৩০ লাখ ১৮ হাজার ৩০৭ জন। আর এ মহামারিতে আক্রান্ত হয়ে বিশ্বে মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ৯৩১ জন। এর মধ্যে সুস্থ হয়েছে ১০ কোটি ৭২ লাখ ৬০ হাজার ৯২৪ জন।

করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের সংখ্যা ও প্রাণহানির পরিসংখ্যান রাখা ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডওমিটারের তথ্যানুযায়ী করোনায় এখন পর্যন্ত সবচেয়ে সংক্রমণ ও মৃত্যু বেশি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। তালিকায় শীর্ষে থাকা দেশটিতে এখন পর্যন্ত করোনা সংক্রমিত হয়েছেন ৩ কোটি ১৫ লাখ ৬০ হাজার ৪৩৮ জন। মৃত্যু হয়েছে ৫ লাখ ৭০ হাজার ২৬০ জনের। আক্রান্তে ও মৃত্যুতে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ব্রাজিলে এখন পর্যন্ত সংক্রমিত হয়েছেন এক কোটি ৩১ লাখ ৬ হাজার ৫৮ জন এবং মারা গেছেন ৩ লাখ ৩৭ হাজার ৩৬৪ জন।

আক্রান্তে তৃতীয় এবং মৃত্যুতে চতুর্থ অবস্থানে থাকা ভারতে এখন পর্যন্ত করোনায় এক কোটি ২৭ লাখ ৯৯ হাজার ৭৪৬ জন সংক্রমিত হয়েছেন। মৃত্যু হয়েছে এক লাখ ৬৬ হাজার ২০৮ জনের। আক্রান্তের দিক থেকে চতুর্থ স্থানে ফ্রান্স রয়েছে। দেশটিতে এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৪৮ লাখ ৪১ হাজার ৩০৮ জন। ভাইরাসটিতে মারা গেছেন ৯৭ হাজার ২৭৩ জন। আক্রান্তের দিক থেকে রাশিয়া রয়েছে পঞ্চম স্থানে। দেশটিতে এখন পর্যন্ত করোনায় সংক্রমিত হয়েছেন ৪৫ লাখ ৮৭ হাজার ৮৬৮ জন। এর মধ্যে মারা গেছেন ১ লাখ ১ হাজার ১০৬ জন।

এদিকে আক্রান্তের তালিকায় যুক্তরাজ্য ষষ্ঠ, ইতালি সপ্তম, তুরস্ক অষ্টম, স্পেন নবম এবং জার্মানি দশম স্থানে আছে। এ ছাড়া বাংলাদেশের অবস্থান ৩৩তম। গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে চীনের হুবেই প্রদেশের উহান থেকে করোনাভাইরাস সংক্রমণ শুরু হয়। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশসহ বিশ্বের ২১৮টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে কোভিড-১৯।

কমিউনিটিনিউজ/ এমএএইচ

লকডাউনেও মার্কেট খোলা রাজশাহীতে

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী : সরকারি নির্দেশনাকে অমান্য করে লকডাউনের তৃতীয় দিনে নগরীজুড়ে দোকান-পাট, কাঁচাবাজারসহ বিভিন্ন মার্কেটগুলো খুলে রেখেছেন রাজশাহীর ব্যবসায়ীরা। বুধবার (৭ এপ্রিল ২০২১) সকাল ১০টা থেকেই নগরীর আরডিএ মার্কেট, নিউ মার্কেট, কোর্ট বাজারসহ বিভিন্ন মার্কেট খুলতে দেখা যায়। যদিও ক্রেতাদের উপস্থিতি ছিল অনেক খুবই কম।

এদিকে শক্ত অবস্থানে থাকতে দেখা গেছে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীকে। জরুরি প্রয়োজন ও স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত ছাড়া বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে নগরীতে প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না। এতে লকডাউনের তৃতীয় দিনে প্রথ যানচালাচল কম ছিলো। এছাড়া সরকারি নির্দেশনাকে অমান্য করে আরডিএ মার্কেটের ভেতরের দোকানগুলো ব্যবসায়ীরা খুলে রেখেছেন।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, নগরীর সাহেব বাজার আরডিএ মার্কেট, কাঁচাবাজার, নিউ মার্কেটে খোলা রয়েছে দোকানপাট। কোনো কোনো দোকানের দুটি ফটকের একটি বন্ধ রেখে একটি ব্যবহার করেছেন দোকানদাররা। ক্রেতারাদের উপস্থিতি ছিল তুলনামূলক কম। তবে কাঁচাবাজারে ছিল ক্রেতাদের উল্লেখযোগ্য সমাগম। সেখানে পুলিশ দায়িত্ব পালন করলেও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে কোনো বাধা দেয়নি। ফলে কেনাকাটা শেষ করেই ক্রেতারা বাসায় ফিরেছেন। তবে ক্রয়-বিক্রয়ের সময় সকলকে মাস্ক পরিধান করে কেনাকাটা করতে দেখা গেছে। বাসায় ফিরেছেন নির্ধারিত কাজ সম্পন্ন করেই।

আরো পড়ুন: আট পা নিয়ে ছাগলের বাচ্চার জন্ম!

