32 C
Dhaka
আগস্ট ১২, ২০২২

করোনার মাঝেও শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে গেছে বই

আবু বকর রায়হান, কমিউনিটি নিউজ: কুমিল্লার কোটবাড়ির সালমানপুর এলাকার শিক্ষার্থী মিম। শালবন স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণীতে পড়ছে সে। প্রায় একবছর যাওয়া স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। তবে বছরের শুরুতেই নতুন বই পেয়ে গেছে। করোনার দীর্ঘ সময়ে স্কুলে না যেতে পারার কষ্ট ছাপিয়ে আনন্দে আপ্লুত মিম। তার মতো দেশের কোটি কোটি শিশুর হাতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে নতুন শ্রেণির পাঠ্যবই। ঝকঝকে নতুন বই হাতে পেয়ে প্রাথমিক স্তরের শিশুরা আনন্দে আপ্লুত। করোনাকালেও এই শিশুরা নিজেরাই বিদ্যালয়ে এসে বই নিয়ে বাড়ি ফিরেছে। যে শিশুরা আসেনি, তাদের বাবা-মা স্কুলে এসে বই নিয়ে যাচ্ছেন।

গেল বছরের ১৭ মার্চ থেকে করোনা সংক্রমণ
বৃদ্ধির কারণে বন্ধ রয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। তারপর থেকেই শুরু হয় দেশব্যাপী টানা লকডাউন। এর মাঝে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলার অনিশ্চয়তা, ২০২১ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবই মুদ্রণ প্রক্রিয়ার প্রস্তুতি সবমিলিয়ে কঠিন ছিলো। এমন নানা প্রতিকূল পরিস্থিতির মাঝেও বছরের শুরুতে সকল শিক্ষার্থীর হাতে বই তুলে দিতে পেরেছে সরকার।

কোটবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মায়ের সাথে বই নিতে আসেন আব্দুল্লাহ। নতুন বই হাতে পেয়ে তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থীর মুখে হাসি ফুটে উঠে। ‘অনেকদিন পর স্কুলে এসেছি। বন্ধুদের সাথে দেখা হয়েছে। নতুন বই হাতে নিয়ে খুব ভালো লাগছে।’ এভাবেই নিজের খুশির কথা প্রকাশ করছিলো এই শিক্ষার্থী।

নতুন বছরের শুরুতেই শিক্ষার্থীদের হাতে বই পৌঁছে দেয়ার বিষয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) চেয়ারম্যান প্রফেসর নারায়ণ চন্দ্র সাহা গণমাধ্যমকে বলেন, ‘করোনার কারণে অনেক বন্ধুর পথ পাড়ি দিয়ে এবার কোটি কোটি শিক্ষার্থীর হাতে বই পৌঁছে দিতে হয়েছে। ছাপার সময়ে কাগজকল ছিল বন্ধ। স্বাস্থ্যগত বিষয়ে মুদ্রণ শ্রমিকরাও ছিলেন ভয়ে-আতঙ্কে। এটি করতে গিয়ে কিছুটা সময় বেশি লেগেছে। তার পরও বছরের শুরুতে কোটি কোটি ছাত্রছাত্রীর মুখে হাসি ফোটাতে পেরেছি।’

দেশের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের মোট ৪ কোটি ১৬ লাখ ৫৫ হাজার ২২৬ জন ছাত্রছাত্রীর হাতে এবার তুলে দেওয়া হয়েছে ৩৪ কোটি ৩৬ লাখ ৬২ হাজার ২৯৪ কপি পাঠ্যবই। বিনামূল্যে এ পাঠ্যবই পেয়েছে দাখিল, কারিগরি, ইংরেজি ভার্সন, প্রাক-প্রাথমিক ও ৫টি ভাষার আদিবাসী শিশুরা। ব্রেইল বই পেয়েছে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরাও। নতুন বইয়ের আনন্দ ছড়িয়ে পড়েছে সারাদেশে। কোটি কোটি শিক্ষার্থীকে বছরের শুরুতে বিনামূল্যে পাঠ্যবই বিতরণের এই বিশাল কর্মযজ্ঞে দিনরাত নিরলস পরিশ্রম করেছেন ৫৫ হাজার মুদ্রণ ও বাঁধাই শ্রমিক। কর্মযজ্ঞে যুক্ত ছিলেন এনসিটিবির ৮৪ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী। দেশের ২০৬টি মুদ্রণ প্রতিষ্ঠান এসব পাঠ্যবই ছেপেছে। প্রায় ৪ শতাধিক ট্রাক জেলা-উপজেলা পর্যায়ে পাঠ্যবই মুদ্রণে সহায়তা করেছে।

২০২১ শিক্ষাবর্ষে শতভাগ ই-টেন্ডারিংয়ে এটি ছিল এনসিটিবির প্রথম সফলতা। অনলাইনে দরপত্র আহ্বান করতে সাড়ে সাতশ লটকে কমিয়ে এনে ৪৫০ লটে আনা হয়। এনসিটিবি খোলা থাকলেও সেসময়ে শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর বন্ধ থাকায় এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে করোনাকালে প্রশাসনিক যোগাযোগ রক্ষা করাও এক ধরনের চ্যালেঞ্জ ছিল।

এনসিটিবির অর্থ উইংয়ের তথ্য থেকে জানা গেছে, ৩৪ কোটির বেশি পাঠ্যবই ছাপতে এ বছর সরকারের ৬৭৯ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। এর মধ্যে প্রাথমিক স্তরের ১০ কোটি ২৫ লাখ ৮২ হাজার ৫৩৭ কপি বই ছাপতে ১৯৯ কোটি টাকা আর মাধ্যমিকের ২৪ কোটি ১০ লাখ ৭৯ হাজার ৭৬৭ কপি বই ছাপতে লেগেছে ৪৮০ কোটি টাকা। বই মুদ্রণে প্রাক্কলন দরের চেয়ে ৩৭১ কোটি টাকা কম ব্যয় হয়েছে। এ ছাড়া গত বছরের চেয়ে ৩৩৪ কোটি টাকা কম লেগেছে।

শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি নতুন সন্তানদের হাতে নতুন বই দেখে আনন্দিত অভিভাবকরা। করোনা মহামারীর মধ্যেও সরকার কোমলমতী শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করে নতুন বই তুলে দেওয়ার সরকারকে তারা সাধুবাদ জানান।

আরও সংবাদ

দেশে কতদিনের জ্বালানি আছে তা জানালো বিপিসি

কমিউনিটি নিউজ

যশোর অঞ্চলে টেকসই কৃষি সম্প্রসারণ প্রকল্প চালু হবে ২০২৭ সালে

কমিউনিটি নিউজ

বিশ্ববাজারে কমেছে গম ও ভুট্টার দাম

কমিউনিটি নিউজ

জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির প্রভাবে যশোরে কাঁচাবাজারে আগুন

কমিউনিটি নিউজ

সুইস ব্যাংকের কাছে নির্দিষ্ট কোনও তথ্য চায়নি বাংলাদেশ: রাষ্ট্রদূত

কমিউনিটি নিউজ

শ্রীলঙ্কায় এক ধাক্কায় বিদ্যুতের দাম বাড়লো ৭৫ শতাংশ

কমিউনিটি নিউজ