33 C
Dhaka
আগস্ট ৯, ২০২২

পানের দামে হতাশ চাষিরা

মেহেদী হাসান, রাজশাহী: ক্রমাগত পানের দরপতনে দিশেহারা রাজশাহীর চাষিরা। বৈশ্বিক মহামারি কভিড-১৯ প্রাদুর্ভাবের কারণে কয়েকগুণ লোকসানে চাষিদের পান বিক্রি করতে হয়েছে। তবে গত বছরের শেষ সময়ের দিকে পানের দাম বাড়তে শুরু করলে ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নেয় তারা। কিন্তু ফের কমতে শুরু করেছে পানের দাম। চাষিরা বলছেন, পানির দরে পান।

চাষিরা বলছেন, কভিডের কারণে টানা ৬ মাস লকডাউন থাকায় কয়েকগুণ কম দামে পান বিক্রি করতে হয়েছে গতবছর। দফায় দফায় বন্যায় পান বরজের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বর্তমান পানের বরজে রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে অন্যদিকে দাম কম। দেশের বাইরে পান রপ্তানি না হওয়ার কারণে পানের চাহিদা নাই বাজারে। গতবার একই সময়ে বড় পানের বিড়া এখন ৭০ থেকে ১০০ টাকা দরে বিক্রি হলেও এখন তা ৩০ থেকে ৪০ টাকা বিড়া। আর ছোট পান ১০ টাকা থেকে ১৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

সোমবার (২৯ নভেম্বর ২০২১) রাজশাহীর মোহনপুর একদিল তলা পানের হাট ঘুরে খুচরা এবং পাইকারি ব্রিক্রেতাদের সাথে কথা বলে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

জেলায় উৎপাদিত পানের একটি বড় অংশ যেত বিদেশে। পানে সালমোনেলা ব্যাকটেরিয়া আক্রমণের কারণে বর্তমানে পান রফতানি বন্ধ। এ কারণে পানের দরপতন হয়েছে। বর্তমানে দাম কম হওয়ায় উৎপাদন খরচও উঠছে না বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্যমতে, চলতি বছর রাজশাহীতে চার হাজার ৪৯৯ দশমিক ২৩ হেক্টর জমিতে পান উৎপাদন হয়েছে ৭৬ হাজার ১৫২ মেট্রিক টন। হেক্টর প্রতি ফলন প্রায় ১৭ মেট্রিক টন। উৎপাদিত পানের এক হাজার ১৭১ মেট্রিক টন পান বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হয়েছে। রাজশাহীতে বছরে প্রায় এক হাজার কোটি টাকার বেশি পান বেচাকেনা হয়। রাজশাহীর ৭২ হাজার ৭৬৪ জন কৃষক পান চাষের সঙ্গে জড়িত। জেলার মোহনপুর, দুর্গাপুর ও বাগমারা উপজেলায় সবচেয়ে বেশি পান চাষ হয়। এরমধ্যে বাগমারা উপজেলাতে উৎপাদন হয় সবচেয়ে বেশি। চলতি মৌসুমে বাগমারায় এক হাজার ৫৬০, দূর্গাপুরে এক হাজার ৪১০ এবং মোহনপুরে এক হাজার ১৮২ হেক্টর জমিতে পান চাষ করা হয়েছে।

মোহনপুর উপজেলার বাকশিমইল গ্রামের পানচাষি আশরাফ আলী বলেন, ১৫ কাঠা জমিতে পানের বরজ করেছি। বর্তমানে পানের রোগ দেখা গিয়েছে। শীত আসলে পান গাছের গোড়ায় পচন ধরে, পাতা পেকে যায়, পাতা নষ্ট হয়ে যায়। একদিকে উৎপাদন কমেছে অন্যদিকে দাম পড়ে গেছে। আমরা চাষিরা মহাসংকটে আছি। যেই পানের পোয়া (৩২ বিড়ায় এক পোয়া) ৩ হাজার টাকা বিক্রি হওয়ার কথা সেই পান বিক্রি হচ্ছে ১৪’শ টাকা। অর্ধেকেরও কম। আমরা যাব কোথায়!

উপজেলার মোহনপুর সদরের পান চাষি উমর আলী জানান, ১০ কাঠা জমিতে পানের বরজ করেছি। পানের উৎপাদন কমে গেছে। আগে যেই পান বিক্রি হতো ৫০ থেকে ৬০ টাকা বিড়া। সেই পান এখন ৩০ থেকে ৪০ টাকা। বর্তমানে পানের দামে গাড়িভাড়া আর শ্রমিকের মজুরি হচ্ছে না।

পানের পাইকারি বিক্রেতা সাইদুর রহমান জানান, লকডাউনের সময় পানের বাজার খুবই কম ছিলো। গত এক বছর পানের বাজার উঠানামা করেছে। ছোট পানের পোয়া আগে ৮০০ টাকায় বিক্রি হতো সেই পান এখন ৪৫০ টাকা। আবার বড় পানের পোয়া ৩০০০ টাকায় বিক্রি হতো সেই পান এখন ১৪০০ থেকে ১৫০০ টাকা।

একদিলতলা পানের হাট কমিটির পরিচালক হারুন-অর-রশিদ জানান, করোনাভাইরাসের কারণে টানা ৬ মাস লকডাউনে থাকায় দেশের বিভিন্ন শহরসহ বিদেশে পান রপ্তানি বন্ধ ছিল। এরমাঝখানে কিছু স্বাভাবিক হয়ে যাওয়ায় পুরোদমে পান বেঁচা-কেনা শুরু হয়েছিল। কিন্তু আবার পানের দাম নাই। চাষিরা খুব বিপদে আছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কে জে এম আব্দুল আউয়াল বলেন, রাজশাহীর পান দেশের বাইরে রপ্তানি হওয়ায় কারণে চাষিরা বেশ লাভবান হন। বর্তমানে পানের দাম কিছুটা কম। শীতকালে পানের উৎপাদন কমে যায় কিছু রোগের কারণে। চাষিদের আরো সতর্ক হতে হবে।

রোগ-বালাই বিষয়ে তিনি বলেন, ছত্রাকজনিত গোড়া পচা রোগ কিংবা পাতায় সমস্যা দেখা দিলে কৃষি কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করতে হবে। ছত্রাকনাশক হিসেবে ম্যানকোজেব এবং নন সিস্টেমিক কীটনাশক কার্বান্ডাজিম কিংবা ব্যভিষ্টিন ব্যবহার করলে ভালো ফল পেতে পারে কৃষকরা।

কমিউনিটি/এমএইচ

আরও সংবাদ

শ্রীলঙ্কায় এক ধাক্কায় বিদ্যুতের দাম বাড়লো ৭৫ শতাংশ

কমিউনিটি নিউজ

দ্বাদশের ছাত্রের সাথে অষ্টম শ্রেণির ছাত্রীর প্রেম, দুজনেরই আত্মহত্যা

কমিউনিটি নিউজ

বিশ্ববাজারে ফের কমলো গমের দাম

কমিউনিটি নিউজ

কলার জমিতে কাটোয়া ডাটা চাষে স্বাবলম্বী নারীরা

কমিউনিটি নিউজ

রাণীনগরে চুরি যাওয়া সিএনজিসহ দুইজন গ্রেপ্তার

কমিউনিটি নিউজ

পত্নীতলায় টেন্ডার ছাড়াই সরকারি হাসপাতালের গাছ কাটার অভিযোগ

কমিউনিটি নিউজ