অনলাইনে পরীক্ষা নেওয়ার কথা ভাবছে সরকার

তবে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে, ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) পণ্য কেনাকাটায়। খোলাবাজারে ট্রাকে করে বিক্রি করা হচ্ছে মসুর ডাল, চিনি, সয়াবিন তেল, ছোলা ও চিনি। সবাই এক সাথে কিনতে হুমড়ি খেয়ে পড়ছে। সামাজিক দূরত্ব না মেনে দাঁড়িয়ে আছে মানুষ। রাজশাহী নগরীর রানীবাজার এলাকায় যেতে দেখা মেলে গাদাগাদি করে টিসিবির পণ্য কিনতে ভিড় জমাচ্ছেন তারা। খুব অল্পসংখ্যক মানুষের মুখে মাস্ক। অধিকাংশের মাস্ক থুঁতনিতে। অনেকে কোমরে চাবির রিংয়ের সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখেছেন। বিশেষ করে নিম্নআয়ের ক্রেতারা দূরত্ব বজায় রেখে পণ্য কেনার বিষয়টি মানতে চাচ্ছে না। তারা পণ্য কিনতে হুড়োহুড়ি করছে। এতে সবার মাঝে করোনা ঝুঁকি বাড়ছে।

ব্যবসায়ীরা জানান, মার্কেট খোলার ব্যাপারে তারা লিখিতভাবে রাজশাহী সিটি মেয়র, মহানগর পুলিশ কমিশনার এবং জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন। এমনকি সংবাদ সম্মেলন করে তাদের যৌক্তিক দাবির বিষয়টি তুলে ধরার পরও প্রশাসনের পক্ষ থেকে মার্কেট খোলার অনুমতি মেলেনি। ফলে তারা রাস্তায় নামেন এবং বাধ্য হয়ে মার্কেট খুলেন।

তারা জানান, করোনার প্রকোপে সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় রাজশাহীতে শিক্ষার্থী নির্ভর ব্যবসায় একেবারে ধ্বস নেমেছে। শঙ্কট কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন তারা। কিন্ত ধাক্কা সামলিয়ে ওঠার আগেই সরকার ঘোষণা করেছে লকডাউন। যা তাদেরকে পথে বসাবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে মার্কেট খোলা রাখা হচ্ছে এবং নিয়ম মেনে নির্ধারিত সময়েই মার্কেট বন্ধ করা হবে বলেও জানিয়েছেন তারা। এছাড়াও তারা বলছেন, যেহেতু সরকার অনলাইনে ব্যবসা করতে বলছে। তাই দোকান খুলেছি।

এ বিষয়ে ব্যবসায়ী সমন্বয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সেকেন্দার আলী জানান, দোকান সেইভাবে খোলা নেই। তবে ভেতরের দোকানগুলোর কেউ কেউ অনলাইনে বেচাকেনার জন্য হয়তো খুলেছে। তারা সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবসা করছেন।

এ বিষয়ে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি) মুখপাত্র ও অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার গোলাম রুহুল কুদ্দুস জানান, রাজশাহীতে যর্থাথভাবেই লাকডাউন পালনে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে। এখন পর্যন্ত অপ্রীতিকর কোনো ঘটনা ঘটেনি। প্রশাসন শক্ত অবস্থানে আছে। আর নগরীর প্রবেশপথে কিছুটা কড়াকড়ি করা হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করে সাধারণ মানুষের চলাচল তারা নিশ্চিত করছেন।

লকডাউনের তৃতীয় দিনে বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে নগরীর আরডিএ মার্কেটের ভেতরের অধিকাংশ দোকান খোলা রাখতে দেখা যায়। কিন্তু দোকান খোলার অনুমতি না থাকায় দোকানগুলো বন্ধ করতে পুলিশ পাঠানো হয়েছে বলে জানান, জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট (এডিএম) আবু আসলাম।

তিনি জানান, সারাদেশে লকডাউন চলছে। সরকারি নির্দেশ কঠোরভাবে মানতে সবাই বাধ্য। মার্কেট খোলার কোনো অনুমতি দেয়া হয়নি। লকডাউন কার্যকরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করছে প্রশাসন।
এছাড়া লকডাউনে বন্ধ রয়েছে, নগরীর কমিউনিটি সেন্টারসহ বিনোদন কেন্দগুলো।

কমিউনিটি/ এমএএইচ

আরও সংবাদ

দেশে কতদিনের জ্বালানি আছে তা জানালো বিপিসি

কমিউনিটি নিউজ

যশোর অঞ্চলে টেকসই কৃষি সম্প্রসারণ প্রকল্প চালু হবে ২০২৭ সালে

কমিউনিটি নিউজ

বিশ্ববাজারে কমেছে গম ও ভুট্টার দাম

কমিউনিটি নিউজ

জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির প্রভাবে যশোরে কাঁচাবাজারে আগুন

কমিউনিটি নিউজ

সুইস ব্যাংকের কাছে নির্দিষ্ট কোনও তথ্য চায়নি বাংলাদেশ: রাষ্ট্রদূত

কমিউনিটি নিউজ

শ্রীলঙ্কায় এক ধাক্কায় বিদ্যুতের দাম বাড়লো ৭৫ শতাংশ

কমিউনিটি নিউজ